নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • নকল ভুত
  • মিশু মিলন
  • দ্বিতীয়নাম
  • আব্দুর রহিম রানা
  • সৈকত সমুদ্র

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাত(পর্ব-২): প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার পথে প্রতিবন্ধকতাসমূহ


প্যালেস্টাইন নামে কোন স্বাধীন রাষ্ট্র আগেও ছিল না, এখনও নেই। ইসরায়েলের জন্মের অনেক পরে প্যালেস্টেনীয় জনগণের মাঝে স্বাধীনতার প্রয়োজন অনুভূত হয়। বেশ কয়েকটি যুদ্ধে আরব বিশ্ব পরাজিত হবার পরে যখন অবস্থা বেগতিক হয় তখন প্যালেস্টেনীয় জনগণ বুঝতে পারে যে এভাবে যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরায়েলকে উৎখাত করা সম্ভব নয়। এরপরই তারা তাদের আলাদা রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রাম শুরু করে। সেই সংগ্রামের ইতিহাস অত্যন্ত সহিংস, রক্তাক্ত এবং হৃদয়বিদারক। এতটা দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়ার পরেও কেন আজ পর্যন্ত প্যালেস্টাইন তার স্বাধীনতা অর্জনে ব্যর্থ হল- সেই কারণই আমরা এই পর্বে অনুসন্ধান করবো।

জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত, ইউরোপীয়ান কূটনীতিক থেকে শুরু করে তথাকথিত কয়েকটি মানবতাবাদী সংগঠনসহ অনেকেই একটা কথা সবসময় ভাঙা রেকর্ডের মত বাজাতে থাকে, আর তা হলো ইসরায়েল যদি প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা মেনে নেয় তাহলেই নাকি মধ্যপ্রাচ্যে সাথে সাথে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। যদিও তারা কেউই মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বে আইএস খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য যে তান্ডব চালাচ্ছে তার সাথে প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার সম্পর্কটা কোথায়- তা সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে অক্ষম। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসকে নিরপেক্ষভাবে পাঠ করি তবে জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত বা ইউরোপীয়ান কূটনীতিকদের এসব চটর-পটর কথাবার্তার কোন সত্যতা পাই না। ইসরায়েল প্যালেস্টেনীয় জনগণের স্বাধীনতা অনেক আগেই মেনে নিয়েছে এবং সেটা এক-দুইবার নয়। প্যালেস্টেনীয় জনগণের নিজেদের স্বাধীন দেশ পাওয়ার উপলক্ষ্য অনেকবারই এসেছিল এবং সেইসব সুযোগকে নিজ হাতে গলা টিপে মেরেছিল তারাই। আসুন ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে আমরা জানি, কিভাবে প্যালেস্টেনীয় জনগণ বারবার নিজেদের অপরিণামদর্শীতার প্রমাণ দিয়ে ইসরায়েলের বিজিত ভূ-খন্ডে নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আজও চাতক পাখির মত অপেক্ষা করছে।
প্রথম পর্বে আমরা জেনেছি যে, ১৯৬৭ সালের আগে আরব দেশগুলোর সবাই প্যালেস্টাইনকে নিজেদের বলে দাবি করতো। পরে ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে প্যালেস্টেনীয় জনগণের মাঝে স্বাধীনতার ধারণা জন্ম নিতে থাকে।এই স্বাধীনতার জন্য যেমন তারা নিজেরা মরেছে তেমনি অন্যদেরও মেরেছে। এরকম পরিস্থিতি কি ইসরায়েলের সৃষ্ট? ইতিহাস কিন্তু তা বলে না। বরং আরব দেশগুলোর প্রবল ইহুদি-বিদ্বেষ থেকে জন্ম নেওয়া 'বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী' জাতীয় যুদ্ধংদেহী মানসিকতাই প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করেছে। নিচের বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা জানতে পারব কিভাবে ইসরায়েল বারবার প্যালেস্টাইনকে স্বাধীনতার প্রস্তাব দিয়েছে এবং কিভাবে প্যালেস্টাইনের জনগণ বারবার সেই প্রস্তাবগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রত্যাখ্যান-১:
বেলফোর ঘোষণার পরে প্যালেস্টাইনে ইহুদিরা অভিবাসী হওয়া শুরু করলে ইহুদি-আরব দাঙ্গা চরম অবস্থায় পৌঁছে যায়। ব্রিটিশরা এই দাঙ্গার কারণ অনুসন্ধান করার জন্য 'পীল কমিশন' গঠন করে। অনুসন্ধান শেষে ব্রিটিশ সরকার বুঝতে পারে যে, প্যালেস্টাইনকে ইহুদি ও আরব উভয়েই শাসন করতে চায় এবং সেখান থেকেই এই দাঙ্গার সূত্রপাত। ব্রিটিশ সরকার দুই রাষ্ট্র নীতির প্রস্তাব দেয় যা জাতিসংঘের দুই রাষ্ট্র নীতি থেকে আলাদা। এই প্রস্তাব প্যালেস্টেনীয় জনগণ তথা আরবদের অনুকূলেই ছিল। কারণ প্রস্তাবিত এই নীতিতে বেলফোর ঘোষণার সীমানা অনুযায়ী আরবদের জন্য ৯৬ শতাংশ এবং ইহুদিদের জন্য মাত্র ৪ শতাংশ বরাদ্দ ছিল। কিন্তু আরবরা মধ্যপ্রাচ্যের এক ইঞ্চি ভূমিও ছাড়তে রাজি নয়। তারা আরবের মাটিকে সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করবে তবুও ইহুদিদের সেই মাটিতে মেনে নিবে না। সুতরাং তারা সেই প্রস্তাবকে প্রথমেই প্রত্যাখ্যান করে। এছাড়া এই প্রস্তাব বেলফোর ঘোষণার সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় অনেক ইহুদি নেতাও তা মেনে নেয় নি। তবে এই প্রস্তাব পাশ হলেও তা প্যালেস্টেনীয় জনগণকে স্বাধীনতা এনে দিতে পারতো না। কারণ প্যালেস্টাইন তখন জর্ডানের অংশ হত। তারপরেও প্রাথমিক অবস্থায় হয়তো প্যালেস্টাইন জর্ডানের অংশ হত কিন্তু পরে তাদের স্বাধীনতা পাওয়ারও একটা সম্ভাবনা তৈরি হত। ইসরায়েলের তুলনায় জর্ডানের কাছ থেকে সেই স্বাধীনতা পাওয়াটা অনেক বেশি সহজ হত। এভাবেই আরবরা প্যালেস্টাইনের জনগণের স্বাধীনতার সম্ভাবনাকে শুরুতেই বিনষ্ট করে।
প্রত্যাখ্যান-২:
১৯৪৭ সালে নব্য গঠিত জাতিসংঘ আবারও দুই রাষ্ট্র নীতি প্রস্তাব করে। এই নীতি অনুযায়ী প্যালেস্টাইনের ৫৫ শতাংশ ইহুদিদের জন্য এবং বাকি ৪৫ শতাংশ আরবদের জন্য বরাদ্দ করা হয়। বলাই বাহুল্য, এই প্রস্তাব আরবরা মানে নাই। পীল কমিশন প্রস্তাবিত ৯৬ শতাংশ ভূমিই যেখানে আরবরা মেনে নেয়নি সেখানে ৪৫ শতাংশ মেনে নেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। আরবদের এই বারংবার গোয়ার্তুমিতে জাতিসংঘ বিরক্ত হয়ে তাদের এই দুই রাষ্ট্র নীতিকে বাস্তবায়িত করার সিদ্ধান্ত নেয় যা ১৯৪৮ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সূচনা করে। এভাবেই প্যালেস্টেনীয় জনগণের স্বাধীনতা পাবার আরেকটি সুযোগ আরবরা হাতছাড়া করে।
প্রত্যাখ্যান-৩:
১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পরে প্যালেস্টেনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ ওয়েস্ট ব্যাংক এবং গাজা ইসরায়েলের অধীনস্থ হয়। ইসরায়েল এরপর দুটি প্রস্তাব দেয়। হয় আরব দেশগুলো যেন ওয়েস্ট ব্যাংক এবং গাজাকে পুনরায় ফেরত নেয় নাহয় এই অঞ্চলের প্যালেস্টেনীয় জনগণ নিজেদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। এর বদলে ইসরায়েল আরব দেশগুলোর কাছে বেশি কিছু নয়, শুধুমাত্র শান্তি স্থাপন এবং ইসরায়েলের স্বীকৃতি দাবি করে। কয়েক মাস পরে সুদানের রাজধানী খার্তুমে আরব দেশগুলো একটি সম্মেলন করে যেখানে সর্বসম্মতিক্রমে তারা তিনটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়-

•ইসরায়েলের সাথে কোন ধরনের শান্তি প্রতিষ্ঠা তারা করবে না
•ইসরায়েলকে কোন অবস্থাতেই তারা স্বীকৃতি দিবে না
•ইসরায়েলের সাথে কোনরকম আলাপ আলোচনাও তারা করবে না

এভাবেই আরবরা বারবার তাদের মাত্রাতিরিক্ত অহংকারের মাধ্যমে প্যালেস্টেনীয় জনগণের সর্বনাশ সাধন করে।
প্রত্যাখ্যান-৪:
এবার আর আরবরা নয়, স্বয়ং প্যালেস্টেনীয় জনগণের মুখপাত্র ইয়াসির আরাফাত প্যালেস্টাইনের স্বাধীন হবার সুবর্ণ সুযোগকে হাতছাড়া করে। ২০০০ সালের ক্যাম্প ডেভিড আলোচনায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক ওয়েস্ট ব্যাংকের ৯৫ শতাংশ এবং পুরো গাজাকে প্যালেস্টাইনের কাছে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেন। সাথে গাজা থেকে ইহুদি বসতি প্রত্যাহার এবং প্যালেস্টেনীয় শরণার্থীদের জন্য ৩০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন। এই আলোচনার মধ্যস্থতা করেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। আরাফাত ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ইসরায়েলের এই প্রস্তাবকে নাকচ করে দেয়। আরাফাতের এরকম আচরণে বিল ক্লিনটনও শেষে বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলেন। এরপর দ্বিতীয় ইন্তিফাদা এবং হামাসের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চরমরূপ ধারণ করলে শান্তি প্রচেষ্টার এই সুযোগকে আর অগ্রসর করা সম্ভব হয় নি।
প্রত্যাখ্যান-৫:
২০০৫ সালে ইসরায়েলের একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ ইসরায়েলি নাগরিকদের এখনও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আরাফাত না মানলেও পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইসরায়েল তার সমস্ত ইহুদি জনবসতি গাজা থেকে প্রত্যাহার করে নেয় যাতে গাজাকে প্যালেস্টাইনের জনগণ নিজেদের মত করে শাসন করতে পারে। কিন্তু গাজার জনগণের ইহুদি-বিদ্বেষকে পুঁজি করে হামাস ক্ষমতায় আসে এবং ইসরায়েলে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে থাকে। যদি গাজার জনগণ হামাসকে ক্ষমতায় না আনত তাহলে হয়তো আজ তাদের নিরপরাধ শিশুদের লাশ দেখতে হতো না। গাজার জনগণ হয়তো এতটা মানবেতর জীবনযাপন করতো না। ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে শাসন ক্ষমতায় আনলে কিরকম পরিণতি বরণ করতে হয়, তা আজ প্রত্যক্ষ করছে গাজার জনগণ। এরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলে ইসরায়েলের উপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের একটা সুযোগ তৈরি হত যে, ইসরায়েল প্যালেস্টেনীয় অঞ্চলগুলো থেকে তার সেটেলমেন্ট প্রত্যাহার করলেই এই সংঘাতের পরিসমাপ্তি ঘটবে। ফলে ওয়েস্ট ব্যাংক থেকেও ইসরায়েল তার জনবসতি সরাতে বাধ্য হত। কিন্তু কপালের লিখন খন্ডাবে কার সাধ্য! গাজার জনগণও তাই তাদের চরম পরিণতি বেছে নিয়েছে, সাথে সাথে প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতাও দুঃস্বপ্নে রূপ লাভ করেছে। যারা বলে যে ইসরায়েলী সেটেলমেন্টই প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার পথে প্রধান বাধা, ২০০৫ সালের এই ইহুদি জনবসতি প্রত্যাহারই তাদের মুখের উপরে উপযুক্ত চপেটাঘাত।
প্রত্যাখ্যান-৬:
২০০৮ সালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ অলমার্ট আরেকবার শান্তি প্রচেষ্টার জন্য এগিয়ে আসেন। তিনিও এহুদ বারাকের অনুরূপ প্রস্তাবনাকে প্যালেস্টাইনের সামনে পেশ করেন। প্যালেস্টাইনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস তার পূর্বসূরীদের পথকেই অনুসরণ করেন এবং ইসরায়েলের প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেন।

হায়! পৃথিবীর বুকে কোন জাতি কি তাদের স্বাধীনতা লাভের এতগুলো সুযোগ পেয়েছিল? মনে হয় না। আজকাল অনেকে ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন ছবি সংগ্রহ করে বলার চেষ্টা করে, এই দেখুন ইসরায়েল কিভাবে বছরের পর বছর ধরে প্যালেস্টাইনকে গ্রাস করে নিয়েছে। আমি বলি কি- অপরিণামদর্শীদের কপালে এর চেয়ে ভালো কিছু জোটে না। প্যালেস্টাইনের আগেই মনে রাখা উচিত ছিল যে ইসরায়েল জাতিসংঘের ভোটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত একটি দেশ। বারবার আক্রমণ আর সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে তাই ইসরায়েলকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে উৎখাত করা সম্ভব নয় অন্তঃত এই একুশ শতকে। বরং সেই প্রচেষ্টা যারা করবে দিনশেষে তারাই যে সর্বস্বান্ত হবে তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ বর্তমান প্যালেস্টেনীয় জনগণ। তারা যদি এতই নিজেদের স্বাধীনতা চায়, তাহলে তারা আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময়েই কেন আরব দেশগুলোকে বাধা দিল না। তারা আরব দেশগুলোকে কেন বললো না যে, 'দেখ বাপু, এটা ইসরায়েল এবং প্যালেস্টাইনের জনগণের নিজস্ব ব্যাপার। আমরা নিজেরাই এই সমস্যার সমাধান করবো, তোমাদের নাক গলানোর কোন প্রয়োজন নেই।' তাহলেই তো আরব দেশগুলো আর যুদ্ধ করার সাহস পেত না, প্যালেস্টেনীয় জনগণকেও আর তাদের মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হতে হত না।

প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা লাভের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা:

১. প্যালেস্টাইনের মাত্রাতিরিক্ত ইহুদি-বিদ্বেষ এবং ইসরায়েলকে ধ্বংস করার দুর্দমনীয় বাসনাই প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার পথে অন্যতম প্রধান বাধা। শুরুতে আসলে প্যালেস্টেনীয় জনগণের নিজেদের জন্য আলাদা কোন রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা ছিল না। যেকোন একটা আরব মুসলিম দেশের গোলামী করতে পারলেই তারা খুশি ছিল। তাদের আসল উদ্দেশ্য কেবল ছিল, ইহুদিদের প্যালেস্টাইন থেকে বিতাড়িত করা। প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের ধারণা আরও পরে জন্ম লাভ করে। আজকে মাহমুদ আব্বাস ভেজা বেড়ালের যতই বলুক যে তারা ইহুদিদের ঘৃণা করে না, তবুও ইতিহাস ঘাটলে প্যালেস্টেনীয় জনগণের ইহুদি-বিদ্বেষ ঠিকই আমাদের চোখের সামনে ধরা দেয়। এক্ষেত্রে তাদের ধর্মীয় নেতাদের অবদানও কম না। এসব ধর্মীয় নেতাদের একের পর এক উস্কানিমূলক বক্তব্য হয়তো আগুনে ঘি ঢেলেছে ঠিকই কিন্তু পরিশেষে সেই আগুন প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার স্বপ্নকেই পুড়িয়ে ছাড়খাড় করে দিয়েছে।

২. আরেকটি প্রধান কারণ হলো আরব দেশগুলোর যুদ্ধংদেহী মনোভাব। এই যে আরব বিশ্ব ইসরায়েলের সাথে এতগুলো যুদ্ধ করলো এর ফলস্বরূপ তারা কি পেল? প্যালেস্টাইন কি তার স্বাধীনতা পেয়েছে কিংবা আরব দেশগুলো কি ইসরায়েলের এক ইঞ্চি ভূমিও দখল করতে পেরেছে? উত্তর হচ্ছে-না। মাঝখান থেকে কেবল তারা প্যালেস্টেনীয় জনগণের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে এবং প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা লাভের পথকে কঠিন থেকে কঠিনতর করে তুলেছে।

৩.বর্তমানে প্যালেস্টাইনের জনগণের প্রধান শত্রু হলো পশ্চিমা বামপন্থী লেখক-রাজনীতিবিদ-বুদ্ধিজীবী এবং বাকি মুসলিম বিশ্ব। এরা সবাই মিলে প্যালেস্টেনীয় জনগণের মানসপটে একটা ধারণার জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছে, আর তা হল ইসরায়েল একটি অবৈধ রাষ্ট্র। ফলে প্যালেস্টাইনের সাধারণ জনগণরাও তাদের সুরে সুর মিলিয়ে ইসরায়েলকে অবৈধ রাষ্ট্র মনে করে এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে ইহুদিদের উৎখাত করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। বলা বাহুল্য এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে ইসরায়েল তো বটেই অনেক সভ্য দেশও কোনদিনই প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা মেনে নেবে না। তাই পশ্চিমা বামপন্থী এবং মুসলিম দেশগুলোর অতিরিক্ত দাপাদাপি প্যালেস্টাইনকে উপকারের পরিবর্তে প্রকারন্তরে ক্ষতিসাধনই করছে।

৪. প্যালেস্টাইনের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোও এর স্বাধীনতার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসব সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর প্রধান টার্গেটই হল ইসরায়েলের বেসামরিক নাগরিক যা কোনভাবেই স্বাধীনতা সংগ্রাম হতে পারে না। কোন দেশই তার বেসামরিক নাগরিকদের উপর আক্রমণ সহ্য করে না, ইসরায়েলও করবে না। এসব সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো ইসরায়েলের অস্তিত্ব পর্যন্ত স্বীকার করে না। বেসামরিক নাগরিকদের উপর এসব আক্রমণ প্যালেস্টাইনের জনগণের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও মানসিকতা ইসরায়েলের সামনে তুলে ধরছে, ফলে প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার স্বপ্নও দিনকে দিন স্বপ্নদোষে পরিণত হচ্ছে।

৫. জাতিসংঘ এবং পশ্চিমের মানবতাবাদী সংগঠনগুলোর একচোখা নীতিও প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতাকে মেনে না নেওয়ার জন্য ইসরায়েলকে বাধ্য করছে। তারা সবসময় ইসরায়েলের তথাকথিত আগ্রাসী নীতিকে সমালোচনা করলেও হামাস সম্পর্কে তারা একটা শব্দও উচ্চারণ করে না। ইসরায়েলের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামাসের রকেট নিক্ষেপের সময় তারা বসে বসে তামাশা দেখে। যেই ইসরায়েল প্রতিরক্ষামূলক পাল্টা আক্রমণ চালায় অমনি তাদের মানবতা উথলে উঠে আর একের পর এক প্রস্তাব উত্থাপন করে। এরকম একচোখা নীতি জাতিসংঘের সাথে সাথে প্যালেস্টাইনের প্রতিও ইসরায়েলকে বীতশ্রদ্ধ করে তুলেছে।

উপরের এই বিশ্লেষণ থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার- আরব দেশগুলোর গোয়ার্তুমি এবং প্যালেস্টাইনের নেতাদের সদিচ্ছার অভাবই প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা লাভের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা, ইসরায়েল নয়। ইসরায়েল সবসময় নিজে থেকেই আরব দেশগুলো এবং প্যালেস্টাইনের সাথে শান্তি প্রচেষ্টার উদ্যোগ শুরু করেছে। কারণ যতগুলি যুদ্ধে ইসরায়েল এবং আরবরা জড়িয়েছে তার সবগুলোই শুরু করেছে আরব দেশগুলো। এসব যুদ্ধে বারবার জয়লাভ করার পরও ইসরায়েলের পা মাটিতেই ছিল। একারণেই তারা সিনাই উপদ্বীপকে পুনরায় মিশরের কাছে ফেরত দিয়েছে। ইসরায়েলের নিজস্ব উদ্যোগের কারণেই মিশর এবং জর্ডানের সাথে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। একই রকম উদ্যোগ ইসরায়েল প্যালেস্টাইনের ক্ষেত্রেও নিয়েছে। এর প্রমাণ হল-ওয়েস্ট ব্যাংক এবং গাজাকে বারবার যুদ্ধের মাধ্যমে জেতার পরও এর মালিকানা ইসরায়েল দাবি করেনি। বরং প্যালেস্টাইন কিভাবে এই অঞ্চলগুলোকে নিয়ে তার স্বাধীনতা পেতে পারে সেই চেষ্টাই ইসরায়েল বারবার করেছে। কিন্তু সেই উদ্যোগগুলোকে প্যালেস্টাইনের জনগণ বারবার নিজ পায়ে দলিত করেছে। এতকিছুর বদলে ইসরায়েল তার নাগরিকদের সুরক্ষা এবং স্বীকৃতিই কেবল দাবি করেছে প্যালেস্টাইন এবং আরব দেশগুলোর কাছে। তাই প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার জন্য ইসরায়েলকে চাপ না দিয়ে জাতিসংঘ এবং বহির্বিশ্বের উচিত প্যালেস্টেনীয় ও আরব নেতাদেরকে চাপ প্রয়োগ করা। কারণ ইসরায়েল ইতোমধ্যেই তাদের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব তার সবটাই করেছে। এখন সময় এসেছে, প্যালেস্টেনীয় জনগণ এবং বাকি মুসলিম বিশ্ব যেন তাদের চরম ইহুদি-বিদ্বেষকে ত্যাগ করে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে আসে। আজকের এই অবস্থায় আসতে মানবসভ্যতাকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। ঘৃণার বদলে যে কেবল ঘৃণাই পাওয়া যায়- তা এতদিনে সভ্য জগত বুঝতে সক্ষম হলেও মুসলিম বিশ্ব তা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের সেই ব্যর্থতাই প্যালেস্টেনীয় জনগণকে আজ অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দিয়েছে। মুসলিম বিশ্বের এখন তাই কর্তব্য হলো ঘৃণার রাস্তাকে পরিত্যাগ করে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার রাস্তাকে প্রশস্ত করা। মানবতার জয় হোক, প্যালেস্টাইন স্বাধীন হোক- একুশ শতকে এর চেয়ে বড় চাওয়া আর কিছু নেই......।

(চলবে)

পর্ব-১

পর্ব-১ ও ২ এর সহায়িকাসমূহঃ
১. হিস্ট্রি চ্যানেল ডকুমেন্টারি
২. বিবিসি ডকুমেন্টারি
৩. https://www.standwithus.com/booklets/il101/
৪. http://www.jewishvirtuallibrary.org/
৫. http://www.maozisrael.org/site/News2?id=9562
৬. ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাত ও আমাদের করণীয়- আলমগীর হুসেন
৭. Wikipedia

Comments

গোলাম সারওয়ার এর ছবি
 

দারুন লেখা, বাংলা ভাষায় ইসরায়েল প্যালেস্টাইন নিয়ে এই রকমের ইতিহাস বিশ্লেষণ সম্ভবত বিরল। আপনার লেখাটি আমাকে নতুন জ্ঞান দান করেছে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আমি ইসরায়েল প্যালেস্টাইনের ইতিহাস পড়েছিলাম আইলান পেপে, নোয়াম চমস্কি, নরম্যান ফিনকেলস্টেইন আর মার্ক টেসলার এর বই থেকে। বলাই বাহুল্য এরা সবাই ইহুদী পরিবার থেকে উঠে আসা, এঁদের কারো কারো পরিবার ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া। আপনার লেখা "ইতিহাস" টি অবশ্য এই লেখকদের লেখা পুস্তকগুলোর ইতিহাসের সাথে ঠিক মিলছেনা।

এরা সম্ভবত, প্যালেস্টাইনীদের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া লেখক।

আপনি এই ব্লগ সিরিজের লেখাগুলো নিয়ে একটি পুস্তকের পরিকল্পনা করতে পারেন, বাঙালী আলোকিত হয়ে উঠবে।

এই দারুন "সত্য ইতিহাস" বাঙালী পাঠকের কাছে তুলে ধরার জন্যে আপনাকে আবারো ধন্যবাদ।

 
আরমান অর্ক এর ছবি
 

@গোলাম সারওয়ার, লেখাটি পড়ে মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ। আপনি যে পয়েন্টটি বলেছেন সেটা যে কেউ না কেউ বলবে তা পূর্বেই অনুমান করেছিলাম, যে আইলান পেপে, নোয়াম চমস্কি, নরম্যান ফিনকেলস্টেইন আর মার্ক টেসলার মত জগদ্বিখ্যাত দার্শনিক, ইতিহাসবিদ লেখকদের লেখা বাদ দিয়ে কিসব ছাই পাশ ইহুদি সাইট থেকে কপি পেস্ট করে লেখা তুলে দিয়েছি!!!
দেখুন, প্যালেস্টাইনের পক্ষে না হোক অন্তত তথাকথিত নিরপেক্ষভাবে ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাত নিয়ে পুরো বিশ্ব তো বটেই বাংলাদেশেও অনেক বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, ইতিহাসবিদদের অসংখ্য লেখা আছে যারা আমার চেয়ে অনেকগুণ বেশী পড়াশুনা করে পত্রিকার কলাম ভরিয়ে তুলেছেন, টকশোতে এসে ইসরায়েলকে গাল-মন্দ করে গলা শুকিয়ে ফেলেছেন। বাংলা ব্লগেও অনেকেই ইসরায়েলের তথাকথিত আগ্রাসী নীতির সমালোচনা করে অসংখ্য লেখা লিখেছেন। তাহলে আমার এই ইহুদি সাইট থেকে তথ্য ধার করে এরকম একটি লেখার কি সত্যিই কোন প্রয়োজন ছিল? আমার মনে হয়েছে ছিল। কারণ ইংরেজী ভাষায় এরকম লেখার অভাব না থাকলেও বাংলা ভাষায় রয়েছে। আমি শুরু থেকেই ইসরায়েলি পয়েন্ট থেকে লেখাটি লিখবো- সেই মানসিকতা নিয়েই এগিয়েছি। বাংলা ভাষায় অনেক তো ইসরায়েলের আগ্রাসন(!) আর দখলদারী(!) নীতির সমালোচনা হলো। এবার একটু আরব ও প্যালেস্টাইনের ফ্যাসীবাদি নীতিরও সমালোচনা হওয়া উচিত বলেই আমার মনে হয়েছে। সেই চিন্তা থেকেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। বলা বাহুল্য, আপনার উল্লেখিত লেখকদের লেখায় আমি সেই চিন্তার খোরাক পেতাম না। তারপরেও আপনার এই প্রচ্ছন্য উপদেশ বাণী আমি মনে রাখলাম। ভবিষ্যতে যদি ঐসব লেখকদের লেখা পড়ার সুযোগ পাই এবং তা থেকে যদি নতুন কোন জ্ঞান আমার এই ক্ষুদ্র মস্তিষ্ককে সমৃদ্ধ করে তাহলে সেটা নিয়েও লেখার চেষ্টা করবো। আবারো ধন্যবাদ।

****************************************************************************************
সত্য যে কঠিন ,কঠিনেরে ভালোবাসিলাম; সে কখনো করে না বঞ্চনা ।

 
আরমান অর্ক এর ছবি
 

বাই দ্য ওয়ে, আমার এই "নতুন" ইতিহাসকে যদি আপনার কাছে অসত্য এবং বিকৃত বলে মনে হয়, তাহলে আপনি আপনার উল্লেখিত লেখকদের লেখা থেকে সঠিক ইতিহাস তুলে দিয়ে পাঠকদেরকে আলোকিত করতে পারেন। তাতে যদি নতুন কোন সত্য ইতিহাস আপনি দেখাতে পারেন তাহলে সেটাকে আমিও ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখবো। ধন্যবাদ।

****************************************************************************************
সত্য যে কঠিন ,কঠিনেরে ভালোবাসিলাম; সে কখনো করে না বঞ্চনা ।

 
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
 

ইতিহাস আর ইতিহাসের বয়ান দুটি আলাদা বিষয়। আপনি যা লিখছেন, সেটা ইতিহাসের বয়ান, আপনি বলছেন সেটা ইসরায়েলিদের দিক থেকে লেখা ইতিহাস, আসলে এই বয়ানটি ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর বয়ান, সেটাও খুব দুর্বল ভাবে উপস্থাপিত। প্রকৃত ইতিহাস পাওয়া যাবে, ইতিহাসের বইয়ে। বিভিন্ন একাডেমিক ইতিহাসবিদ ইতিমধ্যেই তা লিখেছেন। নিশ্চয়ই বাঙালী অনুবাদকদের কেউ এক সময় সেসব অনুবাদ করবেন। ততদিন পর্যন্ত, এই রকমের কাট-পেস্ট ব্লগ পড়েই কাটাতে হবে আমাদের। মুশকিল হলো কোনটা ইতিহাস আর কোনটা প্রোপাগান্ডা সেই পার্থক্যটা করার জন্যে যেটুকু ক্রিটিক্যাল মাইন্ড থাকা দরকার তা আমাদের গড়পড়তা বাঙালী পাঠকের নেই।

আবারো ধন্যবাদ আপনার প্রচেষ্টার জন্যে। আমি আশায় থাকবো কেউ নিশ্চয়ই একাডেমিক ইতিহাসগুলোর বাংলা অনুবাদ করবেন এক সময়।

 
আরমান অর্ক এর ছবি
 

@গোলাম সারওয়ার, এবার আপনি খুব বেশী রকমের সরলীকরণ করে ফেলেছেন। আমার লেখাটিতে হয়তো কিছু ইতিহাসের বয়ান আছে কিন্তু তার সাথে ইতিহাসও আছে। ২০০৫ সালে গাজা থেকে ইহুদি সেটেলমেন্ট প্রত্যাহার করাটা কি ইতিহাসের বয়ান? কিংবা বারবার যুদ্ধের মাধ্যমে জেতার পরেও ওয়েস্ট ব্যাংক এবং গাজাকে প্যালেস্টাইনের জনগণের কাছে হস্তান্তর করাটা কি কেবলই ইতিহাসের বয়ান? অথবা ইসরায়েলের নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামাসের রকেট নিক্ষেপ করাটা কি জায়োনিস্ট প্রোপাগান্ডা? না, এগুলো ইতিহাসের বয়ান নয়, বরং এগুলোই প্রকৃত ইতিহাস যা আমরা অনেকেই জানি না। চাইলে আপনিও ইতিহাস ঘেঁটে দেখতে পারেন। আর আপনার জ্ঞাতার্থে আমি আবারো বলছি, আমি এই সিরিজটি শুরু থেকে ইসরায়েলের দিক থেকেই লেখার চেষ্টা করেছি। এ বিষয়ে আমি রাখ ঢাক করতে চাই না। কারণ আমরা এতদিন নিরপেক্ষ(!) ইতিহাস অনেক পড়েছি। এখন ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও বাংলা ভাষায় কিছু লেখা উচিত বলেই আমার মনে হয়েছে। নিরপেক্ষভাবে লিখবো না বলেই আপনার উল্লেখিত লেখকদের লেখা অনুসন্ধান করার প্রয়োজন বোধ করি নি। তাছাড়া সেই একাডেমিক লেখাগুলো আজকের যুগে খুঁজে বের করাটা খুব কঠিন কাজ ছিল না। ধন্যবাদ।

****************************************************************************************
সত্য যে কঠিন ,কঠিনেরে ভালোবাসিলাম; সে কখনো করে না বঞ্চনা ।

 
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
 

আপনি ইতিহাসকে ইসরায়েল এর পক্ষ থেকে লেখার চেষ্টা করছেন বাংলা ভাষায়, এটা নিঃসন্দেহে একটা মহান উদ্যোগ। এজন্যেই তো আপনাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি বারবার, বাংলা ভাষায় এই ইতিহাস বিরল সেটাও লিখেছি ইতিমধ্যেই, তাই না?

বাই দা ওয়ে, আপনার লেখাকে আমি প্রোপাগান্ডা বলিনি, আমি কি লিখেছি আরেকবার দেখুনঃ
"মুশকিল হলো কোনটা ইতিহাস আর কোনটা প্রোপাগান্ডা সেই পার্থক্যটা করার জন্যে যেটুকু ক্রিটিক্যাল মাইন্ড থাকা দরকার তা আমাদের গড়পড়তা বাঙালী পাঠকের নেই।"

আপনার লেখাটি খুব ভালো প্রোপাগান্ডাও হয়ে ওঠেনি। তবে চেস্টার জন্যে আবারো ধন্যবাদ।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আরমান অর্ক
আরমান অর্ক এর ছবি
Offline
Last seen: 6 দিন 17 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, মে 4, 2017 - 12:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর