নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নাগিব মাহফুজ খান
  • মোঃ যীশুকৃষ্ণ

নতুন যাত্রী

  • রৌদ্র
  • তানভীর জনি
  • জাফর মিয়া
  • প্রোফেসর পিনাক
  • কৃষ্ণেন্দু দেবনাথ
  • রাশেদুজ্জামান কবির
  • পিনাক হালদার
  • ফ্রিডম
  • অ্যানার্কিস্ট
  • আশোক বোস

আপনি এখানে

নারীর পোশাক নয় বদলানো উচিত আমাদের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। আমি নিজেকে বদলে নিয়েছি, আপনারাও নিজেকে বদলান।


বাংলাদেশে ধর্ষণ বা গণ ধর্ষণ বা শ্লীলতাহানি বা যৌন নির্যাতন নিয়মিত ঘটনা। এসবের জন্য এক শ্রেণীর পুরুষ নারীর পোশাককে দায়ী করে থাকে।

আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারকে নিয়ন্ত্রণ করে ধর্ম। শৈশবেই বাচ্চাদের শেখানো হয় যে শালীনতা পোশাকের উপর নির্ভর করে। ধর্ম নারীদের পোশাক নির্ধারণ করে দিয়েছে। এখন রাষ্ট্রও আমাদের শিক্ষা দেয়; ও তে ওড়না ! সমাজ ও পরিবার শিক্ষা দেয়; যারা বড় বড় পোশাক পড়ে তারাই শালীন। আর যারা ছোট ছোট পোশাক পড়ে তারা অশালীন। বেপর্দা নারীরা খারাপ, অসভ্য, বেহায়া, নোংরা ! ফলে মানুষ সেই শৈশব থেকেই এই ভ্রান্ত ধারণা নিয়েই বড় হয়। যার কারণে যখনই সে কোন ছোট পোশাকের নারীকে দেখে তখন সে ধরেই নেয় ওই নারীটি খারাপ অশালীন এবং এজন্য খুব সহজেই মাথার মধ্যে কুৎসিত চিন্তা ধারা খেলে। ফলে ধর্ষণ, গণ ধর্ষণ বা শ্লীলতাহানির মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এজন্য সমাজ পরিবার, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় কুশিক্ষাই দায়ী।

যেহেতু বাংলাদেশে মুসলমানের সংখ্যা বেশি, তাই তাদের যুক্তিকে জোরালো করার জন্য তারা ধর্মীয় বিধিনিষেধ যোগ করার চেষ্টা করে। কোথাও যখন ধর্ষণ, গণ ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, তখনি তাঁরা ওই ঘটনার দায়ভার উল্টো মেয়েদের উপর চাপিয়ে দেয়ার জন্য সঙ্ঘবদ্ধভাবে একটা জোর চেষ্টা চালান। ওই ঘটনার জন্য মেয়েদের পোশাককে দায়ী করেন। তাদের অভিযোগ, মেয়েরা যদি পর্দা করত, তা হলে এমন ঘটনা ঘটতো না। (পয়েলা বৈশাখের টিএসসির ঘটনাই তার বড় প্রমাণ।) গোঁড়পন্থি মুসলিমানরা নারীকে শিকলবন্দী করতে চাইছে। তাঁদের কাছে মনে হয় ছোট পোশাকের নারীকে অশ্লীল। বেপর্দা মহিলারা খারাপ হয়। ভিড়ের মধ্যে মহিলাদের পাছায় ঘষাঘষি করা বা হাত দেয়া অন্যায় মনে করেন না। নবী মুহাম্মদের আমল থেকেই তাঁরা ইসলাম ধর্ম ও ধর্মীয় বিধানগুলোকে জোর-জবরদস্তি করে অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে পছন্দ করে। এটা তাদের এক ধরণের জন্মসূত্রে পাওয়া টেন্ডেন্সি। তাঁরা চান জোর করে হলেও নারীকে বাধ্য করবে পর্দা করতে। বোরখা হিজাব না পরলে ওয়াজে মাহফিল ও খুদবায় নোংরা ভাষার গালাগাল করেন। ধর্ম নারীকে মানুষের মর্যাদা দেয়নি, নারীকে কুকুর, গাধার কাতারে স্থান দিয়েছে! নারীকে শয়তানের জাত বলা হয়েছে! শুধু ইসলাম ধর্মই নয়, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্মই নারীকে চরম অপমান করেছে। ধর্মগ্রন্থে এরকম অসংখ্য শ্লোক, আয়াতের আবিষ্কার ঘটেছে শুধুমাত্র নারীকে অসন্মান করার জন্যে। তাই আমি মনে করি সমাজ পরিবার, রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় কুশিক্ষাই মানুষের মাথার মধ্যে এরকম কুৎসিত চিন্তা ধারা জন্ম দেয়। তাই সমাজ, পরিবার, রাষ্ট্র ও ধর্ম নারী অসন্মান, লাঞ্ছনা, নির্যাতন, ধর্ষণ, গণ ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, যৌন নির্যাতনের দায় কিভাবে এড়াবেন?

যাহোক আমি এতক্ষণ যে কারণে এই কথা গুলো বললাম। সেই বিষয় নিয়ে এখন বলি। পত্রিকায় "মক্কায় ভিড়ে মিশে আমার শরীরের ভাঁজে-খাঁজে খেলা করেছে পারভার্টরা!"
শিরনাম দেখে বিস্তারিত পড়ে দেখি ব্রিটিশ মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া মডেল ও অভিনেত্রী সোফিয়া হায়াত। মুসলমানদের পবিত্র মক্কায় কাবা শরিফের কালো পাথর ছোঁয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন পিছন থেকে এক ব্যক্তি তাঁকে অশালীন ভাবে স্পর্শ করে। পরিস্থিতি বুঝে ভিড়ে ঠেলে সোফিয়া বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে, তাঁকে জোর করে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল একদল ব্যক্তি। সে সময় চিৎকার করে ওঠেন সোফিয়া হায়াত। তাঁর চিৎকার শুনে উপস্থিত অন্য কয়েক জন সোফিয়াকে সাহায্য করে ভিড়-মুক্ত করেন। এরপর হোটেলে ফিরে এসেই ইন্সটাগ্রামে ভিডিও আপলোড করেন। সেখানে নিজের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন মডেল-অভিনেত্রী সোফিয়া হায়াত। একেবারে টিএসসির সামনে ঘটে যাওয়া পহেলা বৈশাখের মতই হুবহু ঘটনা ঘটেছে মক্কায় সোফিয়া হায়াতোর সাথে।

যারা নারীর শ্লীলতাহানির জন্য তাঁর পোশাককে দায়ী করেন। তাদের কাছে প্রশ্ন হচ্ছে; কাবা শরিফে মডেল ও অভিনেত্রী সোফিয়া হায়াতের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য কী তাঁর পোশাকই দায়ি ?? কিন্তু সোফিয়া হায়াত তো ইসলামের বিধিবিধান মেনে, বোরখা পরে হজ করতে গিয়েছেন। তা হলে ওনার সাথে এমনটা ঘটলো কেন ?? তাইলে সমস্যাটা কোথায় ?? আমি মনে করি সমস্যা ধর্মে। কারণ ধর্মই আমাদের শিক্ষা দেয়, নারী নিকৃষ্ট আর পুরুষ উৎকৃষ্ট! পুরুষ প্রভু আর নারী দাস! পুরুষ নারীর কর্তা! যদি আমি অন্য কাউকে সিজদা করতে আদেশ দিতাম তা হলে নারীদেরই বলতাম তাদের স্বামীদের সিজদা করতে! নারী শস্যক্ষেত্রে,যে প্রকারে ইচ্ছা চাষ করা যায়! পুরুষ সৃষ্টিকর্তার সমান! পিতা রক্ষিত কৌমারে আর ভর্তা রক্ষিত যৌবনে! পুরুষই তোমার উপর কর্ত্ত্বত্ব করিবে! নারীর স্থান পুরুষের পায়ের নিচে! এই ভাবেই ধর্ম আমাদেরকে শৈশব থেকেই প্রতিক্রিয়াশীল পুরুষ বানিয়ে তোলে। তাই আমরা নারীকে মানুষ না ভেবে কেবল ভোগের সামগ্রী মনে করি! যারা নারী লাঞ্ছনা, যৌন হরানি ও ধর্ষণে জন্য নারীর নারীকে দায় করেন বা নারীর পোশাককে দায় করে। দুঃখজনক হলেও একথা সত্য, তারা ধর্মের আফিমে মানসিক বিকারগ্রস্ত। যারা সরাসরি নারীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করে আর যারা নারীকে কথিত শালীন পোশাক পরার পরামর্শ করেন। তাদের উভয়ের চিন্তা-চেতনা একই সূত্রে গাঁথা। এধরণের কথাবার্তাই পুরুষতান্ত্রিক মানুসিকতার পরিচয় বহন করে।

মেয়েদের পোশাককেই যদি ধর্ষণ বা যৌন হয়রানির কারণ হবে। দোষ যদি পোশাকের হবে, তবে অন্যান্য দেশে তো মেয়েরা আরও সংক্ষিপ্ত পোশাক পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কই সে সব দেশে তো নারীরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে না! আমি গত ছয় বছর যাবত দক্ষিণ কোরিয়া বাস করছি। এখানকার মেয়েরা বাংলাদেশের মেয়েদের চেয়ে অনেক সংক্ষিপ্ত পোশাক পরে চলাফেরা করে। দিনে কি রাতে, রাস্তায় বের হলেই দেখতে পাবেন একটা টি-শার্ট আর একটা হাফ-প্যান্ট পরে মেয়েরা একা একা ঘুরে বেড়াচ্ছে, কেউ তাদের উত্যক্ত করা তো দূরের কথা, খারাপ দৃষ্টিতে তাকানোরও সাহস করে না! এখানকার পুরুষেরাও তো আমাদের মত পুরুষ। কই গত ছয় বছরে কোরিয়েতে কোনো কোরিয়ান পুরুষ নারী ধর্ষণ, গণ ধর্ষণ করেছে বলে শুনি নাই।
তাহলে সমস্যাটা কোথায়? নারীর সংক্ষিপ্ত পোশাক যদি ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের কারণ হতো, তা হলে কোরিয়েতে মেয়েরা এতোটা নিরাপদে চলার কথা নয়! আমি কোন কোরিয়ানকে ধর্ষণ করতে শুনি নাই, তবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশী ছেলেদের দ্বারা বেশ কয়েকটা ধর্ষণের ঘটনা কথা শুনেছি! এর মধ্যে রয়েছে ৮ বছরের শিশুকন্যা ও ৬০ বছরের বৃদ্ধা মহিলা ! এখন কী বলবেন ? পোশাকের সমস্যা নাকি আমাদের মানুসিক সমস্যা ?

অনেকে হয়ত এখন বলবেন ইউরোপেও তো ধর্ষণ হয়। কিন্তু সৌদিসহ আরবিয়ান দেশের মেয়েরা পর্দা করে তাই ঐসব দেশে কোনো ধর্ষণের খবর শুনি না! প্রথমে ইউরোপের কথা বলি হঠাৎ দু-একটা ধর্ষণের কথা শুনলেও, সেখানে কিন্তু ধর্ষকের বিচার হয় এবং পত্রিকায় নিউজ হয় বলেই আমরা তা জানতে পারি। কিন্তু সৌদিসহ আরবিয়ান দেশ গুলোতে সেই সুযোগ নাই। ইউরোপ এমন কি ভারতের থেকে আরবিয়ান দেশ গুলোতে ধর্ষণ আরও অনেক বেশি ঘটে। কিন্তু আরবিয়ান দেশের মেয়েরা বলতে পারেনা! পুলিশ মামলা নেয় না! চার জন পুরুষ সাক্ষীর অভাবে উল্টো ধর্ষিতার শাস্তি হয়! আবার প্রমাণ হলেও সেখানে ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতারও শাস্তি দেয়া হয়! তাই ধর্ষণের খবর কোন নিউজে আসে না। এখন বলেন তো চার জন পুরুষ সাক্ষী রেখে কি কেউ কখনো ধর্ষণ করে ? আরবিয়ান দেশ গুলোতে ধর্ষণ হয় নাকি হয় না, তার জলজেন্ত প্রমাণ বাংলাদেশ থেকে সৌদিতে গৃহপরিচারিকা কাজে যাওয়া মেয়েরা। পেটে বাচ্চা নিয়ে এখন দেশে ফিরতে হচ্ছে! আপনারা যে, কী ভাবে ভাবেন ইউরোপের মেয়েরা আমাদের দেশ বা আরবিয়ান দেশের থেকে বেশি ধর্ষণ হয়! যেখানে ইউরোপের মেয়েদের ইভটিজিং করলে ইভটিজাররে নিশ্চিত শাস্তি জেল, জরিমানার দেয়া হয়।

আসলে আমাদের সমাজ, পরিবার, রাষ্ট্র ও ধর্ম মানুষকে ভূল শিক্ষা দেয়। যদি শৈশবে আমাদের শিক্ষা দেওয়া হতো যে নারী পুরুষের প্রকৃতি একরকম না হলেও, নারীরাও তোমাদের মতই মানুষ। কেউ কারো উপরে কর্তৃত্ব করবে না। কেউ উৎকৃষ্ট বা কেউ নিকৃষ্ট নয়। কেউ প্রভু বা কেউ দাস নয়। কারোর স্থান কারো পায়ে নয়, সবাইই সমান। আর তাই প্রতিটি পুরুষের মতো নারীরও অধিকার রয়েছে স্বাধীন ভাবে চলার, কথা বলার, সাজার, নিজের পছন্দ মত পোশাক পরার। নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন করার।

নারীর পোশাক নয় বদলানো উচিত আমাদের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। আমিও একসময় প্রতিক্রিয়াশীল পুরুষ ছিলাম। পোষণ করতাম পুরুষতান্ত্রিক মানুসিকতা। আমি নিজেকে বদলে নিয়েছি, আপনারাও নিজেকে বদলান। আমার মত আপনারাও পুরুষতান্ত্রিক মানুসিকতার থেকে বেরিয়ে এসে মানুষ হন।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সজল মোহন
সজল মোহন এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 3 দিন ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 26, 2016 - 8:16পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর