নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 16 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • পৃথু স্যন্যাল
  • বিজয়
  • রাজিব আহমেদ
  • নীল কষ্ট
  • জেন রসি
  • নুর নবী দুলাল
  • সার্জিন শরীফ
  • মূর্খ চাষা
  • তায়্যিব
  • সৈয়দ মাহী আহমদ

নতুন যাত্রী

  • গোলাম মাহিন দীপ
  • দ্য কানাবাবু
  • মাসুদ রুমেল
  • জুবায়ের-আল-মাহমুদ
  • আনফরম লরেন্স
  • একটা মানুষ
  • সবুজ শেখ
  • রাজদীপ চক্রবর্তী
  • নাজমুল-শ্রাবণ
  • চিন্ময় ভট্টাচার্য

আপনি এখানে

সন্তানেরা মা-বাবার প্রতি যে বিশ্বাস বহন করে, দয়াকরে আপনি আপনার সন্তানের সেই বিশ্বাস নষ্ট করবেন না।


পর পর দুবার নদী ভাঙনের পর আমাদের ঠিকানা হয় জাইল্লা ঠাকুর বাড়ি। ওই বাড়িতে যাদেরই বসবাস ছিল, তাঁরা সবাই আমাদের মতো বাস্তুহারা পরিবার। কোন ব্রাহ্মণ পরিবার ছিল না। তবুও ওই বাড়িটির নাম জাইল্লা ঠাকুর বাড়ি কেন, এর কোন সঠিক তত্ত্ব কারোর কাছে পাইনি। তবে অনেকের মত হচ্ছে এরা নিচুজাতের ব্রাহ্মণ ছিল। মানে নিচুজাতের হিন্দু জেলেসম্প্রদায়ের ব্রাহ্মণ। সেজন্যে বাড়িটির নাম হয় জাইল্লাঠাকুর বাড়ি। যাহোক বাড়িটির ইতিহাস বলা আমার উদ্দেশ্য নয়।

বাড়ির সমনে একটা বট গাছেকে জরিয়ে আছে আরেকটা অশ্বত্থ গাছ অথবা অশ্বত্থকে জরিয়ে আছে বট গাছটি। অনেক পুরনো এবং বিশাল আকৃতির এক গাছা। আর এখানে যে দুইটি গাছ, সেটা পাতা না দেখে বুঝার উপায় নাই। এই গাছটিকে কেউ বট বা অশ্বত্থ গাছ বলে না। এটাকে সবাই কালী গাছ বলে।

এই কালী গাছটির আবার অনেক ক্ষমতা! মেয়েদের বিয়ে না হলে, গভীর রাতে এই কালী গাছের সামনে স্নান করালে মেয়েদের বিয়ে হয়! অসুস্থ হলে, এই কালী গাছতলায় পূজা দিলে মানুষ সুস্থ হয়! এই বটাশ্বত্থ গাছের কৃপায় বোবা কথা বলে! পাগল, ভালো হয়! মোটকথা মানুষ যেকোন বাসনা নিয়ে এই বটাশ্বত্থ গাছকে পূজা করলে মা-কালী তাঁর সেই বাসনা পূরণ করে!

আমাদের গ্রামের সব হিন্দুরা বটাশ্বত্থ গাছকে পূজা করত। বহু দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ এই কালী গাছতলায় ডালি দিতে আসতো। এই বটাশ্বত্থ গাছতলায় ডালি বা পূজা না দিলে নাকি মা-কালী আবার ভীষণরকমে রাগ করেন। রেগে মেগে মা-কালী মানুষের সংসারে কুদৃষ্টি দিতেন! মা-কালীর কুদৃষ্টি পড়লে পরে সংসারের আয়-উন্নিতি হয় না! ঘরের মানুষের রোগব্যাধি ছাড়ে না। বড়ো রকমের দূর্ঘটনাও ঘটতে পারে! তাই মা-কালীর কুদৃষ্টি থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিনি কেউ না কেউ এই বটাশ্বত্থ গাছটিকে পূজা করত। মানে ভয়ে পূজা করত, ভালবেসে নয়!

আমার মা প্রতি মাসে একবার করে ডালি দিতেন। খুব ভোরে উঠে মা বটাশ্বত্থ গাছের সামনে অংশটা লেপে দিতো। তারপর আমরা সবাই স্নান করে কালী গাছতলায় কলা, দুধ ও সামর্থ্য অনুযায়ী অন্য ফল ইত্যাদি। কালী গাছতলায় দুইটি পরিস্কার কলা পাতায় দুধ, কলা ও ফল গুলো সাজিয়ে রেখে সেখানে প্রণাম করে প্রার্থনা করা হতো। তারপর মা উলুধ্বনি দিতেন। মা'র উলুধ্বনি শুনে কিছু সময় পর কিছু কাক এসে জড়ো হতো। তারপর দুই একটি কাকে এসে সাজানো ফল গুলোতে মুখ দিতেন, ওখান থেকে ফল নিয়ে কাক উড়াল দিয়ে চলে যেত।

কাকই নাকি মা-কালী! মা-কালী কাকের রূপ নিয়ে আসতেন! কাক ডালিতে মুখ দিলে তারপর সেগুলো প্রসাদ হয়। তারপর ওই প্রসাদ সব্বাইকে একটু একটু করে দেওয়া হতো। সবাই খুব ভক্তিশ্রদ্ধা করে প্রসাদ খেতেন। আমিও খেতাম খুব ভক্তিসহকারে। কোথাও আসতে যেতে কালী গাছকে প্রণাম করতাম। পরিক্ষার রেজাল্ট যেন ভালো হয়, সেজন্য প্রণাম ও প্রার্থনা করতাম। কালী গাছতলা অপরিস্কার থাকলে মাঝে মাঝে পরিস্কার করতাম। এরকমই করতে বলেছে মা। আর এগুলো মানুষ করতো ভয় এবং লোভে। মূলত মানুষ এই দুইটা কারণেই ধর্ম পালন করে। এক স্বর্গের লোভ আর দুই নরকের ভয়! ঈশ্বরের কুদৃষ্টির ভয় আর সুদৃষ্টির লোভ!

সবার মুখে এই বটাশ্বত্থ গাছটির বহু অলৌকিক কথাবর্তা শুনেছি। এরকম বট গাছ অশ্বত্থ গাছ আমি যেখানেই দেখেছি সেখানেই ভক্তি শ্রদ্ধা করেছি। শেষে একবার আমাদের পুকুর পাড়ে একটা খেজুর গাছের উপর দেখি কালীগাছ। আমি দৌড়ে এসে বাড়ির সবাইকে বললাম। সবাই আমাকে নিয়া খুব হাসাহাসি করল। আর সবাই আমাকে বলল, আমি নাকি পাগল! আমি কোন কিচ্ছুই বুঝতে পারলাম না। সবাই আমাকে নিয়ে হাসে কেন! মনে মনে ভাবি আমি কী আবার আগের মতো প্যান্টে হাগছি নাকি। কই নাতো প্যান্ট তো ঠিকই আছে। তাইলে সবাই হাসে কেন! আর আমারে পাগলই বা কইল কেন। কই আমি তো আলতা পাগলার মতো কিছু করি নাই, তাইলে আমারে পাগল কইল কেন! কোন কিছু বুঝতে না পেরে, রাগ আর লজ্জায় এবার শুরু করছি কান্না।

পরে মা আমাকে বলল ওটা কালি গাছ না, ওটা বট গাছ। আমি বললাম না... মা ওটাও কালী গাছ। মা আমি সত্যি বলছি, ওটা কালী গাছ। তুমি দেখে যাও, ওটা কালী গাছ। মা আমাকে বলল শোন দুইটা একি গাছ। এই গাছ গুলোর নাম হচ্ছে বট গাছ। আমি বললাম মা, দুইটা একি গাছ হলে একটা কালী গাছ আর আরেকটা বট কেন? মা অনেক্ষণ চুপ....... থেকে বলল, ওটা কয়েল পাখি বট গাছের বীচি খেয়ে ওখানে হাগছে আর সেখান থেকে বট গাছ জম্ম নিয়েছে। মা'র মুখে এই কথা শোনার পর থেকে কেনো যেন আমার আর কালী গাছের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা হত না। অবশ্য তারপর থেকে মা এমনিতে খুব ধর্ম পালন করত, কিন্তু ওই কালী গাছতলায় আর ডালি দিতেন না।

তার কয়েক বছর পরে আমরা ওই বাড়ি থেকে অন্যত্রে চলে যাই। তারও কয়েক বছর পরে ওই বাড়িটি কামাল হাওলাদার নামের বিএনপি এক নেতা কিনে নেয়। কামাল হাওলাদারের কাছে ওই বাড়ির শরিকেরা কালী গাছসহ ছয় শতাংশ জমি বিক্রি করেনি বিশ্বাসগত কারণে। কিন্তু কামাল হাং পরের বছর ওই বটাশ্বত্থ গাছটি বিক্রি করে দেন। এই নিয়ে আমাদের গ্রামের হিন্দুদের ভিতরে চরম ক্ষোভ থাকলেও ভয়ে কামাল হাং এর সামনে কেউ কিছু বলে নাই। কামাল হাং এর পিছনে হিন্দুরা কত অভিশাপ দিয়ে ছিল। কতজনকেই বলতে শোনেছি মা-কালী কামাল হাংকে এই করবে সেই করবে। বাস্তবে মা-কালী কামাল হাওলাদারের কিচ্ছুই ছিড়তে পারে নাই! পরে একদিন সবাইকে বললাম, দেখলে মা-কালী ক্ষমতা দেখিয়ে হিন্দুদের কাছ থেকে কত দুধ, কলা ও ফল খাইছে কিন্তু কামাল হাওলাদারের এক্কান বালও বাঁকা করতে পারল না!! এগুলো হচ্ছে আপনাদের ফালতু বিশ্বাস।

একটা সময় পর্যন্ত শিশুরা মা-বাবার সমস্ত কথা নির্দ্ধিধায় মানে এবং মা-বাবাই হচ্ছে শিশুদের সমস্ত বিশ্বাস। মা-বাবার কথা শোনা-মানা, বিশ্বাস করা, এসব আমরা প্রত্যেকেই পরম্পরায় বহন করি। তাই একটা শিশুর বুঝজ্ঞান হওয়ার আগে কোন মা-বাবারই উচিত না, শিশুদের কোমল মস্তিস্কে ধর্মের মতো একটা ফালতু কুসংস্কার জিনিসকে ঢুকিয়ে দেওয়া। আপনার সন্তান যখন বড় হয়ে বুঝতে পারবে ঈশ্বরের কোন অস্তিত্ব নাই, ধর্ম হচ্ছে কাল্পনিক রূপকথার গল্প। সেদিন সে মা-বাবার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে। সন্তানেরা মা-বাবার প্রতি যে বিশ্বাস বহন করে, দয়াকরে আপনার সন্তানের সেই বিশ্বাস নষ্ট করবেন না। তাই ধর্মীয় বিশ্বাসগত কারণে আপনি আপনার সন্তানকে এরকম কুশিক্ষা, ভুল শিক্ষা দিবেন না।

এটা বিজ্ঞানের যুগ, এখনকার বাচ্চারা রাজা-রানী, রাজপুত্র-রাজকন্যা, পরীর গল্প শোনে না। মোবাইল কম্পিউটারে গেমস খেলে। অতীত,বর্তমান,ভবিষৎ, মাটির নিচে ও মেঘের উপরের খবরও তাঁরা জানে বা জানার উপায় তাদের হাতে। ওই যে, আপনি মিথ্যা কাল্পনিক কথা বলবেন, " ঈশ্বর বলেছে হও আর অমনিতে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়ে গেছে!" আপনার এরকম আজগুবি কথায় তাঁরা কান দিবে না। আপনার কাছে এই মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও অস্তিত্বের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানতে চাইবে। তাঁরা গুগল সার্চ দিয়ে সত্যি জানার চেষ্টা করবে এবং সত্যিটা জানবে। তখন আপনাকেই আপনার সন্তান প্রশ্ন করবে, ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ দেন? তখন কিন্তু চুপ করে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না আপনার। তাই আবারও বলছি, দয়াকরে আপনি আপনার সন্তানের বিশ্বাস নষ্ট করবেন না।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সজল মোহন
সজল মোহন এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 10 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 26, 2016 - 8:16পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর