নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 12 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মওদুদ তন্ময়
  • মারিও সুইটেন মুরমু
  • অপ্রিয় কথা
  • শিকারী
  • মিশু মিলন
  • দেবজ্যোতিকাজল
  • সৈয়দ আহসান
  • ফারজানা সুমনা
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • নরসুন্দর মানুষ

নতুন যাত্রী

  • প্রলয় দস্তিদার
  • ফারিয়া রিশতা
  • চ্যাং
  • রাসেল আহমেদ
  • আবদুর রহমান শ্রাবণ
  • হিপোক্রেটস কিলার
  • পরিতোষ
  • শ্যামা
  • শিকারী
  • মারিও সুইটেন মুরমু

আপনি এখানে

ইসলামের জোর জবরদস্তী!


জোর জবরদস্তির সাথে ইসলামের কি সম্পর্ক? ধরে আন, বেঁধে আন, কল্লা নামায়ে দে - এগুলো তো কোরআনের আয়াতের মত অমোঘ বাণী হয়ে উঠছে। শুনি যে সালাফি মতবাদে সব কিছু সেই আদি ইসলামিক নিয়মে চলে যাবে। অন্তত এমনটাই ইসলামের খাস বান্দারা ইদানিং আশা করছেন। সাধু! তো ভাইজানেরা কালাসনিকভ ছেড়ে তলোয়ার ধরছেন কবে? লাউড স্পিকার ছেড়ে খালি গলা? ইন্টারনেটটা কি ছাড়বেন? ইলেকট্রিসিটি বাদে আরাম আয়েশ পাবেন কোথায়? আচ্ছা! এগুলো রাখতে চান? তো মুমিনভাইরা। এদের আবিষ্কারকারীরা তো বেধর্মী মুনাফেক। এদের সাহায্য নিবেন? আচ্ছা! সব কিছুই আল্লাহর নিয়ামত, এটাই বলবেন তো? চমৎকার। কিন্তু ব্রাদার গত কয়েকশো বছর ধরে আল্লাহর নিয়ামত আল্লাহর বান্দাদের উপর এত বিরূপ কেন? যা কিছু মানবজাতির জন্য কল্যাণকর তার সবই তো ইহুদী নাসাররা আবিষ্কার করে চলেছে! আপনারা কি করছেন? সেগুলো ভোগ করছেন। তাদের ব্যবহৃত ওষুধ দিয়ে জীবন বাচাচ্ছেন, তাদের উদ্ভাবিত ইন্টারনেট ব্যবহার করে জিহাদের প্রচার করছেন। এমনকি নিজেরা যে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলছেন, তাও তাদের আবিষ্কার করা মাল দিয়ে!

যা হোক, কোন ব্যাপার না। যারা মানবজাতির কল্যাণে এসব আবিষ্কার করেছে, তারা আপনি কোন ধর্মের তার কেয়ার করে না। কিন্তু আপনি? তাগো জিনিস, তাদের আবিষ্কার ব্যবহার করবেন আর সারাটা দিন তাগো শাপ-শাপান্ত করবেন। ইহুদী নাসার আর হিন্দুগো গালি না দিলে আপনাদের নামাজ হয় না! না, একদম মিথ্যা না। কোরআন শরীফটা একটু খুলে দেখেন। আপনাদের মদিনা সনদের সরকারের http://www.quran.gov.bd/ এই সাইটে যেয়ে সুরা গুলা পড়ে দেখেন। কি অপরিসীম ঘৃণা ছড়ানো পাতায় পাতায়! চিল্লায়েন না! আমি জানি অন্য ধর্মেও বিধর্মীদের সম্বন্ধে ভাল কথা বলা নেই। কিন্তু তারা ধর্মীয় সেসব অনুশাসন পাশে সরিয়ে রাখতে পেরেছে। তারা বলতে শিখছে, মানব কল্যানের সাথে সাংঘর্ষিক কোন ধর্মীয় বিধান তারা মানেনা। এমনকি পোপ বলছেন, স্বর্গে যেতে গেলে ধর্ম লাগবে না। আর আপনারা? এত ঘৃণা কোথায় রাখেন? এত বিদ্বেষ নিয়ে কি করে ঘুমান?

সেদিন আমার দিল্লী প্রবাসী ফেইসবুক বান্ধবী লিখেছেন শিখদের পরোপকারের কথা। আমিও বিভিন্ন দেশে ঘুরতে যেয়ে দেখেছি, মানুষ কিভাবে মানুষকে ধর্ম নির্বিশেষে সাহায্য করে। গুরুজন, বাচ্চা আর মেয়েদের যে সম্মান, তুলনা মেলা ভার। অনেক মুসলমান ভাল মানুষের যে দেখা পাইনি, তা কিন্তু না। তবে তারা যে বিধর্মীদের উপকার করেন, তা কি তাদের ধর্মে সমর্থন করে? করেনা। নিচে সুরা আর আয়াত দিলাম কিছু। পড়ে নিবেনঃ
আল মায়িদা: ৫১
আল মায়িদা: ৫৫
আলে ইমরান: ১১৮
সূরা মুমতাহানা: ১৩
শুধু একটা উদাহরণ দেই, সুরা নিসার ১৪৪ নম্বর আয়াতঃ
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা কাফেরদেরকে বন্ধু বানিও না মুসলমানদের বাদ দিয়ে। তোমরা কি এমনটি করে নিজের উপর আল্লাহর প্রকাশ্য দলীল কায়েম করে দেবে?"

আমরা কোন কিছু দিলে তো মুমিনরা ঠিক বিশ্বাস করেন না। তাই রেফারেন্স দিলাম, উনারা পড়ে নিক।
সেদিন মতিঝিল এলাকায় এক ওয়াজ শুনছিলাম। বক্তা নানাভাবে এসব বিধর্মী বিরোধী আয়াতকে হালকা করার চেষ্টা করছেন। করতে যেয়ে বলছেন, এগুলো বলা হয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে। মানে আপনি তাত্বিকভাবে বিধর্মীদের কিছু গ্রহণ করবেন না! মানে তাদের বই পড়বেন না, তাদের আবিষ্কৃত কিছু ব্যবহার করবেন না! এমন কি তাদের দেশে যাবেন না! রাষ্ট্রীয় ভাবেও বিধর্মী রাষ্ট্রর সাথে সহযোগিতামূলক আচরণ করা যাবে না! পরে আমি একটু ঘেটে দেখলাম, এসব শুধু ঐ হুজুর বলছে না। যে কোন ইসলামিক সাইটেও এমন নানা লেখা পাওয়া যায়। অনেক ইসলামিক আলেমও এমন ধারনা পোষণ করেন।

তাহলে তো বিধর্মীদের আবিষ্কৃত কিছু মুসলমানেরা ব্যবহার করতে পারে না। কিন্তু তারা তো বরং অতি মাত্রায় তা করে থাকেন!
“মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের (ফায়দার) জন্য দুনিয়ার সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন।” ( বাক্বারাহ -২৯)

থামেন আরো আছে! আরেকখান হাদিস দিয়ে সব হালাল হয়ে গেছে-
“নিশ্চয়ই দুনিয়া তোমাদের (খিদমতের) জন্য তৈরি করা হয়েছে আর তোমরা সৃষ্টি হয়েছে পরকাল মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য।”
http://www.old.al-ihsan.net/fulltext.aspx?subid=1&textid=10604
এই সাইটে নীচের লেখাটা পেলামঃ
"কাজেই সকল কাফিররা হলো মুসলমানদের খাদিম। তারা অনেক কিছু তৈরি করবে, আবিষ্কার করেছে এবং করবে। কিন্তু মুসলমানদেরকে যাচাই করতে হবে, দেখতে হবে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস দিয়ে পরখ করে নিতে হবে- কাফিরদের ওই সকল খিদমতের কোনটা সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার খিলাফ, আর কোনটা খিলাফ নয়। তখন মুসলমানগণ যেটা শরীয়তসম্মত দেখবেন সেটা ইচ্ছা করলে গ্রহণ করলেও করতে পারেন। আর সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার খিলাফ হলে অবশ্যই অবশ্যই তা বর্জন করবেন।"
এইবার বোঝেন ঠেলা! তো মাইক বা লাউড স্পিকার তো বিধর্মীদের আবিষ্কার। এর ব্যবহারেও তো বেশরিয়তী (গানা বাজনা) ব্যাপারই বেশি। এটা ব্যবহার কোন যুক্তিতে হালাল হয়? কিম্বা AK 47?

আসলে ইসলাম ধর্মটার মধ্যেই একটা জোর জবরদস্তি ব্যাপার আছে। আপনি মুসলমান না তাই আপনি তার খাদেম। আপনি সজ্ঞানে ইসলাম গ্রহণ করেননি, কিন্তু একটা মুসলিম পরিবারে জন্মেছেন, আপনার বাব-মাও আপনাকে কোনদিন কোন ধর্মে দীক্ষা দেননি, তবুও আপনি ইসলামি শৃঙ্খল থেকে মুক্ত নন। আপনি ধর্ম থেকে বের হতে চাইলেই আপনি মুরতাদ!
এই যে লিখছি, এটাও তো তাদের অনুভূতিতে আঘাত করবে নিশ্চিত। তারা বেশ কিছু গালিও দিবে। বলবে সারাদিন ইসলামে ক্যাচাল দেখে বেড়ানোই আমাদের কাজ! ইসলামোফবিক! ভাই আপনার উপকার করে মানষে আপনার খাদেম, আর আমরা আপনার পেটের ভিতর সদা নিষ্পেষিত, কাফের, মুরতাদ! সদাই আপনাদের চোখ রাঙানি! দু'কলম লিখতেও পারবো না?

Comments

সত্যর সাথে সর্বদা এর ছবি
 

চমৎকার লিখেছেন

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

জংশন
জংশন এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 13 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, এপ্রিল 6, 2015 - 11:42অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর