নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • নকল ভুত
  • মিশু মিলন
  • দ্বিতীয়নাম
  • আব্দুর রহিম রানা
  • সৈকত সমুদ্র

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাত(পর্ব-১): রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা


বিশ্বের একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল এর জন্ম ১৯৪৮ সালে হলেও আরব উপদ্বীপ এবং ভূ-মধ্য সাগরের পূর্বে অবস্থিত এই ভূ-খন্ডে ইহুদিরা আবাস গেড়েছিল তিন হাজার বছর আগে। ইহুদি ধর্ম তথা ইহুদি জাতিটির জন্মও এখান থেকেই। কাজেই যারা বলেন যে, ইহুদিরা অবৈধভাবে ফিলিস্তিনী বা প্যালেস্টেনীয়দের মাতৃভূমিতে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে তাদের ইতিহাসের পাঠটা বিংশ শতক নয়, তিন হাজার বছর আগে থেকে শুরু করতে হবে। কারণ ইতিহাস যত জননন্দিতই হোক না কেন তার মাঝে কোন সত্যনিষ্ঠতা না থাকলে সেটা কখনই গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।

যারা আব্রাহামিক ধর্মগুলোর মূলভিত্তি সম্পর্কে একবারেই জানেন না তাদের জ্ঞাতার্থে বলি, ইহুদিরা মূলত তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে ইসরায়েলকে তাদের পুণ্যভূমি এবং জেরুজালেমকে তার অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে। ইহুদিদের ঈশ্বর 'জিহোবা' বাইবেলে ইহুদিদের বসবাসের জন্য যে ভূ-খন্ডের প্রতিশ্রুতি বারবার দিয়েছেন সেটাই হল আজকের ইসরায়েল। তবে এই লেখাটিতে আমি ধর্মীয় বিশ্বাসকে যথাসম্ভব একপাশে রেখে শুধুমাত্র ঐতিহাসিক ও কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করবো যে কেন একটি বৈধ রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার অধিকার ইসরায়েল সংরক্ষণ করে। এর সাথে আরও কিছুটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা দেখবো যে কেন ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকে থাকাটা জরুরী।

ঊনবিংশ শতাব্দী থেকেই ইহুদিরা ইউরোপ, রাশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে নির্যাতন ও দেশান্তরের শিকার হতে থাকে। এই ক্রমাগত ইহুদি বিদ্বেষ পশ্চিমের ইহুদিদের মাঝে ইহুদি জাতীয়তাবাদের জন্ম দিতে থাকে যা 'জায়োনিজম' নামে পরিচিত। ইউরোপের কিছু মানবতাবাদী রাষ্ট্রনায়ক এবং রাজনীতিবিদরাও ইহুদিদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে থাকে। ইউরোপের ইহুদিরা তাই তাদের পবিত্রভূমি জেরুজালেম তথা প্যালেস্টাইন অভিমুখে আবারও যাত্রা শুরু করে। তিন হাজার বছর আগে মুসা নবী যেমন মিশর থেকে ইহুদিদের নেতৃত্ব দিয়ে ইসরায়েলের পবিত্রভূমিতে নিয়ে গিয়েছিলেন ঠিক যেন একইভাবে এবার ইহুদিদের নেতৃত্ব দিলেন থিওডর হারজেল। এই থিওডর হারজেলই হলেন জায়োনিজম এবং আধুনিক ইসরায়েল রাষ্ট্রের জনক। ইহুদিরা স্থানীয় প্যালেস্টেনীয় আরবদের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে জমি কিনে ধীরে ধীরে ইহুদি জনবসতি গড়ে তোলে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আমাদের মনে রাখতে হবে, আর তা হলো তখনকার সময়ে স্থানীয় ইহুদি,খ্রিস্টানরাও প্যালেস্টেনীয় জাতির অংশ ছিল যারা শত শত বছর ধরে আরব প্যালেস্টেনীয়দের সাথে বসবাস করে আসছিল। এমনকি হাজার বছর ধরে নির্যাতন এবং বিতাড়নের স্বীকার হওয়া সত্ত্বেও জেরুজালেম কখনই ইহুদিশূণ্য হয়নি। বরং ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে জেরুজালেম ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে থাকে এবং সেটা জোর জবরদস্তি ভূমি দখলের মাধ্যমে নয়, উচ্চমূল্যে ভূমি ক্রয়ের মাধ্যমে। তাই সব আরব যেমন প্যালেস্টেনীয় নয়, তেমনি সব প্যালেস্টেনীয় মুসলিম নয়।

ইসরায়েল এর জন্ম ও তার ফলাফলঃ
১৫১৭ সাল থেকে প্রায় চারশো বছর ধরে প্যালেস্টাইন এবং তার আশেপাশের আরব উপদ্বীপের দেশগুলো অটোমান(তুরস্ক) সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। বিংশ শতকের একেবারে শুরুতেই এই অঞ্চলে রাষ্ট্র ধারনা বিকশিত হতে থাকে। এর মাঝে ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। এর ফলে পুরু অটোমান সাম্রাজ্য ব্রিটেন এবং তার মিত্রবাহিনীর অধীনে চলে আসে। এরপর এই অঞ্চলকে পরস্পরের মাঝে ভাগাভাগি করে নিলে বৃহত্তর প্যালেস্টাইন ব্রিটেনের হস্তগত হয়। প্যালেস্টাইন তখন কেবল ইসরায়েল, পশ্চিম তীর এবং গাজায় সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং পুরো জর্ডান এবং সৌদি আরবের কিছু অংশও এর অন্তর্গত ছিল। যেহেতু প্যালেস্টাইনের এই ভূ-খন্ড ব্রিটেন যুদ্ধের মাধ্যমে জিতেছে সুতরাং এটা পূর্বে প্রাচীন ফিলিস্তিনীদের ছিল নাকি মুসলিম জাহানের খলিফার অধীনে ছিল সেই প্রসঙ্গ টেনে আনাটা অবান্তর। এই লেখাটির মূল ইতিহাসও তাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকেই শুরু হবে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চাপের কারণে ব্রিটেন এই বিশাল সাম্রাজ্যকে বিভিন্ন দেশে বিভক্ত ও তাদের স্বাধীনতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় যা ইতিহাসে 'বেলফোর ঘোষণা' নামে পরিচিত। তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বেলফোর এই ঘোষণা দেন। ১৯১৭ সালের এই বেলফোর ঘোষণায় খুব স্পষ্টভাবেই প্যালেস্টাইনে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ ছিল। লীগ অব নেশনস এবং স্যান রিমো বৈঠকেও এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন গৃহীত হয়। তবে কেউ কেউ বলেন যে ব্রিটেন এর আগে ১৯১৬ সালে ফ্রান্স এবং তারও আগে ১৯১৫ সালে মক্কার বাদশাকে প্যালেস্টাইন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তাহলে ব্রিটেন এখানে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছিল কেন? আসলে ব্রিটেন পরিস্থিতি বিবেচনা করে একটি দুরদর্শী সিদ্ধান্তই নিয়েছিল। কারণ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ড. চেইম উইজম্যান নামক এক ইহুদি বিজ্ঞানী উন্নত বিস্ফোরক তৈরির উপাদান আবিষ্কার করেছিলেন যা ব্রিটেনকে যুদ্ধ জিততে সাহায্য করেছিল। এছাড়া অটোমান শাসনামলে প্যালেস্টাইন একটি অনুন্নত অঞ্চলে পরিণত হয়েছিল যেখানে মাইলের পর মাইল মরুভূমি ছিল যাতে না ছিল পানি, না ফলানো যেতো ফসল। তখনকার এই অঞ্চলে লোকবসতিও অনেক কম ছিল। কিন্তু ইউরোপ থেকে ইহুদিদের আগমনের ফলে এই পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। প্যালেস্টাইনের অনুর্বর ভূমিতে ইহুদিরা ক্ষেত-খামার সৃষ্টি করে ফলমূল ও ফসল ফলাতে থাকে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে থাকে।এমনকি আশেপাশের আরবরাও ইহুদিদের এই এলাকাগুলোতে কাজের সুযোগ পাওয়ায় বসতি স্থাপন করতে থাকে। ইতিহাস অবশ্য চিরকাল এমনটাই ছিল। ইহুদিরা যেখানেই গিয়েছে সেই স্থানই কোন এক অজানা কারণে শিক্ষা-দীক্ষা,জ্ঞান-বিজ্ঞান,স্থাপত্য আর অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ হয়েছে। সুতরাং ব্রিটিশরা ইহুদিদেরই প্যালেস্টাইনের এই ভূ-খন্ডের যোগ্যতম উত্তরসূরী হিসেবে বেছে নেয়। তবে ইহুদিরাও ব্রিটিশদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের স্বীকার হয়। আগেই বলেছি যে, বর্তমান জর্ডানও তৎকালীন প্যালেস্টাইনের অংশ ছিল। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল পরে জর্ডানকে প্যালেস্টাইন থেকে বাদ দেন এবং ঘোষণা দেন যে জর্ডান নদীর পূর্বতীরে প্যালেস্টাইনের ৭৬ শতাংশ আরবদের দেওয়া হবে এবং পশ্চিম তীরের ২৪ শতাংশ ইহুদিদের জন্য বরাদ্দ করা হবে যা বেলফোর ঘোষণাকে অনেকাংশেই বাতিল করে দেয়। তবুও ইহুদিরা এই ২৪ শতাংশই হাসিমুখে মেনে নেয়। তবে তখনও ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠিত হয়নি। কিন্তু বাকী অংশ আরবরা বুঝে নেওয়ার পরও তারা সম্মিলিতভাবে ইহুদিদের বসতিতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে থাকে, ইহুদিদের ক্ষেতের ফসল নষ্ট করতে থাকে। ১৯২০-২১ সালের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে প্রায় অর্ধশত ইহুদি মারা যায় এবং অনেক আহত হয়। আগে থেকেই সবার বাড়া ভাতে ছাই দেওয়া আরবরা এবারও সেই ঐতিহ্য বজায় রাখলো। এর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ ইহুদিরা বিভিন্ন আত্মরক্ষামূলক বাহিনী গঠন করে যা পরে ইসরায়েলের সামরিক সংগঠনে পরিণত হয়। ১৯২৯ থেকে পরবর্তী দশ বছর বিভিন্ন দাঙ্গায় অসংখ্য সাধারণ ইহুদি, আরব এবং ব্রিটিশ মারা যায়। এই দাঙ্গার প্রধান হোতা ছিল আরব নেতা আমিন আল-হুসেইনি। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় যার পাশবিকতা স্মরণ করে এখনও আমরা মানবসভ্যতাকে নিয়ে আতঙ্কিত হই। হিটলারের নাৎসী বাহিনীর হাতে ছয় মিলিয়ন ইহুদি গণহত্যার স্বীকার হয় যা ইতিহাসে 'হলোকাস্ট' নামে পরিচিত। ইহুদিরা এবং বাকি মানবতাবাদী বিশ্ব বুঝে যায় যে, প্যালেস্টাইনের পবিত্রভূমিটুকু ছাড়া ইহুদিদের আর কোন মাথা গোঁজার ঠাঁই অবশিষ্ট নেই। ফলে সারা ইউরোপ থেকে প্যালেস্টাইনে ইহুদিদের ঢল নামে। সাথে বাড়তে থাকে ইহুদি-আরব দাঙ্গা। এমন জটিল পরিস্থিতিতে ব্রিটেন এই পুরো বিষয়টিকে সদ্য গঠিত জাতিসংঘের হাতে অর্পণ করে। জাতিসংঘ দুইটি রাষ্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় যার একটি হবে ইহুদিদের জন্য এবং বাকিটি আরবদের জন্য।এখানে একটি পয়েন্ট মনে রাখুন যে বাকি অংশটি আরবদের জন্য বরাদ্দ ছিল, প্যালেস্টেনীয় জনগণের জন্য নয়। ইসরায়েলের সাথে আমেরিকা, জার্মানী, ফ্রান্স, রাশিয়াসহ সমস্থ সভ্য দুনিয়া এই সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়। কিন্তু প্রত্যাশিতভাবেই আরববিশ্বের মুসলিম দেশগুলো এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেয়। তখন অবশ্য আরব বিশ্বের এত তেলবেচা টাকার বাহার ছিলো না। তাই উট-দুম্বা চড়ানো যাযাবর আরবদের সিদ্ধান্তকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে জাতিসংঘ তাদের গৃহীত দুই রাষ্ট্র নীতিকে বাস্তবায়িত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৪৮ সালের ১৪ই মে ইহুদিরা ইসরায়েলের স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং 'স্টেট অব ইসরায়েল' প্রতিষ্ঠিত হয় যার নেতৃত্ব দেন ডেভিড বেন গুরিওন যিনি পরবর্তীতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে আরববিশ্ব ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে যা 'আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ' নামে পরিচিত। ইহুদিরা সেই যুদ্ধে জয়লাভ করে জাতিসংঘের প্রস্তাবের চেয়ে আরও বেশি ভূমি অধিগ্রহণ করে। যেহেতু ইহুদিরা প্রথমে জাতিসংঘের প্রস্তাব ও সিদ্ধান্তে এবং পরবর্তীতে যুদ্ধের মাধ্যমে তাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে তাই বলা যায়, ইসরায়েল এর জন্ম সম্পূণরূপেই বৈধ। এখানে আরেকটি প্রসঙ্গ না টানলেই নয়, আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের আগে ও পরে আরব বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোতে যেসব ইহুদিরা বাস করতো তারাও তাদের মাতৃভূমি থেকে নির্যাতন এবং বিতাড়ণের স্বীকার হয়। প্রায় সাড়ে আট লাখ ইহুদি এইসব মুসলিম দেশগুলো থেকে নির্যাতনের স্বীকার হয়ে ইসরায়েলে পাড়ি জমায় যাদের পূর্ব পুরুষরা শত শত বছর ধরে এইসব মুসলিম দেশগুলোতে বসবাস করে আসছিল। শুধুমাত্র ইউরোপ থেকেই ইহুদিরা ইসরায়েলে অভিবাসী হয়েছিল-এই দাবিটিও তাই একটি ঢাহা মিথ্যা।

এরপরে আরব এবং ইসরায়েল অনেকবারই সংঘর্ষে লিপ্ত হয় যার ভিতর ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধ এবং ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একটু ঠান্ডা মাথায় লক্ষ্য করুন যে এইসকল যুদ্ধ ইসরায়েল এবং আরবদের মাঝে হচ্ছে, ইসরায়েল এবং প্যালেস্টাইনের মাঝে নয়। কারণ তখন প্যালেস্টাইন নামে কোন আন্তর্জাতিক সীমানাবিশিষ্ট রাষ্ট্রই ছিল না। যেসকল আরব রাষ্ট্র ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ করেছিল তারা সবাই প্যালেস্টাইনকে নিজেদের বলে দাবি করতো। প্যালেস্টাইনের জনগণ হয়তো ছিল কিন্তু তাদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোন দেশ ছিল না এবং তারা কেবল মুসলিম ছিল না,স্থানীয় খ্রিস্টান ও ইহুদিরাও প্যালেস্টাইনের জনগণ ছিল। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, তাদের কোন রাষ্ট্রও কোনদিনই ছিল না, আজকেও নেই।

ছয় দিনের যুদ্ধঃ
১৯৬৭ সালে মিশর, জর্ডান এবং সিরিয়ার মিলিত আরব শক্তি আবারো ইসরায়েলকে আক্রমণ করে। এই যুদ্ধ মাত্র ছয় দিন ব্যাপী স্থায়ী হয় এবং ইসরায়েলী বিমান বাহিনীর অসাধারণ নৈপুণ্যের সামনে আরববিশ্ব চরমভাবে পরাজিত হয়। এই যুদ্ধের ফলে ইসরায়েল জর্ডানের কাছ থেকে পশ্চিম তীর/ওয়েস্ট ব্যাংক, সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান হাইটস এবং মিশরের কাছ থেকে গাজা ও সিনাই উপদ্বীপ লাভ করে।তার সাথে পূর্ব জেরুজালেমও ইসরায়েলের অধীনে চলে আসে। ইসরায়েল এরপর পুরো জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করে। বহির্বিশ্ব এবং জাতিসংঘ যদিও এই জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি কিন্তু তাতে ইসরায়েলের কিছু যায় আসেনি। এর কারণ ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমকে যুদ্ধের মাধ্যমে জিতেছে। তারা চাইলে শুধু পূর্ব জেরুজালেম না, পুরো ওয়েস্ট ব্যাংক এবং গাজাকেও নিজেদের অংশ বলে দাবি করতে পারতো। কিন্তু জেরুজালেমের সাথে ইহুদি ধর্মের নাড়ির টান থাকায় তারা কেবল পূর্ব জেরুজালেমকেই নিজেদের অংশ বলে দাবি করে এবং যুদ্ধের মাধ্যমে জেতার কারণে তাদের এই দাবি অবশ্যই ন্যায্য। ইহুদি ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র স্থানগুলি যেমন-ওয়েস্টার্ন ওয়াল, ধ্বংসকৃত সলোমনের মন্দিরস্থ টেম্পল মাউন্ট, সিটি অব ডেভিডসহ আরও অনেককিছু এই পূর্ব জেরুজালেমেই অবস্থিত। ছয় দিনের এই যুদ্ধের ফলে ইসরায়েল এর সীমানা অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যায়।

ইয়োম কিপুর যুদ্ধঃ
বারবার মুখোমুখি যুদ্ধে পরাজিত হবার পর আরব দেশগুলো এবার শঠতার আশ্রয় নিল। আপনাদের হয়তো মনে আছে যে, ২০১৪ সালে তিন ইহুদি কিশোরকে অপহরণের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ ইসরায়েল গাজায় যখন সামরিক অভিযান চালায় তখন উভয়পক্ষের বেশকিছু বেসামরিক নাগরিক মারা যায়। ইসরায়েল যে সময় গাজায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছিল তার মাঝে ঈদের দিনও পরেছিল। বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা হাহাকার শুরু করে দিল- ইহুদিরা কতবড় নরপিশাচ যে ঈদের দিনও তারা গাজায় নিরীহ মানুষদের মারছে! কিন্তু তাদের অনেকেই জানে না যে, অন্যের ধর্মীয় উৎসবকে পণ্ড করে দিয়ে যুদ্ধ করার এই ঐতিহ্য আরবের বুকে মুসলিম দেশগুলোই প্রথম শুরু করেছিল। ইয়োম কিপুর যুদ্ধই হল এরকম একটি উদাহরণ। ইয়োম কিপুর ইহুদিদের একটি ধর্মীয় উৎসবের নাম। এদিন ইহুদিরা সারাদিন উপবাস এবং সিনাগগে প্রার্থনা করে কাটায়। ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর এর দিনে এই যুদ্ধ শুরু হয় বলে তা 'ইয়োম কিপুর যুদ্ধ' নামে পরিচিত। সোভিয়েত ইউনিয়নের সরবরাহকৃত আধুনিক সমরাস্ত্রের সাহায্যে সিরিয়া এবং মিশর দুইদিক থেকে ইসরায়েল এর উপর অতর্কিতভাবে আক্রমণ করে। ইসরায়েল এই আক্রমণের জন্য একেইবারেই প্রস্তুত ছিল না কারণ ইয়োম কিপুর এর দিনে সরকারী ছুটি ছিল এবং সামরিক বাহিনীর সদস্য থেকে প্রধানমন্ত্রীসহ সকল ইহুদিরা উপবাস ও প্রার্থনায় ব্যস্ত ছিল। দুইদিক থেকে আক্রমণ করার ফলে ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধ পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেয়ে যায়। সিনাই উপদ্বীপ অনেক বড় হওয়ায় ও কোন জনবসতি না থাকায় ইসরায়েল সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা তাদের সর্বশক্তি দিয়ে উত্তরে গোলান হাইটসে কেবল সিরিয়ার সাথে যুদ্ধ করবে। এবার যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সাহায্যে এগিয়ে আসে । উভয়পক্ষের বেশ কিছু ক্ষতিসাধনের মধ্য দিয়ে এবং জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে দুই পক্ষই যুদ্ধ থেকে নিবৃত্ত হয়। তবে এই যুদ্ধ রাজনৈতিকভাবে ইসরায়েলের জন্য বেশ ফলপ্রসূ ছিল। ১৯৭৮ সালে ক্যাম্প ডেভিড সম্মেলনে শান্তি প্রচেষ্টা শুরু হয়। ইসরায়েল সিনাই উপদ্বীপ ফেরত দেওয়ার বদলে মিশরের কাছে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দাবি করে। ১৯৭৯ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত ইসরায়েল এর সাথে শান্তি চুক্তি স্থাপন করেন এবং ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেন যা দুই বছর পরে ইসলামিক মৌলবাদীদের হাতে তার হত্যাকান্ডের রাস্তা প্রশস্ত করে। ইসরায়েল এই প্রথম কোন আরব মুসলিম দেশের কাছে স্বীকৃতি পায়। এর পরিবর্তে মিশর সিনাই উপদ্বীপ পুনরায় নিজেদের অধীনে নিলেও গাজাকে তারা ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। জর্ডানও ওয়েস্ট ব্যাংককে আর ফেরত নেয়নি। ফলে এই অঞ্চলের প্যালেস্টেনীয় জনগণ অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে।

এরপর অনেক জল গড়ায়। পূর্বগঠিত প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন(পিএলও) ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন শুরু করে। যদিও এইসব আন্দোলনের মধ্যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডই বেশি ছিল। এরপর প্রথম ইন্তিফাদা শুরু হয়। সাথে সাথে শুরু হয় প্যালেস্টেনীয় জনগণের একের পর এক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ হাতছাড়া করা। ১৯৯৪ সালে ইয়াসির আরাফাত এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইতঝাক রাবিন শান্তিতে নোবেল পেলেও তা কোন বিশেষ পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয় নি। তবে এইসব প্রসঙ্গ ইসরায়েল রাষ্ট্রের বৈধতার সাথে একেবারেই সম্পর্কহীন। কারণ ১৯৪৮ সালেই জাতিসংঘের সম্মতিতে এবং সভ্য দেশগুলোর ভোটের ফলেই রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল পৃথিবীর মানচিত্রে তার বৈধতা পায়। তারও আগে থেকে ইসরায়েলি ইহুদিরা উচ্চমূল্যে জমি কিনে এবং বেলফোর ঘোষণা, স্যান রিমো বৈঠক ও লীগ অব নেশনস এর অনুমতি সাপেক্ষে সেই বৈধতাকে আরও মজবুত করে। আর তারপরে তো আরব বিশ্বের সাথে তিনটি বড় যুদ্ধে জয়লাভ করার পরও ইসরায়েল রাষ্ট্রের বৈধতা নিয়ে যাদের মনে প্রশ্ন জাগে তাদের অতিসত্ত্বর নিজ দায়িত্বে পাগলা গারদে চলে যাওয়া উচিত। বর্তমানে জাতিসংঘ এবং আরও কয়েকটি দেশের সাথে ইসরায়েল এর যে বিরোধ তা কেবলই ওয়েস্ট ব্যাংক সেটেলমেন্ট ও প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা নিয়ে, পুরো ইসরায়েল নিয়ে নয়। হবেই বা কেন,ইসরায়েল তো জাতিসংঘের অনুমতিসাপেক্ষেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল,তাই না? আর বাকি যেসব মুসলিম দেশগুলো ইসরায়েলের জন্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলে তাদেরকে বর্তমানে সৌদি পা-চাটা জাতিসংঘ এবং আরবের তৈলাক্ত রাজপুত্রদের কাছে মস্তক বিক্রি করে দেওয়া হাতেগোণা কয়েকটি দেশছাড়া কেউ গোনায় ধরে না। কারণ এরা চিরকাল এরকমই ছিল। নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রাভঙ্গ ছাড়া মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে এদের অবদান আতশী কাচ দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। শিক্ষা-সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, মননশীলতা সবদিক থেকেই এরা চিরকাল ইহুদিদের চেয়ে যোজন যোজন দূরে পিছনে পড়ে ছিল, এখনও আছে। এরা তাই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে নেতৃস্থানীয় ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলকে হিংসা করবে, ক্ষতিসাধন করার চেষ্টা করবে-এটাই তো স্বাভাবিক।

রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের প্রয়োজনীয়তাঃ
জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ সাধনের ফলেই মানবসভ্যতা আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইসরায়েল এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ইহুদি ফ্যাক্টরটিও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। যেহেতু ইসরায়েল একটি ইহুদি রাষ্ট্র সুতরাং তা জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রগণ্য হবে সেটাই স্বাভাবিক। শত শত বছর ধরে আমরা সেটাই প্রত্যক্ষ করছি। প্রায় এক শতাব্দী পূর্বে যে ইসরায়েল ধূসর মরুভূমি ছিল আজ ইহুদি জাতির কল্যাণে তা সবুজ তৃণভূমিতে পরিণত। এখানে জন্মের পর থেকে ইসরায়েল মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে যেসব ভূমিকা রেখেছে তা সংক্ষেপে আলোচনা করতে চাই।

১.বিজ্ঞানঃ প্রায় একইসাথে পথ চলা শুরু করলেও পুরো আরব বিশ্বের সবগুলো দেশের চেয়ে বেশি নোবেল পেয়েছে কেবলমাত্র ইসরায়েলের বিজ্ঞানীরা(ইহুদি বিজ্ঞানীদের হিসাব আলাদা)। বিজ্ঞানের প্রায় সবগুলো শাখা যেমন- পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, মেডিসিন, বায়োটেকনোলজি, জ্যোতির্বিজ্ঞানসহ কম্পিউটার-প্রযুক্তিতে ইসরায়েলিরা অসামান্য অবদান রেখেছেন এবং রেখে চলেছেন। ইসরায়েলিরা বিজ্ঞান ক্যাটাগরীতে যেসব নোবেল পেয়েছেন তার সবগুলোই রসায়নের উপরে। বিজ্ঞানের বাকি শাখাগুলোকেও ইসরায়েলিরা সমৃদ্ধ করেছে। তবে তাদের মধ্যে কম্পিউটার-প্রযুক্তি মনে হয় ইসরায়েলিদের কাছে বেশি ঋণী। আইবিএম, ইন্টেল, মাইক্রাসফট এর মত আরও অনেক বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কম্পিউটার প্রযুক্তি আবিষ্কার ও গবেষণার জন্য দ্বিতীয় পছন্দ হল ইসরায়েল(সিলিকন ভ্যালীর পরে)। তার কারণও অবশ্য বোধগম্য। ইউএসবি ফ্লাশ ড্রাইভ, ইন্টেলের প্রথম কম্পিউটার চিপের মত আরও অনেক বৈপ্লবিক প্রযুক্তিগুলো ইসরায়েলের তৈরি। সফটওয়ার খাতেও ইসরায়েলের অসামান্য অবদান আছে।

২.গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাঃ কোন মধ্যযুগীয় বা ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থা নয়,বরং ইসরায়েল গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এখানে যে যার যোগ্যতা অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রদত্ত সুবিধাগুলো ভোগ করে। ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে কয়েকজন আরব প্যালেস্টেনীয় সাংসদও আছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে অনেক আরবও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে জনগণের ভিতরে রাষ্ট্রপ্রদত্ত সুযোগ-সুবিধাগুলো ভোগের ক্ষেত্রে পার্থক্য তৈরি হয়, সেখানে ইসরায়েলের এই আধুনিক উদারপন্থী শাসনব্যবস্থা সত্যিই অনুকরণযোগ্য।

৩.অর্থনীতিঃ ইসরায়েলের অর্থনীতি অত্যন্ত মজবুত। প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ইসরায়েলের এই সমৃদ্ধশালী অর্থনীতি মধ্যপ্রাচ্যে তেলবেচা দেশগুলো ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যায় না। আশপাশের দেশগুলো থেকে আরবরাও এখানে কর্মসংস্থানের প্রাচুর্যতার লোভে ছুটে আসে। বিভিন্ন কৃষিজাত ফসল, ফলমূল এবং উন্নত প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানি করার মাধ্যমে ইসরায়েল তার অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। এছাড়া জেরুজালেম ও বেথেলহেম এর ধর্মীয় স্থাপনাগুলো, তেল আভিভের সমুদ্র সৈকত কিংবা ডেড সী এর মত আকর্ষণীয় স্থানগুলোও ইসরায়েলের পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

৪.পশ্চিমা মূল্যবোধঃ ইসরায়েলের একটা বিরাট সংখ্যক ইহুদি জনগণ ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে অভিবাসী হওয়ার কারণে এখানে সর্বত্র পশ্চিমা মূল্যবোধের ছোঁয়া পাওয়া যায়। মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র ইসরায়েলের নারীরাই পুরুষদের সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করে থাকে। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স(আইডিএফ) বিশ্বের অন্যতম সুসভ্য সেনাবাহিনী। এতগুলো যুদ্ধে জয়লাভ করার পরও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন ধর্ষণের অভিযোগ নেই যা পৃথিবীর বুকে এক রেকর্ড। এমনকি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী যখন যুদ্ধ করে তখন তারা যথাসম্ভব প্রতিপক্ষের বেসামরিক নাগরিকদের বাঁচানোর চেষ্টা করে যা বাকি বিশ্বের জন্য দৃষ্টান্তমূলক।

উপরের এই ছোট্ট বিশ্লেষণটুকু ইসরায়েল রাষ্ট্রের উপযোগিতা নির্ণয়ের পক্ষে যথেষ্ট নয়। তবুও আশা করি, পাঠকরা কিছুটা ধারণা পেয়েছেন যে কেন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপ্রতিষ্ঠা এবং এই অঞ্চলের মানুষের জ্ঞান-বিজ্ঞানে উৎকর্ষতা লাভ ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ইসরায়েলের টিকে থাকাটা প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বমানচিত্র থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। এই অঞ্চলকে অনুন্নত এবং অশান্ত রেখে মানবসভ্যতার পক্ষে সামনে এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব। মধ্যপ্রাচ্য আজ রক্তাক্ত, যেখানে সেখানে আয়লান কুর্দিরা মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য বাকি আরব দেশগুলোকে একমাত্র ইসরায়েল জাতিই নেতৃত্ব দিতে পারে তাদের মেধা ও যোগ্যতার দ্বারা। তাই মানবসভ্যতার বৃহত্তর স্বার্থে রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের টিকে থাকাটা অত্যাবশ্যক।

(চলবে)

Comments

What's my name ? এর ছবি
 

There is no comment .. Strange .. Mumin's are not here may be .. However Mr. Write thanks for your precious article.. Keep writing like this. Thus we can know something new.

 
আরমান অর্ক এর ছবি
 

Thanks for inspiring and reading the article.

****************************************************************************************
সত্য যে কঠিন ,কঠিনেরে ভালোবাসিলাম; সে কখনো করে না বঞ্চনা ।

 
নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

অসাধারন একটা সিরিজ হবে আশাকরি। ইতিহাসের নির্মোহ সত্য খুঁজে পাওয়া আসলে দুস্কর। এগিয়ে আসার জন্য আপনাকে সাধুবাদ জানাই।

 
আরমান অর্ক এর ছবি
 

অনেক ধন্যবাদ।

****************************************************************************************
সত্য যে কঠিন ,কঠিনেরে ভালোবাসিলাম; সে কখনো করে না বঞ্চনা ।

 
টিকেট ছাড়া যাত্রী এর ছবি
 

ইহুদীদের নিয়ে অনেক দিন থেকেই নিরপেক্ষ একটা লেখা খুজছিলাম...!!! লেখক কে প্রথম পর্বেই উনি আমার জানার পিপাসা অনেকটাই মিটিয়েছেন। এই ক্ষুদ্রের লেখকের কাছে একটা পরামর্শ ছিল যা অনেকটা আবদার ও বলা যায় আর তা হল, যদি লেখাটির সাথে কিছু রেফারেন্স/সোর্স দিয়ে দিতেন তাহলে লেখাটি আরো তথ্য নির্ভর ও আরো অনেক বেশী গ্রহনযোগ্য(যদিও আমার কাছে গ্রহনযোগ্য) হত। সবশেষে আবারো লেখক কে ধন্যবাদ।

 
আরমান অর্ক এর ছবি
 

এই লেখাটিতে যেসব রেফারেন্সের সাহায্য নিয়েছি তার সাথে দ্বিতীয় পর্বও সম্পর্কযুক্ত। তাই পরবর্তী লেখায় একবারে দুটি পর্বেরই রেফারেন্স দেওয়া হবে। তারপরেও নিচের লিংকগুলিতে দুটি ডকুমেন্টারি দিলাম আগ্রহী পাঠকদের জন্য। ধন্যবাদ।
১। https://www.youtube.com/watch?v=dXCdwrOO9wA
২। https://www.youtube.com/watch?v=CxBhPbabVSE

****************************************************************************************
সত্য যে কঠিন ,কঠিনেরে ভালোবাসিলাম; সে কখনো করে না বঞ্চনা ।

 
টিকেট ছাড়া যাত্রী এর ছবি
 

ইহুদীদের নিয়ে অনেক দিন থেকেই নিরপেক্ষ একটা লেখা খুজছিলাম...!!! লেখক কে অসংখ্য ধন্যবাদ কারণ, প্রথম পর্বেই লেখক আমার জানার পিপাসা অনেকটাই মিটিয়েছেন। এই ক্ষুদ্র পাঠকের, লেখকের কাছে একটা পরামর্শ ছিল যা অনেকটা আবদার ও বলা যায় আর তা হল, যদি লেখাটির সাথে কিছু রেফারেন্স/সোর্স দিয়ে দিতেন তাহলে লেখাটি আরো তথ্য নির্ভর ও আরো অনেক বেশী গ্রহনযোগ্য(যদিও আমার কাছে গ্রহনযোগ্য) হত। সবশেষে আবারো লেখক কে ধন্যবাদ।

 
আরমান অর্ক এর ছবি
 

এই লেখাটিতে যেসব রেফারেন্সের সাহায্য নিয়েছি তার সাথে দ্বিতীয় পর্বও সম্পর্কযুক্ত। তাই পরবর্তী লেখায় একবারে দুটি পর্বেরই রেফারেন্স দেওয়া হবে। তারপরেও নিচের লিংকগুলিতে দুটি ডকুমেন্টারি দিলাম আগ্রহী পাঠকদের জন্য। ধন্যবাদ।
১। https://www.youtube.com/watch?v=dXCdwrOO9wA
২। https://www.youtube.com/watch?v=CxBhPbabVSE

****************************************************************************************
সত্য যে কঠিন ,কঠিনেরে ভালোবাসিলাম; সে কখনো করে না বঞ্চনা ।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আরমান অর্ক
আরমান অর্ক এর ছবি
Offline
Last seen: 6 দিন 17 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, মে 4, 2017 - 12:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর