নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সুমিত রায়
  • পৃথু স্যন্যাল
  • আরমান অর্ক
  • সত্যর সাথে সর্বদা

নতুন যাত্রী

  • অন্নপূর্ণা দেবী
  • অপরাজিত
  • বিকাশ দেবনাথ
  • কলা বিজ্ঞানী
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • সাবুল সাই
  • বিশ্বজিৎ বিশ্বাস
  • মাহফুজুর রহমান সুমন
  • নাইমুর রহমান
  • রাফি_আদনান_আকাশ

আপনি এখানে

একজন কুসংস্কারাচ্ছন্ন অন্ধবিশ্বাসী ধার্মিকের গল্প


আমি এক ধার্মিককে প্রশ্ন করেছিলাম, তুমি কেন তোমার ধর্ম পালন করো আর তোমার নিজের ধর্মকে সত্য ধর্ম মনে করো?
সে উত্তরে বলেছিল, আমার ধর্ম সত্যি কারণ আমার ধর্মগ্রন্থ সত্যি।
আমি তাকে যখন পাল্টা প্রশ্ন করলাম, কেন তোমার এমনটি মনে হয়?
তখন সে বিরক্তি নিয়ে বললো- আমার ধর্মগ্রন্থটির প্রতিটি বাণীই সত্যি। এবং বিজ্ঞানের যত আবিষ্কার তার সব গুলোই আমার ধর্মগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু আমি যখন তার কাছে তার কথার প্রমাণ চাইলাম তখন সে তার ধর্মগ্রন্থের কিছু প্রাচীণ বাণী দেখালো। আমি তাকে বললাম -তার এই ধর্মগ্রন্তের বাণীতে কোন বিজ্ঞানের আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে।
তখন সে আমাকে কিছু বিজ্ঞানের আবিষ্কারের সাথে তার ধর্মগ্রন্থের কিছু প্রাচীণ আধো আধো বাণী দেখালো যেগুলোর অর্থ খুব সাধারণ এবং প্রাচীণ। কিন্তু যখন আমি তাকে বললাম- তোমার ধর্মগ্রন্থে যে সব কথা লেখা আছে তার সাথে বিজ্ঞানের কোন আবিষ্কারের মিল তো নেইই বরং বিজ্ঞানের বিপরীত বা সাংঘর্ষিক কথা লেখা আছে।

তখন ধার্মিকটি আমাকে তার ধর্মগ্রন্থে লেখা বাণীকে পরিবর্তন করে যেভাবে গ্রর্মগ্রন্থে লেখা আছে তার থেকে ভিন্ন অর্থ করে দেখালো বিজ্ঞানের সাথে তার ধর্মগ্রন্থের মিলগুলো।

আমি তাকে জানানোর জন্য বললাম, দেখো তুমি যেভাবে ধর্মগ্রন্থের অর্থের পরিবর্তন করে ভিন্ন অর্থ এনে এবং ধর্মগ্রন্থের থেকে ভিন্ন ব্যাখ্যা হাজির করে তোমার ধর্মগ্রন্থকে পরিবর্তন করে বিজ্ঞানময় দেখাচ্ছ ঠিক একই ভাবে অমুক ধর্ম, তমুক ধর্মও তাদের ধর্মকে বিজ্ঞানময় দেখিয়েছে। তাহলে তোমার ধর্মগ্রন্থ যদি সত্য হয়ে থাকে তবে তাদের ধর্মগ্রন্থও একই ভাবে সত্য। তখন ধার্মিকটি কোন কারণ ছাড়াই মাত্রাতিরিক্ত রেগে গেল। তার চোখ লাল হয়ে উঠলো। এবং শেষে সে তার পকেট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে আমার দিকে তাক করলো। টিগার চাপার আগেই আমার প্রতিরক্ষা রোবট দুটো আমার সামনে দাড়িয়ে তাদের অস্ত্র বের করে ধার্মিকটিকে গুলি করে দিলো।

আমি দেখলাম ধার্মিকটির দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে এদিকে সেদিকে ছড়িয়ে পরলো। তার দেহ থেকে ছোট ছোট ইলেক্ট্রিক তার বেরিয়ে এসেছে। মাথাটা দশ বারো হাত দুরে পড়ে রয়েছে। দেহ থেকে আলাদা হওয়া মাথাটার নিচে দুটো মোটা ইলেক্ট্রিক তার পরস্পরের সাথে বারবার লেগে যাচ্ছে আর স্পার্ক করে আগুন বের হচ্ছে। কিন্তু তার মুখ দিয়ে অনবরত বলে যাচ্ছে একটি কথা- আমার ধর্মগ্রন্থটিই একমাত্র সত্য সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত ধর্মগ্রন্থ। আমার ধর্মই একমাত্র সত্য ধর্ম। ...আমার ধর্মগ্রন্থটিই একমাত্র সত্য সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত ধর্মগ্রন্থ। আমার ধর্মই একমাত্র সত্য ধর্ম।.....

আমি ধার্মিক রোবটটির দিকে তাকিয়ে তার জন্য মায়া অনুভব করতে থাকি। মনে মনে ভাবি - যদি পৃথিবীর প্রাচীণ মানুষ এসব কাল্পনিক মিথ্যে ধর্মগুলো আবিষ্কার না করতো তবে প্রতিদিন হাজার হাজার রোবটকে ধ্বংস করতে হতো না। প্রাচীণ মানুষের প্রাচীণ খাম খেয়ালীর জন্যই মানুষের উপকারী আবিষ্কারটিকে ধ্বংস করে বিশাল আর্থিক ক্ষতি করতে হচ্ছে। এই ক্ষতি পুষাণো মানুষের জন্য খুব কষ্টকর হবে।

আমি সেই প্রাচীণ অজ্ঞ মানুষদের জন্য ঘুনা অনুভব করতে থাকি নিজের অজান্তেই।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

হিউম্যানিস্ট বা...
হিউম্যানিস্ট বাই নেচার এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 8 ঘন্টা ago
Joined: বুধবার, এপ্রিল 5, 2017 - 4:57পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর