নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • ড. লজিক্যাল বাঙালি

নতুন যাত্রী

  • অন্নপূর্ণা দেবী
  • অপরাজিত
  • বিকাশ দেবনাথ
  • কলা বিজ্ঞানী
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • সাবুল সাই
  • বিশ্বজিৎ বিশ্বাস
  • মাহফুজুর রহমান সুমন
  • নাইমুর রহমান
  • রাফি_আদনান_আকাশ

আপনি এখানে

সাজেকের খাদ্যসংকটঃ কিছু কথা ও আমাদের করণীয়


আমাকে প্রায় জিজ্ঞেস করা হয় বাড়ি কোথায়? খাগড়াছড়ি শোনার পর প্রতি মন্তব্যে শুনি, খাগড়াছড়ি দিয়েই তো সাজেক যেতে হয়, তাই না? আমি চমৎকৃত হই। জীবনে যে কখনো পাহাড় লাল নাকি কালো দেখেনি, সেও জানে সাজেক রাঙ্গামাটি জেলায় হলেও যেতে হয় খাগড়াছড়ি দিয়ে!!

অনলাইনের বর্তমান দুনিয়াটাই এমন। ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্রাভেলার্স গ্রুপগুলোর কল্যাণে সাজেকের খেতাব জুটেছে "মেঘের রাজ্য", "মেঘ ছোঁয়া উঁচু" আরো কত কি। একসময় এই খেতাব ছিল নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রের। সাজেকের কাছে নিজের খেতাব হারিয়ে নীলগিরির মন খারাপ হতেই পারে। একসময় বান্দরবান মানে মানুষ দুইটা জায়গা চিনতো। ১. নীলগিরি, ২. নীলাচল। এখন পর্যটনের বেশ প্রসারের কারণে অনেক জায়গার নাম চলে আসে বান্দরবানের।

সাজেক আর নীলগিরি দুইটাই আকাশসম উচ্চতায়। উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ বেয়ে যখন চাদেঁর গাড়ি-জিপগুলো তরতর করে বেয়ে উঠতে থাকে, মনে হয় এই বুঝি খাদ থেকে ছিটকে গেল। সাজেকের যাওয়ার রাস্তা বাংলাদেশের সবচেয়ে ঝুকিঁপূর্ণ রাস্তাগুলোর একটি। কিন্তু পর্যটন প্রসারের পর রাস্তাটিকে মোটামুটিভাবে ঝুকিঁহীন করার চেষ্টা করা হলেও খুব বেশি করা যায়নি। জীপের ড্রাইভারগুলো যাত্রীদের বলে, খুব বেশি ওঠা যাবে না। উঠলেই গাড়ি উল্টে পড়ে যেতে পারে। অথচ আমি যখন সাজেকে যাই তখন তখন চাদেঁর গাড়ির যাত্রী সংখ্যা ছিল ৫০ জনের বেশি, তার সাথে গাড়ির ছাদে নেয়া হয়েছিল কয়েকটি বস্তা। সে বস্তার উপর বসে রুইলুইয়ের বড় পাহাড়টি বেয়ে ওঠার সময় মনে হয়েছিল আহ! কি ব্যবসা। গাড়ির যাত্রীসংখ্যা কমিয়ে খরচ বাঁচানোর ফন্দিটা দারুণ। আমরা তিনজন তথাকথিত পর্যটকের মতো যাই নি, গিয়েছিলাম একেবারে সাধারণের সাথে মিশে। রাত কাটিয়েছিলামও জুমিয়াদের ঘরে।

সেদিন রাতে পূর্ণিমার আলোতে হেলিপ্যাডের সামনে হাজারো মানুষের জটলা ও হৈ-হুল্লোড় বেশ ছিল। আর কটেজগুলো ঘিরে চলছিল গান-বাজনা, আসর। বেশ সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ, সাথে বাতাসও বেশ বইছিল। রাত কাটানোর জন্য জুমিয়াদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার পর বহুক্ষণ পর্যন্ত কানে এসেছিল গানের আওয়াজ, হৈ-হুল্লোড়ের কণ্ঠস্বরগুলো।

রুইলুই পাড়া থেকে কংলাক পাড়ায় যাওয়ার রাস্তা খুবই বড়। রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক বা রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কও এত বড় নয়। বাড়িগুলোর উঠান বরাবর চলে গিয়েছে সড়কটি। আর সে সড়ক ধরে পর্যটকদের উল্লাসরত গাড়ির দ্রুত চলে যাওয়া দেখতে দেখতে আমরা বসে পড়ি রাস্তার পাশের একটি বাড়ির ভিতরে। সেখানে রুইলুই স্কুলের একজন শিক্ষকের সাথে আলাপ করেছিলাম বেশ দীর্ঘসময় ধরে। মানুষটি যথেষ্ট বয়স্ক, বাড়ির সামনেই বসে ছিলেন আর দেখছিলেন গাড়ির আসা-যাওয়া।

মানুষটির হাত ধরে আমরাও ফিরে গেলাম কয়েক বছর আগের সাজেকে। তখনো এই পর্যটন হয়নি। সাজেকের মূল রাস্তা ছিল কাঁচা, বর্তমানে আমরা যে বড় সড়কটি দেখি সেটি ছিল ছোট্ট একটি রাস্তা যা দিয়ে রুইলুই পাড়ার মানুষরা কংলাক পাড়ায় আসা-যাওয়া করত। বাংলাদেশের লুসাইদের সংখ্যা সবচেয়ে কম, এখানে তাদের তিনটি বড় পাড়া আছে মধ্যে দুইটাই হচ্ছে সাজেকে আর আরেকটি বিলাইছড়ি (সঠিক জানা নেই, অনেক আগে শোনা)। আর লুসাইয়ের পাশাপাশি সেখানে পাংখোয়া ও ত্রিপুরা জাতিসত্তার মানুষ বাস করে।

বৃদ্ধ শিক্ষক বর্ণনা দিচ্ছিলেন পুরোনো সাজেকের। সে সাথে বলছিলেন ইঁদুর বন্যার কথা। মাচালং-এ এক দুলাভাইয়ের বাড়িতে থাকার সময় প্রতি বাড়িতে তিন-চারটা করে বিড়াল দেখার পর মনে প্রশ্নের উদয় হয়েছিল। তখন জানলাম সাজেকে ইঁদুর বন্যা আর এর ফলে সৃষ্ট খাদ্যসংকটের কথা।

বর্তমান যে খাদ্যসংকট সেটি অবশ্য ইঁদুরবন্যার কারণ সৃষ্ট নয়। এটি বলা যায় মনুষ্যসৃষ্ট। সাজেক মৌজায় এর আগে এক পাহাড়ে জুমের ফসল চাষের ব্যবধান ছিল ৮-৯ বছর। বিভিন্ন কারণ যেমন সাজেক মৌজায় পাহাড়িদের জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়া, পর্যটন হওয়ার পর্যায়ে পাহাড়ি-বাঙালি পুজিঁওয়ালাদের জমি ও পাহাড় ক্রয়, রিজার্ভ সাজেক যেমন বাঘাইহাট, মাচালং এলাকা থেকে বিভিন্ন সংঘাতের ফলে সাজেক মৌজায় গমন- এসবের ফলে চাষের সময় ব্যবধান নেমে এসেছে ৪-৫ বছরে। ফলে যেখানে আগে পরিবারের জন্য যতটুকু ফসল বা ধান দরকার তা উদ্ধৃত রেখে বিক্রয়যোগ্য হিসেবেও কিছু ফসল পাওয়া যেত। কিন্তু চাষের সময় ব্যবধান কমায় মাটির উর্বরতা অনেক কমে গিয়েছে। এর মাঝে প্রাণ কোম্পানির মাধ্যমে হলুদ চাষের উপর নির্ভরশীলতা তৈরিও বেশ ভূমিকা রাখছে। পাহাড়ের ফসল ফলানো যেহেতু প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল তাই জলবায়ুর পরিবর্তনও অনেকাংশে ভূমিকা পালন করছে ফসল না ফলানোতে। দেখা যায়, যেসময় বৃষ্টি হওয়ার কথা তখন প্রচন্ড তাপদাহ অথবা অতিবৃষ্টি। দেশের হাওর অঞ্চলের ধান নষ্ট হয়েছে এই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে। যদিও তা ঠেকানো যেত সঠিক সময়ে বাধ নির্মাণ করা হলে, কিন্তু পাহাড়ে এভাবে সম্ভবপর হয় না।

তাই প্রতিবছর রিজার্ভ সাজেক ও সাজেক মৌজায় খাদ্যসংকট দেখা দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই খাদ্যসংকটের হার ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। আর এই বছর দেখা দিয়েছে খাদ্যের তীব্র সংকট। চাল না পেয়ে মানুষ জংলী আলু খেয়ে বেঁচে আছে। যেহেতু শিশুদের খাদ্যের প্রয়োজন বেশি তাই বয়স্করা নিজেদের খাবার বাঁচিয়ে খাওয়াচ্ছেন বাচ্চাদের। এ অবস্থা আমরা সর্বশেষ দেখেছিলাম থানচির সাঙ্গু রিজার্ভ ফরেস্টের মানুষদের। সেসময় কাজ করার সুযোগ হয়েছিল তাই মোটামুটি পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলাম।

কলাগাছ, আলু, মিষ্টি আলুসহ জঙ্গলের ফল-মূল খেয়ে মানুষগুলো কোনভাবে যে টিকে গিয়েছে সেটা আশ্চর্যের। কারণ ৫০ নাকি ৫০০ টন চালের সহায়তার কথা যে বলা হয়েছিল তার কানাকড়িও সেখানে পৌঁছায় নি। গত বছরের ডিসম্বরে যখন সাঙ্গু রিজার্ভে যাই, তখন স্থানীয়দের সাথে এই সহায়তার কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম। তারা কেউ পাননি, চালভর্তি বোট যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পথেই আটকে গেছে। আর সে চাল পাওয়া গিয়েছিল থানচি বাজারে, আড়তদারদের গুদামে।
কিছুদিন আগে সাজেকে ৯০০ পরিবারকে সহায়তা দেয়া হয় জেলা প্রশাসন কর্তৃক। বেশ সুন্দর ছবিও এসেছে, ঢালাও প্রচারও এসেছে। কিন্তু এই খবরটি কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য?

এই প্রশ্ন আমরা রাখি আমাদের অবিশ্বাস থেকে। থানচির সাঙ্গু রিজার্ভের মানুষদের জন্য হেলিকপ্টার যোগে যখন চাল নেয়া হচ্ছিল, খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু মানুষগুলো কি সত্যিকারভাবে চাল হাতে পেয়েছিল? তাই জেলা প্রশাসন বা আর্মি জোন বা যেখানে থেকে চাল সহায়তা দেয়া হোক না কেন সেটা আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে না।

সাজেকের এই খাদ্যসংকটে সহায়তা একটি ক্ষণস্থায়ী সমাধান। দীর্ঘমেয়াদি একটি সমাধান না নেয়া গেলে এসব মানুষদের ভাগ্যে প্রতিবছরই সংকট আসবে। পাহাড়ের রাজনৈতিক পরিবেশ যথেষ্ট অস্থিতিশীল। সাজেক এলাকায় বিভিন্ন সময় মালামাল পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ঘটনা আছে। ফলে সাজেক মৌজার এসব মানুষদের সহায়তায় দীর্ঘমেয়াদি কিছু পরিকল্পনা জরুরি।


কিছুদিন আগে রাজাবাবু দেবাশীষ রায় তার একটা পোস্টে কিছু পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন, সেগুলো তুলে দিচ্ছি পয়েন্ট আকারে।

১. দীর্ঘ মেয়াদে সাজেকের খাদ্য নিরাপত্তার সমস্যা সমূহ সমাধান করতে হলে উপরে মধ্য মেয়াদের অংশে আলোচিত সুপারিশসমূহ কার্যকরণের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে লবি ও অ্যাডভোকেশী করতে হবে।
২. উপরে আলোচিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ও খাদ্য বরাদ্দ ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর আওতায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. ভূমি অধিকারহীন রিসার্ভ ফরেস্ট বাসীদের ভূমি অধিকারকে শ্রদ্ধা করতে হবে। প্রতিবেশ-বান্ধব ভাবেও অনেক ধরনের চাষাবাদ করা যায়। আর দারিদ্র্য পীড়িত অবস্থায় যদি রিজার্ভ সাজেকের মানুষেরা রয়ে যায়, তাতে এমনিও বন রক্ষা করা যাবে না।
৪. মৌজা সাজেক ও রিজার্ভ সাজেকের আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের স্থায়ী ও সাময়িক পুনর্বাসনের জন্য শরণার্থী ও উদ্বাস্তু বিষয়ক টাস্ক ফোরসকে কার্যকর করতে হবে।
৫. সর্বোপরি, মৌজা সাজেকের আদি বাসিন্দা-দের জন্য বিশেষ প্রাধিকার প্রদান করা খুবই জরুরি।

সাজেকের মানুষদের এই সংকটের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা সর্বস্তরের মানুষ এগিয়ে এসেছি। পাহাড়ের পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী, ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট, মানবাধিকার কর্মীসহ সমতলের অনেক সচেতন মানুষ নিজ তাগিদেই এসব মানুষদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন। অনেক ইভেন্ট করা হয়েছে, অনেক মানুষ সাড়া দিচ্ছেন মানবিক এই সহায়তায়।

আমরা Hill Blogger & Online Activist Forum বরাবরের মতোই নেমেছি এই সংকট মোকাবিলায়, এর আগে যেমন নেমেছিলাম থানচির খাদ্যসংকটে।

আমাদের ইভেন্টের নাম: সাজেকের খাদ্য সংকট কবলিত মানুষের পাশে আমরা

ফেইসবুক লিংকঃ
https://www.facebook.com/events/252212068586215/

সহযোগিতার ভাগীদার হতে যারা সাহায্য পাঠাতে চান তাদের জন্য এই বিকাশ নাম্বারগুলো দেওয়া হলঃ
01818734861
01817685644
01921909111
01739358226

সার্বিক যোগাযোগেঃ
01828481054
01713238937

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অজল দেওয়ান
অজল দেওয়ান এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 2 weeks ago
Joined: শুক্রবার, জুন 6, 2014 - 11:16পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর