নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • পৃথু স্যন্যাল
  • হাইয়ুম সরকার
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • তা ন ভী র .
  • কেএম শাওন
  • নুসরাত প্রিয়া
  • তথাগত
  • জুনায়েদ সিদ্দিক...
  • হান্টার দীপ
  • সাধু বাবা
  • বেকার_মানুষ
  • স্নেহেশ চক্রবর্তী
  • মহাবিশ্বের বাসিন্দা

আপনি এখানে

বিলুপ্তপ্রায় হিন্দুসমাজ


মধ্যযুগের শুরুতে আরবদের ভারত আক্রমণ এবং ভারতীয় রাজাদের একের পর এক পরাজয় ভারতীয়দের সমাজ,সংস্কৃতি এবং বিশ্বাসের উপর বিরাট আঘাত আনে। মুসলমানদের কাছে হিন্দু রাজারা পদানত হবার পর থেকেই হিন্দু ধর্মের অবনতি হতে থাকে। হিন্দুধর্ম এমনই হীনবল হয়ে পড়ে যে শেষপর্যন্ত আশ্রয় নেয় রান্নাঘরে! অসুস্থ লোক যেমন এটা খাবনা, ওটা খাবনা বলে; তেমনি হিন্দু ধর্মের নেতাদের মুখে শুধু শোনা যায়, এর হাতের ছোঁয়া খাবনা, ওর হাতের ছোঁয়া খাব ন। আমিষ কিংবা পেঁয়াজ খেলেই ধর্ম গেল! ব্রাহ্মণদের এই ছোঁয়াছুয়ি, জাতপাতের আবির্ভাব তখন থেকেই। পরস্পরের প্রতি ঘৃণা আর আত্মকোন্দল হিন্দুদেরকে সাম্প্রদায়িকভাবে কোণঠাসা করে দিল...

আরবদের ভারত আক্রমণের ফলে ভারতের অমুসলিমরা ভীত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে হিন্দুরা। হিন্দুমন্দির লুটপাট ও হিন্দুনারীদের একের পর এক ধর্ষন ও ধর্মান্তরিত শুরু করে তারা। পরবর্তীতে ব্রিটিশদের আগমণের পর খ্রিস্টান মিশনারিজরা যোগ দেয় সে ধর্মান্তরিতকরণের নেশায়। পাশাপাশি হিন্দুদের দলাদলি, জাতপাততো ছিলই! এমতবস্থায় হিন্দুদের ত্রাণকর্তা হিসেবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ার চৈতন্যদেবের আবির্ভাব ঘটে। জাতপাত তুলে দিয়ে তিনি হিন্দুধর্মে 'বৈষ্ণব' পন্থার আবির্ভাব ঘটান। এখানে উল্ল্যেখযোগ্য বিষয়টা হচ্ছে তিনি শ্রীকৃষ্ণের সাথে 'রাধা' নামক চরিত্রের পূজা প্রচলন করেন। এজন্যই শ্রীকৃষ্ণের জীবনী ভাগবত ও মহাভারতে 'রাধা'র কোন অস্তিত্ব না পেলেও মধ্যযুগের 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যে রাধার অস্তিত্ব পাই...

পরবর্তীতে নিত্যানন্দ, অদ্বৈত আচার্যরা এই বৈষ্ণবধর্মের প্রচার ও প্রসার ঘটে। চৈতন্যদেবের মৃত্যুর পর 'বৈষ্ণবধর্ম' এরও কিছু ভাগ তৈরি হয়ে যায়। এর একটি অংশ গৌড়িয় বৈষ্ণববাদ কিংবা কৃষ্ণধর্ম। যার অনুসারীরা কৃষ্ণকেই একমাত্র ঈশ্বর বলে মনে করে। এ মতবাদকে আন্তর্জাতিক রূপ দান করেন অভয়চরণ দে তথা শ্রীল প্রভুপাদ। ইসকনের প্রতিষ্ঠা ও প্রচারের মাধ্যমে তিনি সারা বিশ্বে গৌড়ীয় বৈষ্ণববাদের বিস্তার ঘটান...

এইসব কিছুর মধ্যে অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে হিন্দুধর্মের শাক্তবাদ ও শৈববাদ! শিবকে সকল কিছুর উৎস ও বিনাশের একমাত্র কারণ হিসেবে মনে করা শৈবপন্থার অনুসারীরা বৈষ্ণবদের কারণে এখন বিলুপ্তপ্রায়। মধ্যযুগে হিন্দুধর্মের ত্রাণকর্তা হিসেবে নেমে আসা 'বৈষ্ণববাদ' বর্তমানে মূল হিন্দুধর্ম থেকে অনেকটাই সরে গিয়ে শুধু রাধা কৃষ্ণের প্রেমলীলা নিয়ে ব্যস্ত! হিন্দুধর্মের অন্যান্য সম্প্রদায়ের জীবনের উদ্দেশ্য যেখানে মোক্ষলাভ কিংবা পরমব্রহ্মের সাথে মিলন, সেখানে বৈষ্ণবদের জীবনের উদ্দেশ্য বিষ্ণু কিংবা তার কোন অবতারের সেবায় মায়াময় জীবনের বাইরে 'বৈকুণ্ঠধামে' অন্তত এক আনন্দময় জীবনযাপন! বিশেস করে গৌড়ীয় বৈষ্ণববাদীরা সর্বদা এক অজানা পরলোকের কল্পনায় ডুবে থাকে। শৈববাদের শিব যতটা না সুন্দর ও শ্বাশত, বৈষ্ণবাদীরা কৃষ্ণচরিত্রকে রাধার সাথে মিশিয়ে এক বিতর্কিত চরিত্রের রূপ দিয়েছে। ননীচোর কৃষ্ণ আর প্রেমিক কৃষ্ণকে উপস্থাপন করতে গিয়ে তারা কৃষ্ণকে সুদর্শন চক্রের বদলে 'বাঁশি' বাজাতে বাধ্য করেছে। শাক্তবাদীরা যেখানে নারীকে দেবীরূপে পূজা করে দিয়েছে সর্বোচ্চ সন্মান, সেখানেও বৈষ্ণববাদীরা রাধা নামক কাল্পনিক চরিত্রের জন্ম দিয়েও রাধাকে করেছে বিতর্কিত...

এসব বাদ দিয়েও যে হিন্দুধর্মে এক বিরাট দর্শন আছে, সাধারণ হিন্দুরা সেটা ভুলতেই বসেছে। অতিমাত্রায় বৈষ্ণবপন্থায় আগ্রহী হওয়ার কারণে তারা ঝুঁকছে শুধু 'শ্রীমতভাগবদ গীতা'র দিকেই! একটা সময় হিন্দুদের বেদই ছিল মূল ধর্মগ্রন্থ, এখন তা গীতা। একজন হিন্দুর ধর্মের পরিধি কিংবা জ্ঞানের পরিধি বলতে এখন শুধু ওই গীতাই আছে। এর বাইরে তারা হিন্দুধর্মের কিছু জানেনা, জানতেও চায় না! একজন কালী ভক্তের শিষ্য হয়ে স্বামী বিবেকানন্দ যতটুকু জ্ঞান আরোহন করতে পেছেন, কোন বৈষ্ণব গুরুর শিষ্য হলে কখনোই সেটা পারতেন না। নিজের অজান্তেই হিন্দু সমাজ এখন এক উগ্র বৈষ্ণববাদের রোগে ভুগছে। প্রভুপাদের আগেই ইউরোপ আমেরিকা ভ্রমণ করেছিলেন রামকৃষ্ণ শিষ্য। পাশ্চাত্য জয় করার পরেও বিবেকানন্দের উদ্দেশ্য ছিল ভারত জাগরণ। হিন্দুধর্মের সর্বচ্চোস্তরে গমণ করেও বিবেকানন্দ কর্মবাদের জয়গান করেছেন। মানুষের সেবাকে পাথরের মূর্তি সেবার উপরে স্থান দিয়েছেন, হিন্দুধর্মের দর্শনকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। মানুষের সেবার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন। কালে ভদ্রে এই রামকৃষ্ণ মিশনই হিন্দু সমাজের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করছে, দালালির চূড়ান্ত সীমা পার করে ফেলেছে রামকৃষ্ণ মিশন। স্বামীজীকে ভাল করে জানা এবং পড়ার পর, মিশনের এই নোংরামি যেকোন সাধারণ মানুষের মনে দাগ কেটে যাবে...

পৃথিবীতে একটা ধর্মের, একটা সম্প্রদায়ের সীমাহীন মানুষ নিধন, ধর্ম জিহাদের নামে সাধারণ মানুষকে মারা, অন্যদিকে মানুষের ধর্মবিশ্বাসে ফাটল ধরা, বৈষ্ণবদের কাল্পনিক পরকালের লোভে ভক্তিবাদে জড়িয়ে পড়া একদল কর্মহীন সম্প্রদায়ের ছড়াছড়ির মধ্যে পৃথিবী বিবেকানন্দের মত মনীষীর দর্শনকে সত্যিই ভীষন মিস করছে। আমাদের দূর্ভাগ্য আমাদের বিবেকানন্দের দেখানো দর্শনে পথ দেখানোর কেউ নেই, কেউ নেই সত্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। বিলুপ্তপ্রায় হিন্দু সম্প্রদায় দিশেহারা হয়ে হাটছে গুরুবাদ,বহুঈশ্বর,ভক্তিবাদ কিংবা নিরেশ্বরবাদের দিকে..

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

পৃথ্বীরাজ চৌহান
পৃথ্বীরাজ চৌহান এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 6 দিন ago
Joined: শনিবার, জানুয়ারী 28, 2017 - 8:28অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর