নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মিশু মিলন
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • দ্বিতীয়নাম
  • নিঃসঙ্গী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

ফরহাদ মঝহার গং এর হেফাজত প্রীতি কেন?


ফরহাদ মঝহার গং এর হেফাজত প্রীতি কেন?

উপরের প্রশ্নটি ঘোরে অনেকের মনেই। আমিও নিজেও চেস্টা করেছি এই প্রশ্নের সুলুকসন্ধানের অনেকবার্।এই প্রশ্ন ওঠার কারণ ফরহাদ মঝহারের ব্যক্তি জীবনের সাথে হেফাজতের মতাদর্শের কোন মিল নেই। বরংচ বলা যায় সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর মানুষ এরা।

ব্যক্তিগত জীবনে ফরহাদ মঝহার একজন স্বঘোষিত কট্টরপহ্নি নাস্তিক। মিথলজির প্রতি রয়েছে তার দূর্বলতা। ফরহাদ মঝহারের বাসায় যারা গিয়েছেন , তারা সকলেই দেখেছেন , তার বসার ঘরে স্থাপিত বিদ্যার দেবী স্বরসতীর মূর্তি। সেই লোকই তবে কেন গ্রীক দেবী থেমিসের উপরে খড়গহস্ত?

আবার রাজনৈতিক দিক থেকে আজকের হেফাজতের তাত্বিক গুরু ফরহাদ মঝহার মার্ক্সের চেয়েও বড় কমরেড ছিলেন এককালে। লাল পতাকা ছাড়া আর কিছুই বুঝতে চাইতেন না। সেই একই ব্যক্তিকে যখন আমরা দেখতাম ছাত্রজীবনে চরমপন্থি হিযবুত তাহরীরের তাত্ত্বিক গুরু হিসেবে আবির্ভূত হতে , আর এরপর আবারো ডিগবাজী খেয়ে হেফাজতের আধ্যাত্মিক নেতায় পরিণত হতে , তখন বিস্মিত হতে হয় বৈকি।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহ প্রথায় বিশ্বাস করেন না , বান্ধবীদের সাথে লিভ টুগেদার করেই জীবন কাটিয়ে দিলেন। এছাড়া মদ্যপানেও তার আপত্তি নেই। ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে দুটোই গর্হিত অপরাধ বলে বিবেচিত হয়। যেধরণের অপরাধের জন্য গ্রামগঞ্জে ফতোয়াবাজীর আর দোররা মারার অসংখ্য ঘটনা ঘটে থাকে প্রতিনিয়ত , সেই অপরাধে অপরাধী ব্যক্তিকে কিকারণে মাথায় তুলে রেখেছেন হেফাজতের নেতারা? আপাদমস্তক সেকুলার মঝহার সাহেব কেনই আজ কট্টরপহ্নি ধর্মবাদীদের কাছে পরমপূজ্য?
এর সঠিক কারণ মূলত্ঃ একটাই। সেটা হলো নেতা হওয়ার বাসনা। একাত্তরের ভূমিকার কারণে এদেশে বামপন্থী ও লীগপন্থী বুদ্ধিজীবীরা অনেকটাই এদেশের বুদ্ধিবৃত্তির রাজত্ব অধিকার করে ফেলেন। যাদের অধিকাংশই মনেপ্রাণে বাঙালী জাতীয়তাবাদী ভাবধারার অনুসারী। এই ধারার রাজনীতিতে ঘোড়দৌড়ের মাঠে মঝহার গং পিছিয়ে পড়েন অনেকটা। একসময় ছিটকে পড়েন একেবারেই। কারণ ডঃ আনিসুজ্জামান , সরদার ফজলুল করিম , শাহরিয়ার কবির , সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী , যতীন সরকার , হুমায়ূন আজাদ , আহমদ শরীফ , মুনতাসীর মামুনদের মতো মহীরুহদের অতিক্রম করা ফরহাদ মঝহারদের পক্ষে সম্ভবপর ছিলোনা মোটেও।

এই কারণে প্রগতিশীল শক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে স্থান না পেয়ে এরা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন প্রগতিশীলদের প্রতি। আর বিকল্প হিসেবে আশ্রয় নেন প্রতিক্রিয়াশীল শিবিরে। মূলতঃ কিছু একটা করে লাইমলাইটে থাকার তীব্র বাসনা থেকেই এই রূপান্তর্। অনেকটা হালের ভট্টাচার্য মশাইয়ের মতোই। "শত্রুর শত্রু বন্ধু " নীতিতে তারা প্রতিক্রিয়াশীলদেরই দলে ভিড়ে যান।

অন্যদিকে ডানপন্থী মহলটিও দীর্ঘদিন যাবত ইনটেলেকচুয়াল খরাতে আক্রান্ত ছিলো। কারণ ইনটেলেকচুয়াল লেভেলে লড়াইয়ের মতো যোগ্যতা সম্পন্ন যোদ্ধা তারা তৈরী করতে ব্যর্থ হয়েছেন বারেবার্। মূলতঃ অতি ধার্মিকতা আর আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি তীব্র বিদ্বেষের কারণে তারা এই লেভেলে কোনদিনই পেরে ওঠেননি। আর তাই ফরহাদ মঝহার গংকেও লুফে নেয় তারা বিনাবাক্যব্যয়ে।

আর ফরহাদ মঝহার গং ও শুরু করে নানাধরণের অপব্যাখ্যা আর যুক্তির নামে কুযুক্তির মারপ্যাঁচে ডানপন্থী শক্তিকে টিকিয়ে রাখার অবিরাম সংগ্রাম। যা অফলাইনে প্রিন্ট মিডিয়া ছাপিয়ে এখন অনলাইনের ফেসবুক , টুইটার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আর সেকুলারদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা , সুপ্রীম কোর্টের লেডি জাস্টিসিউয়ার ভাষ্কর্য একের পর এক উদ্ভট থিউরী আওড়ে যাচ্ছে তারা। রবীন্দ্রনাথকে খাটো করতে কাসেম বিন আবুবাকার এর আগমন সেই মহাপরিকল্পনারই অংশবিশেষ।

একদিন ইরানেও দিকভ্রান্ত বামেরা এভাবেই হাত মিলিয়েছিলো খোমেনীর বিপ্লবীদের সাথে। যেভাবে দেশভাগের সময়ে কমরেড সাজ্জাদের মতো নেতারা দিকভ্রান্ত হয়ে পক্ষ নিয়েছিলেন পাকিস্তানের্। কিন্তু ইরানের বিপ্লব আর পাকিস্তান হওয়ার পরে এই দুইদেশ থেকেই তারা বিতাড়িত হন সমূলে। কেউ কেউ গলায় পড়েন ফাসিঁর দড়ি।

এই ইতিহাস ফরহাদ সাহেবদের অজানা নয়। তারপরও ব্যক্তিগত বিদ্বেষ আর আদর্শিক বিভ্রান্তির মোহ তাদের আজ অন্ধ করে ফেলেছে পুরোপুরিই। ইতিহাসের ব্যর্থতা , ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয়না।পরিণতি কিন্তু বারেবার একই হয়। লক্ষ্যশূণ্য লক্ষ বাসনা কেবল অকূল পাথারেই ডুবিয়ে দেয় চিরকাল।

Comments

 তুহিন এর ছবি
 

আপনার লেখা অতি নিন্মমানের। ফরহাদ মজহারকে পর্যালোচনা করতে গিয়ে যা লিখেছেন তা এককথায় ছাইপাস ভুসিমাল।
ফরহাদ মজহারকে সাইজ করতে গিয়ে মুনতাসির মামুন, শাহরিয়ার কবির , যতীন সরকারকে মহীরুহ বলেছেন। এরাতো ফরহাদের তুলনায় এরা হলেন বনসাই'র অধম। ফরহাদ অবশ্যই পরিতাজ্য, বিশেষত তার সাম্প্রতিককালের 'ইসলামপন্থি' লেখাগুলো ও তার রাজনৈতিক লাইন। কিন্তু তাকে মোকাবেলা করতে হলে যে বুদ্ধি ও জ্ঞান থাকা দরকার সেটি না নিয়ে হাজির হলে বরং ফরহাদ আরো শক্তিশালী হবে, যেটি আপনি করেছেন।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রাজেশ পাল
রাজেশ পাল এর ছবি
Offline
Last seen: 10 months 3 weeks ago
Joined: বুধবার, অক্টোবর 22, 2014 - 8:54পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর