নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 10 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • আমি অথবা অন্য কেউ
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • রুদ্র মাহমুদ
  • রাজিব আহমেদ
  • তায়্যিব
  • রুবেল হোসাইন
  • দিন মজুর

নতুন যাত্রী

  • নবীন পাঠক
  • রকিব রাজন
  • রুবেল হোসাইন
  • অলি জালেম
  • চিন্ময় ইবনে খালিদ
  • সুস্মিত আবদুল্লাহ
  • দীপ্ত অধিকারী
  • সৈকত সমুদ্র
  • বেলাল ভুট্টো
  • তানভীর আহমেদ মিরাজ

আপনি এখানে

পাহাড় নিয়ে মিথ্যাচার ও এর বিশ্লেষণঃ কল্পনা চাকমা, পাহাড়ের গণহত্যা ও সর্বশেষ রমেল চাকমা


শুরুতে কল্পনা চাকমাঃ
১৯৯৬ সালের ১১ জুন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী কল্পনা চাকমা রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লাল্যাঘোনা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কল্পনা চাকমার ভাই ক্ষুদিরাম চাকমা অপহরণ করতে আসা তিনজনকে চিনতে পারেন। এর মধ্যে একজন হলো স্থানীয় কইজছড়ি ক্যাম্পের কমান্ডার লেঃ ফেরদৌস আর বাকি দুইজন ভিডিপি সদস্য। কারোর পরনে ছিল সেনা পোশাক ও সাথে ছিল অস্ত্র।
১৯৯৬ সালের ১৭ জুলাই ভোরের কাগজ পত্রিকায় এটি প্রকাশিত হয়। এর আগে ২৭ জুন তারিখে কল্পনা চাকমাকে ফিরিয়ে দেয়ার কর্মসূচী চলাকালে রূপন চাকমা, মনতোষ চাকমা, সমর বিজয় চাকমা ও সুকেশ চাকমা নামে চারজন মারা যান ভিডিপির গুলিতে। এর মধ্যে রূপন চাকমার লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কল্পনা চাকমার নিখোঁজ ও এর পরবর্তী ঘটনাগুলোর এটা সংক্ষিপ্ত একটি ফলোআপ যা অনেকেই জানেন। এটি আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য নয়, উদ্দেশ্য হচ্ছে এরপর যে প্রোপাগান্ডাগুলো ছড়ানো হয়েছে তা নিয়ে। শুরুতে বলা হয়েছিল হৃদয়ঘটিত ব্যাপার। এটি বলা হয়েছিল তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে যিনি সেনাবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন নিজ উদ্যোগে লিফলেট বানিয়ে কল্পনার সন্ধানদাতাকে ৫০হাজার টাকা পুরষ্কার দেয়া হবে বলে ঘোষণা করে এবং লিফলেটগুলো হেলিকপ্টার থেকে এই লিফলেট প্রচার করে।

এরপর ঘটে আরেক ঘটনা। সচরাচর সেনাবাহিনী সংক্রান্ত কোন বক্তব্য প্রদান করা হয় আইএসপিআর এর মাধ্যমে। এই ঘটনায় তাও অনুসরণ করা হয়নি। বক্তব্য দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে, তথ্য অফিসার মো জসীমউদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। এই প্রেস বিজ্ঞপ্তি ১৯৯৬ সালের ২৪ জুলাই ভোরের কাগজে প্রকাশিত হয়। শুরুতে বলা হয়েছে হৃদয়ঘটিত ব্যাপার এবং পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও শান্তিবাহিনী পাহাড়ের শান্তি ও পরিবেশ ঘোলা করতেই কল্পনাকে নিজ উদ্যোগে অপহরণ করা হয়েছে। এরপর একটি মানবাধিকার সংস্থা কর্তৃক সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করা হয়েছিল কল্পনা চাকমাকে ত্রিপুরায় দেখা গেছে। সেখানে নাকি সে সুখে বসবাস করছে। ১৯৯৬ সালের ২৮ আগস্ট ডেইলি স্টার পত্রিকায় একটি খবর আসে যে ঝিনাইদহের একটি গ্রামে তৃপ্তি বেগম নামে এক মহিলাকে কল্পনা চাকমা সাজানোর প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। তৃপ্তি বেগম নিজেই প্রতিবেদকের কাছে এ অভিযোগ করেছিলেন।
(প্রতিবেদনগুলো নেয়া হয়েছে কল্পনা চাকমার ডায়েরি থেকে)
এসব মিথ্যা ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছিল পাহাড়ের বীর নেতা কল্পনা চাকমার বিরুদ্ধে। নিখোঁজের ২১ বছর পরও এই অপপ্রচারের শেষ নেই। কিন্তু সত্য যে চাপা থাকে না সেটা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে।

গণহত্যা সম্পর্কিত মিথ্যাচারঃ
লোগাং গণহত্যায় নিহত হয়েছিল প্রায় শতাধিক পাহাড়ি। লাশের সংখ্যা নিয়ে যথেষ্ট ভিন্নতা আছে। কোথাও বলা হয়েছে ১৩৮ (structural Roots of Violence in CHT, March 20, 2010, Economic and Political Weekly) আবার কোথাও বলা হয়েছে ২০০ এর বেশি (Bangladesh: Reprisal Killing in Logang, Chittagong Hill Tracts, February 2000, AI Index 13/01/00. Amnesty International)। তবে যে ১৩৮ টি লাশের কথা বলা হয়েছে সেটিও সম্পূর্ণ দেখতে দেয়া হয়নি যিনি গণনা করেছিলেন তাকে তাই এর বেশি লাশ গণনা করা হয়নি।

এরপর আন্তর্জাতিক মিডিয়া বিশেষ করে বিবিসি প্রচার করে মাত্র ১২ জন নিহত হয়েছে। জেনারেল মাহমুদ আল হাসান সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছিলেন মাত্র ১৩ জন নিহত হয়েছে এবং ১৯ জন আহত হয়েছে। এছাড়া তিনি আরো বলেছিলেন একটি পরিবারও নাকি সীমানা পার হয়ে ভারতে পালাতে বাধ্য হয়নি। কিন্তু সেসব মিথ্যাচার কি টিকেছে??? সময়ের প্রেক্ষিতে মানুষ জানে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা।
ইউটিউব ভিডিওটি দেখতে পারেন। সেখানে বক্তব্য পাবেন। লিংকঃ

মাল্য গণহত্যা নিয়েও কম মিথ্যাচার হয়নি। এখনো চলমান আছে। কোন একটি পত্রিকায় ছবি প্রকাশ করা হয়েছিল যে এই গণহত্যাটি নাকি সেটেলারদের উপরেই ঘটেছে আর ঘটিয়েছে পাহাড়িরা!! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় যে এই ছবিটি বাদে আর কোন কিছুই তারা বর্ণনা দিতে পারে না। এই গণহত্যার সংক্রান্ত খবর পাবেন ১৯৯২ সালের ১৫ মার্চ তারিখে প্রকাশিত সাপ্তাহিক চিন্তা ১ম বর্ষ ১৪ সংখ্যায়, আলতাফ আল আজমের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনের শিরোনাম “রাঙ্গামাটি লঞ্চ বিস্ফোরণঃ প্রকৃত সন্ত্রাসীর খোঁজে”। আরো তথ্য পাওয়া যাবে উপরের বর্ণিত রেফারেন্স Structural Roots of Violence in CHT তে। এছাড়া পড়তে পারেন Life is not ours- Upadate 2, Page 20 যা ১৯৯৪ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত হয়েছিল।

এছাড়া আরো অনেক মিথ্যাচার রয়েছে। আরো অনেক অনেক ঘটনার বর্ণনা দেয়া যাবে যেখানে বলা হয়েছে শান্তিবাহিনী কর্তৃক সাধারণ পাহাড়ি নিহত হয়েছে। অথচ প্রতিটি ঘটনার পেছনে ছিল সেনাসদস্যদের হাত। এমনকি নিহতের পিতার কাছ থেকেও জোর করে স্ট্যাটমেন্ট নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এগুলো খুঁজে পাবেন Life is not ours- Upadate 2 তে, যা ইন্টারনেটে যথেষ্ট সহজলভ্য।

সর্বশেষ রমেল চাকমাঃ
এবার আসি রমেল চাকমার ঘটনায়। এর আগে শান্তি বরণ চাকমা, তিমির বরণ চাকমারা সেনা হেফাজতে মারা গেলেও তাদের নিয়ে কোন মিথ্যাচার হয়নি কারণ খুব বেশি প্রচার বা মাধ্যমে ঘটনাগুলো আসেনি। কিন্তু রমেল চাকমার হত্যার ঘটনাটি সর্বক্ষেত্রে ছড়িয়ে গিয়েছে।

শুরুতেই যা বলতে হয় সেটা হচ্ছে মেইন স্ট্রিম মিডিয়ার দায়সাড়া প্রতিবেদন এবং কিছু মিডিয়ায় বিশেষ করে কালের কণ্ঠসহ সেনা নিয়ন্ত্রিত নিউজ পোর্টালগুলোতে মিথ্যাচার। কালের কণ্ঠ পত্রিকায় বলা হয়েছে ৫ এপ্রিল যৌথবাহিনীর একটি দলের উপস্থিতি টের পেয়ে রমেল চাকমা পালানোর চেষ্টা করার সময় সিএসজি অটোরিকশার সাথে ধাক্কা খেয়ে গত ১৯ এপ্রিল মারা যান। খেয়াল করে দেখুন, যৌথবাহিনী লেখা। নিউজ লিংকঃ
ইউপিডিএফ-এর এক সশস্ত্র সদস্যের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পাহাড়কে আবার অশান্ত করার চেষ্টা
কিন্তু ডয়চে ভেলেতে যে নিউজ এসেছে সেখানে ওসি স্পষ্ট করেই বলেছে যে তার নামে কোন মামলা নেই, গ্রেপ্তার করতে যাবেন কেন তারা? এ প্রসঙ্গে অডিও শুনুন এবং প্রতিবেদন পড়ুন। সেই সাথে আরো একটি অডিও ক্লিপ আছে। সেটাও শুনতে পারেন।

কাদের নির্যাতনে রমেল চাকমার মৃত্যু হয়েছে?

মানবকণ্ঠ পত্রিকায়, রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপারের ভাষ্য পড়ুন “অপরাধীকে ধরা হলো ভালো কথা। কিন্তু তার জন্য তো আইন আছে। সে অনুযায়ী তার বিচার হবে। কিন্তু তাকে নির্যাতন করে পুলিশের কাছে আনা হলো। তার শারীরিক অবস্থা দেখে পুলিশ তাকে গ্রহণ করেনি। পরে সে মারা গেল। মৃত ব্যক্তির লাশ নিয়েও টানাটানি। এখন দায় চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে পুলিশের ওপর। মানুষ মরেছে অবরোধ হবে স্বাভাবিক। এখানে মারপিট করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হলো। ফলে পরিবহন ধর্মঘট যোগ হয়েছে। এখন পুলিশকে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে এসব মোকাবিলা করতে হচ্ছে। যা হয়েছে এখানে পুলিশের কোনো হাত নেই। যদি আমাদের দায়ী করা হয় তাহলে তদন্ত করে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। অন্যায়কে পুলিশ কখনো প্রশ্রয় দেবে না।"

এখনো পর্যন্ত পুলিশ সুপার এই সংবাদের কোন প্রতিবাদ করেননি, অর্থাৎ প্রতিবেদনে উল্লেখিত প্রতিটি শব্দই সত্য। কিছু শব্দ খেয়াল করে দেখুন। “নির্যাতন করে”, লাশ নিয়ে টানাটানি, দায় চাপিয়ে দেয়া। শব্দগুলো দেখুন আর বিশ্লেষণ করুন। আর সংবাদের শুরুতেই বলা হয়েছে পেট্রোল দিয়ে লাশ পুড়িয়ে ফেলার কথা। নিউজের লিংকঃ

হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাঙ্গামাটি

এরপর বিবিসি বাংলায় যে প্রতিবেদন এসেছে সেখানেও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। শিরোনাম পর্যন্ত দেয়া হয়েছে “সেনাবাহিনী কিছু লাকড়ি ও তেল দিয়ে দাহ করেছে, পরিবারের কাউকে ডাকেনি”।
নিউজের লিংকঃ
'সেনাবাহিনী কিছু লাকড়ি আর তেল দিয়ে দাহ করেছে, পরিবারের কাউকে ডাকেনি'

অথচ কালের কণ্ঠ, সেনা নিয়ন্ত্রিত প্রতিটা মিডিয়ায় বলা হচ্ছে পরিবারের উপস্থিতিতে লাশ দাহ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বা আমাদের পাহাড়ের দাহপ্রক্রিয়ায় কি পেট্রোল ঢেলে মৃতদেহ দাহ করা হয়?? নাকি চন্দন কাঠ ব্যবহার করে দাহক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়????

ছবি দিলাম, দেখে নিন। সব পাহাড়ির চেহারা একই ধরে যদি সবাইকে রমেল চাকমা সাজানো হয় তবে সেটা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। আর যে ছবিটি নেয়া হয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে এক ছোট্ট বালক যার হাতে ভয়ংকর অস্ত্র!!! সবচেয়ে অবাক হওয়ার বিষয় যে, যে AK-47 টি বাচ্চাটি ধরে আছে তার ওজন ৩.৪৭ কেজি (উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে), তাও আবার ম্যাগজিন ছাড়া। আর ম্যাগজিনের ওজনও প্রায় আধাকেজি। আদৌ কি সম্ভব? একজন বাচ্চার পক্ষে ৪ কেজিরও বেশি একটি অস্ত্র (যেহেতু এখানে ম্যাগজিনসহ ছবি আছে) কতক্ষণ ধরে রাখা সম্ভব?? আর পাহাড়ের সকল মানুষের মধ্যে চেহারার ফারাক খুব বেশি করা যায় না। আমাদের ক্যাম্পাসেও দেখেছি। একজন মনে করে আরেকজনের সাথে কুশল বিনিময় করার ঘটনা অহরহ ঘটছে। ক্যাম্পাসের বাঙালি ছাত্রদের ভাষায়, পাহাড়িদের চেহারা প্রায় কাছাকাছি তাই তাদের প্রতিসময়ই চেহারা আইডেনটিফাই করতে ভুল হয়।

এক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটলে দোষের কিছু নেই। তাই ছবি দুইটা পাশাপাশি দিলাম। দুইজন মানুষের মধ্যে কতটুকু মিল আছে বা একই ব্যক্তি কিনা। আর ছবিটি আদৌ পার্বত্য অঞ্চলের কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এমনিতেই ভারতীয় উপমহাদেশের আমাদের, মিয়ানমার, ভারতের সেভেন সিস্টার্স সহ কয়েকটি অঞ্চলের মানুষের চেহারা প্রায় কাছাকাছি। তাই অন্য কোন এলাকার ছবি নিয়ে এসে যদি পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের ছবি দাবি করা হয় তবে সেটাও হবে মিথ্যাচার।

দুইটা ছবি দিলাম। বাম পাশেরটা আরাকান আর্মির আর ডানপাশেরটা উলফার। দুইটাই ছবি গুগল থেকে নেয়া। আর চেহারা অনেকটা আমাদের মতোই। এখন যদি এই ছবিগুলো বলা হয় যে পার্বত্য অঞ্চলের সন্ত্রাসীর ছবি, তাহলে মিথ্যাচার কি নয়???

আর একশ্রেণীর ব্যক্তি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মানুষকে প্রভাবিত করতে এই ধরণের মিথ্যায় ভরা ছবি ছড়াচ্ছে আর এটা একেবারে পরিকল্পিত। সেনাবাহিনী দেশের নাম উজ্জ্বল করছে বলে যে দাবিগুলো করে তারা তাদের জন্য এই নিউজলিংকঃ
European, U.N. troops accused of sexual abuse in Central African Republic

২০১৬ সালের ২৯ জানুয়ারিতে রয়টার্স একটি প্রতিবেদন করে। সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে Another six children accused U.N. troops from Bangladesh, Democratic Republic of Congo, Niger and Morocco and U.N. police from Senegal of sex abuse. The number of allegations made in 2015 against U.N. peacekeepers is now 22.

ঢাকা ট্রিবিউনেও একই প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। নিউজ লিংকঃ
Bangladeshi troops in UN mission accused of sexual abuse - See more at: http://archive.dhakatribune.com/bangladesh/2016/jan/30/bangladeshi-un-peacekeepers-accused-sexual-abuse#sthash.Ms3IVyC6.dpuf

আর বেশি কিছু বলার নেই। সবশেষে এটাই হচ্ছে কথা যে, রমেল চাকমার ঘটনা নিয়ে এক শ্রেণীর মানুষ মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। আর সেই সাথে দেশের মৌলবাদী শ্রেণীর বড় বড় ব্লগার ও এক্টিভিস্টরাও এতে সম্পৃক্ত হয়েছেন। একজন বিতর্কিত লেখিকা যিনি পরকীয়াকে ধর্ষণ হিসেবে চালিয়ে দিয়েছেন তার বইয়ে, তিনি দাবি করেন পাহাড়ি দলগুলোর অর্থ কোথায় যায়?? আগামাথা বিহীনভাবে কোন তথ্য যখন বলা হয় তখন সেগুলো হাস্যকর পর্যায়ে রূপ নেয়।

হিটলারের বিশ্বস্ত সহচর গোয়েবলস এর একটা কথা আছে, একটা মিথ্যাকে যখন বারবার বলা হয় তখন সেটা একসময় সত্যে রূপ নেয়। পাহাড়ের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। এত পরিমাণে মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে যে সত্য কোনটি, কোন কথা গ্রহণ করতে হবে সেটিও ভুলে গেছে।

গতকালকে একজন ব্লগার ইস্টিশনে একটা লেখা দিয়েছিলেন “পাহাড়ের ষড়যন্ত্র” নামে। সেখানে তিনি চোখ রাঙিয়ে সাবধান করে দিয়েছেন, সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা বলেছেন (তথাকথিত জুমল্যান্ডের উদাহরণ বলেননি তবে এটাই বুঝিয়েছেন)। সত্য হচ্ছে, পাহাড়ের মানুষ শান্তি নিয়েই বেঁচে থাকতে চায়। যদি সে শান্তি বিঘ্নিত করে তাদের প্রতি পশুর আচরণ করা হয়, তাদের প্রান্তিকতার দিকে ঠেলে দেয়া হয় সে মানুষটি তখন নিজে বাঁচার জন্য স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতে বাধ্য হয়। ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবের বাঙালি হয়ে যাওয়ার উক্তি, ৭৫ পরবর্তী সময়ে সেটেলার অনুপ্রবেশ করিয়ে গণহত্যার ঘটনা, হাজার হাজার হয়তো লাখো পরিবারের ভারতে পালিয়ে গিয়ে মানবেতর জীবন যাপন ও শান্তি-সম্প্রীতি-উন্নয়নের নামে পাহাড়িদের আরো প্রান্তিকীকরণের প্রক্রিয়ায় একজন মানুষ স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখা দোষের কিছু না। আপনি মেরে-ধরে রাখবেন, নির্যাতন-নিপীড়ন চালাবেন আবার চাইবেন আপনার অধীনস্ত থাকতে, সেটা কিভাবে সম্ভব?? ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করেছেন কেন তাইলে? পাকিস্তানের অধীনে থাকলে সমস্যা কোথায় ছিল????

এসব প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলে এভাবে চোখ রাঙাতেন না, রাঙানোর সাহস পেতেন না। আপনার চোখ রাঙানি আপনার কাছেই রাখুন। মিথ্যাচার বন্ধ করুন। দেশের নাগরিক হিসেবে আপনার সমান আমারও বাঁচার অধিকার আছে, মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করার অধিকার আছে, কথা বলার অধিকার আছে।

রমেল চাকমা যদি তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হয়েও থাকে, তার বিচার দরকার তবে সেজন্য বিচার বিভাগ আছে, আইন আছে। রমেল চাকমার নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ আছে। কিন্তু এভাবে ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে মারায় আইনের প্রয়োগ কতটুকু হয়েছে? আর ওই ব্লগার বলেছেন এটি নাকি একটি এক্সিডেন্ট!!! একজন মানুষ মারা গেল নির্যাতনে আর জায়েজ করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন এক্সিডেন্ট বলে। এসব বলার সময় লজ্জা থাকা উচিত বলে আমি মনে করি।

তিমির বরণ চাকমা, শান্তি বরণ চাকমার মৃত্যুও তাহলে কি এক্সিডেন্ট ছিল? একজন দেশের নাগরিককে পিটিয়ে মেরে ফেলবেন আর বলবেন এক্সিডেন্ট?? অবাক লাগে, অবাক লাগে, অবাক লাগে। এই হচ্ছে দেশের একশ্রেণীর মানুষের প্রতিক্রিয়া।

আবারো বলছি, মিথ্যাচার বন্ধ করুন। সত্য প্রকাশের সৎ সাহস নিয়ে থাকুন। আমরা পাহাড়িরাও দেশের নাগরিক। দেশকে ভালোবাসি, দেশের সত্যিকারের উন্নয়ন আমাদেরও হোক।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অজল দেওয়ান
অজল দেওয়ান এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 1 দিন ago
Joined: শুক্রবার, জুন 6, 2014 - 11:16পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর