নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মোগ্গালানা মাইকেল
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • দীব্বেন্দু দীপ

নতুন যাত্রী

  • বিদ্রোহী মুসাফির
  • টি রহমান বর্ণিল
  • আজহরুল ইসলাম
  • রইসউদ্দিন গায়েন
  • উৎসব
  • সাদমান ফেরদৌস
  • বিপ্লব দাস
  • আফিজের রহমান
  • হুসাইন মাহমুদ
  • অচিন-পাখী

আপনি এখানে

কওমীর শিক্ষা ও পাঠ্যক্রমের পর্যালোচনা - ১


ভূমিকাঃ আমাদের দেশে মাদ্রাসা শিক্ষা হচ্ছে একটি ধর্মভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার নাম। যেখানে ধর্মীয় জ্ঞান, দর্শন, রীতি-নীতি, আইন-কানুন-ইতিহাস, সমাজ ইত্যাদি বিষয়ক কাঠামোগত শিক্ষা দেয়া হয়। এই ধারা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটাই ছিল তাদের ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা! কিন্তু সেই শিক্ষায়ও সময়, বাস্তবতা ও পরিবেশের প্রয়োজনে পার্থিব জীবনের কিছু কিছু বিষয়কে যুক্ত করা হয়েছে! যদিও বিষয়গুলোকে যুক্ত করা হয়েছে তাদের কাঠামোর ভেতরে এবং তাদের মত করেই। এখানে কওমী মাদ্রাসার বর্তমান পাঠ্যক্রমের বিষয় সমুহকে একাধিক পর্যালোচনার মাধ্যমে দেখতে চেষ্টা করব, এই শিক্ষার উদ্দেশ্য ও বাস্তবতা। আলোচনার সুবিধার্থে প্রথম পর্বে পাঠ্যক্রমের ১ম থেকে ৮ম শ্রেণীর বিষয়গুলোকে কয়েকটি ৩টি পর্যায়ে পর্যালোচনা করব। প্রথমে থাকবে পাঠ্যসূচী ও ভাষার ব্যবহার, দ্বিতীয়ত পাঠ্যক্রমের আলোচনা এবং তৃতীয়ত পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষার প্রয়োগিক দিক। এই বিশ্লেষন থেকে জানতে চেষ্টা করব, কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাদের লেখাপড়ায় কি পরিমান মেধা ব্যায় ও পরিশ্রম করে থাকে। সেটা জানতে প্রথমে এদের সিলেবাসের ধরণটা একটু দেখে নেয়া যাক! প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত কি কি বিষয় পড়ানো হয়।

বেফাক’ নিয়ন্ত্রিত কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার পাঠ্যক্রম

প্রথম শ্রেণী
১. দ্বীনিয়াত ২. ইসলামী তাযীব ৩. বাংলা ৪. গণিত ৫. ধারাপাত ৬. আরবী ৭. ইংরেজী

দ্বিতীয় শ্রেণী
১. দ্বিনিয়াত ও তাজবীদ ২. ইসলামী ফিক্কা তাহযীব ৩. বাংলা ৪. গণিত ৫. ভূগোল ও সমাজ ৬. উর্দূ ৭. আরবী ৮. ইংরেজী

তৃতীয় শ্রেণী
১. দ্বিনিয়াত ও তাজবীদ ২. ইসলামী ফিক্কা তাহযীব ৩. বাংলা ও ব্যাকরণ ৪. গণিত ৫. ইতিহাস ৬. ভূগোল ও সমাজ ৭. আরবী ৮. উর্দূ ৯. ইংরেজী ও ইংরেজী গ্রামার

চতুর্থ শ্রেণী
১. দ্বিনিয়াত ও তাজবীদ ২. ফিক্কা তাহযীব ৩. বাংলা ও ব্যাকরণ ৪. গণিত ৫. ইতিহাস, ভূগোল ও সমাজ ৬. আরবী ৭. উর্দূ ও কাওয়ায়েদ ৮. ইংরেজী ও ইংরেজী গ্রামার

পঞ্চম শ্রেণী
১. দ্বিনিয়াত ও তাজবীদ ২. ফিক্কা তাহযীব ৩. বাংলা ও ব্যাকরণ ৪. গণিত ৫. ইতিহাস, ভূগোল ও সমাজ ৬. আরবী ৭. উর্দূ ও কাওয়ায়েদ ৮. ফারসী ও কাওয়ায়েদ ৯. ইংরেজী ও গ্রামার

ষষ্ঠ শ্রেণী
১. আরবী ভাষা ও ইনসা ২. আরবী ব্যাকরণ ৩. ফিক্কা ৪. বাংলা ও ব্যাকরণ ৫. সমাজঃ ইতিহাস ও ভূগোল ৬. গণিত তাজবীদ মশ্ক ও মখিস্থ ৭. ফারসী ও কাওয়ায়েদ ৮. উর্দূ সাহিত্য ও ব্যাকরণ ৯. ইংরেজী ও ইংলিশ গ্রামার ১০. বিজ্ঞান

সপ্তম শ্রেণী
১. আরবী ভাষা ও ইনসা ২. আরবী ব্যাকরণ (নাহ্ব) ৩. আরবী ব্যকরণ (ছরফ) ৪. ফিক্হ ৫. বাংলা ও ব্যাকরণ ৬. ইতিহাস ও ভূগোল ৭. ফরাসি সাহিত্য ও ব্যকরণ ৮. তাজবীদ মশ্ক ও মখিস্থ ৯. ইংরেজী ও ইংলিশ গ্রামার ১০. গণিত ১১. বিজ্ঞান

অষ্টম শ্রেণী
১. আরবী ভাষা ও ইনসা ২. আরবী ব্যাকরণ ৩. আরবী ব্যকরণ ৪. ফিক্হ ৫. বাংলা ও ব্যাকরণ ৬. ইতিহাস ও ভূগোল ৭. মানতিক ৮. ফরাসি সাহিত্য ৯. তাজবীদ মশ্ক ও মখিস্থ ১০. ইংরেজী ও গ্রামার ১১. গণিত ১২. বিজ্ঞান

পাঠক, প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণীর বিষয়সমুহ থেকে প্রথমে যে বিষয়ের আলোচনাটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি সেটা হচ্ছে ভাষা। ভাষা ও জ্ঞান একেঅন্যের পরিপুরক। ভাষা হচ্ছে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম। ভাষা ছাড়া জ্ঞান অর্জন সম্ভব না। ভাষার বিভিন্নতা থাকলেও স্বীকৃত ও প্রকৃত জ্ঞানের উৎস এক ও অভিন্ন। সুতরাং জ্ঞান অর্জনে ভাষার কোন বিকল্প নেই। কি ধরণের জ্ঞানঅর্জন করতে চাই, তার উপর নির্ভর করে কোন স্তরের-মানের ভাষা জ্ঞান দরকার। আন্ত ও তুলনামুলক ভাষাভিত্তিক ও ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণা ছাড়া যে কোন জ্ঞান মাতৃভাষার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। তবে উচ্চতর ও অগ্রসর জ্ঞান অর্জনে নিসন্দেহে ভাষা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ বিষয়াবলীতে মাতৃভাষায় যদি সেই আকাঙ্খা ও প্রয়োজন পুরণে সক্ষম হয় সেক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাষা ব্যবহার কতটা যৌক্তিক! এখন প্রশ্ন কওমী মাদ্রাসায় কেন প্রথম শ্রেণী থেকে এতগুলো ভাষা শেখানো হয়? বিশ্বের বড় বড় ইসলামী পন্ডিতদের কয়জন ৫টি ভাষার উপর দখল ও জ্ঞান রাখেন? অপুষ্টিতে ভোগা মাদ্রাসায় পড়া এই শিশু-কিশোরদের জন্য কেন এতগুলো ভাষায় শিক্ষাগ্রহন বাধ্যতামুলক রাখা হয়েছে?!

ভাষা, জ্ঞান ও শিক্ষার মাধ্যম
এই ধারায় ছেলেমেয়েদের আরবী, উর্দূ, ফার্সি, বাংলা ও ইংরেজী এই পাঁচটি ভাষায় লেখাপড়া করতে হয়! তারমানে তাদের পাঁচটি ভাষা শিখতে হয়! আমার কাছে এই বিষয়ক আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে প্রতিষ্ঠানের শিশু-কিশোর-তরুণদের ৫টি ভাষায় লেখাপড়া করতে হয়, ছবক নিতে হয়, তাদের মেধাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। আমার বিবেচনায় যে কোন বিচারে দেশের অন্যান্য ধারার শিক্ষার্থীদের চেয়ে তারা অধিক পরিশ্রমী ও মেধাবী। আর এই পরিশ্রমী ও মেধাবী ছেলেমেয়েদের কেবল ধর্মের নামে, পরকালের নামে, সম্ভবনাময় অনেক উজ্জল প্রতিভার অপব্যবহার করা হচ্ছে! যেটা কি’না একটি জনশক্তি ও শ্রমনির্ভর অর্থনীতির দেশের সাথে সম্পুর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ!

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ “সাধারণ শিক্ষার ধারায়” বাংলাভাষাতেই সব বিষয়ের শিক্ষা দেয়া হয়। সেখানে একটি বিদেশী ভাষা ইংরেজী বাধ্যতামুলক হিসেবে আছে। এই ভাষার সাথে দেশের প্রশাসনিক কাজকর্ম, ভিন্ন ভাষার জ্ঞানঅর্জন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার, বৈদেশিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি যুক্ত। ভাষা ও শিক্ষার এই কাঠামোর ব্যবহারিক বিষয়টি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বীকৃত। আর ইংরেজী মাধ্যমের শিক্ষায় তারা ইংরেজী ভাষার মাধ্যমে বিদেশী সিলেবাস অনুসরণ করে লেখাপড়া করে। সেখানে প্রধানত একটি ভাষার মাধ্যমেই লেখাপড়া শেখানো হয়। তারমানে উভয় ধারাই প্রধানত একটি ভাষাকেই তাদের শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। তাতে কি তাদের জ্ঞানঅর্জনে কোন ঘাটতি ও অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে? তারমানে এই নয় যে, ইংরেজী মাধ্যমের শিক্ষাকে সমর্থন করা হচ্ছে!

অনেক ভাষা শেখা ও পড়ার সাথে কাঠামোগত জ্ঞানঅর্জনের বিষয়টি কতটা সম্পর্কিত? এ ক্ষেত্রে বিশ্বের বিখ্যাত ভাষাতাত্ত্বিক ও দার্শ্যনিকদের মত হচ্ছে মাতৃভাষাই জ্ঞানঅর্জন ও জ্ঞানচর্চার প্রধানতম মাধ্যম হওয়া আবশ্যক। আমরা বিশ্বের যে দেশগুলোকে উন্নত বলি তারা এই সত্যের উপলব্দি, চর্চা ও প্রয়োগের মাধ্যমেই তা অর্জন করেছে

প্রশ্ন হচ্ছে মাদ্রাসায় যে ৫টি ভাষার মাধ্যমে ছেলেমেয়েদের পড়ানো হয়, বাংলা-ইংরেজী ছাড়া তার কয়টি ভাষার আমাদের দেশে-সমাজে আবেদন আছে? ধর্মীয় প্রয়োজন-আবেদনের কথাই যদি বলি সেটাও কতটা গ্রহনযোগ্য? ধর্মীয় প্রয়োজনে মুসলমানদের মূলগ্রন্থ কোরআন আরবীতে রচিত বলে সেই ভাষা শেখার যৌক্তিকতার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু উর্দূ ও ফারসি শেখানোর যৌক্তিকতা কি? আটকে পরা কয়েকজন বয়ষ্ক পাকিস্তানী ছাড়া বাংলাদেশে এই উর্দূভাষা কেউ ব্যবহার করে না!

উর্দূভাষা ব্যবহৃত হয় পাকিস্তানে। সেখানেও মাত্র ১ কোটি (৫%) লোকের মুখের ভাষা উর্দূ! এবং ভারতের ৫ কোটি লোক হিন্দির পাশাপাশি এই ভাষা ব্যবহার করে। বিশ্বের মোট ৬ কোটি লোকের ভাষা উর্দূ! তাহলে, এই ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষা-চর্চা আমাদের দেশে কি উপকারে আসবে? পাক-ভারতেই বা কি কাজে লাগবে? অগ্রসর ধর্মশিক্ষা ও শ্রমবাজারের সাথেও এর কোন সম্পর্ক খুঁজে পাই না! তাহলে কেন এই ভাষা শেখা? কেবল অতীত ধারাবাহিকতা? না’কি ধর্মের রাজনীতিক, আঞ্চলিক সংযোগ ও সম্পর্ক! তারপরও কি বলতে হবে, এটা কেবল নিরীহ ধর্মশিক্ষা!

আরও বিষ্ময় জাগে, আমাদের নিজস্ব সমৃদ্ধ মাতৃভাষা বাংলা থাকার পর কেন মাদ্রাসায় উর্দূ ব্যবহার করা হচ্ছে? যে ভাষার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে, আমরা আমাদের মাতৃভাষার অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করেছি। সে ভাষাই আমাদের দেশে ধর্মের নামে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, গৌরব ও মর্যাদার সাথে পড়ানো হচ্ছে! সেই সংগ্রামের নেতৃত্বের দাবীদার রাজনৈতিক দলই আবার তার স্বীকৃতি প্রদান করছে! ভাষা একটি নীরিহ ও ইচ্ছা নিরপেক্ষ বিষয়। কিন্তু তার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যবহার অতি গুরুত্বপূর্ণ! সেই সময় বলা হয়েছিল বাংলা বিজাতীয় ও হিন্দুদের ভাষা! বাংলা সংস্কৃতিও বিজাতীয় ও হিন্দুয়ানী! যে অভিযোগ কওমীর পক্ষ থেকে এখনও করা হচ্ছে! বলা হচ্ছে বাংলা ক্যালেন্ডার বাতিল করতে, কারণ এটা মুসলামানের নয়! বর্ষবরণও আমাদের নয়! যে ভাষার বিপরীতে আমাদের মাতৃভাষার অধিকারকে হরণ করা হয়েছিল। যার জন্য ব্যাপক গণআন্দোলন হয়েছে মানুষ প্রাণ দিয়েছে। তারাই বাংলাকে অপমানিত করছে, আঘাত করছে, রুদ্ধ করতে চায় তাতো ভাষা শহীদ ও চেতনার সাথে বেঈমানী করা!

তারা মনে করেন, কোরআন-হাদিস যে সব ভাষায় লিখিত এবং সংকলিত হয়েছে, সে সব ভাষা না শিখলে এই বিষয়ের প্রকৃত জ্ঞানঅর্জন ও অধ্যায়ন সম্ভব নয়! সেটা যদি মানতে হয়, তাহলে মানুষকে অসংখ্য ভাষা শিখবে হবে! যে সব দেশের মুসলমান এভাষা ব্যবহার করে না, তারা কি ইসলামী জ্ঞান অর্জন করে না?
ফরাসি ভাষার ব্যবহারও আমাদের দেশে নেই। বিশ্বে ফার্সি ভাষাভাষি লোকের সংখ্যা ১১ কোটি। ইরানের জনসংখ্যাই প্রায় ৮ কোটি। এছাড়া আফগানিস্তান, তাজাকিস্তান, তুর্কেনেনিস্তানসহ কয়েকটি দেশে কিছু করে এ ভাষা ব্যবহৃত হয়। এসব দেশের সাথে আমাদের সবিশেষ কোন বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই। এরা আমাদের কোন শ্রমবাজারও নয়। আর কওমীর এই শিক্ষার সাথে শ্রমবাজারেরও কোন সম্পর্কও নেই।

শিক্ষার সাধারণ ধারায় ইংরেজী ভাষা ও ইসলামিয়াত প্রথম শ্রেণী থেকেই বাধ্যতামুলক। ইসলাম ধর্ম শিক্ষার সাথে আরবী ভাষা শেখার সুযোগ সেখানে আছে। এই দুই ভাষা শেখা ও চর্চার মাধ্যমে ধর্মীয় জ্ঞানঅর্জনের পাশাপাশি আভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশ করারও সহজ হবে।

যে বয়সে স্কুল শুরু করার কথা খেলাধূলা ও ফুল-পাখির ছবি আঁকার কথা! কেবল বাংলা বর্ণমালার সাথে পরিচিত হবার কথা! সেখানে শুরুতেই এই শিশুদের ৪টি ভাষার সাথে পরিচিত হতে হচ্ছে! ভাষা ও পাঠ্যক্রমের পরিধি দেখে মনে হবে এটা কোন ভাষাতত্ত্বের স্কুল! মার্কিন ভাষা বিজ্ঞানী ও আধুনিক ভাষাতত্ত্বের জনক নোয়াম চমস্কিরও এতগুলো ভাষা জানা নেই!

পাঠ্যপুস্তক ও পাঠ্যক্রমের ভারে ছেলেমেয়েরা মেধার সুষোম বিকাশ ঘটছে না। শিশুদের মনে শিক্ষার আনন্দ ও কৌতুহলের বিপরীতে এক ভীতিকর ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরী করা হয়েছে! শিক্ষকের শাস্তি, শক্তিপ্রয়োগ, নির্যাতন ও পরকালের ভয় প্রদর্শনই যেখানে পাঠাদায়ের প্রধান উপায়! যে কারণে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রছাত্রীদের উপর নানা ধরণের নির্যাতনের খবর প্রায় শোনা যায়। এদের পাঠদান পদ্ধতিও আধুনিক নয়। আধুনিক শিক্ষা প্রদানের কোন প্রশিক্ষন এই শিক্ষকদের নেই। নেই কোন উন্নত শিক্ষক প্রশিক্ষন ইনস্টিটিউটও!

উপসংহারঃ নানা বৈরীতা, সীমাবদ্ধতা ও নিষ্ঠুরতার মাঝেও এই ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে বিভিন্ন স্তরে উন্নীত হয়। তারজন্য অবশ্যই তাদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়। সেটা যে কোন ধারার চেয়ে কম নয়! বরং আমার বিবেচনায় অনেক বেশী। প্রথমত অনেকগুলো ভাষা, দ্বিতীয়ত পাঠ্যসূচীর ভার, তৃতীয়ত সামাজিক বৈরীতা, চতুর্থত কর্মহীন অনিশ্চিত জীবন/ভবিষ্যত! প্রায় সবদিক থেকেই তারা সমাজে সুবিধা বঞ্চিত, অবহেলিত ও নির্যাতিত! অথচ তারাও লেখাপড়ার জন্য অন্যদের সমান সময় ব্যায় করেছে। কিন্তু সেই বিবেচনায়, সমাজে তাদের নেই কোন মর্যাদা! নেই সম্মানজনক জীবিকা, কর্ম ও আর্থিক নিরাপত্তা! প্রতিনিয়ত নানা অভাব, বঞ্চনা ও বৈষম্যের স্বীকার এই কিশোর-তরুণরাই ক্রমে হয়ে ওঠে প্রচলিত সমাজ কাঠামোর প্রতি বিরুপ! তারুণ্যের এই ক্ষোভ-হতাশার সুযোগকেই কাজে লাগায় ধর্মান্ধ রাজনৈতিক শক্তি ও ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনৈতিক দল, জোট, মহাজোট!
-------------------------------------------------
ড. মঞ্জুরে খোদা, প্রাবন্ধিক-গবেষক, ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডা

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মঞ্জুরে খোদা টরিক
মঞ্জুরে খোদা টরিক এর ছবি
Offline
Last seen: 4 weeks 12 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী 4, 2016 - 11:59পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর