নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মোগ্গালানা মাইকেল
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • দীব্বেন্দু দীপ

নতুন যাত্রী

  • বিদ্রোহী মুসাফির
  • টি রহমান বর্ণিল
  • আজহরুল ইসলাম
  • রইসউদ্দিন গায়েন
  • উৎসব
  • সাদমান ফেরদৌস
  • বিপ্লব দাস
  • আফিজের রহমান
  • হুসাইন মাহমুদ
  • অচিন-পাখী

আপনি এখানে

পাহাড়ে রাষ্ট্রীয় নীপিড়ন আর কত দিন ?


১৯৯৬ সালের ১১ জুন গভীর রাতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির নিজ বাড়ি থেকে অপহৃত হন পার্বত্য চট্টগ্রামের হিল উইমেনস ফেডারেশনের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি কল্পনা চাকমা।

কল্পনার পরিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ এনে মামলা করেছিলেন। কল্পনা চাকমা অপহৃত হওয়ার পর দেশ ও বিদেশে সমালোচনার ঝড় ও আন্দোলনের চাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আব্দুল জলিলকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয়েছিলেন একই সাথে সরকার পুলিশ বিভাগের মাধ্যমেও তদন্ত পরিচালানা করে।

১৩ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে রাঙামাটির চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদলতে জমা দেয় সিআইডির চূড়ান্ত প্রতিবেদন।সিআইডির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে না-রাজি দিয়েছিলেন মামলার বাদী কালিন্দী কুমার চাকমা। শুনানি শেষে বিচারক বিষয়টি নিয়ে ১৬ জানুয়ারি ২০১৩ পরবর্তী আদেশ দেওয়ার দিন ধার্য করে। এদিন শুনানিতে বাদী পক্ষের আইনজীবীরা সিআইডির রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা প্রত্যাখ্যান করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ চাইলে আদালতও সিআইডির প্রতিবেদন নিয়ে সংশয়ের কথা জানান এবং উপরোক্ত আদেশ দেন।

২০ বছর পার হওয়ার পর গত বছর ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। যেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ বলা আছে, ‘আমার তদন্তকালে ভিকটিমের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় তাহাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় নাই। এই লক্ষে বিশ্বস্ত গুপ্তচর নিয়োগ ছাড়াও বাদীর পক্ষে এবং এলাকার লোকজনদের সহায়তা কামনা এবং বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা করিয়াও ভিক্টিম কল্পনা চাকমাকে উদ্ধার এবং মামলার রহস্য উদঘাটন হয় নাই। বিধায় মামলা তদন্ত দীর্ঘায়িত না করিয়া বাঘাইছড়ি থানার চূড়ান্ত রিপোর্ট সত্য নং ০৩, তারিখ ৭/৯/২০১৬, ধারা ৩৬৪ দ: বি: বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করিলাম। ভবিষ্যতে কল্পনা চাকমা সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া গেলে বা তাহাকে উদ্ধার করা সম্ভব হইলে যথানিয়মে মামলাটির তদন্ত পুনরুজ্জীবিত করা হইবে।’কল্পনার পরিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনির্দুষ্ট কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করলেও রাষ্ট্র মামলার রহস্য উদঘাটন করতে পারল না।

দেশ বিদেশের সমালোচনা ও আন্দোলনের চাপে ২১ বছর আগে মামলা হলেও এ মামলার বিচার না হওয়াই কল্পনা চাকমা'র অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে গতকাল (৭ জুন ২০১৭) বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খাগড়াছড়ি জেলার সদরের স্বনির্ভরে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের খাগড়াছড়ি জেলা শাখা শান্তিপূর্ণ মিছিল-সমাবেশে করছিল। বিজিবি ও পুলিশ লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। ভিডিওতে দেখা যায় বিজিবি ও পুলিশের পুরুষ সদস্যরা নারী নেত্রীদেরকে লাথি মারতে টেনে হিচরে নিয়ে যেতে। বেধরক লাঠিপেটা ও বুটের লাথিতে বেশ কয়েকজন নারী আহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ ক'জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।হামলার ভিডিওটি একটু মনযোগ দিয়ে দেখলে দেখবেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রীরা শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাবেশ করছিল। সমাবেশের সামনে বিজিবি-পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিল হঠাৎ হায়েনার পালের মতো বুটের লাথি মারতে থাকে ও বেধরক লাঠি পেটা করতে থাকে।

চলতি বছরে গত ৫ এপ্রিল রাঙামাটি জেলার নান্যাচর উপজেলার পূর্ব হাতিমারা গ্রামের কান্তি চাকমার ছেলে, ডানচোখে দেখতে না পাওয়া আংশিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এইচ এস সি পরীক্ষার্থী ও পিসিপির নেতা রোমেল চাকমাকে সেনাবাহিনীর নান্যাচর জোনের মেজর তানভির-এর নেতৃত্বে একদল সেনা সদস্য তাকে আটক করে টেনে হিঁচড়ে জোনে নিয়ে যায়। তারপর দিনভর তার উপর অমানুষিক নির্যাতনের ফলে গুরুতর অসুস্থ ও অজ্ঞান হয়ে পড়লে মুমুর্ষ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হলে গত ১৯ এপ্রিল মারা যান ।রমেল চাকমার মৃত দেহ পরিবারকে অন্তেঃস্টক্রিয়ার সুযোগ না দিয়ে সেনাবাহিনী পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। এর বিচার চাইতে গেলে তাদের উপর হামলা করা হয়েছিল।

গত ২ জুন রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় যুবলীগ নেতা মো. নুরুল ইসলাম নয়ন নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেটালার বাঙ্গালিরা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কয়েকটি গ্রামে হামলা করে কমপক্ষে ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল লংগদু জনগোষ্ঠীর স্বর্বস্ব ।
নিজেদের জানমাল বাচাতে লংগদুরা সংবদ্ধ হতে চেষ্টা করলে সেনাবাহিনী তাদের কে ধাওয়া দিয়ে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি জারি করেছিল।

একটা মিছিল-সমাবেশ কি সরকারের ভিত এতটাই নাড়িয়ে দেয় যে পুলিশ বিজিবি দিয়ে বুনো শুয়োরের মতো হামলা করতে হবে। তাদের বোনকে অপহরণ করে হত্যা করবে, ভাইদের তুলে সেনানিবাসে নিয়ে পাশবিক অত্যাচার করে খুন করবে, তাদের ধর্ষণ করবে ও বসতভিটাই আগুন দিয়ে সর্বস্ব পুড়িয়ে দেবে আর তারা চুপ করে থাকবে?

ধরুণ কোন সশস্ত্র হায়েনার পাল আপনার বোনকে গভীর রাতে আপনার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেল ২০ বছরেও তার কোন হদিস পেলেন না, প্রতিনিয়ত ঐ হায়েনার পাল আপনার কোন না কোন বোন-মাকে ধর্ষণ করছে, আপনার চোখের সামনে আপনার ভাইকে কোন কারণ ছাড়াই তুলে ক্যাম্পে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যা করছ্বে, মিথ্যা অযুহাতে আপনার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে আপনি কি করবেন ? নিশ্চয় রাষ্ট্রের কাছে এর বিচার চাইবেন। রাষ্ট্র যখন এর বিচার করবে না তখন কি করবেন? সংঘবদ্ধ হবেন, সমাবেশ করবেন মিছিল করবেন। রাষ্ট্র সশস্ত্র হায়েনার পাল দিয়ে আপনার মিছিল সমাবেশ পন্ড করে দিবে লাঠি পেটা করবে গ্রেপ্তার করবে, নির্যাতন করবে তখন কি করবেন ? ২০ বছর যাবত আপনার বোনের অপহরণকা্রীদের বিচার চাইলেন পেলেন না, আপনার মা-বোনের ধর্ষণকারীদের বিচার চাইলেন পেলেন না, আপনার এইচ এস সি পরীক্ষার্থি ভাইকে তুলে ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করা হল বিচার চাইলেন পেলেন না, আপনার বসতভিটা সহ সর্বস্ব পুড়িয়ে দেয়া হল বিচার চাইলেন পেলেন না। কোন কিছুর-ই বিচার যখন পেলেন না তখন আন্দোলন করতে নামলেন রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে আপনাকে পেটানো হচ্ছে। এখন নিশ্চয় হাতে অস্ত্র তুলে নিবেন কেননা এমনিতেই মার খাচ্ছেন মরছেন তার চেয়ে বরং প্রতিরোধ গড়ে তোলার স্পৃহা জাগাটাই স্বাভাবিক কিন্তু পাহাড়ী জনগোষ্ঠীরা এত কিছু সত্যেও হাতে এখনও অস্ত্র তুলে নেননি।

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উপর হুমকি, ভয়ভীতি নতুন কিছু নয় স্বাধীনতার পর থেকেই। শেখ মুজিব থেকে শেখ হাসিনা এর মাঝে স্বৈরাচার সেনাশাসক, গণতান্ত্রিক নামধারী শাসক গোষ্ঠী পাহাড়ি আদিবাসীদের ক্ষেত্রে সবার উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন।

১৯৭২ সালে রাঙামাটি সফরে শেখ মুজিবুর রহমান এম এন লারমাকে বলেছিলেন, ‘লারমা তুমি যদি বেশি বাড়াবাড়ি করো তাহলে এক লাখ, দুই লাখ, তিন লাখ, দশ লাখ বাঙালি পার্বত্য চট্টগ্রামে ঢুকিয়ে দেব। পার্বত্য চট্টগ্রামে আমি তোমাদের সংখ্যালঘু করে ছাড়ব।’---(তথ্যসূত্র: "পার্বত্য শান্তিচুক্তিঃ বর্তমান প্রেক্ষিত"- জ্যোতির্ময় বড়ুয়ার কলাম)

১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান সরকার কাউন্টার ইনসার্জেন্সির পদক্ষেপ হিসাবে বাঙালি পুনর্বাসন শুরু করে বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় ৪ লাখ বাঙালি পাহাড়ে পুনর্বাসন করেছিলেন, যাঁদের ‘সেটলার’ বলা হয়৷ শান্তি বাহিনীর গেরিলা আক্রমণ ঠেকাতে সেটলারদের ‘মানবঢাল’ হিসাবে ব্যবহার করেছিল। পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সাথে শান্তিবাহিনীর যুদ্ধকে জাতিগত সংঘাতে রূপ দেওয়া হয়েছিল সেটলারদের মাধ্যমে৷ দু’টি জনগোষ্ঠীকে সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। ভিডিপি ও আনসার বাহিনীতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল সেটলারদেরকে।

কল্পনা চাকমা অপহরণের ১ বছর ৩ মাস এর মাথায় পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের প্রতিনিধি জনসংহতি সমিতির নেতা সন্তু লারমা সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দের ২ ডিসেম্বর শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।

পার্বত্য চুক্তির পর পাহাড়ে শান্তি ফিরে আসার কথা ছিল৷ কিন্তু চুক্তির পর জেএসএস (পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি) গেরিলা যুদ্ধ থেকে নিরস্ত হলেও, থামেনি সরকারি বিভিন্ন বাহিনী কর্তৃক এ অত্যাচার।কারণ বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য চুক্তির একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল পাহাড়িদের নিরস্ত্র করা গুম হত্যা অত্যাচার বন্ধের নয়। তারই ধারাবাহিকতায় চলছে আজকের ঘটনা হামলা মামলা, হত্যা নির্যাতন।

সরকার পার্বত্য শান্তি চুক্তির শান্তি বাদ দিয়ে শুধু চুক্তি রেখেছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উপর হামলা, মামলা্‌, অগ্নিসংযোগ, লুন্ড্‌ন, খুন, গুম, ধর্ষণ ও নির্যাতনের এই অসহনীয় মাত্রার কারণে তারা যদি চুক্তি ভংগ করে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে স্বাধীনতার ডাক দেয় আপনি কি করবেন ? আমি দেশদ্রহী হয়ে পাহাড়িদের স্বাধীনতা আন্দোলনের পক্ষে দাড়াবো।

আল আমিন হোসেন মৃধা ( লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী)

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আল আমিন হোসেন মৃধা
আল আমিন হোসেন মৃধা এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 4 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, এপ্রিল 2, 2017 - 11:30অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর