নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • লিটমাইসোলজিক
  • কিন্তু

নতুন যাত্রী

  • আমজনতা আমজনতা
  • কুমকুম কুল
  • কথা নীল
  • নীল পত্র
  • দুর্জয় দাশ গুপ্ত
  • ফিরোজ মাহমুদ
  • মানিরুজ্জামান
  • সুবর্না ব্যানার্জী
  • রুম্মান তার্শফিক
  • মুফতি বিশ্বাস মন্ডল

আপনি এখানে

ভানুসিংহের জন্মদিন আজ


বাল্যশিক্ষা শেষ করে স্কুলের বারান্দায় পা দিতে না দিতেই কবিতার ভাড়ে নুইয়ে পড়া, কবির নামের বানানে ভুল হওয়া কিংবা কবিতায় ভুল হওয়ায় পরীক্ষায় খাতায় নাম্বার কমে যাওয়া; বাচ্চা বয়সে সবচেয়ে বিরক্তির নাম রবীন্দ্রনাথ! স্কুল ও কলেজ জীবনে ক্লাস ফাইভের 'বীরপুরুষ' কবিতা আর মাধ্যমিকে দু'টো ছোটগল্প ছাড়া আমার ভালাগার স্মৃতিতে রবীন্দ্রনাথের জায়গা কোনকালেই ছিলনা। ১৫৬ বছর আগেই ২৫শে বৈশাখ জোড়াসাঁকোয় শুধু রবীন্দ্রনাথের জন্ম হয়নি, এদেশের প্রতিটি বাচ্চার স্কুলের জীবনের শুরুতেই তাদের মনজগতে রবীন্দ্রনাথের জন্ম হয়...

সাহিত্যজগতের সব শাখায় বিচরণ করা রবির কখনো মহাকাব্য লিখা হয়ে উঠেনি। একটু বড় হতেই পারিবারিক দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাধে। অনেকেই বলে থাকে রবি শুধু সাহিত্য নিয়েই চড়ে থাকত, যারা বলে তারা শুধু সাহিত্যিক রবিকে চিনে, কেউ কেউ শুধু কবি রবিবাবুকেই চিনে! রবির কবিতা আমাকে স্পর্শ করেনা তেমন, কিছু নির্দিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত ছাড়া সাহিত্যজগতে আমি রবীন্দ্র পিপাসু নই মোটেই। তবুও কেন আমি রবীন্দ্রপ্রেমী? কারণ আমি দার্শনিক রবীন্দ্রনাথকে জেনেছি, জেনেছি পরাধীন ভারতে স্বাধীনচেতা রবীন্দ্রনাথকে, দেখেছি প্রজাদরদী জমিদার রবীন্দ্রনাথকেও...

রবির দাদা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ দেশপ্রেম দেখাতে গিয়ে ডুবেছিলেন দেনা পাওনার বিশাল সাগরে। দেবেন্দ্রনাথের অসন্তুষ্টিতে হারিয়েছিলেন জমিদারিত্বও! জমিদারের দায়িত্ব কাধে এসে পড়ায় রবি জমিদারি দেখার জন্য বিভিন্ন জায়গায় যেতেন। জমিদার আর প্রজার দূরত্ব কমানোর জন্যও তিনি অনেক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। আদি বাহ্ম সমাজের দায়িত্বও তাকে নিতে হয়েছিল, কংগ্রেসের অধিবেশন গুলোতেও নিয়মিত যোগ দিতে হত। বঙ্গবাসী এবং ভারতী পত্রিকার দায়িত্বও ছিল তার উপর। জগদীশ চন্দ্র বসু থেকে শুরু করে স্বামী বিবেকানন্দ, সবাই মিশে আছে রবির জীবনে। ব্রাহ্ম ধর্মের অনুসারী হয়েও বৈষ্ণব পদাবলীর জন্য তার দূর্বলতা ছিল। রবীন্দ্রনাথ মানে শুধু সাহিত্য না, রবীন্দ্রনাথ মানে অনুপ্রেরণা...

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতি বিশ্বাস ছিল না বলে নিজ সন্তানদের নিজেই পড়িয়েছিলেন। জৈষ্ঠ্য পুত্র রথীর উপনয়নের পর নিজেই তাকে সাঁতার শিখিয়েছিলেন। এসবের মাঝেও আরো একজন আছে যাকে ছাড়া রবি বরাবরই অপূর্ণ। নতুন বউঠান অর্থাৎ কাদম্বরী দেবী! রবির প্রেরণাদাত্রী কাদম্বরীর সাথে তার বয়সের পার্থক্য ছিল মাত্র দু'বছর। কৈশোরে রবির প্রতিটি কবির প্রথম পাঠক কাদম্বরী। একচাপা অভিমান নিয়ে কাদম্বরী আত্মহত্য করার ফলে রবির মনোজগতে বিশাল ধাক্কা আসে। রবি নিজের ভাষাতেই তা চিঠি, গান বা কবিতার মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ব্যক্ত করেছে। তাই তাঁর অনেক গানে ও কবিতায় কাদম্বরী দেবীর উপস্তিতি দেখা যায়। তাঁর একটি চিঠি থেকে বোঝা যায় তাঁর শোক কতটা গভীর ছিল। কবি অমিয় চক্রবর্ত্তীকে (পরবর্ত্তীকালে ইনি কবির সাহিত্য সহায়ক হয়েছিলেন) লিখেছিলেন - " আমি তোমারই বয়সে, তোমার মতো আমার জীবনেও এক গভীর শোক নেমে এসেছিলো। আমার এক অতি নিকট আত্মীয়া আত্মহত্যা করেছিলেন। তিনি ছিলেন আমার জীবনের, সেই বাল্যকাল থেকে, এক সম্পুর্ন অবলম্বন। তাঁর অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে মনে হয়েছিল যেন আমার পায়ের নীচের মাটি সরে গেছে, আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গেছে। আমার পৃথিবী শুন্যে পরিনত হয়েছে , আমার জীবনের মধুর স্বাদ জীবন থেকে বিদায় নিয়েছে"। রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবন স্মৃতিতে লিখেছেন - ছোটবেলায় মাকে হারানোর শোক তিনি ততোটা বুঝতে পারেননি, কারন কাদম্বরী দেবী মায়ের অভাবটা বুঝতে দেন নি। যদিও কাদম্বরী তখন তাঁরই বয়সী এবং খেলার সঙ্গী। অনেক কবিতা ও গানে তাঁর ছায়া দেখা যায়। কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুর চার বছর পর কবি "তবু মনে রেখো -- " গানটি লেখেন। এটা তাঁকে উদ্দেশ্য করেই লেখেন এতে কোন সন্দেহ নেই। গানটি বুঝতে হলে, গানটি কাদম্বরী দেবীর মুখে বসিয়ে পড়তে বা শুনতে হবে। রবির জীবনের শেষ বয়স পর্যন্ত কাদম্বরী তার কাব্য, তার সাহিত্যে, তার চিন্তায় বেঁচে ছিল।

পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা রবিকে খুব ভাবিয়ে তুলত। তৎকালীন কংগ্রেস নেতারা ইংরেজদের কাছে তাদের দাবি পেশ করত বটে, কিন্তু স্বাধীনতার কথা তারা চিন্তাও করতে পারেনি। দেশের অশিক্ষিত গরীব মানুষগুলোর সামনে তারা ইংরেজিতেই ভাষণ দিতো। রবি সর্বপ্রথম মাতৃভাষায় বক্তৃতা দিতে তাদের বাধ্য করেন। দক্ষিণেশ্বরের বলির রক্ত রবিকে ব্যাথিত করলেও রামকৃষ্ণ শিষ্যের ইউরোপ আমেরিকা জয় তাকে পুলকিত করেছিল। রবির জমিদারিতে ঠাকুরবাড়ির জমিদারিও অনেকটা বিস্তৃত হয়েছিল। আমাদের জ্ঞানের সীমানায় আমরা শুধু ঠাকুর পরিবারের লেখক রবিকেই জানি, মানুষ রবিকে আমরা জানিনা, জানতেও চেষ্টা করিনা...

রবিকে 'হিন্দু' কবি উপাধি দিয়ে এ বঙ্গের মানুষ এখন ঝেড়ে ফেলতে চায় বাংলা থেকে। তারা কি জানে রবির নোবেল বিজয় রবীন্দ্রনাথকে নয়, বাংলা সাহিত্যকেই বিশ্বের দরবারে পরিচিত করেছিল। ঠাকুর পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তানটিকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত লাভের জন্য নোবেলের দরকার ছিল না সেটা রবি 'নাইট' উপাধি ত্যাগ করেই ইংরেজদের বুঝিয়ে দিয়েছিল। যে বঙ্গের মুসলমানদের জন্য রবি কলম ধরেছিলেন, তারাই আজ রবিকে বঙ্গ থেকে মুছে ফেলতে চায়! কি অদ্ভুত...

রবির জন্মদিন বলেই যে রবিকে নিয়ে লিখতে হবে এমনটি নয়। রবিকে নিয়ে বলে শেষ করা যায় না, লিখে রবীন্দ্রনাথকে পুরোপুরি প্রকাশও করা যাবে না। প্রজারা কখনোই সম্রাটকে পুরোপুরি প্রকাশের যোগ্য নিয়ে জন্মায় না। রবি যেখানে সম্রাট, আমরাতো সেখানে প্রজাই! পৃথিবীতে সবাই রাজা হয়ে জন্মায় না, কিন্তু প্রজা হয়ে রাজভক্তি করাটা তাদের কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে। সেরাদের কখনো তুলনা হয় না। এ জন্যই বাংলা সাহিত্যে সেরা লেখক, কবি কিংবা গল্পকারের তুলনায় কখনোই রবি আসে না। কারণ রবি তুলনার উর্ধ্বে। এতটাই উর্ধ্বে যেখানে তাকে তুলনার মাপকাঠিতে মাপা যায় না, মাথা নত করে প্রণাম করা যায় শুধু...
লহ প্রণাম।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

পৃথ্বীরাজ চৌহান
পৃথ্বীরাজ চৌহান এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 4 weeks ago
Joined: শনিবার, জানুয়ারী 28, 2017 - 8:28অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর