নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • দ্বিতীয়নাম
  • নিঃসঙ্গী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

বারট্রান্ড রাসেল এর শেষ বানী অথবা ইসলামী জঙ্গীবাদের প্রতি “পরোক্ষ” সমর্থন !


(বারট্রান্ড রাসেল তাঁর মৃত্যুর তিন দিন আগে তাঁর শেষ বানীটি লিপিবদ্ধ করে যান। তাঁর শেষ বানীটি ছিলো ইসরায়েল – প্যালেস্টাইন সংকটের উপরে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের উপরে তাঁর এই বানীটি লেখা হয় ১৯৭০ সালের ৩১ জানুয়ারী এবং কায়রোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টারি নেতাদের এক সম্মেলনে তা পাঠ করে শোনানো হয় । আজকের দিনে বারট্রান্ড রাসেল কে এই বানীটির জন্যে হয়তো “ইসলামী জঙ্গীবাদের পরোক্ষ সমর্থক” হিসাবে চিহ্নিত করা হতো। প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও এই বানীটির প্রাসঙ্গিকতা আজও বহাল রয়েছে। ইস্টিশনের পাঠকদের জন্যে চিরকাল শান্তির জন্যে সংগ্রাম করা বারট্রান্ড রাসেল এর এই বানীটির অনুবাদ নিবেদন করছি। )

মধ্যপ্রাচ্যে সর্বশেষ যে অঘোষিত যুদ্ধ জারি করা হয়েছে, তা এক দারুন ভুল হিসাব নিকাশের ভিত্তিতে শুরু করা হয়েছে। মিশরের প্রত্যন্ত এলাকায় যে বোমা হামলার সুচনা করা হয়েছে তা সাধারণ জনগনকে আত্মসমর্পণ করার বদলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার দিকেই ঠেলে দেবে। যুদ্ধবাজদের জন্যে এটা একটা দারুন শিক্ষা হয়ে থাকবে।

ভিয়েতনামের জনগন যারা বছরের পর বছর আমেরিকার বোমা হামলার শিকার হয়েছিলো, তারা মুখ বুজে সেসব সহ্য করেনি, বরং উঠে দাঁড়িয়েছে এবং জবাব দিয়েছে আরো বেশী সংখ্যক শত্রু বিমান মাটিতে ভুপাতিত করার মধ্য দিয়ে। আমার নিজের দেশের মানুষেরা এক অদম্য সাহস আর অপরাজেয় ঐক্য দিয়ে হারিয়ে দিয়েছিলো হিটলারের অব্যাহত বোমাবাজি কে। একারনেই এই সময়ে ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসন ব্যর্থ হবে, ইসরায়েল তাঁর উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেবনা। কিন্তু ইসরায়েলের এই অব্যাহত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ জারি রাখতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট একই সাথে ভয়ংকর এবং ইঙ্গিতময়। প্রায় বিশ বছর ধরে, ইসরায়েল তাঁর শক্তি অস্ত্র বৃদ্ধি করেছেন। যতবার ইসরায়েল তাঁর সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে, তার পর পরই তারা প্রস্তাব করেছে নতুন কোনও চুক্তি মেনে নেয়ার জন্যে। এটাই সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর আসল চেহারা, এরা শক্তি দিয়ে, আগ্রাসী আক্রমন দিয়ে কোনও কিছু দখল করে নেবার পরে আহবান যানায় তা মেনে নেবার। প্রতিবার দখলের পরে এরা নতুন প্রস্তাব নিয়ে আসে, যেখানে সুবিচার কে উপেক্ষা করা হয়, উপেক্ষা করা হয় এ যাবতকালের সকল আগ্রাসনকে। ইসরায়েলের এই আগ্রাসনকে অবশ্যই প্রতিহত করতে হবে, নিন্দা জানাতে হবে। এটা শুধু ইসরায়েলের দখলদারিত্বের প্রতিবাদ নয়, বরং এই জন্যে যে প্রতিটি দখলদারিত্ব বিশ্ববাসীর জন্যে একধরনের এক্সপেরিমেন্ট, কতটা অবিচার, কতটা আগ্রাসন আমরা সহ্য করে নিতে পারি।


(প্যালেস্টাইনীদের উদ্বাস্তু শিবির, নিজভুমে পরবাসী মানুষের জীবন)

ওয়াশিংটনের সাংবাদিক সাম্প্রতিক সময়ে হাজার হাজার প্যালেস্টাইনী শরণার্থীদের বলেছেন একটা ইহুদী কলোনীর গলায় নৈতিক পাথরের মতো। এই সকল উদ্বাস্তু শরণার্থীদের অনেকেই এই শরণার্থী জীবনা যাপন করছেন ত=রায় তিরিশ বছর ধরে। প্যালেস্টাইনী জনগনের সবচাইতে বড় দুর্ভাগ্য হচ্ছে বিদেশী শক্তি তাদের দেশটিকে দিয়ে দিয়েছিলো আরেকটি জনগোষ্ঠীকে তাদের নতুন দেশ গড়ার জন্যে। ফলাফল হয়েছিলো, হাজার হাজার মানুষের গৃহহীন উদ্বাস্তু জীবন। স্থায়ী উদ্বাস্তু জীবন। প্রতিবার আগ্রাসনের ফলে এই উদ্বাস্তুদের সংখ্যা কেবল বেড়েই চলে। আর কতকাল পৃথিবীর মানুষ এই চশমা পরে থাকবে এই নিষ্ঠুরতাকে মেনে নেবার জন্যে? এটা পরিস্কার যে এই শরণার্থীদের অধিকার রয়েছে তাদের মাতৃভূমিকে ফিরে পাবার যেখান থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু তাদের এই অধিকার কে অস্বীকার করার কারনেই জন্ম নিচ্ছে বিরোধ এবং সংকটের। পৃথিবীর কোনও মানুষ তাদের নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত জীবন মেনে নেবেনা, তাহলে কি করে প্যালেস্টাইনী জনগনকে এই উচ্ছেদ, এই আগ্রাসন এই শাস্তিকে মেনে নেয়ার কথা বলা যায়? কিভাবে এই উচ্ছেদকে, উদ্বাস্তু জীবনকে মেনে নেয়া যায়? প্যালেস্টাইনী জনগনের এই শরণার্থীদের জীবনের স্থায়ী সমাধানই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার স্থায়ী সমাধান হতে পারে।

একথা প্রায়ই বলা হয় যে আমাদের উচিৎ ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, কারণ এই জনগোষ্ঠীই দ্বিতীয় বিসশযুদ্ধে ইউরোপে নিদারুন হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছিলো নাজীবাহিনীর হাতে। আমি এই কথার মাঝে কোনও যুক্তি খুঁজে পাইনা, কেনও এই যুক্তিতে কোনও অত্যাচারকে সমর্থন করতে হবে। ইসরায়েলের এই অব্যাহত আগ্রাসন ক্ষমার অযোগ্য আর কোনও জনগোষ্ঠীর অতীতে নিগৃহীত হওয়াকে সেই জনগোষ্ঠীর দ্বারা নতুন আগ্রাসনের সাফাই হিসাবে ব্যবহার করাটা এক ধরনের আত্ম প্রবঞ্চনা।

যারা মধ্যপ্রাচ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শেষ দেখতে চান, তাদের খেয়াল রাখতে হবে যেকোনো ধরনের শান্তি প্রচেস্টাতে যেনো কোনও সংঘর্ষের বীজ লুকিয়ে না থাকে। এই সংকটের সত্যিকারের সুবিচার করতে হলে, প্রথম যা করতে হবে তা হলো ১৯৬৭ সালের জুন মাসে ইসরায়েল যে ভুমি দখল করে নিয়েছে প্যালেস্টাইনী জনগনের কাছ থেকে তাঁর পুরোটাই ফিরিয়ে দিতে হবে।প্যালেস্টাইনকে ইসরায়েলী দখল মুক্ত করতে হবে। বিশ্বজনমত গড়ে তোলা দরকার মধ্যপ্রাচ্যের এই জনগোষ্ঠীর উপরে চলমান অত্যাচারের সুবিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্যে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাম সারওয়ার
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 2 দিন ago
Joined: শনিবার, মার্চ 23, 2013 - 4:42পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর