নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

হুদূড় দূর্গা কিস্কু বনাম দেবী দূর্গা (অশুভ বনাম শুভ শক্তি); ’দাঁশায়’ এর সাঁওতালি পৌরাণিক উপাখ্যান


বাংলাদেশের উত্তরের জেলাগুলোতে দূর্গাপূজার দশমীর দিনে প্রতিমা বির্সজনের আগ মুর্হুতে দুপুরের একটু পরে লক্ষ্য করলে আপনি দেখতে পাবেন কিছু আদিবাসী লোক ধামসা-মাদলের ঘন তাল ও সুরের ঐক্যতানে দলে দলে নাচ-গান করতে করতে পূজা মন্ডপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উৎসুক জনতার খুশির উল্লাসিত আবেগ ঢোল করতালের মহু মহু সুর মুর্হুতের মধ্যে পরিবেশটাকে উৎসব মূখর করে তোলে। বাঙালি পাঠকদের গুাতার্থে, আদিবাসীদের জন্যে সেই সুর বা তাল কিন্তু শোকের মাতম, মোটেও উৎসবের জন্যে নয়। আজকের প্রসঙ্গ; সে রহস্য উদ্ঘাটন করা।

এই নাচ-গান সাধারণত অস্ট্রিক ভাষাভাষি অনার্য মানুষ; মুন্ডারী গোত্রের ( কোল, ভীল, সাঁওতাল, হো, অসুর, কারমালি, মাহালী, প্রভৃতি) লোকেরা করে থাকেন। বিশেষ এ নাচের নাম ‘দাঁশায়’। পুরুষরা এ নাচের সময় মহিলাদের পরিহিত শাড়ী, নাক-ফুল, আয়নম-কাজল, চুরি পরে থাকেন। কেন পরে থাকেন, সেটা বাঙালি শিক্ষিত সমাজ কখনও জানতেও চায় নি। আমার প্রায়াশ সে অজানা গল্প বা মিথটুকুন জানানো। জোর পূর্বক, পাঠকের দৃষ্টি অনগ্রসর আদিবাসী জাতির বিচিত্র ধরনের ধর্মীয় অনুশাসন-বিধি বিধান ও লোকাচার, কৃষ্টি এবং সংস্কৃতিতে নিবদ্ধ করার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

আর্যপূর্ব বাংলার বহু অনার্য জনগোষ্ঠীই আর্য সভ্যতার আগ্রাসনে কালক্রমে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বা আর্য ধর্ম গ্রহন করে তাদের জাতে উঠেছে। তথাপি বাংলায় অনার্য জনগোষ্ঠী সম্পূর্নরুপে বিলীন হয়ে যায়নি। সভ্যতার মাপকাঠিতে বিজয়ীরা ইতিহাসকে নিজের মত করে লিখলেও, সঠিক ইতিহাস কিন্তু ঠিকই একদিন আপনা থেকেই উত্থিত হয়। সাঁওতলি ভাষায় প্রবাদ আছে, ‘পুঁথি খন তুঁথি’গে সরেস আ’/ অর্থাৎ ‘মন্ত্রবিদ্যা’ই পুঁথিগত বিদ্যা অপেক্ষা উৎকৃষ্ঠ। সে মণ্ত্রবিদ্যার জোরেই আদিবাসী সাঁওতাল বা মুন্ডারী গোত্রের মানুষেরা আজও নিজেদের ধর্ম ও ইতিহাস নিজেদের মধ্যে টিকিয়ে রেখেছে। আদিবাসী সাঁওতালদের নিকট তাই, রাজা হুদুড় দূর্গা কিস্কু অশুভ শক্তি নয়, সৎ/নিষ্ঠাবান/দায়িত্বশীল/দেশপ্রেমিক/শৌর্যে-বীর্যে পরিপূর্ন এক রাজা। পক্ষান্তরে, দেবী (সাঁওতালদের মতে রাজা হুদুড় দূর্গাতে আকৃষ্ট হয়ে তাঁকে স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া নারী। যিনি নামের শেষে নিজের স্বামীর নাম যোগ করেছিলেন বলে, আজ তিনি দেবী দূর্গা) দূর্গা বিশ্বাসঘাতিনী, গুপ্তচর, রহস্যময়ি ও মায়াবী শক্তি।

দূর্গাপূজার সময় একটু ভাল করে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন, শোকে মাতম শিষ্যদের কণ্ঠে রাজা হুদুড় দুর্গার গৌরবান্বিত মহিমা, বীরত্বগাঁথা, পরোপকারী ও দেশপ্রেমিক মনোভাব তুলে ধরা হচ্ছে। পক্ষান্তরে, দেবীকে তাঁর অপকর্মের জন্যে তীরস্কার করা হচ্ছে। নিজ নিজ ভাষায় আদিবাসীরা নাচ-গান করে বিধায় আর্য নামক বিভিন্ন সমাজ আজও সেটা ঠিক বুঝতে পারে না। আখড়ার নাচ শেষে লক্ষ্য করবেন, রাজা হুদুড় দুর্গার ব্যাঞ্জণা করা হয় তিনবার, পক্ষান্তরে দেবীর/ নামের পরে শুধু একবার’ই দুর্গা নাম জুড়ে দেওয়া হয় (অনুশোচনায় দগ্ধ নারী, যে নিজ প্রেমিকের প্রাণনাশের জন্যে দায়ী/ কিন্তু মৃত রাজা হুদুড়কে স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া ও অনুশোচনার জন্যে তাকেও শেষে রাজা হুুদুড় দুর্গা কিস্কু’র সাথে আদিবাসীরা স্মরণ করেন)। আর্য সভ্যতার বিকাশ এবং অনার্য সভ্যতার কালক্রমিক বিনাশ আজ কিন্তু অশুভ শক্তিকে শুভ এবং শুভ শক্তিকে অশুভ বানিয়ে রেখেছে, আদিবাসী পৌরাণিক কাহিনীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে। এ মতবাদ বিভিন্ন আদিবাসী গোত্রপ্রধানের স্বাক্ষাতকারের সারসংক্ষেপ।

প্রাতিষ্ঠানিক বা একাডেমিক ভাবে বিষয়টি একটু খতিয়ে দেখি, উপমহাদেশের বিখ্যাত সাহিত্যিক ও গবেষক ‘রামদাস টুডু রেস্কা’ তাঁর স্বরচিত ’খেরওয়াল বংশ ধরম পুঁথি’ ‘রেস্কা. সংস্করণ ২য়, ১৯৫১; ৪১-৪২’ - এ লিখেছেন, ‘দাঁশায় উৎসবে সাঁওতালরা দ্বাদশ গুরুর নামে আখড়াতে সিদুঁরের ফোটা দেয়। এর পর শুরু হয় গুরুর নামে নাচের অনুষ্ঠান। এ নাচ গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে চলতে থাকে। হিন্দুদের দশহারা দুর্গাপূজার সময় চারদিন ধরে এ উৎসব চলতে থাকে। সাঁওতালি পূরাণ অনুসারে দেবী দূর্গার নাম প্রথমে দূর্গা ছিল না। সে হুদুড় দুর্গা কিস্কৃ নামে আদিবাসী রাজাকে অন্যায় ভাবে হত্যা করার পর দূর্গা নাম ধারণ করেন। সাঁওতালি গানে দেবী ও দূর্গার যুদ্ধের বিবরণ পাওয়া যায়। রাজা হুদুড় দুর্গার বীরত্ব এমন’ই ছিল যে, পদাঘাতে বিশাল পাথরের খন্ড চূর্ন করতে পারতেন। এ রাজার মৃত্যুর পরেই সাঁওতালরা উপযুক্ত নেতার অভাবে দ্বাদশ গুরুর স্মরণাপন্ন হয়।

দাঁশায় পরবের গানে গুরুদের কাছে সিঁদুর ও কাজল প্রার্থনা করার বিধি আছে-

দেনতিং গুরু হো সুনুমে সিন্দুর
দেনতিং গুরু হো আইনম কাজল
দেশ লাগিৎ গুরু হো সুনুমে ‍সিদুঁর
দৗশম লাগিৎ গুরু হো আইনম কাজল।

[দেশের নামে মাতৃর্ভমির সেবার জন্যে সাঁওতাল শিষ্যরা গুরুর কাছ থেকে গানে গানে শপথ নেয়।

প্রাচীনকালে এ উৎসব বিভিন্ন সভ্যতার অংশ ছিল। দাঁশায় বোঙ্গাকে (দাঁশায় মাস) সাঁওতালদের কাছে খুবই উল্লেখযোগ্য। দাঁশায় নৃত্য নিয়ে বিখ্যাত ইউরোপীয় গবেষক ও খ্রিষ্টান পাদ্রী রেভারেন্ড পি. ও. বোডিং (বোডিং, ভলিউম ২, ১৯৩৪;৪৬) লিখেছেন, ‘দাঁশায় এর মন্ত্র গুরুকে দাঁশায় গুরু বলা হয়। দাঁশায় গুরুর শিষ্যেরা তত্বীয় ও ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদশণের জন্যে বরাবর’ই দাঁশায় বোঙ্গা’র জন্যে অপেক্ষা করেন। দাঁশায় মাস অর্থাৎ আশ্বিনের দশ তারিখ হতে শিষ্যদের বের হওয়াকে ‘দাঁশায় দাড়ান’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বোডিং সাহেব। দাঁশায় গুরু (ওঝাঁ বা জান গুরু) এ সময় শিষ্যদেরকে মন্ত্র, গানের মাধ্যমে ঐতিহাসিক, ধর্মীয় এবং আধ্যাত্বিক শিক্ষা দিয়ে থাকেন। দাঁশায়ের সময় সকাল হতে রাত পর্যন্ত তারা ভিক্ষা করে এবং গুরুর কাছে রাত্রে বিদ্যা অর্জন করতে থাকে। দাশাঁয় নৃত্য ও গানের মাধ্যমে অর্জিত বিদ্যার আসর সাধারনত আশ্বিন মাসের শুরু হতে পরবর্তী ১৩ দিন পর্যন্ত চলে। দূর্গাপূজার সময় শিষ্যরা বিভিন্ন মন্ডপে গিয়ে নাচ-গান, মন্ত্র ও শারীরিক কসরত লোকেদের মধ্যে প্রর্দশন করে থাকে।’

বাংলাদেশের গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান ‘সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট এন্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট’ কর্তৃক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সংস্কৃতি’ নামক বইয়ে দাঁশায় পরিচিতায়নে লিখা হয়েছে, ‘প্রাচীনকালে আদি ধর্মে বিশ্বাসী সাঁওতালরা গুরুর কাছ থেকে দীক্ষা নিতেন। দীক্ষা সম্পন্ন হবার পর অর্জিত বিদ্যা মানুষের মাঝে ছড়িয়েদেবার জন্যে দীক্ষা গ্রহনকারীরা বিভিন্ন জনপদে ঘুড়ে বেড়াতেন। নৃত্যের মাধ্যমে প্রদর্শন করতেন ঝাঁড়ফুঁক এবং তন্ত্র সাধনার নানা বিদ্যা। দাঁসায় নৃত্যের উৎপত্তি নিয়ে এমন মতই প্রচলিত আছে।’ সেড সাধারণত মাঠ জরিপের মা্ধ্যমে সঠিক এবং বস্তুনিষ্ঠ তথ্য গবেষণার মাধ্যমে তুলে ধরেন। সেড কিংবা বোডিং সাহেবের গবেষণা লব্ধ তথ্য নতুবা মাঝি রামদাসের ব্যাক্তিগতভাবে মাঠ থেকে সংগৃহিত তথ্য সবই কিন্তু একই সুত্রে বাধা। সেডের গবেষণায় হয়ত বাংলাদেশের সাঁওতালদের সামগ্রিক চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রকৃতপক্ষে, উত্তরাঞ্চলের সাঁওতালরা দাঁশায় বর্তমানেও যে পালন করেন তা দূর্গা পূজার সময় গেলে সত্যি ষ্পষ্ট হবে।

দাঁশায় প্রকৃতভাবে উপমহাদেশের সাঁওতাল সমাজে বর্তমান কালেও যে পূজনীয় তাহা ঠাকুরপ্রসাদ মুরমু’র ‘দাঁশায় কুনৗমি’ কবিতা’র প্রথম অনুচ্ছেদের সারাংশেই বুঝা যায়, ‘এক ভাসমান সুতো মাকড়সার জাল নেমে আসছে আশ্বিনের ’লবয়’/দাঁশায় নাচের পূর্ণিমার জোৎসনায়। দিনের ঝলমল জোৎসনায় নীচেই আখড়ার গাছের ছায়ায় নাচ-কখনও বাঁয়ে কখনও ডাইনে। প্রেমিক যুগলের মিলনের মতো সাদা জোৎস্না- দাঁড়াও দেখে যাও। দরজায় পা দেয়, কখনও উঁকি মারে খোলা জানাল।’

’টুডৗং তড়ে সুতৗম
আঁড়গ হিজুঃকান
দাঁশায় লবয় এনেচ
কুনৗমি তেরদেচ।।

ডিগ ডিগ মারশাল
আখড়ারে দারে উমুল এনেচ
ঘানে দ এতম হয়তে ঘানে দ কঁয়ে।

মিলুঅৗয় ঞাপাম লেকা
পুঁড়গে তেরদেচ
হাপে হাপে ঞেলে মে
দুয়ৗরে লেবেদ
ঘানে হঁয় উয়ুং আঃ ঝিচ জানালা।

পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত সাহিত্যিক পরিমল হেম্ব্রম স্বরচিত ‘সাঁওতালদের ইতিহাস সন্ধানে’ গ্রন্থের ‘সাঁওতাল জাতির গান প্রসঙ্গে’ প্রবন্ধে ( হেম্ব্রম, সংস্করণ ১ম, ২০০৫: ৭৮) দাঁশায় সম্পর্কে লিখেছেন, ‘আশ্বিন মাসকে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মানুষ বলে দাঁশায় মাস কেননা এই মাসেই অনুষ্ঠিত হয় অন্যতম প্রধান উৎসব দাঁশায়। এই উৎসবে যে গান গাওয়া হয় তাকে বলে দাঁশায় গান। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এই গানের গুরুত্ব অপরিসীম। সাঁওতাল জাতির ইতিহাস সন্ধানে দাঁশায় গান অনেক তথ্য দিতে পারে। দাঁশায় গানকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। এক. ভুয়ৗং (প্রথম চিত্র) । দুই. লবয় (২য় চিত্র) । ‘ভুয়ৗং’ শুকনো লাউ-এর খোল দিয়ে তৈরি বাদ্যযন্ত্র বিশেষ। এই বাদ্যযন্ত্র সহযোগে যে গান পরিবেশিত হয় তাকে বলে ভুয়ৗং গান। অন্যদিকে ধামসা, মাদল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র সহযোগে যে দাঁশায় গান পরিবেশিত হয় তাকে বলা হয় ‘লবয়’।

তথ্যসূত্র;
১. রেস্কা, রামদাস. টুডু. ১৯৫১. খেরওয়াল বংশ ধরম পুঁথি. সংস্করণ ২য়, পারিজাত প্রকাশনী, পরুলিয়া।
২. বোডিং, পি.ও. ১৯৩৪. এ সান্তাল ডিকশনারী. ভলিউম ২. ওসলো, জে কমিসজন হস জ্যাকব ডিবাউড।
৩. সাহা, পার্থ শঙ্কর. গাইন, ফিলিপ. ২০০৭. বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সংস্কৃতি. সংস্করণ ১ম, ঢাকা, সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট এন্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট।
৪. পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী উন্নয়ন সমবায় নিগম লিঃ, ১৯৯৩, শায় সেরমা রেনাঃ অনড়হেঁ, সংস্করণ ১ম, বসুমতি কর্পোরেশন লিমিটেড, কলিকাতা।
৫. হেম্ব্রম, পরিমল. ২০০৫, সাঁওতালদের ইতিহাস সন্ধানে, সংস্করণ ১ম, আদিবাসী সাহিত্য প্রকাশনী, হাওড়া।

Comments

রাজিব আহমেদ এর ছবি
 

অনেক অজানা কিছু জেনে গেলাম।ধন্যবাদ

Razib Ahmed

 
Jayson Soren এর ছবি
 

দুর্গা দেবী সান্তালদের কাছ থেকে সনাতন ধর্ম হরণ করেছে? নাকি সান্তালরা "দুর্গা"কে সনাতন ধর্ম থেকে ধার নিয়েছে? এভাবে অনেক পৌরনিক কাহিনী ধার দেনা করে সান্তালদের পৌরনিক কাহিনীর একটা গতিবিধি তৈরি হয়েছে। অনেক দিন সান্তালরা প্রথাগত ধর্মের বাইরে ছিল। তাদের কাছে উৎসবই একটা সময় ধর্ম ছিল। কিন্তু আধুনিক সান্তালরা বিশেষ করে ভারতীয় সান্তালরা জাতি সত্ত্বার আত্ম কবজ হিসাবে- প্রথমে সারনা, তারপর সারি ধরম ধর্ম বানিয়ে তথাকথিত আত্ম শুদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এর তাপ বাংলাদেশে কিছু ডিগবাজি মারা সান্তালরা এখন প্রমোশনের হাতিয়ার করার অপচেষ্টা করছে। এই লেখনী এরই একটা ট্রেলার।

 
মারিও সুইটেন মুরমু এর ছবি
 

পাঠক বর্গ যোহার!

খেরওয়াল গোত্রের সাঁওতাল জাতির একজন হওয়ায় আমার প্রায়াশ লুক্কায়িত সাঁওতাল সংস্কৃতির বস্তনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও সত্য তথ্য আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা। আমি মনে করি, খেরওয়াল সংস্কৃতি প্রসারের এটাই প্রকৃত সময়। সংস্কৃতি’র বাহন হল ভাষা। সাঁওতালি ভাষা আজ টিকে থাকলেও সংস্কৃতি’র অনেকটা বিলীন হয়ে গেছে। আমি মনে করি, সাঁওতালি ভাষা ও সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সংগ্রহ, গবেষণা ও সমাজে সেটার প্রয়োগ ঘটানো । আমি এই কাজটি নিষ্ঠার সাথে করে যেতে চাই। পাঠকদের মধ্যে যেকেউ, লেখার মধ্যে কোন অপ্রাসঙ্গিকতা বা যুক্তিহীন কোন তথ্য পেলে অবশ্যই দৃষ্টিগোচরে আনবেন। অনুগ্রহ করে বলছি, তবে অবশ্যই যথাযথ তথ্য সংগ্রহ করে সে কাজটুকু করবেন। পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন মতবাদ এবং সঠিক বস্তুনিষ্ঠ তথ্যই পারে যুক্তি’র সঙ্গে মুক্তি’র পরশ এনে দিতে। কোন ব্যাক্তি, গোষ্ঠী বা বর্ণকে আঘাত করার ইচ্ছে মোটেও আমার নেই। আমি একটি জনগোষ্ঠীর বিশ্বাসলব্ধ তথ্য এখানে তুলে ধরছি। কোটেশন ছাড়া যেসব কথা আমি বলেছি, সেটা মনগড়া নয়। আমার কাছে বিশিষ্ট জনদের ‘দাঁশায়’ সম্পর্কে মাঠের স্বাক্ষাতকার রয়েছে। প্রয়োজনে সেটা আমি দেখাতে পারব। বেদ, বিদ্যা ও বুদ্ধি সংযুক্ত করেই আমি কাজটি করছি। অবশ্য সেটা আমার বুদ্ধির আওতায়। যে কারো বুদ্ধির পরিমন্ডল আমার চেয়ে বড় হতে পারে। সেটার জন্যেই এই মুক্ত মঞ্চে লিখছি, যাতে বুদ্ধির ধারটাকে শাণিত করতে পারি। আসুন মুক্ত চিন্তার মাধ্যমে আমরা যুক্তিগুলোকে বিচার করি।

পাঠক জিজ্ঞাসার উত্তর:

১. পাঠক: রাজিব আহমেদ; আপনার জ্ঞান পিপাসার ক্ষাণিক মেটাতে পারার জন্যে নগণ্য সংগ্রহক হিসেবে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।

২. পাঠক: জেসন সরেন; আপনাকে মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।

প্রথমে, প্রবন্ধটা কোন ট্রেলার নয়। বাস্তব সত্য। চোখ খুলে চলূন দেখতে পাবেন, অন্তরের চোখ খুলন শুনতে পাবেন।

দ্বিতীয়ত, দেবী ও দূর্গার সঠিক কাহিনী ইতিহাসের আলোকে ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব মন্তব্যের পর আপনার উপর বর্তায়। সেটা করার নৈতিক দায়িত্ব আপনার।

তৃতীয়ত, ভারতীয় সাঁওতাল ও বাংলাদেশের সাঁওতাল বলে কিছু নেই। সাঁওতালরা সারা পৃথিবীতে একই। খোঁজ নিন, পড়াশুণা করুন এবং গবেষণা করুন প্রমান অবশ্যই মিলবে।

চতুর্থ, ডিগবাজি বলতে কি বুঝাতে চেয়েছেন সেটা পরিষ্কার নয়।

পঞ্চম, সাঁওতালদের কাছে উৎসবটাই ধর্ম ছিল। এটা নেহাতই একটা খোঁড়া যুক্তি। আপনার কমেন্টের পক্ষে তথ্য দিন। সাঁওতালদের ’সারণা’ ধর্ম বর্তমান যুগেও স্বমহিমায় টিকে আছে, এটাই তার বড় প্রমান।

ষষ্ঠ, ধর্ম একটা বিশ্বাস। প্রকৃতির নিয়তির মধ্যেই মানুষের জন্ম-মৃত্যু বা ধর্ম নিহীত।

সপ্তম, দুর্গা দেবীকে সাঁওতালরা ধার করেছে কিনা ? সেটার ঐতিহাসিক গবেষণার প্রয়োজন। আমি সারণা ধর্ম মতে বিশ্বাসী এবং দাঁশায় পালকারী পূর্খ ‘দের (জ্ঞানী) স্বাক্ষাতকার এবং গবেষণা লব্ধের বিশ্লেষণ প্রবন্ধের মধ্যে করেছি। সিদ্ধান্ত আমার ব্যাক্তিগত মতামত নয়। সেটা আপনার গ্রহন বা বর্জনের অধিকার আছে।

সকল পাঠকগণকে সঙ্গে থাকার জন্যে যোহার!

Mario Suiten Murmu

 
আব্দুল্লাহ এর ছবি
 

এ তো নতুন একটি দিক উদ্ভাসিত হল দুর্গা গাঁথা নিয়ে, চমৎকার! তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি যে, সনাতন ধর্মীয় দুর্গা আখ্যানের অসুরই আসলে দুর্গা এবং দেবী দুর্গা হিসেবে এখন যাকে আমরা জানি, তিনি আসলে একজন ছলনাময়ী ঘাতক? এই বিষয়ে বিস্তারিত জানার কোন উপায় আছে কি?

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

পড়লাম। চমৎকার
==============================================
ফেসবুকে আমার ইস্টিশন বন্ধুদের Add করার ও আমার ইস্টিশনে আমার পোস্ট পড়ার অনুরোধ করছি। লিংক : https://web.facebook.com/JahangirHossainDDMoEduGoB

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মারিও সুইটেন মুরমু
মারিও সুইটেন মুরমু এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 4 weeks ago
Joined: শনিবার, এপ্রিল 22, 2017 - 12:14পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর