নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নাগিব মাহফুজ খান
  • মোঃ যীশুকৃষ্ণ

নতুন যাত্রী

  • রৌদ্র
  • তানভীর জনি
  • জাফর মিয়া
  • প্রোফেসর পিনাক
  • কৃষ্ণেন্দু দেবনাথ
  • রাশেদুজ্জামান কবির
  • পিনাক হালদার
  • ফ্রিডম
  • অ্যানার্কিস্ট
  • আশোক বোস

আপনি এখানে

আবোল তাবোল ২


আবোল তাবোল ২
(কৌশিক মজুমদার)২০.০৪.১৭
রাত ১০ টা বেজে পনের মিনিট।
দীর্ঘ যাত্রার পর নামলাম বয়রা বাজারে;এনামুল মামার দোকানে ।প্রতিদিন এখানে এককাপ চা না খেলে আমার পেটের ভাত হজম হয় না ।এককাপ দুধচা হাতে নিয়ে মুখের সামনে ধরে নাক দিয়ে টান দিলাম চায়ের ধোঁয়াটা ।গরম বাষ্প নাকের ছিদ্র দিয়ে চলে গেল ফুসফুসে।বুকের মধ্যে বেশ একটা গরম গরম ভাব এলো,ভাবটা আরামের।বুক ভরে প্রশ্বাস নিয়ে ,একটানা লম্বা একটা নিঃশ্বাস ছাড়লাম;যেন ভিতরকার প্রতিটা এলভিওলাসঃ জীবানুমুক্ত হয়ে বাইরের বাতাসে ছেড়ে দিল একবুক জীবানু।চা শেষ করে হাঁটা দিলাম শেরের মোড়ের দিকে;মা বাসায় ।তাই বারোটার আগেই বাসায় ফেরা চাই।তবুও অটো নিতে ইচ্ছে হল না।সন্ধ্যা থেকে একটানা ইজি বাইকে আবোল তাবোল ঘুরে মাথাটা সুকুমারের হিজিবিজবিজের মত হয়ে গেছে;সাইক্যাট্রিক ধীরাজ মোহন স্যার আমাকে ঘুরতে আর লোকজনদের সাথে ভালোভাবে কম্যুনিকেট করার পরামর্শ দিয়েছেন।হাঁটলাম শেরের মোড়ের দিকে।বিকেল থেকে আকাশটা গুমোড় হয়ে আছে,অভিমাণী ষোড়শীর মত- হঠাত যেন ফেটে পড়বে মাথার উপর একরাশ জল হয়ে।এই সম্ভাবনায়ই হয়ত রাস্তায় লোকজন আর গাড়িঘোড়া কম।
যাহোক সময়ের ক্রমিক যাত্রায় পৌঁছে গেলাম শেরের মোড়ের বটগাছটার কাছে ।বটগাছটা আমার খুবই কাছের মানুষ ।যদিও মানুষ বলে সবাই মনে করে না এটাকে।গাছ তো কথা বলে না,চলাফেরা করতে পারে না।তবুও অনেক জীববিদগণ মনে করেন গাছ চলাচল করে ,তবে খুব ধীর গতির ট্যাক্সিস হয়ের শিকরবাকড় ও কান্ডের।যাকে চলাচল না বলে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক দিকমুখিতা বলা চলে।আর আমি কতকটা স্কিজোফ্রেণিক তাই এই বটগাছগুলোর সাথে আমার প্রায়ই কথা হয়।এদিকে রাস্তার পাশে বড় বটগাছ বেশী একটা নেই -ভাঙা পোলে(জায়গার নাম ভাঙা পোল,যদিও এখানে কস্মিনকালেও কোনো পোল ছিল বলে কারো জানা নেই) একটা ,শেরের মোড়ে একটা,আর একটা ছিল পুজোখোলায় ।পুজোখোলার গাছটা যেদিন কাটা হয়েছিল,আমাঢ় ভয়ানক রকম মন খারাপ না হলেও কেমন একটা বিশ্রী রকমের লাগলছিল। মানুষের পোস্ট মর্টেম দেখলে অনভ্যস্ত অনেকের যেমন লাগে।
শেরের মোড়ের বটগাছটার কাছাকাছি যেতেই-দেখলাম একজন লোক ছাতা মাথায় দিয়ে রাস্তার উপর বসে আছে।প্রথমে ভেবেছিলাম ভিখিরি;পরে বুঝলাম না পাগল;তবে এখানে নতুন আমদানী।কারন রাস্তায় ঘুরে ঘুরে এখানকার সব পাগলই আমার চেনা হয়ে গেছে ।এই পৃথিবীতে অসাধারন আই মিন যারা সংখ্যায় কম পাগলেরা তাদেরই শ্রেণিভুক্ত,এজন্যেই তারা পাগল আর সবাই সুস্থ।একটা কথা আছে-"কে পাগল,আর কে নয় তা নির্ভর করে আপনি পাগলা গারদের কোনদিকটায় আছেন তার ওপর।"কেননা পাগলদের কাছে সে পাগল নয়,পাগল আপনি।তাই হয়ত তারা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ হত ,হয়ত তাদের জায়গায় আমরা হতাম।এইসব লোকেদের সাথে কম্যুনিকেট করতে আমার ভালোই লাগে ।কারন আপনার প্রশ্নের প্রত্যুত্তরে আপনাকে কি শুনতে হুবে আপনি তা জানেন না; অর্থাৎ একটা সাসপেন্স আছে, বাঁধাধরা নিয়মিত আলোচনার বাইরে।অবশ্য আপনি যে আদৌ পাত্তা পাবেন,আর আলোচনা দ্বিপাক্ষিক হবে এমন গ্যারান্টিও দেয়া যায় না।
যাহোক প্রথমেই কাছাকাছি না গিয়ে গাছের একটু দূরে বসলাম,রাস্তার দিকে মুখ করে,সামনে চারতলা নতুন মাল্টিস্টোরেডের দিক বরাবর।আস্তে আস্তে কাছে গেলাম;যদিও সে বসা নিচে রাস্তার উপরে আর আমি বাঁধানো অংশে।শুনলাম লোকটা গান গাইছে,আর্শ্চর্যের কথা সেটা একটা রবীন্দ্র সঙ্গীত (ভালোবাসি,ভালোবাসি-সেই সুরে,জলে স্থলে বাজায় ,বাজায় বাঁশি আরো অসংলগ্ন কিছু লাইন),রুচিশীল পাগল বলতে হবে।যা হোক কৌতুহল আরো বেড়ে গেল।আরো একটু কাছে যেতেই দেখলাম পিঠের দিক থেকে শার্টটা পুরোপুরি দ্বিধাবিভক্ত,আর নোংরা,হয়ত গরাগরি দিয়েছিল রাস্তায়;গায়ে সম্ভবত কাদা বা গোবর লেগে আছে।মনে পরে গেল বন্ধু Nasim Hossainn এর কথা যে গোবর খেয়ে টেস্ট করেছিল,এ ব্যাপারে তাই পাগলটা সারর্টিফাই করা গেল না।তবে বেশভূষায় বোঝা যায় এ লোক পুরোপুরি পাগল অর্থাৎ পার্মানেন্ট ইনসানিটি স্টেজেই আছে।মনে পড়ে গেল ছোটবেলার একটা ঘটনা আমাদের পাড়াতো বড়দা অন্তু দার কথা।আমাদের কাছে বীরত্ব দেখাতে তিনি পাগলকে কলা খাওয়াতে গিয়েছিলেন।পাগলতো আর হুনুমান নয়।ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতায় পাগলটা জড়িয়ে ধরেছিল দাদাকে।তারপর লোকজন জড়ো হয়ে হয়ে ছাড়ানো হল।দাদা ততক্ষনে চিতপটাং,জ্ঞান হারিয়ে বসে আসেন।আর এরপর সপ্তাহখানেক জ্বরে ভুগেও দাদার বীরত্ব কমেনি।
তাই,একটু মাথা নিচু করে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম ভাই কি করছেন/
একটু ঝাঁঝালো স্বরে উত্তর এলো
-দেখছেন না,ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে আছি।
-কই ?আপনি তো বসে আছেন ।
ঘাড় ঘুরিয়ে একগাল দাঁড়ি আর রোদে পোড়া তামটে রঙ নিয়ে পেছনেরদিকে ঘুরে তাকাল পাগলটা।আমার উতসাহ তবু দমল না।কিছুক্ষন থেমে আবার গলা খকখক করে বললাম;
--কারো জন্যে অপেক্ষা করছেন ?
হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল।
---কার জন্য?
--বৃষ্টির জন্য।ভিজব।
--ছাতা মাথায় কি করে ভিজবেন?
উত্তর এলো না।
এত ভিজলে তো আপনার তো হাইপোথারমিয়া হয়ে যাবে।
এবার আবারো ফিরল আমার দিকে ,চোখ বড় করে।
উঠে পরলাম, আর না।পুলিশ,রাজনৈতিক নেতা আর পাগলের মধ্যে কোনো তফাত নেই।কোন সময় কি করে বসে ঠিক নেই।
উঠে বাসার দিকে চললাম।কিছুটা দূরে গিয়ে ফিরে তাকালাম পাগলটার দিকে।আমাকে দেখছে কিনা?
নাহ।সে তেমনি ঠায় বসে আছে মিউজিয়ামের মোমের মূর্তির মত নিথর ,নিস্তেজ।রাস্তার সোডিয়াম আলো পড়ে তার তামাটে মুখখানাকে ঝলছে দিচ্ছে,এ যেন কাঁচা সোনার রঙে গড়া ক্রিস্টাল।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কৌশিক মজুমদার শুভ
কৌশিক মজুমদার শুভ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 6 দিন ago
Joined: রবিবার, এপ্রিল 2, 2017 - 7:31অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর