নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • রহমান বর্ণিল

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

কাসিম বিন আবুবাকার ও ইসলামি আগ্রাসন!


বেশ কিছুদিন যাবত বিশ্ববাসির কাছে বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে তুলে ধরার অপ-প্রয়াশ অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় হঠাৎ করে কাসেম বিন আবুবাকারের ইসলামি সাহিত্য নিয়ে এএফপির বিশাল প্রতিবেদন যেটা অন্যান্য আন্তর্জাতিক মাধ্যমেও এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশের মূলধারার মিডিয়াতে তিনি উপেক্ষিত ছিলেন। এটা সত্যি যে, তিন দশকের বেশি সময় যাবত তার সাহিত্য কর্ম প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয় গ্রামীণ পাঠকদের কাছে, বিশেষভাবে মাদ্রাসা পড়ুয়াদের কাছে। যদিও গত ২ বছর যাবত তার কোন লেখা প্রকাশিত হয়নি। কাজেই সবার মনে এই প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক হঠাৎ কি এমন হল যে তাকে নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মাধ্যম খবর আসা শুরু হল ?

তার সাহিত্য কর্ম নিয়ে মূলত বলা হয়, তিনি ইসলামি সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও চেতনা তার লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরেন, কিন্তু ব্যপারটা আসলে কি সেরকম? তার লেখার মাধ্যমে মূলত তিনি ইসলামের নামে যৌনতার প্রচার করে থাকেন, যেমন নায়কদের বিসমিল্লাহ বলে নায়িকাদের চুম্বন করা, হিজাব পরে ডেটিঙে যাওয়া ইত্যাদি। মূলত বিয়ের আগে ছেলেমেয়েদের মনে যৌনতা নিয়ে যে ভয় কাজ করে, তিনি তার লেখার মাধ্যমে সেটা কাটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। তার লেখার নামকরন লক্ষ্য করলেও এই ব্যপার আরও স্পষ্ট হবে, যেমন বিলম্বিত বাসর, বাসর রাত, ফুটন্ত গোলাপ, অবশেষে মিলন ইত্যাদি। পাঠকদের জন্য তার আরও কিছু লেখার নমুনা তুলে ধরা হল- যেমন " রফিকুন বোরখা পরে ডেটিং এ যায়, কারণ বোরখা ছাড়া ডেটিং নাজায়েজ’, " শফিক বিসমিল্লাহ বলে শফিকুনের ঠোঁটে কিস করা শুরু করলো"। আর ঠিক এ কারনেই জনপ্রিয় লেখক হওয়া সত্ত্বেও দেশিও গণমাধ্যমে তিনি উপেক্ষিত ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি আন্তর্জাতিক বেশ কিছু গণমাধ্যমের আলোচনায় উঠে এসেছেন। যদিও কাসিম বিন আবুবাকার কে নিয়ে হঠাৎ এই আলোচনায় আমার ব্যক্তিগত কোন সমস্যা থাকার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না, কিন্তু এর পিছনে আসল উদ্দেশটা কি সেটা নিয়ে আমি শঙ্কিত। এবং এই শঙ্কার পিছনে যথেষ্ট কারন আসে বলে আমি মনে করি।

বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের উধার-অসাম্প্রদায়িক অবস্থানের একটা বিশেষ পরিচিতি ছিল, আর এই অবস্থানটাকে গুরুতর ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশে বিভিন্ন মহলের ষড়যন্ত্র চলছে অনেক আগে থেকেই। ১৯৪৭, এ দুই ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হওয়া পাকিস্তানের ধর্মীও রাষ্ট্রতত্ত্ব থেকে আমরা যখন ১৯৭১ এ স্বাধীনতা যুদ্ধের পর একটি অসাম্প্রদায়িক জাতীতত্ত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠা একটি স্বাধীন দেশ পাই তখন থেকেই মূলত এই ষড়যন্ত্রের শুরু। যদিও সেটা আড়াল থেকে করা হচ্ছিল, কিন্তু বর্তমানে চলছে খোলা-খুলি ভাবে। মূলত ২০১৩-তে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে গড়ে উঠা গণজাগরণ মঞ্চের বিরোধিতার সূত্র ধরে, হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বরের সমাবেশে ১৩ দফা দাবি উত্থাপনের মাধ্যমেই এর শুরু। যেসকল দাবি দাওয়া করার সাহস কেউ কখন পায় নি সেসকল দাবি দাওয়া-ই তখন কোন রকম রাখ-ডাক ছাড়া তুলে ধরা শুরু হল হেফাজতের বিভিন্ন জনসমাবেশে এবং বর্তমান সরকার দুর্ভাগ্যবশত তাদের অনেক দাবি দাওয়া পুড়ন করা শুরু করলো, যার প্রেক্ষিতে সর্বশেষ বাচ্চাদের পাঠ্যবই পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয়েছে হেফাজতের গাইডলাইন অনুযায়ী। আর এর সুযোগে একটি মহল দেশের প্রগতিশীল অংশটাকে ইসলামের বিরুদ্ধে দাড় করাতে সফল এবং জঙ্গিরা লেখক, ব্লগার, প্রকাশকসহ অনেক কে নাস্তিক উপাদি দিয়ে হিটলিস্ট তৈরি করে তাদেরক হত্যা শুরু করে। যার ফলে, অনেকগুলি তাজা প্রাণ ঝড়ে পরে।

যেহেতু হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়ন হয়ে চলছে তাই তারা দিন দিন আরও আগ্রাসী হয়ে উঠছে। পাঠ্যপুস্তকে তাদের কথামত ভিন্ন ধর্মের লেখক-সাহিত্যিকদের লেখা বাদ দিয়ে ধর্মীও বিশ্বাসের আলোকে সংশোধনী আনার পরে তারা বাঙ্গালি সংস্কৃতিকে লক্ষ্য করে মাঠে নামে। দীর্ঘ ৫ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা রমনা বটমূলের নববর্ষ উদযাপন, বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা পাওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ আরও অনেক কিছু যা আমাদের বাঙ্গালি সংস্কৃতিতে বিদ্যমান তা তাদের চোখে হিন্দু সংস্কৃতি ছাড়া কিছু না। বর্তমানে তারা মাঠে আছে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থাকা গ্রিক দেবী থেমিসের মূর্তি সরানোর দাবি নিয়ে, যেটা মোটামুটি পুড়ন হওয়ার পথে। তারা যদি এইভাবে সফল হতে থাকে ভবিষ্যতে তারা এর থেকেও বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠবে আর আমার ভয়টা এখানেই!!! বর্তমান প্রজন্ম বেড়ে উঠবে হেফাজতের মত একটা দলের দাবিতে সংশোধিত হওয়া পাঠ্যপুস্তক পরে, যার ভিত্তি ধর্মীও বিশ্বাস। এর সাথে যোগ হয়েছে তাদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। সুদু একটা দিক বাকি ছিল সেটা হচ্ছে মূলধারার বাংলা সাহিত্য। আর এখানেও আগ্রাসনের লক্ষে তাদের দরকার একজন সাহিত্যিক আর তাই আমার মনে হয় কাসিম বিন আবুবাকার হচ্ছে সেইজন যার মাধ্যমে হেফাজতে ইসলাম সার্বিকভাবে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। আর ঠিক একারনেই দেশে উপেক্ষিত থাকা একজন জনপ্রিয় লেখক হঠাৎ করে বিশ্ব গণমাধ্যমে আবির্ভূত, যিনি মূলত ইসলামের নামে যৌনতার প্রসার করে থাকেন। সাথে সাথে আমাদের এটাও ভাবা উচিত, কাসিম বিন আবুবাকারের মত একজন উপন্যাসিক যদি বাংলাদেশের ইসলামি সাহিত্যের অগ্রভাগে থাকে তাহলে বিশ্বব্যাপী সেটা কিরূপ ধারনা দিবে আমাদের দেশ সম্পর্কে!

বিভাগ: 

Comments

পথচারী এর ছবি
 

প্রচুর ভুল বানান। এগুলো শুদ্ধ করলে লেখাটা চমৎকার হয়ে উঠবে।

 
এম এম আর সজীব এর ছবি
 

দুঃখিত ভুল বানানের জন্য Sad আমি চেষ্টা করেছি সবগুলি ভুল বানান ঠিক করার। ধন্যবাদ আপনার ফিডব্যাকের জন্য।

 
সাজ এর ছবি
   

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

এম এম আর সজীব
এম এম আর সজীব এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 4 দিন ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 19, 2016 - 8:34পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর