নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • জীহান রানা
  • নুর নবী দুলাল
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • জয়বাংলা ১৯৭১
  • মোগ্গালানা মাইকেল

নতুন যাত্রী

  • বিদ্রোহী মুসাফির
  • টি রহমান বর্ণিল
  • আজহরুল ইসলাম
  • রইসউদ্দিন গায়েন
  • উৎসব
  • সাদমান ফেরদৌস
  • বিপ্লব দাস
  • আফিজের রহমান
  • হুসাইন মাহমুদ
  • অচিন-পাখী

আপনি এখানে

শিক্ষায় কতদূর এগোল সুবিধাবঞ্চিতরা


বিপুল সম্ভাবনার দেশ হওয়া সত্ত্বেও দৃষ্টিসীমার বাইরে কিছু দুর্বলতা থেকে যায়। সেদিকে চোখ পড়েও চোখ পড়েনা আমাদের। আমাদের নেই কোনো উদ্যোগ কিংবা উৎকণ্ঠা। যার কারণে চোখের সামনেই ধ্বসে পড়তে দেখি আগামীর জন্য সুপ্রতিষ্ঠিত উঁচু মিনার। সুবিধাবঞ্চিতরা এভাবেই চিরতরে অবহেলিত হয়ে আসছে। পথশিশুদের কথাই ধরা যাক। এদের কিছু ভাগ রয়েছে-- টোকাই, শিশুশ্রমিকসহ জীবন চালনার তাগিদে আরো বিভিন্ন অমূলক কাজে নিয়োজিত শিশু-কিশোররা সবাই যথোপযুক্ত প্রতিপালন, বেড়ে ওঠা এবং সুযোগ-সুবিধা থেকে প্রত্যাখিত। শিক্ষার ক্ষেত্রেও পায়না কারো সাহায্য অথবা অনুপ্রেরণা। যেখানে পেট চালানোটাই মৌলিক হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে শিক্ষার মতো যৌগিক বিষয়ের কথা মাথায় আসেনা অনেকেরই। শিক্ষাকে যৌগিক বলা ভুল হবে কারণ আমরা সবাই জানি শিক্ষা মোটেও যৌগিক নয়, আমাদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পথশিশুরা নিজেদের দিনযাপন করছে এবং অশিক্ষিত সমাজে নিয়মিত বেড়ে উঠছে, এতে বলতে কোনো ভুল নেই যে শিক্ষা তাদের ক্ষেত্রে এখন আর মৌলিক অধিকার হিসেবে নেই।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৭৮ লক্ষ পথশিশু রয়েছে। জীবনযুদ্ধের ময়দানে এরা সবাই যোদ্ধা। পায়না নির্দিষ্ট বাসস্থান ব্যবস্থা; তাই জায়গা খুঁজে নেয় স্টেশন প্লাটফর্মে, ফুটপাতে, ওভারব্রিজে কিংবা পার্কে। অধিকাংশরাই থাকে দূষিত বস্তিতে। বাবা মায়েরাও কাজে লাগিয়ে দেয় এদের। স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করতে দিতে তারা নিমরাজি। কাজ করতে গেলেও তো দুটো পয়সা রোজগার হবে, স্কুলে গেলে তো তাও নয়। কঠিনভাবে উদরজ্বালা নিবারিত হয় তাদের। পায়না শীতোষ্ণ কাপড়-কম্বল। মৌলিক অধিকারের প্রথম দিকের চাহিদাগুলোই যেখানে ঠিকঠাকভাবে পরিপূর্ণ হচ্ছেনা সেখানে স্বভাবতই শেষের দিকের মৌলিক অধিকার অর্থাৎ শিক্ষাকে গুরুত্ব দেবার কোনো প্রশ্নই ওঠেনা।

মৌলিক থেকে যৌগিকেই এগোচ্ছে শিক্ষা। অথচ এমনটা কোনোভাবেই হতে দেয়া যায়না। আগ্রহীরা পড়তে চায়। জাতির কল্যাণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞরা অন্যান্যদের তুলনায় এগোতে পারে অনেক; যারা করুণতায় ভরা জীবন যাপনের পাশাপাশিও কঠিন সংগ্রাম করছে শিক্ষালাভের জন্য। তাদের বাবা মায়েরা সন্তানের চোখে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অালো দেখতে পেয়েছে বলেই তা সম্ভব হয়েছে। নইলে কোনোভাবেই তা হতে পারতোনা। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হবার স্বপ্ন সবাই দেখে। কিন্তু প্রকৃতই শিক্ষিত হতে পারে খুব কম।

এই যে তাদের অশিক্ষিত থেকে যাওয়া, অন্ধকারের অজ্ঞতায় জীবন পার করে দেবার বেদনা, এসব আমরা বুঝি। জাতির ভবিষ্যৎ আমরা অনেকটাই আঁচ করতে পারি এসব সুবিধাবঞ্চিতদের দেখে। কিন্তু যেমন ছিল ঠিক তেমনি থেকে যায়। যে যার মতো আছে সে তার মতোই রয়। আবার যে সয় সে রয়। তারা একটুখানি সাহায্যের আশায় সহ্য করে যাচ্ছে শত দুঃখ আর যন্ত্রণা। বাবা মায়ের কাছ থেকে কিছু পাবার আশা ছেড়ে দিয়ে আশা করেছিল আমাদের কাছে। কিন্তু আমরাও তাদের হতাশ করেছি। তখন আর এগোতে না পেরে প্রত্যাশা ছেড়ে দিয়েছে কারো সাহায্য পাবার। যার কারণে শিক্ষালাভের যেটুকু স্বপ্ন তাদের বুকে সঞ্চারিত হয়েছিলো, সেটাও ভুল পথ ধরে মিলিয়ে গেছে। রাস্তায় রাস্তায় ভবঘুরে হয়ে ঘুরে ফেরা বঞ্চিত শিশুদের যে তরুণ বয়সে একদিন ভোগান্তির শিকার হতে হবে, তা স্পষ্ট হয়।

পথশিশুদের শিক্ষার আইন দেশে চালু করা হয়েছে, এমনকি শ্রমিক শিশুদের নির্দিষ্ট সময় কাজের পাশাপাশি স্কুলে যাতে শিক্ষাদান করানো হয় সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে। আবার এমনও বলা আছে যে ১৮ বছর বয়সের নিচে শিশুশ্রম বেআইনি। এতে শিশুদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। এ কেমন নির্দেশনা? ১৮ বছরের নিচে যদি শিশুশ্রম বেআইনি হয় তবে আবার আলাদাভাবে কাজের পাশাপাশি শিক্ষাদানের কথা বলা হয়েছে কেন? শিশুরা যেকোনো একটি কাজ করবে; হয় শ্রমিক হিসেবে কাজ করবে, নয়তো সুশিক্ষিত হবার স্বপ্নে নিজেদের উদ্বুগ্ধ করে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাবে। দুটো কাজ একসাথে করলে যে কোনোটাই ভালোভাবে সম্পূর্ণ হয়না এটা আমরা সবাই জানি। একটি পথশিশুকে যদি ডেকে এনে জানতে চাওয়া হয় সে কোনটি করতে চায়, সে নিশ্চয়ই গায়ের শক্তি ব্যয় করে কাজ করতে চাইবেনা! শিক্ষাটাকেই সে বেছে নেবে।

কিন্তু প্রকৃতরুপেই কি তারা নিজেদের লেখাপড়াটাকে নিয়মিত চালিয়ে যেতে পারছে? নাকি প্রভাব বিস্তারকারী গুটিকতক "মালিক" নামক শ্রেণীর শাসনের চক্রবৃত্তেই আটকা পড়েছে তাদের স্বপ্নরশ্মি? মালিকদের বক্তব্য হলো এরকম যে, সরকারি আইন হয়েছে তো কি? জোর লাগিয়ে কাজ না করলে তো পেট চলবে না। হ্যাঁ তাদের বক্তব্যটিও যুক্তিযুক্ত। যেখানে অন্ন যোগানই তাদের ক্ষেত্রে দুরূহ হয়ে উঠেছে সেখানে শিক্ষা অর্জনের কথা তো পরের ব্যাপার। অথচ তাদের কেবল বর্তমানকে নিয়েই সব ভাবনা। ভুলে গেছে যে শিক্ষার্জনের মাধ্যমেই তাদের বাকি জীবনের অন্ন যোগান ব্যবস্থা স্বাচ্ছন্দ্যভাবে পূরণ করা যেতে পারে। মালিকদের বর্তমান চিন্তা ঠিক কিন্তু ভবিষ্যৎ চিন্তা ভুল। তারা বর্তমানের অন্নাভাব সম্পাদনের জন্যই তাদের দ্বারা কাজ করিয়ে নিচ্ছে। আর ভবিষ্যৎ চিন্তা অর্থাৎ শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে জাতিগঠনের কান্ডারিদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে তারা উদাসীন। অন্যদিকে আমাদের বর্তমান চিন্তা ভুল কিন্তু ভবিষ্যৎ চিন্তা ঠিক।

আমাদের বর্তমান চিন্তা ভুল কারণ আমরা আমাদের সাহায্যের অতিপ্রত্যাশিত হাতটি তাদের দিকে বাড়িয়ে দিচ্ছিনা এটা জেনেও যে আমাদের সাহায্য না পেলে তাদের উন্নতির যেটুকু সম্ভাবনা ছিলো তাও ধূলিস্যাৎ হবে। আর ভবিষ্যৎ চিন্তা ঠিক কারণ আমরা জানি শিক্ষাবঞ্চিত হলে তাদের ভবিষ্যৎ জীবন কেমন হতে পারে। কেমন অতিকষ্টের শিকার তারা হতে পারে পরবর্তী সময়ে! দেশ এবং জাতির জন্য এটা কতোবড় একটা হুমকি হতে পারে ভাবা যায়! এবার তাহলে একটু ভেবে দেখুনতো ঐ "মালিক" শ্রেণীর লোকদের ধারণার সাথে আমাদের ধারণাটা বদলে নিলে কেমন হয়?

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাদিক আল আমিন
সাদিক আল আমিন এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 4 দিন ago
Joined: মঙ্গলবার, মার্চ 28, 2017 - 6:21অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর