নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • ড. লজিক্যাল বাঙালি

নতুন যাত্রী

  • অন্নপূর্ণা দেবী
  • অপরাজিত
  • বিকাশ দেবনাথ
  • কলা বিজ্ঞানী
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • সাবুল সাই
  • বিশ্বজিৎ বিশ্বাস
  • মাহফুজুর রহমান সুমন
  • নাইমুর রহমান
  • রাফি_আদনান_আকাশ

আপনি এখানে

শুধু সুপ্রিম কোর্ট কেন, বাংলাদেশের সমস্ত সরকারি আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকা মসজিদ, মন্দির ও সংরক্ষিত নামাজের জায়গা বন্ধ করে দেয়া উচিত,


ধর্মের মতো প্রধানমন্ত্রীর সমলোচনা করা ভয়ঙ্কর অপরাধ এবং ভীষণ বিপজ্জনকও। ধর্মের সমোলচনা করলে ধর্মান্ধরা কোপাতে আসে আর প্রধানমন্ত্রীর সমলোচনা করলে লীগান্ধরা আসে। আর ৫৭ ধারা তো রেডি আছেই। তারপরও যেহেতু কাগজে কলমে গণতন্ত্র আছে, তাই একটু সহস দেখালাম।

(১)
মঙ্গলবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য তাঁর পছন্দ হয়নি!

- মননীয়া প্রধানমন্ত্রী, পছন্দ-অপছন্দ ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। এই যেমন ধরুণ বর্তমানে আপনাকে আমার পছন্দ না। এককালে পছন্দের ছিলেন। বর্তমানে আপনার ধর্মপ্রীতি, হেফাজতে ইসলামের মতো একটি সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠীকে তোষণের রাজনীতি, তেঁতুল হুজুরের সাথে আপনার সখ্যতা, শামীম ওসমানের মতো একজন পেশাদার খুনি আপনার দলের এমপি ও আপনার বেয়াই পুতুলের শশুরকে আমার পছন্দ না। এই যে আপনি বলেছেন হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য আপনার পছন্দ হয়নি, এই কথাটাও আমার পছন্দ হয়নি।

(২)
শেখ হাসিনা বলেন, আমি প্রকাশ্যে না বললেও প্রধান বিচারপতির কাছে এ বিষয়ে বলেছি, যে ভাস্কর এটা করেছে তাকেও আমি বলেছি, গ্রিক থিমকে পরিবর্তন করার অর্থ কী হতে পারে? প্রধান বিচারপতিকে সেটাই বলেছিলাম, এই গ্রিক স্ট্যাচুকে আপনি শাড়ি পরাতে গেলেন কী জন্য? স্ট্যাচু আমাদের দেশে বহু আছে, থাকবে। কিন্তু হাইকোর্টের মতো একটি জায়গায় স্ট্যাচু করা, এটা ঠিক হয়নি। এই স্ট্যাচুটা তো হাজার হাজার বছরের পুরনো, সব দেশে তো এটা নেই। তা হঠাৎ আমাদের এখানে এটা লাগাতে হবে কেন?’ এই গ্রিক স্ট্যাচুকে শাড়ি পরিয়ে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হলো। এটা যদি গ্রিক স্ট্যাচু হয়ে থাকে, তাহলে সেই গ্রিক স্ট্যাচু হিসেবে থাকবে। এটাকে শাড়ি পরিয়ে বিকৃত করা কেন? নিজে কত লম্বা, তার পাল্লাটা কত লম্বা! তার কোনও ঠিক-ঠিকানা নেই। একটা করে দিলো! মানে গ্রিককে এখন বাঙালি বানানো হলো।

মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী, আপনি যেহেতু ভাস্কর মৃণাল হকের সাথে কথা বলেছেন। তা হলে তো অবশ্যই অবগত আছেন, ভাস্কর মৃণাল হকের মুখেরই কথা। এইটা থেমিসের প্রতিকৃতি নন। থেমেসির আদলে গড়া তার নিজের মতো করে বানানো একটি ভাস্কর্য। আর যদি অরিজিনাল ভাস্কর্য স্থাপন করা হতো, তা হলেও তখন আপনারা বলতেন এই ভাস্কর্য আমাদের দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরে না। আর আপনি বললেন স্ট্যাচু আমাদের দেশে বহু আছে, থাকবে। বেশ তো সুপ্রিম কোর্টের সামনে গ্রিক ভাস্কর্যও থাকুক না, এটাতে আপত্তি করেন কেন ? আপনি বললেন সব দেশে তো ভাস্কর্য নাই ? সব দেশে ভাস্কর্য নাই, এটা সত্য না। বাংলাদেশ ছাড়াও নাইজেরিয়া, হংকং, ইংল্যান্ড, জাম্বিয়া ও বোম্বে ভারতসহ অনেক দেশেই হাই কোর্টের সামনে ভাস্কর্য় আছে।

(৩)
ভাস্কর্য সরানোর বিরোধিতাকারীদের জবাব দিতে গিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এটা সরাতে হবে কেন, এটি নিয়ে চিৎকার করা হচ্ছে। কিন্তু যারা এটা নিয়ে কথা বলছেন, তারা কি দেখতে পারছেন না, এই গ্রিক থিম আর এখন গ্রিক নেই। ওটা অর্ধগ্রিক, অর্ধবঙ্গ। ওটা বঙ্গগ্রিক হয়ে গেছে। এটা কি উনাদের চোখে পড়ে না? গ্রিক থেমিসের প্রকৃত ভাস্কর্য শাড়িপরিহিতা নন, তাহলে এই ভাস্কর্যে শাড়ি পরানো হলো কেন? এটা তো উনাদের চোখে পড়া উচিত। যে কোনও থিম যখন থাকবে, তা বাস্তবভাবেই থাকা উচিত। তাই এই বিকৃতি ভাস্কর্য থাকার কোন যৌক্তিকতা নাই।

- মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর এই যুক্তিগুলো কোন যুক্তিই নয়, এগুলো কুযুক্তি। আচ্ছা মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী কী হতো, যদি ভাস্কর মৃণাল হক তার নিজের মতো না করে অরিজিনাল থেমিসের মূর্তিটাই এখানে স্থাপন করতেন ? তখন কী হেফাজত, চরমোনাই বা গোঁড়া পন্থি মৌলবাদী মুসলমানরা ভাস্কর্য সরানোর কথা বলতেন না ? তখন কী প্রধানমন্ত্রী বলতেন গ্রিক মূর্তি আমার পছন্দ ? না, তখনো হেফাজ, চরমোনাইরা বলতেন ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে সুপ্রিম কোর্টের সামনে মূর্তি কেন! তখনও আপনি হেফাজতকে খুশি করতে, হেফাজতের সাথে সুর মিলিয়ে বলতেন, এটা আমারও পছন্দ না! এখন যেমনটা বলেন আর কি।

(৪)
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাইকোর্টে যে স্ট্যাচু করা হয়েছে, এটি হচ্ছে গ্রিক গডেজ অব জাস্টিস। আর যেখানে স্থাপন করা হলো, তার পাশে ঈদগাহ। আমাদের ঈদের নামাজ হয়, ঠিক সেই ময়দানের সামনে এই ভাস্কর্য। এজন্য প্রধান বিচারপতিকে বলেছি, এটিকে যেন আড়াল করে দেওয়া হয় অথবা সরিয়ে ফেলা হয়।

- মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়। আর একটি স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের সামনে একটি ন্যায়ের প্রতিক স্থাপন করা হয়েছে। এখানে তো সর্বোচ্চ আদালত কার্যক্রমের অসুবিধে হচ্ছে না। তা হলে ভাস্কর্যকে ঢাকতে বলেন কেন ? বা সরিয়ে ফেলতে বলেন কেন ? অসুবিধা যার হচ্ছে, তাকে সরিয়ে ফেলুন। এখানে অসুবিধা হচ্ছে ঈদগাহ মাঠের, নামাজের। অর্থাৎ সুপ্রিম কোট প্রাঙ্গাণে থাকা ঈদগাহ মাঠে নামাজ পড়তে আসা মুসলমানেরা মনে করেন ভাস্কর্য দেখলে তাদের নামাজ ঠিকঠাক হয় না! অর্থাৎ এখানে সমস্যা হচ্ছে মুসলমানদের নামাজের। তাইলে সমস্যা যে মনে করে, তাকে সরিয়ে ফেলুন। অর্থাৎ নামাজের জায়গাটাকে (ঈদগাহ মাঠ) সরিয়ে ফেলুন। আর তাছাড়া আদালতের তো নামাজের জায়গার দরকার নাই। আদালত তো নামাজ পড়ে না। শুধু সুপ্রিম কোর্ট কেন, বাংলাদেশের সমস্ত সরকারি আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকা মসজিদ, মন্দির ও সংরক্ষিত নামাজের জায়গা বন্ধ করে দেয়া উচিত, নাইলে সরিয়ে ফেলা হোক, এবং সেই সাথে সরকারি কর্মচারীদের অফিস টাইমে নামাজসহ যেকোন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন নিষিদ্ধ করা হোক আমি মনে করি। এতে সাধারণ জনগণ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সজল মোহন
সজল মোহন এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 4 দিন ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 26, 2016 - 8:16পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর