নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • ড. লজিক্যাল বাঙালি

নতুন যাত্রী

  • অন্নপূর্ণা দেবী
  • অপরাজিত
  • বিকাশ দেবনাথ
  • কলা বিজ্ঞানী
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • সাবুল সাই
  • বিশ্বজিৎ বিশ্বাস
  • মাহফুজুর রহমান সুমন
  • নাইমুর রহমান
  • রাফি_আদনান_আকাশ

আপনি এখানে

বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে ধর্ষণপ্রবন দেশ একটি।


বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে ধর্ষণপ্রবন দেশ একটি। এদেশে ধর্ষকের সংখ্যা কত ? এটা জরিপ করে বলা নিশ্চিত অসম্ভব। তবে অনলাইন পত্রিকাগুলো ধর্ষণের নিউজের কমেন্ট বক্সে গিয়ে মন্তব্যগুলো পড়লেই পরিস্কার বোঝা যায় নব্বই পার্সেন্টেরও বেশি পুরুষ ধর্ষক বা ধর্ষণের মানসিকতা বহন করে। একের পর এক ধর্ষণের খবর আর তার নিচে মন্তব্য থেকে খুব সংক্ষেপে অনুমেয় করা যায় বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে এক ধর্ষণের লীলাভূমি। মনে হচ্ছে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত ধর্ষক দলবেঁধে জন্মগ্রহন করেছে বাংলাদেশে!

বাংলাদেশে প্রতিদিনই কয়েকশ বা কয়েক হাজার নারী ধর্ষণের শিকার হয়। এরমধ্যে দুই একটা ধর্ষণের খবর মাঝে মাঝে প্রকাশ হয়, তবে অধিকাংশ ধর্ষণের খবরই প্রকাশ্যে আসেনা। নিরব ধর্ষণ। ধর্ষণ হচ্ছে একজনের সম্মতি ছাড়া তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা। নিজের স্ত্রীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে করলে, সেটাও ধর্ষণ। ভয়, ফাঁদ, লোভ, প্রতারণা ও প্রলোভন দেখিয়ে সঙ্গম করলে, সেটাও ধর্ষণ। কেউ দলবেঁধে ধর্ষণ করে, কেউ একক করে। আর এইভাবেই বাংলাদেশে প্রতিদিনি কয়েক হাজার নারী ধর্ষিত হয়। তারপরও অধিকাংশ ধর্ষিতনারীই ধর্ষণকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে না, ধর্ষণকে তাঁরা ভাগ্য বলে মেনে নেয়। বেমালুম চেপে যায় ধর্ষণের ঘটনাকে। কারণ কলঙ্কের ভয়। নারী খুব ভালোভাবে জানে অভিযোগ তুললে বা জানাজানি হলে সমাজের চোখে সে হবে খারাপ নারী! সমাজ তাঁর সাথে সুব্যবহার করবে না। তাঁর জন্য বেদানার্ত হবে না। উল্টো ধর্ষণ হওয়া জন্যে সমাজ নারীকেই দুষবে। সমাজ ওই নারীকে মানসিক ধর্ষণ করবে আজীবন। দুই একজন ধর্ষণের যন্ত্রণা ও বিভীষিকা থেকে কিছুটা সান্তনা পেতে দ্বারস্থ হয় রাষ্ট্রীয় আইনে বিচারব্যবস্থার। সেখানেও পুলিশ, উকিল মাঝে মাঝে বিচারক সত্য উদঘাটনের নামে নির্মম অশ্লীলভাবে জেরা করে ধর্ষিতার সাথে। জেরার মাধ্যমে পুরুষেরা একধরণের মজা অনুভব করে আর নারী অনুভব করে আবার ধর্ষণ।

নারীরা যখনই কোনো পুরুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে, তখনই পুরুষতন্ত্র হাজির করে একগাদা যুক্তি! এগুলো কোনো যুক্তি নয়, সব কুযুক্তি। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ধর্ষণকারীর পক্ষ নেয়, অভিযোগ তুলে ভিক্টিমের বিরুদ্ধে। খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বের করে নারীর যৌনজীবনের ইতিহাস ও চালচলন আর পোশাকের দোষ। কলঙ্ককালিমা দেয় নারীর চরিত্রে। আমার আজ সেই পুরুষতান্ত্রিক অভিযোগগুলো বিরুদ্ধে পাল্টা প্রশ্ন: ১। আপনারা নারী চরিত্র নিয়ে অভিযোগ করেন! এইক্ষেত্রে বলবো একজন নারী যদি স্বেচ্ছায় একাধিক পুরুষের সঙ্গ নেয়, তাতে আপনাদের জ্বলার কারণ কী? সেটা ব্যক্তির মনের ব্যাপার। কিন্তু তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করাই হচ্ছে অন্যায় এবং সেটাই হচ্ছে ধর্ষণ। যদি সে একজন পতিতাও হয়। আর অন্যের চরিত্রের দিকে নজর না দিয়ে, নিজের চরিত্রের দিকে নজর দেন। রিমাইন্ড করে দেখেন আপনি এইপর্যন্ত কতজন নারীকে লোভ, ভয়, প্রলোভন ও প্রতারণা করে ভোগ করেছেন। কতদিন পতিতার কাছে গেছেন। তারপর আইসেন নারীর চরিত্র নিয়ে অভিযোগ করতে।

২। মেয়েরা একা একা ঘরের বাইর হয় কেন!
দেশ কারো বাপের কিনা সম্পত্তি নয়। একটা দেশে একজন পুরুষের যতটা অধিকার ঠিক ততটা অধিকার একজন নারীরও। একজন পুরুষ যদি রাতদিন ঘুরে বাড়াতে পারে, তাইলে একজন নারীরও অধিকার রয়েছে তাঁর ইচ্ছা মতো ঘুরবার এবং এই অধিকার নারীর থাকা উচিত। ইউরোপের কথা টোটালি বাদ দিলাম, আমাদের এশিয়ার ছোট্ট দুইটি দেশ কোরিয়া, জাপানের মেয়েরা রাতকে রাত একা একা ঘুরে বেড়ায়। কই তাদেরকে ধর্ষণতো অনেক পরের কথা একটু খারাপ দৃষ্টিতে কেউ তাকায় না বা তাকানোর সাহস দেখায় না ? আসলে এটা রাষ্ট্রের সুশাসন ব্যাবস্থা আর জাতীর সভ্য মস্তিস্কে সুফল। কিন্তু যেই দেশের জন্য আমাদের চার লাখেরও বেশি মা-বোন রক্ত-সম্ভ্রম হারিয়েছে সেই স্বাধীন বাংলাদেশে নারীরা পুরুষতন্ত্রের দ্বারা অবরুদ্ধ, বাস করে নিরন্তর ভীতির মধ্যে। নারী আর কোনো কিছুকে ভয় পায় না, ভয় পায় শুধুমাত্র পুরুষকে, ভয় পায় ধর্ষণকে। মেয়ে মা'কে নিয়ে বাইরে বের হলে, ঘরে ফিরে মা মেয়ে ধর্ষিত হয়ে। বাবাকে গাছের সাথে বেঁধে মেয়েকে ধর্ষণ করে। ভাইয়ে সামনে বোনকে ধর্ষণ হয়। স্বামীর সামনে স্ত্রী ধর্ষণ হয়। এরপর কাকে নিয়ে নিয়ে বের হতে বলেন আপনারা ?

৩। মেয়েদের পোশাকের দোষ!
আচ্ছা বলেন তো এই যে মসজিদের ইমামের দ্বারা ছোটো ছোটো বাচ্চা মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হয়, সেটাও কী পোশাকের দোষ ? কিন্তু কোরান পড়তে যাওয়া বাচ্চারা তো পর্দা মেনেই যায়। তনু তো হিজাবধারী মেয়ে ছিলো, তাইলে তনু ধর্ষণের পর খুন হল কেন ? সৌদি আরবে যারা কাজ করতে যায়, সেই নারীরা তো সৌদিতে পুরাপুরি পর্দা করে, তাইলে ওই নারীরা ধর্ষণের শিকার হয় কেন ? বাবা হাতে মেয়ে ধর্ষণ হয়, ভাইয়ের হাতে বোন ধর্ষণ হয়, শশুর ধর্ষণ করে পুত্রবধূকে, জামাই ধর্ষণ করে শাশুড়িকে, দুলাভাই ধর্ষণ শ্যালিকাকে, ছেলে ধর্ষণ করে মা'কে! বলেন এই সবই কী নারীদের পোশাকের দোষ ?

যারা এসমস্ত বিভিন্ন কুযুক্তি দেখিয়ে ধর্ষিতাকে দোষ দিচ্ছেন, তাঁরা ধর্ষণকে ডাইরেক্টলি বা ইনডাইরেক্টলি সমর্থন করেন। তাঁরাই মূলত ধর্ষণের মানসিকতা বহন করেন। তাদের মধ্যে আর সরাসরি ধর্ষণ করা ব্যক্তির মধ্যে কোনো প্রত্যক নাই। এরাই কাল আরেক জনকে ধর্ষণ করবে।

বনানীতে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত অন্যতম আসামি সাফাত আহমেদের বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ। তিনি তাঁর ধর্ষক ছেলের পক্ষে সাফাই গাইছেন। সরাসরি ধর্ষণ করা আর ধর্ষকে সমর্থন করা মানে, উভয়ই ধর্ষক। আপন জুয়েলার্সের দিলদার আহমেদ বলেছে; মেয়েগুলো হোটেল রুম পার্টিতে যোগ দিয়েছে আর তাদের সঙ্গে যদি কিছু হয় তবে তা নিশ্চয় সমঝোতার ভিত্তিতেই হয়েছে! এখানেই দিলদার আহমেদ প্রমাণ দিয়েছে তিনিও ধর্ষণের মানসিকতা বহন করে এবং সে নিজেও একজন ধর্ষক। কে জানে তিনি হয়ত এপর্যন্ত অনেক জনকে ধর্ষণ করেছেন! মেয়েরা ন্যূনতম ভদ্রতা দেখিয়ে যদি পুরুষ বন্ধু, বস বা কলিগের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ইনভাইট একসেপ্ট করে, তখনই দিলদার আহমেদরা ধরে নেয় ওই মেয়ে শোয়ার জন্যে রাজি! দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে বাংলাদেশে এই দিলদার মার্কা মানসিকতার সংখ্যা নব্বই পার্সেন্টেরও বেশি।

বনানী এলাকার ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে আপনারা সকলেই আলোচনা করছেন। বেশ প্রতিবাদও হচ্ছে। আর আরেকটি বিষয় বেশ লেগেছে, এবারের ধর্ষণের ঘটনায় নিউজ বা অনলাইনে এখন পর্যন্ত ভিক্টিমের ছবি কেউ প্রকাশ করেনি, করেছে ধর্ষকের ছবি। এটাই হওয়া উচিত। অপরাধীকেই আনতে হবে পাবলিকের সামনে। আমরা তাকে দেখব, ঘেন্না করব আর মনে মনে ওয়াক থু ওয়াক থু দিবো।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সজল মোহন
সজল মোহন এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 4 দিন ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 26, 2016 - 8:16পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর