নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সুমিত রায়
  • পৃথু স্যন্যাল
  • আরমান অর্ক
  • সত্যর সাথে সর্বদা

নতুন যাত্রী

  • অন্নপূর্ণা দেবী
  • অপরাজিত
  • বিকাশ দেবনাথ
  • কলা বিজ্ঞানী
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • সাবুল সাই
  • বিশ্বজিৎ বিশ্বাস
  • মাহফুজুর রহমান সুমন
  • নাইমুর রহমান
  • রাফি_আদনান_আকাশ

আপনি এখানে

সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে !


আজ এক বন্ধু আমাকে ম্যাসেন্জারে বার্তা পাঠালো গতকাল থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি দেখার পর থেকে সে খুব অস্থির হয়ে পড়েছে। ভয়ঙ্কর মন খারাপ আর আশংকা নিয়ে কেটেছে তার সারাটা দিন। একই অস্থিরতায় পার হয়েছে আমার গতরাত ও। শুধু আমি বা আমার বন্ধুটিই নই, ছবিটি নিয়ে আরো অনেকেই হতাশা, আশংকা, আর আক্রোশ প্রকাশ করেছে কাল থেকে। ছবিটি কে বা কারা তুলেছে কিংবা এভাবে ছড়িয়ে দিয়েছে জানা নেই, আদতেই ছবিটি আসল নাকি নকল তাও জানি না। কিন্তু মাথা থেকে কিছুতেই সরাতে পারছি না ছবিটা। একজন বয়স্ক লোক আর ছোট্ট একটা লাল ফ্রক পরা মেয়েকে দিনে-দুপুরে কোন বাড়ি বা নির্জন রাস্তার কোনাতে কী ভীষণ অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখা যাচ্ছে ওই ছবিতে। অনুমান করতে কষ্ট হয় না যে ছোট্ট মেয়েটাকে একজন বয়স্ক লোকের শরীরের প্রাইভেট একটা অংশ স্পর্শ করানো হচ্ছে।

যৌননিপীড়নের ঘটনা যে শুধু বড়দের সাথে হয় তা তো নয়, পৃথিবীর সব দেশের শিশুরাও কম বেশি এই ভয়াবহ ঘটনার শিকার। আমাদের দেশেও শিশু যৌননিপীড়নের ঘটনা দিনদিন বেড়েই চলেছে।

শিশু অধিকার সংক্রান্ত আন্তজাতিক চুক্তি হল দ্যা ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অন দ্যা রাইটস অব দ্যা চাইল্ড (সিআরসি), যার আরটিকেলস ৩৪ ও ৩৫ অনুসারে সদস্য দেশগুলো সকল প্রকার যৌনশোষন ও যৌন নিপীড়ন হতে শিশুদের রক্ষা করার জন্য নীতিগতভাবে বাধিত হয়। বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে সিআরসি তে স্বাক্ষর করে শিশু অধিকার রক্ষার এই চুক্তির সদস্য দেশ হয়।

আন্তজাতিক আইনে ১৮ কম বয়সী যে কেউ শিশু। কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন ,২০০৩ অনুযায়ী আমাদর দেশীয় আইনে ১৬ বছরের কম বয়স্ক যে কেউ শিশু বলে গন্য হবে।

আমাদের প্রচলিত একটি ভুল ধারনা হল কেবল ধষর্নই যৌন নিপীড়ন। তাহলে শিশু যৌননিপীড়ন কি? শিশু যৌন নিপীড়নের সংগা বিভিন্ন দেশের আইনে কিংবা গবেষনায় ভিন্ন রকম। খুব সহজভাবে বলা যায়, কোন ব্যক্তি কতৃক কোন শিশুর প্রতি যে কোন শারীরিক, মৌখিক বা চাক্ষুষ যৌন আচরন হল শিশু যৌন নীপিড়ন।

দ্যা আমেরিকান সাইকোলজিস্টের দেওয়া সংগা মতে, এটা এক ধরনের শিশু নিপীড়ন যেখানে কোন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বা নিপীড়নের শিকার শিশুটির চেয়ে বয়সে বড় বা শারীরিক শক্তিতে বলশালী বা শিশুটির উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে এমন কেউ নিজের যৌন উত্তেজনার কাজে কোন শিশুকে যৌনকমের্ অংশগ্রহনের জন্য বা অনুচিত কোন যৌন আচরন করার জন্য প্ররোচিত বা বাধ্য কিংবা উৎসাহিত করে।

আর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন ,২০০৩ এর ১০ ধারায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, "যদি কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে তাহার যৌনকামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তাহার শরীরের যে কোন অঙ্গ বা কোন বস্তু দ্বারা কোন ... শিশুর যৌন অঙ্গ বা অন্য কোন অঙ্গ স্পশর্ করেন... তাহা হইলে তাহার এই কাজ হইবে যৌন পীড়ন। " আর যৌননিপীড়নের শাস্তি সবোর্চ্চ ১০ বছর আর সবর্নিম্ন ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এর সাথে দোষী ব্যক্তি আথির্ক দন্ডে ও দন্ডনীয় হবেন।

একই আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোন শিশুকে ধষর্ন করলে তার জন্য শাস্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড আর ধষর্নের কারনে শিশুর মৃত্যু হলে দোষী ব্যক্তি সবোর্চ্চ মৃত্যুদন্ডে দন্ডনীয় হতে পারে।

প্রশ্ন জাগতে পারে, শিশুদের উপর যৌন নিপীড়ন কোথায় হয়? কোথায় শিশুরা অনিরাপদ?

-বড়দের ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনের ঘটনা সাধারনত ঘটে ঘরের বাইরে এবং অপরিচিত ব্যক্তি দ্বারা। অপরপক্ষে, শিশু যৌন নীপিড়ন হতে পারে সেই সব স্থানে যেখানে আমরা মনে করি শিশু সবচাইতে নিরাপদ, যেমনঃ ঘরে, স্কুলে কিংবা শিশু শ্রমের স্থানে।

বাল্যবিবাহকে কন্যা শিশুর উপর করা সবচাইতে প্রচলিত শিশু যৌননিপীড়ন ও শোষণ বলে অবিহিত করেছে ইউনিসেফ।

যদিও শিশু যৌননিপীড়ের প্রায় সব গবেষণাই কন্যা শিশুকে নিয়ে, কিন্তু সামপ্রতিক গবেষণায় দেখা যায় ছেলে শিশুর প্রতি করা যৌন নীপিড়নকে অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই আমাদের। সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রতি চারজনের একজন কন্যা শিশু ষোল বছর বয়সের আগেই যৌন নীপিড়নের শিকার হয়, অপরপক্ষে ছেলে শিশুর ক্ষেত্রে সে সংখ্যা নূন্যতম প্রতি দশজনের একজন । ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ, ইউএন উম্যান এবং ইউএনভি এর নোট-স্ট্যাটিস্টিক্স অব বাংলাদেশ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে শিশু যৌননিপীড়নের উদ্বেগজনক শতকরা হার ২২থেকে ৩৭ এর মধ্যে।

শিশু যৌন নীপিড়নকারী কে বা কারা?
- সহজ উত্তর যে কোন পুরুষ, মহিলা, বয়সসন্ধিকালীন কিশোর- কিশোরী বা কোন শিশু ও অন্য শিশুকে যৌন নির্যাতন করতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, নারীর তুলনায় পুরুষেরা বেশি শিশু যৌননিপীড়ন করে থাকে । অধিকন্তু, নারী কতৃক যৌন পীড়নের ঘটনা প্রকাশ হয় না বললেই চলে এবং অধিকাংশ সময় একে যৌন পীড়ন বলে ধরাই হয় না। ইনসিডিন বাংলাদেশ ২০০০ এর এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বানিজ্যিকভাবে পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত শিশুদের প্রায় শতকরা ৬ ভাগ বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে কারন তারা তাদের নিজগৃহে বা পরিবারের কোন সদস্য দ্বারা যৌননিপীড়নের শিকার হত।

প্রতি দশজনের নয়জন নীপিড়নের শিকার শিশু তাদের পীড়নকারীকে চেনে বা জানে। এই পীড়নকারী ব্যক্তি সাধারনত শিশুর পরিচিত, পারিবারিক বন্ধু কিংবা আত্মীয়, যাদেরকে শিশু ভালোবাসে বা ভরসার আশ্রয় মনে করে। যার ফলস্বরূপ নীপিড়নের শিকার শিশু হয়ত পুরো ঘটনাটি কাউকে বলতে পারে না। অনেকসময় সে খুব দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ে বা ঘটনার জন্য নিজেকে দোষী মনে করে, ভয় পায় কিংবা ধরে নেয় কেউ তার কথা বিশ্বাস করবে না। পীড়নকারী শিশুটিকে ভয় দেখায় বা বলে সে এই ঘটনা কাউকে বললে শিশুটির পরিবার ভেঙে যাবে।

খুব কম বয়স্ক শিশু এবং প্রতিবন্ধী শিশু তুলনামূলকভাবে বেশি অরক্ষিত কারন শব্দ স্বল্পতা বা অক্ষমতার কারণে, তাদের সাথে এই ঘৃন্য ঘটনাটি যে ঘটছে বা ঘটেছে তা তারা অন্য কাউকে জানাতে সক্ষম হয় না।
বিপিএফ ও সেইভ দ্যা চিলড্রেন যৌথ গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী শিশুদের অধের্কই যৌননিপীড়নের শিকার।

আবার কন্যা শিশুদের তুলনায় ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে যৌন নীপিড়নের ঘটনা অন্য কোন ব্যক্তিকে অবহিত করার হার অত্যন্ত কম। ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ ছেলে শিশু তাদের নীপিড়নের কথা প্রকাশ করে না। ছেলেদেরকে হতে হবে শক্তিশালী, সে নিজেই নিজেকে রক্ষা করতে পারবে - এ সমস্ত স্টেরিওটাইপড ধারনা আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ছোটবেলা থেকেই ছেলে শিশুকে শিখিয়ে দেয়। আবার বড়রা সবসময়ই সঠিক , বড়রা কোন অন্যায় বা ভুল করেনা কখনো তাই বড়দের কথার অবাধ্য না হওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয় শিশুদের; যার ফলে যৌন নির্যাতনকারী অনায়াসে পার পেয়ে যায়।

যদি প্রশ্ন করি, কেন একজন পূর্নবয়স্ক মানুষ কোন শিশুর সাথে যৌনসম্পর্কে উৎসাহিত হয়?
- নিপীড়নকারী কেন শিশুকে যৌন পীড়ন করে তার কোন সুস্পষ্ট কারণ জানা নেই। তবে বিকৃত যৌন চাহিদা, ক্ষমতা প্রয়োগ বা নিয়ন্ত্রণ করার অভিলাস, ব্যক্তিগত শৈশবের যৌননিপীড়নের অভিজ্ঞতা বা ক্ষোভ এমনকি অস্থির পারিবারিক পরিবেশ - এগুলোর যেকোন কিছুই শিশু যৌননিপীড়নকারীর নিয়ামক হতে পারে। আবার শিশু পতিতাবৃত্তি বা পনোর্গ্রাফির ক্ষেত্রে অথর্লিপ্সা হতে পারে যৌন পীড়নের অন্যতম কারন।

কিভাবে বুঝবেন শিশু যৌননিপীড়নের শিকার ?

- শিশুটি নিজে থেকেই তার আস্থার কোন ব্যক্তি যেমন বাবা, মা, বড় ভাই-বোন বা শিক্ষককে কোন সূত্র বা ইঙ্গিত দিতে পারে। তাছাড়া, যৌন নির্যাতনের শিকার হলে শিশুর মধ্যে কিছু অস্বাভাবিক আচরন লক্ষ্য করা যায়। যেমনঃ হঠাৎ আক্রমণাত্মক আচরন, কিংবা চুপচাপ হয়ে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা, ঘুমের মধ্যে বিছানা ভিজিয়ে ফেলা, নেতিবাচক মনোভাব, স্কুল পালানো বা লেখাপড়ায় অমনোযোগিতা। সে অল্প বয়সেই কোন যৌন আচরনে অভ্যস্ত হয়ে পড়তে পারে বা এমন কোন শব্দ ব্যবহার কিংবা আচরন করতে পারে যা তার জানার কথা নয়। শিশু কোন বিশেষ ব্যক্তি বা আত্মীয়কে এড়িয়ে চলতে পারে বা একাকী তার সাথে সময় কাটাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করতে পারে। নীপিড়নের শিকার হলে শিশু শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, যৌনাঙ্গ ফুলে উঠতে পারে এমনকি সে প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়তে পারে।

শিশুকে যৌননিপীড়ন থেকে সুরক্ষিত রাখতে অভিভাবকদের কী পদক্ষেপ গ্রহন করা দরকার?

- প্রথমতঃ শিশুর সাথে খোলামেলা ও সহজ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তেরি করা যাতে শিশু মনে করে সে যে কোন বিষয়ে আপনার সাথে কথা বলতে পারে।

দ্বিতীয়তঃ শিশুকে না বলতে শেখান এবং তাদেরকে শেখাতে হবে যে তার শরীরের উপর শুধুই তার নিয়ন্ত্রন। আমরা বাড়িতে কেউ বেড়াতে আসলে অনেক সময় শিশুকে জোর করে সেই ব্যক্তির কোলে উঠতে বা আদর করতে বাধ্য করি যা একেবারেই অনুচিত।

তৃতীয়তঃ শিশুকে পরিস্কার করে বুঝিয়ে বলুন গোপন অঙ্গ কি এবং বাবা-মায়ের উপস্থিতি ছাড়া কারো সামনে সে গোপনঅঙ্গ উন্মুক্ত করবে না।

শুধু শিশুকেই লক্ষ্য করলে চলবে না, একজন অভিভাবক হিসাবে আমাদের সচেতন থাকতে হবে শিশুর প্রতি কোন ব্যক্তি বা আত্মীয়ের অস্বাভাবিক আচরনের প্রতিও। কেউ আপনার শিশুকে অযাচিত বা বারবার কোন খেলনা, চকলেট দিচ্ছে কিনা, শিশুর সাথে একাকী সময় কাটাতে চাচ্ছে কি না অথবা প্রায়ই শিশুকে একা বাইরে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যেতে চাইছে কিনা তা লক্ষ্য রাখা খুব জরুরী।

যদি আপনি জানতে পারেন বা সন্দেহ করেন যে আপনার বা আপনার পরিচিত কোন শিশু যৌন নীপিড়নের শিকার হয়েছে, নিদ্বিধায় পুলিশকে জানান কিংবা নিকটস্থ ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে শিশুকে নিয়ে যান। শিশু সহ যে কোন বয়সী নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবেলায় দেশে আটটি মেডিকেল কলেজে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের ( ওসিসি) ব্যবস্থা আছে। ওসিসির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, পুলিশী সহায়তা, এনজিও সহায়তা, আইনী সাহায্য, আশ্রয় কেন্দ্র আর চিকিৎসা ও ডি এন এ টেস্ট এ সবকিছুর ব্যবস্থা একস্থানে পাওয়া সম্ভব। কিন্তু ওসিসি এর প্রদত্ত সুবিধা থেকে ছেলে শিশু বন্চিত।

আমাদের দেশে শিশু যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে আইন বলতে 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন' আর দেড়শত বছরের পুরানো পেনাল কোড, ১৮৬০ এর কিছু ধারা প্রচলিত। শিশু আইন , ২০১৩ মূলত আইন ভঙ্গকারী শিশুদের রক্ষাকবচ।

আমাদের প্রচলিত সনাতনী আইন আর আইনের দূবর্ল ব্যাখ্যার দরুন ছেলে শিশুদের প্রতি ধষর্নকে শুধুমাত্র যৌননিপীড়ন হিসাবে দেখা হয়, ধষর্ন নয়। শিশুর সাথে কোন শারীরিক সংস্পর্শ বা যৌন কাযর্ক্রম না করলে তাকে যৌন নিপীড়ন বলা হয় না। অথচ, বেশিরভাগ উন্নত দেশেই শিশু নির্যাতন আইন বেশ শক্ত পোক্ত, যাতে কেউই আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস্ ২০০৩ এ যে আলাদাভাবে "সেক্সচুয়াল অফেন্স এক্ট" প্রবতর্ন করছে, এই আইনে কোন শিশুর উপস্থিতিতে যৌনকর্ম করা বা তা দেখতে শিশুকে বাধ্য করা , এমনকি যৌন পরিচর্যার (গ্রুমিং) জন্য শিশুর সাথে দেখা করাকে ও অপরাধ হিসাবে অন্তভূর্ক্ত করেছে।

ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রনালয়ের করা ২০০৭ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভারতে ৫৩ শতাংশ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, যার প্রতিকারকল্পে ২০১২ সালে "দ্যা প্রটেকশন অব চিলড্রেন ফ্রম সেক্সচুয়াল অফেন্স এক্ট" প্রনয়ন করা হয়েছে। এই আইনে ধষর্নের সংগাকে প্রবধির্ত করে লিঙ্গ- নিরপেক্ষ আইন করা হয়ছে, ফলে ছেলে-মেয়ে উভয়ের প্রতি করা নিষিদ্ধ যৌন আচরন এখন ধষর্ন বলে গন্য হতে পারে। শুধু তাই নয়, শিশুর প্রতি কোন যৌননিপীড়নের ঘটনা পুলিশকে রিপোর্ট করা না হলে সে অপরাধে সবোর্চ্চ ছয়মাস পযর্ন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

দিন দিন শিশু নিপীড়নের হার যেভাবে বেড়েই চলেছে, এখন আমাদের প্রয়োজন আরও কঠোর আইন প্রনয়ন ও যথাযথ প্রয়োগ। এর সাথে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি একান্ত কাম্য। অসচেতনতা বা লোক লজ্জার ভয়ে হাজারো নিপীড়ন অলক্ষ্যে চাপা পড়ে যায়। যার ফলে নিপীড়নকারী পুনরায় একই শিশু বা অন্য কোন শিশুকে নিপীড়নের সুযোগ পায়।

শিশু যৌন নিপীড়ন একটি ঘৃন্য অপরাধ। তাই শুধু নিজের শিশু নয়, আপনার বাসার শিশুশ্রমিকটির শৈশব নিপীড়নমুক্ত করতে সচেতন ও সচেষ্ট হোন। শৈশব হোক নির্যাতন আর নিপীড়নমুক্ত; শৈশব হোক অনাবিল ।।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ফারজানা সুমনা
ফারজানা সুমনা এর ছবি
Offline
Last seen: 3 ঘন্টা 52 min ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 21, 2017 - 7:39অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর