নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • আকাশ লীনা
  • নুর নবী দুলাল
  • সীমান্ত মল্লিক

নতুন যাত্রী

  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম
  • মোঃ মনজুরুল ইসলাম
  • এলিজা আকবর
  • বাপ্পার কাব্য

আপনি এখানে

এই গরমে গণতন্ত্রের শরবত


বিখ্যাত সনোরা লাইনের কথা মনে আছে যেটি মেক্সিকো আর আমেরিকাকে বিভক্ত করেছে? এই সীমারেখার দু’পাশে হচ্ছে মেক্সিকান সনোরা আর মার্কিন সনোরা। দারন আসিমগ্লু এবং রবিনসনের সাড়া জাগানো বই ‘Why Nations Fail’ এর শুরুটা হয় এই অঞ্চলদ্বয়ের মধ্যকার আর্থ-সামাজিক পার্থক্য আলোচনা করার মধ্য দিয়ে। উক্ত অঞ্চলদ্বয়ের বাসিন্দাদের পূর্বপুরুষ একই(১৯শতকের প্রথম ভাগে পাড়ি জমায়) এবং এরা সবাই স্প্যানিশ বংশোদ্ভূত। মার্কিন অংশের সাথে মেক্সিকান অংশে স্কুলে পড়ার হার, প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল, মাথাপিছু গড় আয় এর মধ্যে বিশাল ফারাক! এদের মাথা পিছু আয় মার্কিন প্রতিবেশীদের মাথাপিছু আয়ের প্রায় সাত ভাগের এক ভাগ!

অথচ চিন্তা করুন- একই পুর্বপুরুষ এর বংশধর মানে এদের জিনগত তফাৎ নেই; রোগ ব্যাধীর জন্যে কোনও ধরাবাঁধা সীমা রেখা নেই, এটি বায়ুবাহিত, কিংবা পানিবাহিত হিসেবে ছড়াতে পারে। তাঁর পরেও কেন দুদিকে আয়ুষ্কালের মধ্যকার তফাৎ চোখে পড়ার মত হবে?

বইটিতে লেখকদ্বয়ের আলোচনার মূল বিষয় ছিল যে কোন জেনেটিক ইনফ্লুয়েন্স, প্রাকৃতিক সম্পদের সমারোহ কিংবা ভৌগলিক অবস্থান কোনও জাতির উন্নতির পথে মূল নিয়ামক হতে পারে না। কেবল মাত্র অংশগ্রহণ মূলক গণতন্ত্র(Participatory Democracy) এবং শোষণমূলক(Extractive) শাসন ব্যবস্থার পার্থক্যই একমাত্র উন্নত ও অনুন্নত/উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে পার্থক্য করে দিয়েছে।

সনোরা লাইনের দু’পাশে বিশাল পার্থক্য হয়ে দাঁড়িয়েছে এই শাসন ব্যবস্থার ধরণ। মার্কিন অংশে নিয়মিত ভোট প্রদানের অবকাশ আছে, তারা তাঁদের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম, কিন্তু মেক্সিকান অংশে দেশের সম্মিলিত রূপের বড় অংশ ফুটে উঠে। কেন্দ্রের স্বৈরাচারী সরকারের শোষণমূলক শাসনব্যবস্থা তাঁদের পশ্চাদপসরণের কারণ। তারা পারে না অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করতে(যদিও বা আমেরিকাকে
আর আগের মত 'Land of Opportunity' বলা হয় না)।

ঠিক এভাবে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যকার পার্থক্য বেড়ে চলছে, যদিওবা দুটি দেশের পূর্বপুরুষরা একই, ভূপ্রকৃতিও কাছাকাছি এবং জনসংখ্যা বিশাল। একদিকে সত্যিকারের বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিকাশ আছে, দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা আছে(সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষণীয়; মোদি বাজপেয়ী কিংবা আদভানির ছেলে বা কাছের/ঘনিষ্ঠ কোনও আত্নীয় নয়), বিচার বিভাগে স্বাধীনতা আছে, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন আছে, কখনও সেনা শাসন আসেনি, অন্যদিকে সব কিছু এর বিপরীত, অনেক কিছু আছে তবে তা নামকাওয়াস্তে উপস্থিত।

আমেরিকা স্বাধীন হওয়ার ক্ষেত্রে একটা ৫১ পৃষ্ঠার বই খুব প্রভাবশালী ভূমিকা রেখেছিল। বৃটিশদের দুঃশাসন এর প্রকৃতি বুঝাতে Thomas Paine তাঁর এই ‘Common Sense’ বইটির শুরুতে লিখেন-
‘…………a long habit of not thinking a thing wrong, gives it a superficial appearance of being right, and raises at first a formidable outcry in defence of custom. But tumult soon subsides. Time makes more converts than reason.’ অর্থাৎ-
‘দীর্ঘকাল যাবত একটি জিনিসকে ভুল বলে চিন্তা না করাটা এটাকে সঠিক হওয়ার মত এক ধরণের কৃত্রিম রূপ প্রদান করে, এবং প্রথমে রীতিনীতি রক্ষার্থে শক্তিশালী প্রতিবাদের দেখা দেয়। কিন্তু শীঘ্রই এই অসন্তোষ প্রশমিত হয়ে পড়ে। বিচক্ষণতার চাইতে সময় বেশী পক্ষান্তর ঘটায়।’
আমরাও একই হালে আছি; স্বাধীনতা পেয়ে গেছি মানে সব পেয়ে গেছি, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ শুনতে খুব মিষ্টি শোনায়, মনে হয় যেন তাঁরা নাগরিকদের সেবায় নিয়োজিত, আইনের শাসন বজায় রেখেছে, জবাবদিহিতা আছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড জিনিসটা এখানে জায়েজ হয়ে গেছে এখন, দুর্নীতি শব্দটা বাদ দিলে ‘বাঙ্গালী সংস্কৃতি’ যেন অপরিপূর্ণ, ধোঁয়াতোলা-ফাঁকা আদর্শ দিয়ে চলমান মুরুব্বি-মক্কেল সম্পর্ক এখানে রাজনীতির মূল চাবিকাঠি! আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের নির্যাতনে কারও মৃত্যুও ‘আইনের সুশাসন চলছে’ যুক্তিটি টলাতে পারে না। হুম, গণতন্ত্র আছে।

জাজমেন্ট এট ন্যুরেমবার্গ মুভিতে জার্মানির নাজি আমলের শ্রেষ্ঠ আইনবিদ, বিচারক আরনেস্ট ইয়ানিং কে যখন তাঁর দায়িত্বপালন সম্পর্কে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, তখন তিনি বলেন ‘We had democracy, yes. But it was torn by elements within. Above all, there was fear: fear of today, fear of tomorrow, fear of our neighbors, and fear of ourselves.’অর্থাৎ-
‘হ্যাঁ আমাদের গণতন্ত্র ছিল। কিন্তু অন্তর্নিহিত উপাদান দ্বারা এটি ছিন্নবিচ্ছিন্ন ছিল। সর্বোপরি, ওখানে ভীতি ছিলঃ আজকের ভীতি, আগামীর ভীতি, আমাদের প্রতিবেশীদের ভীতি, এবং আমাদের নিজেদের ভীতি।’

একদিন এভাবে এদেশের বর্তমানকে নিয়ে সাক্ষ্য দিতে হবে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

পাহাড়ী রেডওয়াইন
পাহাড়ী রেডওয়াইন এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 5 দিন ago
Joined: শনিবার, এপ্রিল 29, 2017 - 10:12পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর