নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 8 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • বিজ্ঞানী ইস্বাদ
  • আমি অথবা অন্য কেউ
  • বিজয়
  • সৈয়দ মাহী আহমদ
  • রাজিব আহমেদ
  • কিন্তু
  • নাগিব মাহফুজ খান
  • পৃথু স্যন্যাল

নতুন যাত্রী

  • শেষ যাত্রী
  • নীলা দাস
  • উর্বির পৃথিবী
  • গোলাম মাহিন দীপ
  • দ্য কানাবাবু
  • মাসুদ রুমেল
  • জুবায়ের-আল-মাহমুদ
  • আনফরম লরেন্স
  • একটা মানুষ
  • সবুজ শেখ

আপনি এখানে

বেড়েছে অর্থ-পাচারকারী, আত্মসাৎকারী ও কোটিপতির সংখ্যা, পদদলিত হচ্ছে রক্তঝড়া শ্রমিকের দেহ!



'ব্ল্যাকমার্কেটিং কারা করে? যাদের পেটের মধ্যে দুই কলম বিদ্যা রয়েছে তারাই ব্ল্যাকমার্কেটিং করে। স্মাগলিং কারা করে? যারা বেশি লেখাপড়া করেছে তারাই করে। হাইজাকিং কারা করে? যারা বেশি লেখাপড়া শিখেছে তারাই করে। ইন্টারন্যাশনাল স্মাগলিং তারাই করে। বিদেশে টাকা রাখে তারাই। আমরা যারা শিক্ষিত, আমরা যারা বুদ্বিমান, ওষুধের মধ্যে ভেজাল দিয়ে বিষাক্ত করে মানুষকে খাওয়াই তারাই। নিশ্চয়ই গ্রামের লোক এসব পারে না, নিশ্চয়ই আমার কৃষক ভাইয়েরা পারে না। নিশ্চয়ই আমার শ্রমিক ভাইয়েরা পারে না।' __ বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

এদেশে শ্রমিক-কৃষকেরা দুর্নীতি বোঝে না, বোঝে না লুঠপাট তাঁরা শুধু বোঝে তাঁদের কর্মঠ দু-হাত যা দিয়ে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখা যায়।

দেশে কর্মসংস্থান না হওয়ায় যেসব শ্রমিকেরা সোনালি ভবিষ্যতের আশায় বিদেশে পাড়ি জমান, প্রতিকূল পরিবেশ, অমানুষিক পরিশ্রম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করেও শত শত কোটি টাকা রেমিটেন্স পাঠান, আর এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে হারভাঙ্গা পরিশ্রমের ফলে প্রতিদিন লাশ হয়ে ফেরেন কেউ না কেউ। দেশের অভ্যন্তরীণ ও প্রবাসী শ্রমিকেরা নানা বাঁধা বিপত্তি উপেক্ষা করে তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করে রাখলেও কিছুসংখ্যক লুটেরা গোষ্ঠী পাচার করছে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে, প্রতিনিয়ত বাড়ছে কোটিপতির সংখ্যা। একদিকে প্রবাসী শ্রমিকেরা দেশে পাঠাচ্ছে রেমিটেন্স অপরদিকে দুর্নীতিবাজ-লুটেরা গোষ্ঠী দেশের টাকা পাচার করছে বিদেশে। অর্ধাহারে, অনাহারে ও অমানুষিক পরিশ্রমে শ্রমিকেরা হচ্ছে লাশ অন্যদিকে ঝড়ের গতিতে বাড়ছে কোটিপতির সংখ্যা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব মতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটির বেশি বাংলাদেশী রয়েছেন। তাঁদের সিংহভাগই শ্রমিক। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রবাসী শ্রমিকরা প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী,
প্রবাসীরা প্রতি বছর দেশে পাঠান মার্কিন ডলারেঃ
♦ ২০০৯-১০ অর্থবছরে আয় ১ হাজার কোটি
♦ ২০১০-১১ অর্থবছরে ১ হাজার ১০০ কোটি
♦ ২০১১-১২ অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ কোটি
♦ ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১ হাজার ৪০০ কোটি
♦ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১ হাজার ৪২২ কোটি ৮৩ লাখ♦ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৫৩০ কোটি ৯৩ লাখ
♦ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৬২ লাখ
♦ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শেষ পাঁচ মাসে ৫২০ কোটি
প্রবাসী শ্রমিকেরা প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা দেশে পাঠালেও দুর্নীতিবাজ-লুটেরা গোষ্ঠিরা প্রতিবছর বিদেশে পাচার করছে কয়েক হাজার কোটি টাকা।

জিএফআই অর্থ পাচারের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার হয়েছে মার্কিন ডলারেঃ
♦ ২০০৯ সালে ৬১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার
♦ ২০১০ সালে ৫৪০ কোটি ৯০ লাখ ডলার
♦ ২০১১ সালে ৫৯২ কোটি ১০ লাখ ডলার
♦ ২০১২ সালে ৭২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার
♦ ২০১৩ সালে ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার
♦ ২০১৪ সালে ৯১১ কোটি ডলার যা টাকার অঙ্কে প্রায়
৭২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা

এছাড়া,
গত ৭ বছরের মধ্যেই ঘটেছে ৬টি বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা। এ ৬টিতেই ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি চুরি বা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পুঁজিবাজার, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, বেসিক ব্যাংক ও ডেসটিনি কেলেঙ্কারির পর যুক্ত হয় ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি। সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা চুরির ঘটনা।

আত্মসাৎ হওয়া টাকার পরিমাঃ
♦ ২০০৬-১২ ডেসটিনি গ্রুপ ৪১১৯ কোটি টাকা
♦ ২০১০ শেয়ার বাজার ১৫ হাজার কোটি টাকা
♦ ২০১১-১২ বিসমিল্লাহ গ্রুপ ১১০০ কোটি টাকা
♦ ২০১২ হলমার্ক ৪৫০০ কোটি টাকা
♦ ২০১২-১৩ বেসিক ব্যাংক ৪৫০০ কোটি টাকা
♦ ২০১৬ বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ চুরি ৮০০ কোটি

দেশে কর্মসংস্থান না হওয়ায় জমিজমা-বসতভিটা বিক্রি-বন্ধক রেখে যাঁরা বিদেশে এসেছিলেন পরিবারের হাল ধরবেন বলে তাঁরা নিশ্চয়ই কেউ লাশ হয়ে ফিরতে চান নি। অথচ গত ছয় বছরে বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে ১৪ হাজার লাশ হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে, যাঁদের ৯৪ শতাংশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর শিকার। প্রতিদিন গড়ে আট থেকে দশজন প্রবাসীর মরদেহ আসছে দেশে। এদের মধ্যে ৬০ শতাংশরও বেশি মারা যাচ্ছে ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সেই, ২০ শতাংশের মৃত্যু ২০ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে, বাকি ১৫ শতাংশ মারা যায় ৪০ থেকে ৫৫ বছর বয়সে এবং ৫ শতাংশের বয়সই জানা যায় না। এদের অধিকাংশরই মৃত্যু হয় স্ট্রোক কিংবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। প্রতিকূল পরিবেশ, অমানুষিক পরিশ্রম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের কারণেই এই মৃত্যুর দীর্ঘ মিছিল।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের গতিশীল অর্থনীতির চাকাকে স্বচল রাখা রেমিটেন্স পাঠানো এই প্রবাসী শ্রমিকের লাশ এসেছেঃ
♦ ২০০৫ সালে ১ হাজার ২৪৮ জন,
♦ ২০০৬ সালে ১ হাজার ৪০২,
♦ ২০০৭ সালে ১ হাজার ৬৭৩,
♦ ২০০৮ সালে ২ হাজার ৯৮,
♦ ২০০৯ সালে ২ হাজার ৩১৫ জন,
♦ ২০১০ সালে ২ হাজার ৫৬০ জন
♦ ২০১১ সালে ২ হাজার ৫৮৫
♦ ২০১২ সালে ২ হাজার ৮৭৮,
♦ ২০১৩ সালে ৩ হাজার ৭৬,
♦ ২০১৪ সালে ৩ হাজার ৩৩৫ জন,
♦ ২০১৫ সালে ৩ হাজার ৩০৭ জন,
♦ ২০১৬ সালে ২ হাজার ৯৮৫ জন।

২০০৮ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নয় বছরে শাহজালাল বিমানবন্দরে ২২ হাজার ৫৬১ জন প্রবাসীর লাশ এসেছে।

দিনে দিনে শ্রমিক শোষণ যেমন বেড়েছে তেমনি শ্রমিকের রক্তঝরা ঘামের উপর দাঁড়িয়ে বেড়েছে কোটিপতির সংখ্যা। একদিকে প্রবাসী শ্রমিকেরা রোদ-বৃষ্টি-ঝড়-ঝঞ্জা উপেক্ষা করে জিবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে উপার্জিত হাজার হাজার কোটি টাকা রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে। আর এই উপার্জনের জন্য লাশ হয়ে ফিরছে প্রতি বছর কয়েক শত। অন্যদিকে এই শ্রমিকের রক্তভেজা লাশের উপর দাঁড়িয়ে লক্ষের ঘরে পৌছিয়েছে কোটিপতির সংখ্যা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়ঃ
১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি অ্যাকাউন্টধারী ছিল মাত্র ৫ জন। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৭ জনে। ১৯৮০ সালের ডিসেম্বরে ছিল ৯৮ জন। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪৩ জনে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালের জুনে কোটিপতির সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৯৪ জন। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর শেষে কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ হাজার ১৬২ জনে। এরপর অক্টোবর ২০০১ থেকে ডিসেম্বর ২০০৬ পর্যন্ত কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছিল ৮ হাজার ৮৮৭ জনে। অর্থাৎ এ সময়ে কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৪,০০০ জনে। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২ বছরে অর্থাৎ ২০০৭-০৮ সালে বেড়েছিল ৫ হাজার ১১৪। এ সময়ে কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৯ হাজারের বেশি।

দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে ধাবিত করা ১৪ দলীয় জোট আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর কোটিপতির সংখ্যা বাড়তে থাকে দুরন্ত গতিতেঃ
♦ ২০১১ সালে ৭৮ হাজার ১৫০ জন
♦ ২০১২ সালে ৯০ হাজার ৬৫৫ জন
♦ ২০১৩ সালে ৯৮ হাজার ৫৯১জন
♦ ২০১৪ সালে ১ লাখ ৮ হাজার ৯৭৪জন
♦ ২০১৫ সালে ১ লাখ ১৪ হাজার ২৬৫জন
♦ ২০১৬ সালে ১ লাখ ১৮ হাজার ৪১৮ জন

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সকল তফসিলি ব্যাংকের কাছ থেকে প্রাপ্ত হিসাবের ভিত্তিতে যে প্রতিবেদন তৈরি করে সেটাই কোটিপতির সংখ্যা নির্ধারণের নির্ভরযোগ্য ভিত্তি। এটা শুধু কাগজে-কলমে এবং ব্যাংকে গচ্ছিত আর্থিক স্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অন্যান্য দিক ও সম্পদের বিবেচনায় এই সংখ্যা আরো অনেক বেশি।

দেশের ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের কাছে ৪০ শতাংশের বেশি সম্পদ আজ জিম্মি।
বাংলাদেশ সরকারে উন্নয়নের জয়যাত্রার বুলি আজ সকলেরই মুখস্থ, 'বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। উন্নয়নে বিশ্বে রোল মডেল। দেশ এখন উন্নয়নের ঐতিহাসিক দিকসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে ইত্যাদি।'

‘উন্নয়নের এই মহাসড়কের নিচে আজ পৃষ্ঠ হাওর বাসী, প্রবাসী শ্রমিকেরা কেননা সরকার চাই রেমিটেন্স শ্রমিকেরা বেঁচে থাকলো কি থাকলো না সেদিকে তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নাই। প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকেরা থ্রি-ডি (ডার্টি, ড্যাঞ্জারাস, ডিফিকাল্ট) কাজের সাথেই সবচেয়ে বেশি জড়িত। এই থ্রি ডি কাজের সাথে জড়িত শ্রমিকদের দেয়া হয় না কোন প্রশিক্ষণ এমনি এঁদের নিয়ে সরকারের নেই সুনির্দিষ্ট কোন নীতিমালা।

শ্রমিকের রক্তভেজা ঘামের উপর দাঁড়িয়েই দুর্নীতিবাজ-লুটেরা শাসক গোষ্ঠীরা দেশকে আজ উন্নয়নের হাইওয়েতে উন্নিত করেছে। উন্নয়নের মহাসড়কে আজ বেড়েছে দুর্নীতিবাজ-লুটেরাদের সংখ্যা, কোটিপতি মুনাফাখোর মালিক শ্রেণির সংখ্যা, বাড়েনি শ্রমের মুজুরি হয়নি শুষ্ঠ কর্মপরিবেশ, বাড়েনি শ্রমিকের জিবনের নিরাপত্তা

আল আমিন হোসেন মৃধা
লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আল আমিন হোসেন মৃধা
আল আমিন হোসেন মৃধা এর ছবি
Offline
Last seen: 18 ঘন্টা 34 min ago
Joined: রবিবার, এপ্রিল 2, 2017 - 11:30অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর