নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 10 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • জহিরুল ইসলাম
  • আমি অথবা অন্য কেউ
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • রুদ্র মাহমুদ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • রাজিব আহমেদ
  • তায়্যিব
  • রুবেল হোসাইন

নতুন যাত্রী

  • নবীন পাঠক
  • রকিব রাজন
  • রুবেল হোসাইন
  • অলি জালেম
  • চিন্ময় ইবনে খালিদ
  • সুস্মিত আবদুল্লাহ
  • দীপ্ত অধিকারী
  • সৈকত সমুদ্র
  • বেলাল ভুট্টো
  • তানভীর আহমেদ মিরাজ

আপনি এখানে

“সুষুপ্ত পাঠকদের” নাস্তিকতা – যেখানে যুক্তি আছে – বিজ্ঞান আছে, নেই সত্যনিষ্ঠা, নেই ইতিহাসনিষ্ঠা ! শেষ পর্ব।


আগের পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

এই সিরিজ ব্লগপোস্টটির, হারাধনের দশটি ছেলের মাঝে এখন বাকি আছে ইসরায়েল – প্যালেস্টাইন ইস্যু। আধুনিক কালের আন্তর্জাতিক বিশ্ব রাজনীতির সম্ভবত সবচাইতে জটিল সংকট হচ্ছে ইসরায়েল – প্যালেস্টাইন ইস্যু। ইসরায়েল – প্যালেস্টাইন সংকটে বেশীরভাগ বামপন্থি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ঘটনাটি মিথ্যা নয়, সারা পৃথিবীর বামপন্থিদের একটা বিরাট অংশ এই সংকটে ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে থাকেন। এমন কি খোদ ইসরায়েলের বামপন্থিদের একটা বড় অংশ ইসরায়েল – প্যালেস্টাইন সংকটে “দুই রাস্ট্র সমাধান” এর পক্ষে এবং প্যালেস্টাইনে ইসরায়েলী দখলদারিত্বের বিরোধী। সুষুপ্ত পাঠক বা আমাদের কোনও কোনও নিউ এথিস্ট বন্ধুরা মনে করেন, এই সংকট বিষয়ে ইসরায়েল এর সমালোচনা করা, ইসরায়েলী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার অর্থ হচ্ছে - “ইসলামী জঙ্গীবাদ” কে “পরোক্ষ” ভাবে সমর্থন করা। বামপন্থিরা যেহেতু ইসরায়েল এর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, প্যালেস্টাইনের উদ্বাস্তু মানুষের পক্ষে দাঁড়ান, সুতরাং তারা “পরোক্ষ” ভাবে ইসলামী জঙ্গীবাদকে সমর্থন জানান, এটাই হচ্ছে সুষুপ্ত ও তাঁর মতো বন্ধুদের যুক্তির কাঠামো। সুষুপ্ত লিখেছেন এভাবেঃ

"ফিলিস্তিন কিংবা আফগান বিষয়ে আমরা কি জেনে-বুঝেই জিহাদী-মুজাহিদদের সমর্থন করে যাচ্ছি?"

"‘মসজিদুল আকসা’ যা ইহুদীদের কাছে মুসলিমদের কাবাঘরের মতই পবিত্র। ইহুদীদের জেরুজালেম মুসলিমদের মতই মক্কা-মদিনার মতই পবিত্র ভূমি। সেই মসজিদুল আকসা বা বাইতুল মোকাদ্দেস বা সোলেমানের মন্দির দখল করার অভিলাষ কি করে পরাধীনতা থেকে মুক্তি পেতে দেশপ্রেমি মুক্তিযুদ্ধ হয়?"

"হামাস, হেজবুল্লাহ কোন মুক্তিবাহিনী নয়। এই সুচারু বিচারগুলো আবুল কাশেম ফজলুল হক স্যার, সলিমুল্লাহ খান, বদরুদ্দিন উমার, আনু মুহাম্মদ… স্যাররা বুঝেন না – নাকি বুঝেও উল্টো বুঝাতে চান- সেই সন্দেহ নিয়ে তাদের শত সৎ উদ্দেশ্যকেও দ্বিধাহীনভাবে গ্রহণ করতে পারছি না। দেশের তেল-গ্যাস নিয়ে তাদের সোচ্চার, তাদের দেশপ্রেম সবই স্বীকার করে নিয়েও ইসলামী জিহাদীদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি রীতিমত সন্দেহজনক…"।

এই হচ্ছে প্যালেস্টাইন - ইসরায়েল সংকট সম্পর্কে জনাব পাঠকের বোঝাপড়া। একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে তিনি ফজলুল হক আর সলিমুল্লাহ খান কে বদরউদ্দিন উমর এবং আনু মুহাম্মদের সাথে একই কাতারে উল্লেখ করছেন, যেটা হাস্যকর। এবং এদেরকে হামাস বা হিজবুল্লাহ'র পরোক্ষ সমর্থক বলার চেষ্টা করছেন, কোনও রকমের রেফারেন্স বা উৎস উল্লেখ না করেই। এটা সত্যনিষ্ঠার অভাব। বস্তুত সুষুপ্ত'র যুক্তি কাঠামো হচ্ছে উমর বা আনু মুহাম্মদ মার্কিন বিরোধী ও ইসরায়েল এর দখলদারিত্বর বিরোধী। আর যারা আমেরিকা বা ইসরায়েল বিরোধী তারাই ইসলামী জঙ্গীবাদের পরোক্ষ সমর্থক। দুঃখজনক সরলীকরণ।

ইসরায়েল – প্যালেস্টাইন সংকট নিয়ে গভীর আলোচনার আগে, “ইসলামী জঙ্গীবাদ” কে “পরোক্ষ” ভাবে সমর্থন করার এই সুত্র অনুযায়ী, আসুন একজন “বামপন্থি”, “ইসলামী জঙ্গী সহানুভূতিশীল”, ইসলামী জঙ্গীবাদ কে “পরোক্ষ” ভাবে সমর্থন দেয়া ব্রিটিশ নাগরিকের সাথে পরিচিত হয়ে নেই। কিছুকাল আগে (২০১৩ সালে) এই ব্রিটিশ নাগরিক, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত একটি অত্যন্ত সম্মানজনক বিজ্ঞান সন্মেলনে যোগদান করা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, সেই বিজ্ঞান সন্মেলনে থেকে নিজের গবেষণাপত্রটিও প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এটা প্যালেস্টাইনের জনগনের প্রতি তাঁর সমর্থন ও ইসরায়েলী আগ্রাসন ও গনহত্যার বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ। প্যালেস্টাইনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলী আগ্রাসন ও গনহত্যার প্রতিবাদে সারা দুনিয়াতে বিভিন্ন একাডেমিক মানুষদের আহবানে সাড়া দিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্যালেস্টাইনের একাডেমিক মানুষেরা তাঁকে অনুরোধ করেছেন এই আহবানে সাড়া দিতে এবং তিনি মনে করেন এই আহবানে তাঁর সাড়া দেয়া উচিৎ। এবং শুধু তাইই নয়, তিনি ফেসবুকে তাঁর প্রায় চল্লিশ লক্ষ (৩,৮ মিলিয়ন) অনুসারী পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র – শিক্ষকদের বলেছেন, অনলাইনে প্যালেস্টাইনি ছাত্রদের পদার্থবিজ্ঞানের লেকচার নেয়ার জন্যে। দেখুন তো কি বিদিকিচ্ছিরি কান্ড ! এই ব্রিটিশ ভদ্রলোকের নাম হচ্ছে স্টিফেন হকিং ! জি ভাই সকল, এই হকিং সাহেব সেই একই হকিং সাহেব যিনি সাম্প্রতিক সময়ে বলেছেন পৃথিবীর সৃষ্টিতে ঈশ্বর বা আল্লাহ্‌ বা ভগবানের কোনও হাত নেই, যে সংবাদটি আমাদের নিউ এথিস্ট সহ প্রায় সকল নাস্তিক বন্ধুরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন। এখন বলুন তো কোথায় যাই আমরা? লোয়ার মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত জনাব হকিং সাহেবও “ইসলামী জঙ্গীবাদের পরোক্ষ” সমর্থন করছেন, কোথায় যাবো আমরা বলতে পারেন?

স্টিফেন হকিং কে যথারীতি ইসরায়েল ও আমেরিকা ব্যাপক সমালোচনা করেছে ও বাকি সারা দুনিয়া শুভেচ্ছা জানিয়েছে। সেই প্রসঙ্গ না হয় আরেকদিন লিখবো। কেবল একটা প্রশ্ন করছি র‍্যাশনাল বাঙ্গালী নাস্তিকদের প্রতি, আপনারা কি সত্যি মনে করেন, অধ্যাপক স্টিফেন হকিং একজন “বামপন্থি”? আপনারা কি সত্যিই মনে করেন জনাব স্টিফেন হকিং একজন “ইসলামী জঙ্গীবাদের পরোক্ষ সমর্থক”?

অধ্যাপক স্টিফেন হকিং এর উদাহরনটি দিতে বাধ্য হলাম শুধু এটা বলার জন্যে যে, ইসরায়েল – প্যালেস্টাইন সংকট নিয়ে আমাদের নিউ এথিস্ট বন্ধু সুষুপ্ত পাঠকের জ্ঞান গরিমার দৌড় শিশুতোষ মানের (এখানে দেখুন
) । তিনি ইসরায়েল – প্যালেস্টাইন সংকটকে কেবল জেরুজালেম নিয়ে মুসলমানদের গোঁয়ারতুমি আর ইসলামী জঙ্গিবাদকেই বোঝেন। ইসরায়েল – প্যালেস্তাইন সংকট কে তিনি যেহেতু ইসলামী জঙ্গীবাদের বাইরে আর কিছুই মনে করেন না, তাই একই কুমির ছানা বারবার বিক্রি করার মত করেই তিনি ইউসুফ আব্দুল্লাহ আজম এর একটি মাত্র কোটেশনকে বারবার ব্যবহার করে থাকেন (এখানে দেখুন) । তিনি না জানেন এই সংকটের ইতিহাস, না জানেন এর বর্তমান রাজনীতি। অথচ এই সংকটের ইতিহাস – পরিনতি কিছুই না জেনেও তিনি ইসলামী জঙ্গিবাদের তত্ত্ব দিয়ে ইসরায়েল – প্যালেস্টাইন সংকট কে ব্যাখ্যা করে যাচ্ছেন। এটাকেই বলে “প্রেজুডিস” বা সংস্কার। অন্তত আধুনিক কালে ইসরায়েল প্যালেস্টাইন সংকট চলছে আজ প্রায় ষাট বছর ধরে, এর সাথে যুক্ত হয়েছে অন্তত পক্ষে প্রধান দশ – বারোটি স্টেকহোল্ডার, মোহতারেম সুষুপ্ত পাঠকের জ্ঞান গরিমায় এসবের কিছুই নেই, তিনি শুধু একটি নাম জানেন – শায়খ আব্দুল আজম, তিনি শুধু জানেন “হামাস” আর ইসলামী জঙ্গীবাদ। যারা ইসরেল – প্যালেস্টাইন সংকটের ‘অ – আ – ক – খ’ জানেন, তাঁরা জানেন ইসরায়েল – প্যালেস্টাইন সংকটে মার্কিন ভুমিকার কথা, তারা জানেন গত পঁয়ত্রিশ বছর ধরে ইসরায়েলী সেনা বাহিনীর প্যালেস্টাইনের ভুমিতে দখলদারিত্বের কথা, তারা জানেন ইসরায়েল - প্যালেস্টাইন সংকটের প্রধান পক্ষ কারা। প্যালেস্টাইনের জাতিয়তাবাদী সংগ্রামের প্রধান নেতা শায়খ আব্দুল্লাহ আজম নন, ইয়াসির আরাফাত। কিন্তু সুষুপ্ত'র ইতিহাসে আরাফাত গৌন, আজম মুখ্য, কেননা, তাহলে প্যালেস্টাইনের জনগনের সংগ্রামকে কেবলই ইসলামী জঙ্গীবাদ হিসাবে ব্যাখ্যা করাটা সহজ হয়ে ওঠে। এটাকেই আমি বলেছি - তথ্যনিষ্ঠার অভাব।

ইসরায়েল – প্যালেস্টাইন সংকট বিষয়ে আমাদের নিউ এথিস্ট বন্ধু সুষুপ্ত পাঠকের বোঝাপড়া দেখুনঃ

"বিষয়টা আমরা খুব ভাল করে বুঝি যখন ফিলিস্তিনীদের অবিসংবাদী নেতা ইয়াসির আরাফাতের বক্তব্য শুনি। ইজরাইলের সঙ্গে আরাফাত অসলো চুক্তি করেন যাতে রাষ্ট্র হিসেবে ইজরাইলকে মেনে নেয়ার কথা লেখা ছিল। বস্তুত মনে মনে আরাফাত যে ইজরাইল তথা ইহুদীদের অস্তিত্ব মধ্যপ্রাচ্যে কোনভাবেই মেনে নিতেন না, বরং জেরুজালেমের সলোমানের মন্দির তথা বাইতুল মোকাদ্দেস দখল করাই তার উদ্দেশ্য সেটা তিনি তার গুপ্ত ভাষণে জানিয়ে দিয়েছিলেন (এখান থেকে পড়ুন: http://www.danielpipes.org/316/al-hudaybiya-and-lessons-from-the-prophet...)। তিনি মসজিদে দেয়া গোপন ভাষণে জানিয়েছিলেন তার এই চুক্তি আসলে সাময়িক একটা কৌশল মাত্র। তিনি আসলে নবী মুহাম্মদের মত মক্কার কুরাইশদের সঙ্গে যে হুদাইবিয়া চুক্তি করেছিলেন সেরকমই একটা ফেক চুক্তি করেছেন। কারণ ইসলামী ইতিহাসে দেখা যায় মুহাম্মদ দশ বছরের এই চুক্তি দুইবছর পর নানা ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ তুলে মক্কা আক্রমন চালান।" ( দেখুন এখানে )

ধরুন উপরের এই বক্তব্যে জনাব সুষুপ্ত পাঠক কি বলতে চাচ্ছেন? তিনি বলতে চাচ্ছেন, ইয়াসির আরাফাত আসলে একজন বিশ্বাস ঘাতক, যিনি ওসলো চুক্তিকে একটা “ফেইক চুক্তি” হিসাবে করেছিলেন। এটা এক ধরনের বেইমানী এবং এই বেইমানীটা তিনি পেয়েছিলেন তাঁর নবী মুহাম্মদের কাছ থেকে। মুহাম্মদ যেমন হুদায়বিয়াতে চুক্তি করেছিলেন এবং পরে সময় সুযোগ মতো তা ভঙ্গ করেছিলেন, আরাফাত ও তাই করছেন, তাঁর আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে জেরুজালেমের সলোমনের মন্দির দখল করা। তাই তো?

প্রথমেই আসুন দেখে নেই, ইয়াসির আরাফাত আসলে সেই কথিত গোপন মিটিঙে কি বলেছিলেন, বলাই বাহুল্য আরাফাতের বক্তব্যটি হিব্রু বা আরবীতে নয়, ইংরাজিতে ছিলো। জনাব সুষুপ্ত পাঠক রেফারেন্স দিয়েছেন জনাব ড্যানিয়েল পাইপ এর ওয়েবপেইজ থেকে, আজকের দুনিয়াতে ইহুদী মৌলবাদের স্বপক্ষে যদি দুচারজন অনুগত মানুষ খোঁজা হয়, তাহলে জনাব ড্যানিয়েল পাইপ তাঁদের অন্যতম হবেন। এই আনুগত্যের পুরস্কার তিনি পেয়েছিলেন, ইসরায়েলের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার হিসাবে জনাব জর্জ বুশ তাঁকে তাঁর “শান্তি বিষয়ক উপদেষ্টা” হিসাবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ভেবে দেখুন জর্জ বুশের শান্তি বিষয়ক উপদেষ্টার বয়ানে আমাদেরকে জ্ঞান দিচ্ছেন জনাব সুষুপ্ত পাঠক। যাই হোক, যারা সিরিয়াস পাঠক তাঁদের জন্যে ইয়াসির আরাফাতের পুরো বক্তব্যের লিঙ্কটা এখানে দিয়ে দিলাম। আমি এই বক্তব্যের সাথে একমত নই, কিন্তু একজন মুসলিম জাতিয়তাবাদী নেতা হিসাবে এখানে তিনি প্যালেস্টাইনের জনগনের জন্যে তাঁর সেরা বক্তব্যটিই দিয়েছিলেন ( দেখুন এখানে) ।

এখন বলুন তো, যদি পবিত্রতার দোহাই দিয়ে ইহুদী রাষ্ট্র ইসরায়েল জেরুজালেম কে নিজেদের বলে দাবী করতে পারে, তাহলে একই দাবী প্যালেস্টাইন করলে সমস্যাটি কোথায়? সুষুপ্ত যেহেতু এই রাজনৈতিক সংকটের ইতিহাস জানেন না, তাই তিনি আরাফাতের এই বক্তব্যটিকে বিশ্বাসঘাতকতার সাথে তুলোনা করছেন। প্রকৃত ইতিহাস হচ্ছে – ইয়াসির আরাফাত শুধু জোহানেসবারগের মসজিদে নয়, খোদ জাতিসংঘের বৈঠকেও একাধিকবার বলেছেন, তাঁর রাজনৈতিক লক্ষ্য হচ্ছে জেরুজালেম কে প্যালেস্টাইনের অংশ হিসাবে অর্জন করা (জাতিসংঘে আরাফাতের বক্তৃতাটি দেখুন এখানে )। অসলো চুক্তি কি নৈতিকভাবে প্যালেস্টাইনের জনগন কে জেরুজালেম এর দাবী থেকে খারিজ করে? করেনা। আমি বা যে কেউ এই দাবীর সাথে দ্বিমত করতে পারি, কিন্তু প্যালেস্টাইনের জনগনের কাছে একজন জাতিয়তাবাদী নেতার এই প্রতিশ্রুতি কি তাঁর জনগনের সাথে বেইমানী? শেখ মুজিব বাংলাদেশের জন্যে একটি আলাদা ভুমির সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে কি দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছিলেন নাকি পাকিস্তানের সাথে বেইমানী করেছিলেন? এর উত্তর নির্ভর করবে, আপনি কোন দিক থেকে প্রশ্নটিকে দেখছেন, পাকিস্তানীরা যেমন শেখ মুজিব কে একজন বেইমান হিসাবেই জানে, ঠিক তেমনি, ইসরাইলের চশমা দিয়ে দেখলে আরাফাতকে অবশ্যই একজন বেইমান হিসাবেই মনে হবে।

ইয়াসির আরাফাতের এই বেইমানীর সুত্র ধরে আরেকটি মজার বিষয় উল্লেখ করার লোভ সামলাতে পারছিনা, অসলো চুক্তির বিষয়ে কি আরাফাত একাই লোক দেখানো “ফেইক” চুক্তি করেছিলেন? নাকি ইসরাইলও একই কাজ করেছিলো? অসলো চুক্তিতে কি শুধু ইসরায়েল এর অস্তিত্ব স্বীকার করে নেয়ার শর্ত ছিলো নাকি প্যালেস্টাইনকেও স্বীকার করে নেয়ার কথা ছিলো? পরবর্তী বাস্তবতা আমাদেরকে কি দেখিয়েছে, ইসরায়েল কি অসলো চুক্তির বাস্তবায়ন করেছে? অসলো চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কার দায়িত্ব বেশী ছিলো? অসলো চুক্তির আগে বা পরে দখলদার কে ছিলো ইসরায়েল নাকি প্যালেস্টাইন? সুষুপ্ত পাঠকের কাছে এসবের উত্তর পাওয়া যাবেনা। এসবের উত্তর খুঁজতে হলে ফেসবুকের “লাইক” এর মোহ ছেড়ে পড়াশুনা করতে হবে, কিন্তু পাঠ করার সময় নেই আমাদের বন্ধু পাঠকের। এই প্রসঙ্গটি উল্লেখ করছি এই জন্যে যে, ইয়াসির আরাফাতের জেরুজালেম দখল করার চাইতেও ভয়াবহ স্টেটমেন্ট এর নজির আছে ইসরায়েল এর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু’র কাছ থেকে। যেখানে তিনি ব্যাখ্যা করছেন কিভাবে আমেরিকা কে ইসরায়েল ব্যবহার করছে, কিভাবে ইসরায়েলর উচিৎ প্যালেস্টাইনের কোমড় ভেঙ্গে দেয়ার। আর হ্যাঁ, এই কথাগুলো তিনি বলছেন – অসলো চুক্তির পরে, আগে নয়। দেখে নিতে পারেন এখানে( দেখুন এখানে )। সুষুপ্ত পাঠক নেতানিয়াহু’র এই ধরনের বক্তব্যকেও কি মুহাম্মদের হুদাইবিয়া চুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে? যারা বিস্তারিত জানতে চান, তারা এখান থেকে পড়ে নিতে পারেন (দেখুন এখানে )

বাস্তব সত্যি হচ্ছে, চুক্তি করা ও চুক্তি ভঙ্গের ইতিহাস আধুনিক রাজনীতিতে হাজার হাজার নজির আছে। মুহাম্মদের আগেও চুক্তি ভঙ্গ করেছে মানুষ, মুহাম্মদ করেছে এবং আজও করছে। সুষুপ্ত চুক্তি ভঙ্গের ইতিহাস জানেন না। চুক্তি ভঙ্গের ইতিহাস নিয়ে আরেকদিন লিখবো।


(পঁয়ত্রিশ বছর ধরে প্যালেস্টাইনের জনগন বসবাস করছে এই রকমের দখলদারিত্বের মাঝে, আমাদের নিউ এথিস্ট বন্ধুদের সুত্রমতে, এই দখলদারিত্বের প্রতিবাদ করা, বিরোধিতা করার নাম হচ্ছে ইসলামী জঙ্গীদের "পরোক্ষ" ভাবে সমর্থন করা।)

সুষুপ্ত পাঠক নিশ্চিত নন প্যালেস্টাইনের জনগনের সংগ্রাম আসলে কোনও স্বাধীনতার সংগ্রাম কিনা। ভালো কথা, কারো কাছে প্যালেস্টাইনের জনগনের সংগ্রাম কে মুক্তি সংগ্রাম মনে নাও হতে পারে। কারো কারো কাছে ইসরায়েল এর আগ্রাসনকেও কোনও আগ্রাসন মনে হয়না, কেবলই আত্মরক্ষা মনে হয়। তারপরেও যদি প্রশ্ন করি, ইসরায়েল – প্যালেস্টাইন ইস্যুতে একজন নাস্তিক আসলে কোন পক্ষ নেবেন? ইসরায়েলের নাকি প্যালেস্টাইনের? ব্যক্তিগত ভাবে, আমি ইসরায়েল প্যালেস্টাইন বিশেষজ্ঞ নই। কিন্তু আমার স্বাভাবিক যুক্তিবোধ বরং পাল্টা প্রশ্ন করে, একজন নাস্তিক কি আসলে কোনও একটি পক্ষে সমর্থন করতে পারেন? কেননা দুপক্ষই দাবী করছে তাঁদের নিজেদের জন্যে একটি ভুমি এবং সেই দাবীর পক্ষে কারণ হচ্ছে “ঈশ্বরের ইচ্ছা”। দুপক্ষই দাবী করছে “জেরুজালেম” তাঁদের জন্যে পবিত্র মাটি হিসাবে এবং ঈশ্বর নাকি তাঁদের দুপক্ষকেই সেই ভুমির স্বাভাবিক দাবিদার (ন্যাচারাল ক্লাইমেন্ট) হিসাবে পাঠিয়েছেন। নাস্তিকেরা যেখানে ঈশ্বরের অস্তিত্বকেই মিথ্যা – ভুয়া বা ফেইক মনে করে, সেখানে ঈশ্বরের ইচ্ছার উপরে ভর করে ফাঁদা দুপক্ষের দাবীটি কি সন্দেহাতীত ভাবেই ফেইক নয়? সুতরাং, শুধুমাত্র ধর্ম বা ঈশ্বরের ইচ্ছার উপর ভিত্তি করে যে রাস্ট্র গঠনের দাবী জানানো হয়, একজন নাস্তিক ও র‍্যাশনাল মানুষ তাঁকে সমর্থন করতে পারেননা। তা সেই দাবী প্যালেস্টাইনই করুক বা ইসরায়েলই করুক। কিন্তু আমরা দেখেছি – বামপন্থি, ডানপন্থি, উদারনিতিবাদী, সংরক্ষনবাদী সকলেই একটি পক্ষ নিয়ে বসে থাকেন। তেমনি নাস্তিকেরাও একটি পক্ষ নিয়ে থাকেন। অন্তত আন্তর্জাতিক নিউ এথিস্টদের অবস্থান ইসরায়েল এর পক্ষে। আন্তর্জাতিক নিউ এথিস্টদের একজন গুরুদেব জনাব স্যাম হ্যারিসের একটি পরিস্কার ভিডিও আছে যেখানে তিনি ব্যাখ্যা করছেন – কেনও তিনি ইসরায়েল এর পক্ষে অবস্থান করেন। ইসরায়েল নিজেদেরকে একটি “ইহুদী রাষ্ট্র” বা জিউস স্টেইট হিসাবে গড়ে তুলতে চায়, প্যালেস্টাইনের সেখানে আপত্তি আছে কারণ ইসরায়েল এ ২৫% অ-ইহুদী জনগন আছে। আমরা বাংলাদেশে ৯২% মুসলমান থাকা সত্ত্বেও দাবী করি, স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশ একটি সত্যিকারের সেকুলার দেশ হয়ে উঠবে, সেখানে ৬২% ইহুদী ও ৩৮% অন্যান্য ধর্মের জনগন নিয়ে গড়ে ওঠা ইসরায়েল কে কি একটি “ইহুদী রাষ্ট্র” হিসাবে নৈতিক সমর্থন দেয়ার কোনও কারণ আছে? একজন নাস্তিক কি কোনও ভাবেই একটি ধর্মীয় রাষ্ট্র কে সমর্থন করতে পারেন? তা সে ইসলামী বা ইহুদী রাষ্ট্র? এখন আপ্নারাই বলুন তো, একজন নাস্তিকের কাছে কি একটি রাস্ট্র কি “ইহুদী” বা “মুসলমান” বা “হিন্দু” হতে পারে? যদি রাজনীতির কোপে পড়ে হয়ও, একজন নাস্তিক কি এই ধরনের রাস্ট্র গঠনের দাবীকে সমর্থন করতে পারেন? তাহলে, নিউ এথিস্টদের ইসরায়েল সমর্থন বিষয়টিকে কিভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে?

রাজনৈতিক মতামতের দিক থেকে একজন মানুষ দুপক্ষের যেকোনো এক পক্ষকে সমর্থন করতেই পারেন। এই সমর্থন করাটা দোষের কিছু নয়। সারা পৃথিবীর সকল বামপন্থীদের, উদারনিতিবাদী রাজনীতি বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশ আমেরিকার বিদেশনীতির বিরোধিতা করে থাকেন। এই বিরোধিতার একটি প্রধান কারণ হচ্ছে ইসরায়েলকে চল্লিশ বছর ধরে অব্যাহত ভাবে নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা দিয়ে আসা। আমেরিকার ইসরায়েল নীতির বিরোধিতা করা আর ইসলামের পদ লেহন করা কি এক কথা? জনাব স্যাম হ্যারিস খুব পরিস্কার ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন কেনও তিনি মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটটিতে ইসরায়েলকে সমর্থন করেন। কিন্তু আমাদের সুষুপ্ত’র মতো নিউ এথিস্টদের সেই মেধা টুকুও নেই।

এবার সরাসরি প্রশ্ন টা করি, বামপন্থিরা কি প্যালেস্টাইনের স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতি সহানুভুতিশীল? প্যালেস্টাইনের আন্দোলনের প্রতি সহানুভুতিশীল হওয়া কি ইসলামী জঙ্গিবাদের সমর্থক হওয়ার সমার্থক? এই দুটি প্রশ্নের উত্তর দেখা যাক এবার। হ্যাঁ, সুষুপ্ত পাঠকের সাথে হয়তো একটা যায়গায় আমার খানিকটা মতৈক্য আছে, তাহলো, প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বামপন্থিরা সবসময় সরব, ব্যক্তিগত ভাবে, দলগত ভাবে এমন কি রাষ্ট্রীয়ভাবেও। উদাহরন দিচ্ছি আমি, সুইডেনের বর্তমান সরকার হচ্ছে বাম্পন্থিদের সরকার। প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লোভিয়েন এর মন্ত্রীসভা ক্ষমতা নেয়ার সপ্তাহ খানেকের মাথায় ঘোষণা করেন, তাঁরা প্যালেস্টাইন কে একটি স্বাধীন রাস্ট্র হিসাবে মনে করেন এবং তারা প্যালেস্টাইনে ইসরায়েল এর আগ্রাসন ও দখলদারিত্বের বিরোধিতা করেন। এই সরব হওয়ার মূল কারণটা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আমেরিকার আগ্রাসীনীতির বিরোধিতা করে বামপন্থিরা। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, প্যালেস্টাইনের স্বাধিকারের কথা কিম্বা ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের প্রতিবাদ করা আর জঙ্গীগোষ্ঠী হামাসকে সমর্থন করাকি এক কথা? রাষ্ট্র হিসাবে সুইডেন কি ইসলামী জঙ্গীবাদের সমর্থক? (দেখুন এখানে)

শেষকথা
ব্যক্তিগত ভাবে একজন নাস্তিক হওয়া সত্ত্বেও আমি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের নাস্তিকতাবাদী লেখালেখির সমালোচনা শুরু করেছি। এর প্রধান কারণ আমাদের নাস্তিকতাবাদী লেখালেখির ধারার কোনও কোনও অংশ যুক্তি ও র‍্যাশনালিজম ছেড়ে ফ্যালাসী ও দাদাগিরির উপরে ভর করেছে। “মুক্তচিন্তক” দাবিদারদের লেখায় তাই দেখা যাচ্ছে মারাত্মক স্টেরিওটাইপিং আর বর্ণবাদী বিদ্বেষ। কারো কারো লেখা মধ্যযুগীয় কায়দায় নারীর প্রতি বিদ্বেষ লক্ষ্য করা গেছে। আর মানবিক সংকট ও প্রশ্নগুলোতে তো হরহামেশাই ভয়াবহ অমানবিক সব দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যাচ্ছে। আমি এসবের বিরোধিতা করি। আমি মনে করি নাস্তিকতার আন্দোলনকে মানবিক হতে হবে, জাতি বিদ্বেষ, বর্ণবাদ, নারীর প্রতি সকল রকমের বিদ্বেষ থেকে মুক্ত হতে হবে। হতেই হবে এমন হয়তো কোনও কথা নেই, কিন্তু আমি যে নাস্তিকতা করি তা র‍্যাশনাল বুদ্ধিবৃত্তির দাবী করে। আমি ফেসবুকের “ট্রল” জাতীয় লেখালেখিকে খুব অন্যায় মনে করিনা, আমি মনে করি সামাজিক আড্ডায় মানুষ বিভিন্ন ভাবে হিউমার প্রয়োগ করতে পারেন, মানুষে মানুষে তার তফাত হয়। এমন কি ক্যারিকেচার চিত্র বা সাহিত্যেও আমার কোনও অরুচী নেই, আমি বরং মান সম্পন্ন ক্যারিকেচার ভালোবাসি। ইউরোপে বহু শিল্পী যীশুকে নিয়ে হাজার খানেক ক্যারিক্যাচার করেছেন গত দুশো বছরে। মুহাম্মদ কে নিয়ে ক্যারিক্যাচার করায় ইসলামিস্টদের কোপানলে আছেন বেশ কয়েকজন শিল্পী – লেখক। নৈতিক ভাবে আমি এই লেখক – শিল্পীদের পক্ষে দাঁড়াই। আমাদের আরো অনেক নাস্তিক বন্ধুদের মতো আমি মনে করি, মুহাম্মদ এবং তার কথিত আল্লাহ্‌ সমালোচনার অধীন, ক্যারিক্যাচারের অধীন। সমালোচনা করা, ক্যারিক্যাচার করা স্বাধীন মানুষের অধিকার।

প্যালেস্টাইনের জনগন যেহেতু মুসলমান, সুতরাং প্যালেস্টাইনের স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন করা মানেই হচ্ছে জঙ্গীবাদকে সমর্থন করা। এটা সারা দুনিয়ার নতুন রাজনৈতিক দর্শন, একে বলা হয়, “বুশ ডকট্রিন”। আপনি যদি আমাকে সমর্থন না করেন তাঁর মানে হচ্ছে আপনি আমার শত্রুকে সমর্থন করেন। খুবই কার্যকর রাজনৈতিক দর্শন। আওয়ামীলীগ গত তিরিশ বছর ধরে এই স্ট্র্যাটেজি কাজে লাগিয়েছে, আওয়ামীলীগের বিরোধিতা করা মানে হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনার বিরোধিতা করা, আর মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনার বিরোধিতা করার মানে হচ্ছে আপনি একজন রাজাকার। অতএব, আওয়ামীলীগের বিরোধিতা, সমালোচনা করার মানেই হচ্ছে আপনি একজন রাজাকার। নিউ এথিস্টদের মাঝে অনেকেই এই বুশ ডকট্রিন দ্বারা মারাত্মক ভাবে সংক্রমিত। এই সংক্রমন দূর করতে হবে, আমাদেরকেই।

নাস্তিকতাবাদী এক্টিভজম হওয়া দরকার তথ্যনিষ্ঠ, বস্তুনিষ্ঠ, ইতিহাসনিষ্ঠ। জনাব সুষুপ্ত পাঠক কিম্বা অন্য নিউ এথিস্টদের প্রতি এটুকুই আহবান, যা লিখছেন লিখুন, শুধু লেখালেখির ন্যূনতম নৈতিকতাটুকু প্রদর্শন করুন। তারপর ইসরায়েল কিম্বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে কারো প্রতি অনুগত থাকলেও সমস্যা নেই।

Comments

পথচারী এর ছবি
 

ইসরায়েল রাষ্ট্র যখন প্রতিষ্ঠা হয় তখন (মতান্তরে) বার্ট্রান্ড রাসেল এর নামকরণ করেছিলেন, ড্যাগার টু মিড্‌ল ইস্ট (ইসরায়েলের ম্যাপের আকার দেখুন)।

 
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
 

মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ। রাসেল একথা বলতেও পারেন, কেননা, মৃত্যুর মাত্র তিন দিন আগেও তিনি তাঁর শেষ বানীটি লিখে গিয়েছিলেন ইসরায়েল এর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে।

 
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
 

আপনার চিন্তাভাবনা পছন্দ হইছে। ক্রিকেটে একটা কথা আছে না, কমপালসিভ হুকার পুলার। এইরকম অনেকে আছে ভালো হোক খারাপ হোক ঢালাও আক্রমণে, বিরুদ্ধাচরণে বিশ্বাসী, একটা শিশুকে যখন বাচ্চা থেকে ধর্মে বিশ্বাস করায়, ধর্মে বিশ্বাস অন্ধের মত হয়, এইরকম অনেক নাস্তিকের আচরণ অযৌক্তিক, অনেকটা অন্ধ বিশ্বাসেরই মতন, প্রিডিটারমাইন্ড অবস্থানের কারণে।

পোস্টে ভালোলাগা রইলো।

মরতে মরতে ভুল হয়ে যাবে, শেষ নিঃশ্বাসে রয়ে যাবে পাপ। আমি তো নাদান, আমি যে বান্দা খারাপ...

 
 

নিউ এথিস্টদের মাঝে অনেকেই বুশ ডকট্রিন দ্বারা মারাত্মক ভাবে সংক্রমিত। এই সংক্রমন দূর করতে হবে, আমাদেরকেই।..............

ধন্যবাদ,সারওয়ার ভাই।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাম সারওয়ার
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
Offline
Last seen: 4 weeks 8 ঘন্টা ago
Joined: শনিবার, মার্চ 23, 2013 - 4:42পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর