নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • হাসান নাজমুল
  • শ্রীঅভিজিৎ দাস
  • মুফতি বিশ্বাস মন্ডল
  • নিরব
  • সুব্রত শুভ
  • কুমকুম কুল

নতুন যাত্রী

  • নিনজা
  • মোঃ মোফাজ্জল হোসেন
  • আমজনতা আমজনতা
  • কুমকুম কুল
  • কথা নীল
  • নীল পত্র
  • দুর্জয় দাশ গুপ্ত
  • ফিরোজ মাহমুদ
  • মানিরুজ্জামান
  • সুবর্না ব্যানার্জী

আপনি এখানে

একজন ধর্ষিতা ন্যায় বিচার পাবে কার কাছে?


বাংলাদেশের বাস্তবতায় একজন ধর্ষিতা সমাজের চোখে অপরাধী! বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় ধর্ষককে যতটা না ঘৃণা করা হয়, ধর্ষিতাকে তার চেয়ে বেশি ঘৃণার চোখে দেখা হয়। একটি ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকের বিচার চাওয়ার আগেই মানুষজন ধর্ষিতা নারীর খুঁত ধরা শুরু করে। ধর্ষককে নয়, ধর্ষিতার পোশাক আর চলাফেরাকে ধর্ষণের জন্য দায়ী করা শুরু হয়। এজন্য বেশিরভাগ ধর্ষণের ঘটনায় ধামাচাপা পড়ে যায়। একজন ধর্ষক সমাজে বুক ফুলিয়ে চলে, আর একজন ধর্ষিতা চলে মুখ লুকিয়ে! ধর্ষক তার পুরুষত্ব জাহির করে ধর্ষণ করে, আর নারীর অসহায়ত্ব শুরু হয় ধর্ষিতা হওয়ার পর।

সমাজের ভয়ে ধর্ষিতার পরিবার অনেক সময়েই ধর্ষণের বিচার দাবি করেন না। সমাজপতিরা অনেকসময় ভয় দেখিয়ে কিংবা কিছু টাকা হাতে গুজে দিয়েই ধর্ষিতার পরিবারকে দমিয়ে রাখে। একজন নারী ধর্ষিতা হয়েছে, এটা জানা জানি হলে এই সমাজে খুব কম লোকই আছে যারা সেই নারীকে বিয়ে করার সাহস দেখায়। অথচ একজন ধর্ষকের জন্য বিয়েশাদি করতে কোন সমস্যাই হয় না। 'পুরুষ মানুষ বয়সকালে দুই চারটে অমন কাজ করেই' বলে ধর্ষণকে জায়েজ করার প্রবণতা সমাজে লক্ষ্যনীয়।

সমাজের ভয় উপেক্ষা করে একজন ধর্ষিতা রাষ্ট্রের কাছে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করার মাধ্যমে আবার ধর্ষণের মুখে পড়ে! থানায় একটা ধর্ষণ মামলা দায়ের করতে গিয়ে ধর্ষিতাকে কেমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে হয়, সেটা তো সর্বশেষ আলোচিত বনানীর দুই ধর্ষিতার অভিজ্ঞতা থেকেই পরিষ্কার। শুধু তাই নয়, ধর্ষণ মামলার ট্রায়াল স্টেইজে ভরা আদালতে ধর্ষণের অভিযোগকারীকে ''দুশ্চরিত্রা'' হিসেবে চিহ্নিত করতে ধর্ষকের আইনজীবি যেকোন ধরনের প্রশ্ন ধর্ষিতাকে করতে পারে [সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৫৫(৪)]। যেটা ভরা আদালতে ধর্ষিতাকে আবারও ধর্ষণ করার সামিল! এই ধারার বলে, ঐ ধর্ষিতাকে দুশ্চরিত্রা প্রমাণ করতে পারলে ধর্ষক ধর্ষণের অভিযোগ থেকে বেঁচে যেতে পারে। ধর্ষণের বিচার প্রক্রিয়ায় একজন ধর্ষিতার পুনরায় ধর্ষিত হওয়ার বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট সুলতানা কামাল একবার বলেছিলেন, "বাংলাদেশে একজন ধর্ষণের শিকার নারী বিচার চাইতে গেলে পরবর্তী সময়ে আরও অন্তত দুবার ধর্ষিত হন। একবার ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে গিয়ে, আরেকবার আদালতে তাঁর ধর্ষণের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিতে গিয়ে।" (সূত্রঃ প্রথম আলো, ৬জুন ২০১৬)। সুলতানা কামাল মনে করেন, সাক্ষ্য আইনের এই ধারা একজন ধর্ষিতাকে বিচার চাইতে নিরুৎসাহিত করে।

ধর্ষণ প্রমাণ হয়ে গেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী একজন ধর্ষক সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন। এই আইনের ৯(২) ধারায় ধর্ষণের ফলে ধর্ষিতার মৃত্যু হলে মৃত্যদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩৭৬ ধারায় ধর্ষণের সাজার উল্লেখ রয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, 'কোন ব্যক্তি যদি ধর্ষণের অপরাধ করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দন্ডেও দণ্ডিত হবে, যদি না, ধর্ষিত স্ত্রীলোকটি তার নিজ স্ত্রী হয় ও বারো বৎসরের কম বয়ষ্কা না হয়; যদি তদ্রুপ হয়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ডে অথবা অর্থ দন্ডে অথবা উভয়বিধ দন্ডেই দণ্ডিত হবে।' এই ধারায়ও ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবনের বিধান করেছে। তবে এই ধারায় নিজ স্ত্রীকে ধর্ষণ করলে, যদি সেই স্ত্রীলোকের বয়স বারো বছরের বেশি হয় তবে সাজা দুই বছরের কথা উল্লেখ আছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাত্র রিভিউ আবেদনে আসামীর সাজা কমেছে। সেটা ছিলো একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা। ১৯৯৬ সালের ১১ জুন মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ৭ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নিম্ন ও উচ্চ আদালত আসামী শুক্কুর আলীকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করে। ২০১৫ সালের আগস্টে বর্তমান প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ শুক্কুর আলীর রিভিউ আবেদনের প্রেক্ষিতে তার সাজা কমিয়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করে। ধর্ষণের সময় আসামী শুক্কুর আলীর বয়স ১৪ বছর থাকায় তার সাজা কমানো হয়েছিলো। বাংলাদেশে ধর্ষকদের রক্ষায় সর্বশেষ 'বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭' প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী ধর্ষণের ফলে যদি কোন সন্তানের জন্ম হয়, তবে সেই সন্তানের পিতার পরিচয় দেয়ার জন্য ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতার বিয়ে দেয়া যাবে। এখানে ধর্ষক এবং ধর্ষিতার বয়স বিবেচিত হবে না! এই আইন একজন ধর্ষককে ধর্ষণের সাজা না দিয়ে নাকে ধর্ষিতার স্বামী বানিয়ে তার দায় থেকে তাকে মুক্তি দিচ্ছে!

ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা কি হওয়া উচিৎ, সেটা নিয়ে নানান দিন ধরে বিতর্ক চলছে। ভারতের দিল্লীতে চলন্ত বাসে তরুণীর গণধর্ষণের ঘটনা সারা ভারতকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলো। জনতার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যদন্ড করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। যদিও পরে সেটা আলোর মুখ দেখেনি। বাংলাদেশেও ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যদন্ড করা যায় কিনা, সেটা বিবেচনা করার সময় এসে গেছে। বর্তমানে দেশ যেন ধর্ষকদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। মুক্তমনা মানুষ হত্যার পর, দেশের সবচেয়ে নিরাপদ অপরাধ হচ্ছে ধর্ষণ। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৬ সালে বাংলাদেশে ১০৫০ জন নারী ধর্ষিতা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান করা হয়েছে দৈনিক পত্রিকার রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে। কিন্তু পত্রিকার পাতায় কয়টি ধর্ষণের খবর আসে? ধর্ষণের কোন ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি না করলে, আমরা কজনেই বা ধর্ষণের প্রতিবাদ করি? প্রকৃত অর্থে ধর্ষণের সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি। যদিও এই ধর্ষণের ঘটনার মাত্র কয়েকটি আদালতে বিচারের জন্য উঠেছে। দেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা সোহাগী জাহান তনু হত্যার বিচার পরে, এখন পর্যন্ত কারণও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আফসানা ধর্ষণ ও হত্যা মামলাও ফাইলবন্দি হয়ে আছে। এছাড়া বাংলাদেশে মামলা নিষ্পত্তিতে যে সময় লাগে, ততোদিনে একজন ধর্ষক নানান কায়দায় নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে বের হয়ে আসে।

অর্থাৎ একজন ধর্ষিতা এই সমাজ কিংবা রাষ্ট্রীয় বিচারালয়, কোথাও ন্যায় বিচার পায় না। এদেশে ধর্ষিতারা শেষ পর্যন্ত গাজীপুরের হযরত আলী আর তার মেয়ে ফাতেমার ভাগ্য বরণ করে!

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কফিল উদ্দিন মোহাম্মদ
কফিল উদ্দিন মোহাম্মদ এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 40 min ago
Joined: রবিবার, মে 8, 2016 - 11:31পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর