নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • পৃথু স্যন্যাল
  • হাইয়ুম সরকার
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • তা ন ভী র .
  • কেএম শাওন
  • নুসরাত প্রিয়া
  • তথাগত
  • জুনায়েদ সিদ্দিক...
  • হান্টার দীপ
  • সাধু বাবা
  • বেকার_মানুষ
  • স্নেহেশ চক্রবর্তী
  • মহাবিশ্বের বাসিন্দা

আপনি এখানে

প্রবাসের অখ্যাত গল্প-৮


সুইডেনের শীতকালটা নিয়ে আমাদের মত প্রবাসীদের মনের মাঝে একটা ভয় ভীতি আর আতঙ্কের ছায়া বিরাজ করে, নিজেদের সঙ্কীর্ণ মানসিকতার কারণেই এখানকার সমাজ, পরিবেশ, প্রকৃতি ও তাদের আচার আচরণের উপর এক ধরনের বিরূপ ধারণা মনের মাঝে স্থায়ী ভাবেই বাসা বাধে |

সময় যতই গড়াতে থাকে ততই যেন নিজের দেশে সুযোগ বুঝে চলে যাওয়ার ইচ্ছাটা আরও প্রবল হতে থাকে | নিজের আত্মপরিচয়, জাতিগত পরিচয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় খুঁজে পাওয়ার চেষ্টায় ব্যাকুল হয়ে পরি, এই কষ্ট অন্তরে ধারণ করে আর তা থেকে উত্তরণের উপায় হিসাবে কোন রাস্তা না পেয়ে ধর্মই হয়ে পরে বিশ্বাসের আশ্রয়স্থল, সুইডেন ও তার সংস্কৃতিকে কখনোই সুদৃষ্টিতে দেখার বা গ্রহণ করার মানসিকতা গড়ে ওঠে না | নিজের উপর ধিক্কার দিতে ইচ্ছে করে, এতদিন নিজেকে আধুনিক আর প্রগতিশীল ভেবে এসেছি আর আজ কিনা নিজেকে কিছুতেই আধুনিক মনে হচ্ছে না | আসলে দোষটা কাকে দেবো, আমার জন্ম নাকি আমার সমাজ ব্যবস্থা নাকি আমার সংস্কৃতি | আসলে দৃষ্টি ভঙ্গির পরিবর্তনটা নির্ভর করে আমার সমাজ ব্যবস্থা আমাকে কি ভাবে তৈরি করেছে আর সুযোগ বুঝে আমাকে পশ্চিমা সমাজ ও পরিবেশে ছেড়ে দিয়েছে, বলতে দ্বিধা নেই যে দায় দায়িত্ব যেটা বর্তায় সেটা আমার পরিবেশ আর পারিপার্শ্বিকতার উপর | সুইডেনের আর্থসামাজিক ব্যবস্থার উপর নিজেদের জীবন ধরণের জন্যে সম্পূর্ণ ভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়লেও তাদের সংস্কৃতিকে সহজে অন্তর থেকে গ্রহণ করতে পারি না, এই সুন্দর সমাজ ব্যবস্থাকে গতিশীল রাখতে নাগরিকদের বিশাল অঙ্কের কর প্রদান করাকে অন্তর থেকে গ্রহণ না করলেও এর সুযোগ সুবিধা থেকে এক বিন্দু পরিমাণ ছাড় দিতে নারাজ, যেমন বিভিন্ন ধরনের ভাতা, সামাজিক সুযোগ সুবিধা গুলো গ্রহণে কোনই বিপত্তি ঘটেনা | নিজেকে আধুনিক আর যুগোপযোগী করার প্রচেষ্টা করেও মানসিকতার পরিবর্তন যদি নাই ঘটে তবে লাভ কি ক্ষতি সেটা মাপার সময় কোথায়, টাকা আর সোনার হরিণের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতেই একদিন হতাশ হয়ে পরি | বাংলাদেশের পরিবেশে কসরত করে যুগোপযোগী কাপড় পরে নিজেকে খুবই আধুনিক সাজিয়ে ইউরোপের চলে এসেও আজ নিজেকে আধুনিক ভাবতে পারছি না, প্রতিনিয়ত ইউরোপের সংস্কৃতি আর মানসিকতার সাথে নিজের চিন্তা ভাবনা ও মতের সাথে চলছে সংস্কৃতির দ্বন্দ্ব | নেচে গেয়ে, হেসে খেলে জীবনটাকে তো আর পার করে দেয়া যাবে না | ইউরোপের সমাজ সংস্কৃতিকে বুঝতে হলে এর মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া ছাড়া কোনই উপায়ন্তর নাই | উত্তরের মেরুতে শীতকালের এই অপরূপ সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে হলে প্রকৃতির মাঝে নিজেকে সপে না দিলে এর সাধ আর আনন্দ কোনটাই জানা হয় না |

কিছুদিন পরেই খ্রিস্ট-মাসের ছুটি শুরু হবে আর সেই সাথে শহরের দোকান পাটগুলোতে সাজ সাজ রব, তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে সুইডিশরা যতটা না ধার্মিক তার চাইতে বেশী প্রাকৃতিক, প্রকৃতির সাথেই যেন তাদের সখ্যতা বেশী | রাস্তা ঘাট সব জায়গায় আলোকসজ্জায় দিনের মত আলোকিত হয়ে থাকে, যদিও এই প্রচণ্ড শীতকালটায় স্টকহোল্মে সূর্যের স্থায়িত্ব মাত্র ঘণ্টা দুয়েক, দিনের সূর্যের দেখা পাওয়াটা একটা ভাগ্যের ব্যাপার, কারণ আকাশটাই থাকে মেঘাচ্ছন্ন | শুনেছি শীতকালে সুইডেনের যতই উত্তরে দিকে যাই আকাশে সূর্যের স্থায়িত্ব ততই কমে আসতে থাকে |

বান্ধবীর বাসায় অপর এক বন্ধুকে নিয়ে এবারের খ্রিস্ট-মাসের ছুটিটা লুলিওতে কাটাবার আমন্ত্রণটা উপেক্ষা করতে পারলাম না, শত হলেও আমাকে তো এদেশেই থাকতে হবে তাই এই প্রচণ্ড শীতে সুইডেনের উত্তরের শীতকালীন প্রকৃতিটা দেখার লোভ সামলাতে পারলাম না | স্টকহোল্ম থেকে উত্তরের শহর লুলিও, প্রায় আঠারো ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা পথ , দুই বন্ধু মিলে বাসে চেপে বসলাম | বাস যতই এগিয়ে যাচ্ছে শীতের কৃপণ সূর্যের আলো ততই কমে যাচ্ছে, জানালা দিয়ে বরফের সাদা চাদরে ঢাকা এই দেশটার অপরূপ দৃশ্য অপলক দৃষ্টিতে দেখে যাচ্ছি, বাস যতই উত্তরে দিকে যাচ্ছে জনবসতি ততই হালকা হয়ে আসছে | একটি গ্রাম থেকে অন্য একটি গ্রাম বা ছোট ছোট শহরের দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে, জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে হয় সূর্যের আলো না থাকলেও বরফে আচ্ছাদিত সাদা চাদরের উপর চাঁদের আলো মনে হয়ে খুব যত্ন করে তাঁর রুপালী আলো বিচ্ছুরিত করছে, জানালার বাইরে সব কিছুই সন্ধ্যের মত আলোয় পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, দৃষ্টিনন্দন এই অপরূপ দৃশ্য দেখতে দেখতে একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পরি | ইতিমধ্যে পাশের সিটে বসা বন্ধুটি বক বক করতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছে বুঝতে পারিনি | যে জিনিসগুলো সাথে নেবার কথা তা ঠিক ঠাক গুছিয়ে নিয়েছি কিনা তা মনে মনে আরেকবার স্মরণ করার চেষ্টা করি, প্রচণ্ড শীতে শূন্যের নীচে প্রায় তিরিশ ডিগ্রী তাপমাত্রায় অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে কাপড় সাথে থাকতেই হবে, নিজেকে মহাকাশ যানের নভোচারীর সাজে সাজিয়ে তুষারের জগতে বিলিয়ে দিতেই যত আয়োজন | বান্ধবীর বাসায় সপ্তাহ খানেক থাকার পরিকল্পনা নিয়েই আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে, মাছ ধরার ছিপ, চোখের ঘন কালো চশমা যা কিনা তুষারের উপর সূর্যের তীব্র আলোর প্রতিফলনকে প্রতিহত করতে পারে, ভেড়ার চামড়া দিয়ে তৈরি পশমের জ্যাকেটটি গায়ে দিলে আমাকে নির্ঘাত একটি বিশালাকার শ্বেত ভাল্লুকের মতই মনে হবে , বরফের উপর দিয়ে স্কি করার জন্যে বিশেষ ধরনের স্কি যা কিনা দুরের যাত্রার একমাত্র সাথী না নিলেই নয় | মাথায় টুপিটি দেখতে সাধারণ টুপির মত নয় যদিও যেটা পড়লে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারও ভয়ে নির্বাসনে চলে যাবে | এই অদ্ভুত কিমাকার বেশ ভূষার সরঞ্জাম নিয়ে আমি চলেছি পৃথিবীর শেষ প্রান্ত উত্তর মেরুতে | নিজেকে তুষারের পৃথিবীতে আধুনিক করে সাজিয়ে নিতে আমার সর্বাত্মক চেষ্টা যেন কোন ভাবেই বিফলে না যায় তাই বান্ধবী ও তার পরিবারের জন্যে ক্রিস্টমাসের উপহারগুলো সাথে নিতে ভুল করিনি | সাত কি আট ঘণ্টা পর বাসটি যাত্রা বিরতিতে গভীর রাতে এক গ্রামের পাশে একটি ছোট্ট দোকানের পাশে জ্বালানি নেবার জন্যে দাড়িয়ে পড়লো | জন মানবহীন এই এলাকাতে বাস থেকে নামতে গিয়েই আবার দৌড়ে বাসের ভেতরে ঢুকে গেলাম, আমার এই দুরবস্থা দেখে পাশে থাকা বন্ধুটি যেন একটু মুচকি হেসে দিল, মনের মাঝে একটু রাগ হলেও জিজ্ঞাস করলাম –“তুমি হেসে উঠলে যে ? বাইরে যে কি প্রচণ্ড ঠাণ্ডা বুঝতে পারছনা না, আমি দশ সেকেন্ডও বাইরে দাড়াতে পারছিনা |” বন্ধুটি আরেকবার হেসে উত্তর দিল – “বাস থেকে নাম্বার আগেই তোমার বোঝা উচিত ছিল যে বাইরের তাপমাত্রা শূন্যের বিশ ডিগ্রী নীচে নেমে গেছে |” আমি মনে মনে ধরে নিলাম আমার আধুনিক হবার বাসনাকে এবারের মত জলাঞ্জলি দিতে হবে, এই ঠান্ডায় আমার মনের সকল আনন্দ উচ্ছলতা নিমিষেই মন থেকে ফুটো বেলুনের মত চুপসে গেল | বাসের ভেতরে বসে ব্যাগের ভেতর থেকে আনুষঙ্গিক কাপড় চোপড় পড়ে নিলাম, এবার হয়তো মিনিট খানেক বাইরে থাকা যাবে, ক্ষুধা নিবারণের জন্যে বন্ধুকে সাথে নিয়ে দোকানে ঢুকে পড়ে একটু ভয় পেয়ে গেলাম কারণ সাজানো গোছানো দোকানে সব কিছুই পরিপাটি করে সাজানো তবে দোকানে কেউ নেই, দোকানদার এমনকি কোন ক্রেতার বংশও আসে পাশে খুঁজে পাচ্ছিনা, বন্ধুটি আমার কোন দিকে ভ্রূক্ষেপ না করে হাতে ধরা ঝুড়ির মাঝে বিভিন্ন ধরেনের ফলমূল ভরে নিচ্ছে, এই জন মানবহীন ভৌতিক পরিবেশে আমি কিছুটা ভয়ও পাচ্ছি কারণ দোকানে কেউ নেই আর আমরা কিনা ঝুড়ি ভেতরে বাজার সদাই ভরে নিচ্ছি | বন্ধুটিকে প্রশ্ন করার আগেই দেখতে পেলাম দড়িতে ঝোলানো একটি বড় আকৃতির পাত্রে সদাই করা মালপত্রের দাম চুকিয়ে দিয়ে ভাংতি নিয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছে, বাসে এসে বন্ধুকে প্রশ্ন করলাম কাজটা ঠিক হলো কিনা ? বন্ধু উত্তর দিল এই মধ্যরাতে এখানে একজন দোকানদার রাখা মানেই উপরি খরচ, বুঝতে পারলাম এদেশের মানুষ কতটা সত্ হতে পারে যে মধ্যরাতে বাসের যাত্রীদের জন্যে দোকান খোলা রেখে গেছে আর খরিদ্দাররা যে যার মত দাম চুকিয়ে দিচ্ছে | সততা যে তাদের জন্মগত একটা বিষয় তা ভাবতে ভাবতে চিন্তার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি, আমি আধুনিক হয়েছি বটে তবে এতটা সততা নিয়ে নিজেকে তৈরি করতে পারিনি | বিশ মিনিট পর আমাদের বাস তুষারে ঘেরা অন্ধকারে উত্তর মেরুর দিকে আবার যাত্রা শুরু করলো | খুব বুঝতে পারছি আমাদের বাসের চালকও পরিবর্তন হয়ে গেছে , কারণ একজন চালকের এ দেশে আট কি দশ ঘণ্টার বেশী বাস চালাবার অনুমতি নেই | বাস এগিয়ে যাচ্ছে আর পেছনে ফেলে যাচ্ছি তুষার ঢাকা ছোট ছোট গ্রাম, বাসের জানালা দিয়ে দুরের বাড়িঘর গুলোতে আলোর ছটা দেখতে পারছি , বাড়ি ঘরগুলো খুব একটা ঘন বসতি পূর্ণ না, এক একটা গ্রাম থেকে আর একটা গ্রামের দূরত্ব অনেক, মাঝখানে শুধুই তুষার ঢাকা পথ আর বনজঙ্গলে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে পাইন আর দেবদারু গাছের সারি | ঘড়ির কাটায় দুপুর দুটা বাজবে হয়তো, পুবের আকাশে তখন একটু হেলান দিয়ে সূর্যের উদয় হচ্ছে বটে তবে তা ঘণ্টা খানেকের মাঝেই আবার অস্ত যাবে, আবার সেই সন্ধ্যে নেমে আসবে | বেশ কিছুক্ষণ বাস চলার পর একটি অজানা জায়গায় বাসটি হঠাৎ থেমে গেল, পাশেই রেস্তোরা তাই দুপুরের খাবার সেরে নেবার পালা, অল্প কিছুক্ষণের মাঝে আমাদের বাস উমিও (Umea) নামের একটি শহরের উপর দিয়ে আমাদের শেষ গন্তব্য লুলিও’র (Lulea) দিকে রওনা দেবে, রেস্তোরাতে ঢুকেই খাবারের মেনুতে দেখতে পেলাম বলগা হরিণের স্টেক সাথে ক্রিম আর লিন্গন ফলের জেলি, দুধের ক্রিম দিয়ে রান্না করা বিশালাকায় হরিণ আকৃতির মুসের (Moose বা Elk) মাংস তরকারী সাথে রুটি ও মাখন | নিজেকে আধুনিক করে সাজিয়েছি বটে কিন্তু পেটটাকে তো আর এখনও আধুনিক বানাতে পারিনি, ভাবছি বাকী দু সপ্তাহ কি ভাবে কাটাবো, আমার দ্বারা হয়তো এই ইউরোপে এসে ইউরোপিয়ান হবার সাধ আহ্লাদ পুরোটাই ভেস্তে যাবে | বন্ধুকে প্রশ্ন করলাম খাবারের সাথে দুটো কাঁচা মরিচ পাওয়া যাবে কিনা. বন্ধুটি আমার দিকে কিছুটা করুণার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বোঝার চেষ্টা করছে বাকী দু সপ্তাহ আমাকে কতটা কষ্টের মাঝে কাটাতে হবে, উত্তরে সে বললো কাঁচামরিচ তো দুরের কথা কাঁচামরিচের ঝাঁজ সম্পর্কেও সুইডেনের উত্তরের মানুষেদের কোনই ধারণা নেই | গন্তব্যে পৌঁছেই দেখতে পেলাম বান্ধবী গাড়ী নিয়ে দাড়িয়ে আছে, ছোট্ট একটি শহর লুলিও, সেখান থেকে আধাঘণ্টা গাড়ী চালিয়ে আমাদের যেতে হবে চার্চ বা গির্জা শহর গাম্মাল স্তদ, ৪০৮টি ঘরের সমন্বয়ে গঠিত ছোট ছোট বাসা যা কিনা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এবং শ্রেষ্ঠ সংরক্ষিত গির্জা শহরে। ১৯৯৬ সালে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকায় ইউনেস্কো গাম্মাল স্তদ (gammal stad) নামের শহরটিকে লিপি বোধ্য করে | রাতের অন্ধকার কেটে তুষারে আচ্ছাদিত রাস্তার উপর দিয়ে গাড়ী সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, হঠাৎ আকাশের পশ্চিম কোনায় আলোর ঝলকানিতে পুরো আকাশে ঢেউ খেলানো আলোর নাচন দেখেই বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলাম শুধু, জীবনে এই প্রথম নর্দার্ন লাইট (Northern Lights) দেখার অনুভূতিটুকু আমার হৃদয়ে আনন্দের ফোয়ারা দিয়ে যাচ্ছে , আমরা গাড়ী থামিয়ে আকাশে ঊষার আলোর এই অপরূপ দৃশ্য দেখে আত্মহারা হয়ে গেলাম | দীর্ঘ সময়ের যাত্রা পথের ক্লান্তি নিমিষেই চলে গেল, ভুলে গেলাম এই প্রচণ্ড হাড় মাংস এক করা ঠাণ্ডায় আমাকে দু সপ্তাহ থাকতে হবে, এই দৃশ্য আমাকে যেন তুষারের ও শীতের ঠাণ্ডার ভয় ভুলে নিমিষেই এক প্রশান্তির অনুভূতি দিয়ে যাচ্ছে | ভুলে গেলাম ভাতে মাছে বেড়ে ওঠা এক বাঙালী ছেলে শুধু মাত্র একটি কাঁচামরিচের আশায় সারাদিন চষে বেড়ালেও কোথাও একটা একটা কাঁচামরিচ অত্র এলাকায় খুঁজে পাবো না | রাতের খাবারের আয়োজন তেমন বিশেষ কিছু না, আলুর সাথে ক্রিম ও দইয়ের সংমিশ্রণে আলুর সালাদ, সেই সাথে লবন দিয়ে সেদ্ধ করা সামুদ্রিক মাছ, আরও আছে দুধ আর গোলমরিচ দিয়ে রান্না করা হরিণের মাংস | প্রাতঃরাশ শেষে অন্তরের ভাতে মাছে বেড়ে ওঠা এক বাঙালী ছেলে কই মাছের ঝাল ভুনা খাবারের সুপ্ত বাসনা নিয়ে সকালে মাছ ধরতে যাবার প্রস্তুতি নিয়ে যে যার মত ঘুমিয়ে যাবার আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পরি | বাইরে তাপমাত্রা শূন্যের নীচে ২৭ ডিগ্রী ভাবতেই সকালে বাইরে যাবার আগ্রহটা হয়তো হারিয়ে ফেলবো, কিন্তু আমাকে তো যে কোন পরিশ্রমের বিনিময়ে হোক এদেশের পরিবেশ, জীবনধারা ও তার পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতেই হবে | ছোট বেলাতেই বাবা শিখিয়ে দিয়েছিলেন ”when you are in greece try to be a greek” |
/// মাহবুব আরিফ কিন্তু

Comments

Ani  এর ছবি
 

Nice to read but you can get green chilies at Luleå.

 
কিন্তু এর ছবি
 

১৯৮৪ সালের শীতকালে Luleå তে আমাদের দেশীয় কাঁচা মরিচ পাওয়া যাবার কথা না তাই দেশীয় মরিচের ঝাঁজটাও উত্তর মেরুতে পাবার কথা না, যেটা পেয়েছি আমেরিকা থেকে ইমপোর্টেড TABASCO , আমাদের দেশীয় কাঁচা মরিচ এখন আমদানি করা হয়

মানবতাই ধর্ম

 
নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

আপনার এই সিরিজটা বেশ উপভোগ্য।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কিন্তু
কিন্তু এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 8 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 5:41অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর