নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 12 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • আরমান অর্ক
  • উর্বি
  • নুর নবী দুলাল
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • কিন্তু
  • পৃথু স্যন্যাল
  • মিশু মিলন
  • সুমিত রায়
  • মিসির আলী
  • হেজিং

নতুন যাত্রী

  • অন্নপূর্ণা দেবী
  • অপরাজিত
  • বিকাশ দেবনাথ
  • কলা বিজ্ঞানী
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • সাবুল সাই
  • বিশ্বজিৎ বিশ্বাস
  • মাহফুজুর রহমান সুমন
  • নাইমুর রহমান
  • রাফি_আদনান_আকাশ

আপনি এখানে

মিলিটারির ব্যবসায়িক সম্রাজ্যের বিকাশে পাকিস্তানের অবস্থা: একই প্রবণতা সম্পন্ন অন্যান্য দেশে ভয়ের কারণ


‘সংসদীয় গণতন্ত্র’র সৃষ্টির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে সামরিক বাহিনী। ঔপনিবেশিক শক্তি গুলো ঘরে ও বাইরে নিজেদের দাপট বজায় রাখতে বিশাল সেনাবাহিনী পুষত। এই সেনাবাহিনীর ভরণ পোষণ রাষ্ট্রীয় কোষাগার হতে মেটানো অসম্ভব হয়ে উঠছিল, তখন প্রয়োজন পড়ে জনগণকে বুঝানোর যে কেন তাঁদের সামরিক বাহিনীকে টিকিয়ে রাখতে ও শক্তিবর্ধন করতে হবে; প্রয়োজন পড়ে জনগণ হতে কর(Tax) সংগ্রহ করার। এখন এই করের হার ধার্য্য করতে সবার মতামত প্রয়োজন, তাই জনপ্রতিনিধি নির্বাচন এর ব্যবস্থা করা হল, এই জনপ্রতিনিধিরা যেই জায়গায় বসে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন সেটিই হচ্ছে পার্লামেন্ট তথা সংসদ। এই সংসদের কাছে রাজা এবং সেনাবাহিনী দু'এরই জবাবদিহিতা করতে হত অর্থাৎ এখানে আমরা দেখতে পাই এই সংসদ সৃষ্টি হওয়ার ফলে একটা ‘Check & Balance’ চলে আসল। এখন যদি এই সেনাবাহিনী নিজেদের আয়ের উৎস নিজেরা করে নেয় তাহলে এই সংসদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোটা সময়ের ব্যাপার, যার বড় উদাহরণ দেয়া হয় এভাবে- পাকিস্তানে সেনাপ্রধানের গাড়ি আগে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর গাড়িকে থামিয়ে দেয়া হয়!

আবার কতক দেশে এই সেনাবাহিনীর জন্যেই গণতন্ত্রের দ্বার রুদ্ধ হয়েছে, গণতন্ত্রের চর্চা ব্যহত হয়েছে; উদাহরণঃ পাকিস্তান, মায়ানমার, তুরস্ক, বাংলাদেশ ইত্যাদি- এসব দেশে সেনা শাসন ছিল কিংবা আছে। এসব দেশে মিলিটারিরা শাসনক্ষেত্রে হোক কিংবা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে হোক- অনেক প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে থাকে যা দেশের অভ্যন্তরে আর্থ-সামাজিকভাবেও একধরণের ভারসাম্যহীণতা প্রতিষ্ঠিত করেছে যা গণতন্ত্রের চর্চায় বাঁধা হিসেবে পরিগণিত।

Ayesha Siddiqa রচিত ‘Military Inc.: Inside Pakistan’s Military Economy’ তে পাকিস্তান মিলিটারির ব্যবসায়িক সম্রাজ্যের কথা তুলে ধরেছেন এবং কিভাবে এর মাধ্যমে এরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বাগে এনে রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পত্তি ভোগ দখল করে যাচ্ছে তা ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি এখানে ‘Milbus’ টার্মটির প্রবর্তন করেন, এটি ‘military’ এবং ‘business’ শব্দদ্বয়ের সম্মিলন। তিনি মিলবাসকে সংজ্ঞায়িত করেন-
‘I define Milbus as military capital used for the personal benefit of the military fraternity, especially the officer cadre, ehich is not recorded as part of the defence budget or does not follow the normal accountability procedures of the state, making it an independent genre of capital. It is either controlled by the military or under its implicit or explicit patronage.’
সকল কর্মকান্ড যা কোনও রূপ জবাবদিহিতা ছাড়া এবং ব্যক্তিগত ভোগ বিলাসের নিমিত্তে সরকারী এবং বেসরকারী খাত হতে সুযোগ ও সম্পদকে মিলিটারির কোনও ব্যাক্তি বা গ্রুপের কাছে হস্তান্তরিত হলে তা Milbus’র আওতায় পড়বে। এই ধরণের কার্যাবলির মধ্যে পড়ে-

1. State land transferred to military personnel
2. Resources spent on providing perks and privileges for retired armed forces personnel, such as provision of support stuff membership of exclusive clubs, subsidies on utility bills and travel, and subsidized import of vehicles for personal use by senior officials
3. Diverting business opportunities to armed forces personnel or the military organization by flouting the norms of the free market economy
4. Money lost on training personnel who seek early retirement in order to join the public sector
মিলিটারি পারসোনেল এর জন্য এসব অর্থ ব্যায় হওয়া বা মুনাফা ভোগদখল হওয়া সত্ত্বেও এসব খরচ সাধারণ প্রতিরক্ষা বাজেটে নথিভুক্ত হয় না। এছাড়াও Milbus’র কাজের প্রকৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে Ayesha Siddiqa বলেন-
‘Military engagement in non-traditional roles such as farming, or running business like hotels, airlines, banks or real estate agencies: all functions that are not related to security. This occurs mainly in developing economies.’

পাকিস্তানের মিলিটারি নিয়ন্ত্রিত চারটি সংস্থা আছে- ফৌজি ফাউন্ডেশন, শাহীন ফাউন্ডেশন, বাহারিয়া ফাউন্ডেশন এবং সেনা কল্যান সংস্থা। এসব সংস্থার নিয়ন্ত্রনে আছে ৯৬ টি কোম্পানি যাদের তত্ত্বাবধানে অনেক প্রজেক্টও পরিচালিত হয় এবং আইন অনুযায়ী শেয়ার বাজারে নিবন্ধন এদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়, ফলে এরা লভ্যাংশ সবার সাথে শেয়ার করতে বাধ্য নয়!

১৯৪৭এ আইয়ুব খানের আমলে সিন্ধ প্রদেশে আর্মি অফিশিয়ালদের তিন লক্ষ্য একর কৃষি জমি বরাদ্দ দেয়া হয়! ২০০১ এর পর একই জায়গায় প্যারামিলিটারি ফোর্সের হাতে জেলে এবং ভূমিহারা মানুষদের দুর্দশাই দেখায় সম্পদের দখলে এদের প্রবৃত্তিকে। সমাজের উক্ত শ্রেণিদ্বয়ের সাথে সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে এরা যুদ্ধ করে। এই ধরণের ঘটনা সমাজে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে। এরা বিশালাকারের ভূমি অধিগ্রহণের সুযোগ পেয়ে থাকে, কয়েক ক্ষেত্রে দেখা গেছে ক্ষতিপূরণ না দিয়ে নিজেদের দেউলিয়া দেখিয়েছে!

পুরো ব্যবস্থাটিকে বলা হচ্ছে ‘ডাকাততন্ত্র’ বা ‘Kleptocracy’ এর অনুরুপ বিশেষ। এই ব্যবস্থায় দু’ধরণের ডাকাত দল থাকে, যথাঃ Roving Bandit এবং Stationary Bandit। Roving Bandit রা সম্মিলিত ভাবে ডাকাতি করে এবং গ্রামবাসীদের একদম নিঃস্ব করে দিয়ে যায়, এতে করে বিশাল Negative Externality’র সৃষ্টি করে এবং গ্রামবাসী আর উঠে দাঁড়াতে পারেনা। পরোক্ত ডাকাতদলটি(Stationary Bandit) এই ক্ষেত্রে ভিন্ন ধারার, তাঁরা গ্রামে ঘাঁটি করে এবং গ্রামবাসীর সাথে পারষ্পরিক স্বার্থ রক্ষার্থে একটি চুক্তিতে যায়; তাঁরা বলে যে- তোমাদের রোভিং ব্যান্ডিট হতে সুরক্ষিত রাখব আর এর বিনিময়ে তোমরা আমাদের ভরণ পোষণ বাবদ ব্যায় মেটাবা।

পাকিস্তান মিলিটারি এই ক্ষেত্রে ভারতকে সাজিয়েছে ‘Roving Bandit’ আর নিজেরা নিয়েছে ‘Stationary Bandit’ এর অবস্থান এই মর্মে যে- বাজেটে যদি তাঁদের চাহিদানুযায়ী বরাদ্দ দেয়া না হয় তাহলে তারা ভারতের সাথে পাল্লা দিয়ে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে পারবেনা, তখন ভারতের সামরিক বাহিনী নিঃস্ব করে দিয়ে যাবে। তাঁরা তাঁদের এই অংশ বিনিয়োগ করে, মুনাফা উচ্চপদস্থদের মধ্যে শেয়ার করে মিলিটারির ভ্রাতৃত্বের মধ্যে বিশ্বস্ততা অর্জন করে এবং পরবর্তিতে অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারী গ্রুপের সাথে শেয়ার করে।

Ayesha Siddiqa বলেন-‘From the professional standpoint, the armed forces’ exposure to money-making takes its toll on professionalism…….The protection given to business in the form of immunity from civilian monitoring and prosecution resulted in corruption.’ এই পাকিস্তান মিলিটারি এখন দেশব্যাপী ডেইরি প্রোডাক্ট, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যংকিং, ট্রান্সপোর্টেশন, হোটেল, অবকাঠামো নির্মাণ, রিয়েল এস্টেইট, সিমেন্ট, জ্বালানী ব্যবসা করছে। এসবে সংশ্লিষ্ট থেকে মিলিটারি অফিশিয়ালদের(অবসরপ্রাপ্ত এবং বর্তমান) মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষদের সাথে মিলিটারি ক্লাস’র দূরত্ব ক্রমবর্ধমান। নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার্থে সরকারকে কাঁচকলা দেখানোটা নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার এদের কাছে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

পাহাড়ী রেডওয়াইন
পাহাড়ী রেডওয়াইন এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 4 ঘন্টা ago
Joined: শনিবার, এপ্রিল 29, 2017 - 10:12পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর