নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নাগিব মাহফুজ খান
  • মোঃ যীশুকৃষ্ণ
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • রৌদ্র
  • তানভীর জনি
  • জাফর মিয়া
  • প্রোফেসর পিনাক
  • কৃষ্ণেন্দু দেবনাথ
  • রাশেদুজ্জামান কবির
  • পিনাক হালদার
  • ফ্রিডম
  • অ্যানার্কিস্ট
  • আশোক বোস

আপনি এখানে

মাননীয় প্রধান বিচারপতি, রাষ্ট্রের স্বার্থে আপনার সর্বোচ্চ শক্তি, সাহস ও ক্ষমতা প্রয়োগ করুন


মাননীয় প্রধান বিচারপতি, রাষ্ট্রের স্বার্থে আপনার সর্বোচ্চ শক্তি, সাহস ও ক্ষমতা প্রয়োগ করুন
সাইয়িদ রফিকুল হক

মাননীয় প্রধান বিচারপতি,
রাষ্ট্র এখন ধর্মান্ধ-অক্টোপাসের খপ্পরে পড়তে যাচ্ছে। ধর্মের নামে ‘হেফাজতে শয়তান’ নামক অরাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী সংগঠন অপরাজনীতি শুরু করেছে। আর এদের একমাত্র লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কর্মসূচি হলো: যেকোনোভাবে, যেকোনোউপায়ে আর যেকোনোমূল্যে রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করা। এরা আফগানী-তালেবানী-পাকিস্তানী পাশবিক-শাসন কায়েম করতে চায়। আপনি অবগত রয়েছেন, এরা চিরকালীন রাষ্ট্রবিরোধীঅপশক্তি। ধর্ম এদের মুখোশ মাত্র। আর ‘আল্লাহ-রাসুল’ এদের ব্যবসার আকাশে সাইনবোর্ড মাত্র। আসলে, এরা সংগঠিত হয়েছে—বাংলাদেশরাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে। কারণ, এই ‘হেফাজতে শয়তানে’র জন্ম হয়েছিলো ১৯৭১ সালে—পাকিস্তানীদের ঔরসে। আর ১৯৭১ সালে, এরা পাকিস্তানী-আর্মিদের সঙ্গে কাঁধে-কাঁধ-মিলিয়ে, আর বুকে-বুক-লাগিয়ে যারপরনাই অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছিলো বাঙালির উপর। এরা সেই ‘হেফাজতে শয়তান’। আর সেই থেকে এরা আজও বাংলাদেশের সবকিছুকে ধ্বংস করার জন্য ক্রমশঃ মরীয়া হয়ে উঠেছে। আর এদের সর্বাত্মক সহায়তা করছে এদেশীয় চিহ্নিত-দালালশ্রেণী। এরা সবাই মিলেমিশে আজ বাংলাদেশরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ গিলে খাওয়ার ফন্দিফিকির করছে। আর দুঃখের বিষয় হলেও সত্য: বর্তমান সরকারও এদের খপ্পরে পড়ে গেছে। এখন জাতির ‘আশা-আকাঙ্ক্ষাপূরণে ও ভাগ্যরক্ষার ক্ষেত্রে’ আইনানুগ-অভিভাবক হিসাবে দায়িত্বপালন করতে হবে আপনাকে। হ্যাঁ, শুধু আপনিই এখন জাতির প্রত্যাশাপূরণ করতে পারেন। তাই, আজ জাতির প্রয়োজনে আপনার কাছে আমাদের সবিনয় নিবেদন:

মাননীয় প্রধান বিচারপতি,
আপনি জানেন, বাংলাদেশবিরোধী এই হেফাজতে শয়তানগোষ্ঠী ইতঃপূর্বে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে রক্ষিত-স্থাপিত বাউলদের ভাস্কর্য রাতের আঁধারে ভেঙ্গে ফেলেছে। এরা ভাস্কর্যকে মূর্তি আখ্যায়িত করে নিজেদের ভোগ-দখলের রিরংসাবৃত্তি-চরিতার্থ করতে চাইছে। পৃথিবীর সব দেশে ভাস্কর্য আছে। এমনকি আমাদের রাসুলের দেশ—সৌদিআরবেও ভাস্কর্য আছে। পাকিস্তানেও ভাস্কর্য আছে। কিন্তু এই হেফাজতীশয়তানরা সেগুলোর বিরুদ্ধে কখনও কোনোকিছু বলে না, কিংবা করে না। এরা শুধু বাংলাদেশের ভাস্কর্য ভেঙ্গে নিজেদের ধার্মিক প্রমাণ করতে চাইছে। যেমনটি এরা করেছিলো ১৯৭১ সালে। তখন এরা পাকিস্তানীদের সঙ্গে একসঙ্গে জামায়াতে বাঙালি-নারীদের ধর্ষণ করে নিজেদের মুসলমান প্রমাণ করতো। আর এরাই ১৯৭১ সালে পরাজিত হয়েও “চোরের মা’র বড় গলা”র মতো মুখে বড়-বড় কথা বলছে। এরা আজ আমাদের দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য সবকিছুকে গ্রাস করার জন্য একজোট হয়ে সুপ্রীমকোর্টচত্বরে-স্থাপিত আন্তর্জাতিকমানের ভাস্কর্য ‘লেডি অব জাস্টিস’কে ভাংচুর ও অপসারণ করতে চাইছে। এজন্য তারা ভয়ানক ক্ষিপ্ত হয়ে সরকারকে কয়েকবার আল্টিমেটামও দিয়েছে। এদের স্পর্ধার সীমারেখা এতোটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, এরা আজ ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। কিন্তু আমরা এই পশুগোষ্ঠীর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও আস্ফালন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না—আর পারবোও না। তাই, আপনি কখনও কোনোভাবেই ‘হেফাজতে শয়তানে’র দাবিকে মেনে নিয়ে ‘লেডি অব জাস্টিস’-এর ভাস্কর্য-অপসারণ করবেন না। আপনাকে ৩০লক্ষ শহীদের দোহাই। প্রয়োজনে আপনি কঠোর পথ বেছে নিবেন। কিন্তু এই ‘হেফাজতে শয়তান’ নামক পশুগোষ্ঠীর কাছে কখনও পরাজয়স্বীকার করবেন না। আইনের মাধ্যমেই এদের চিরস্থায়ীভাবে পরাজিত করবেন। আর আমাদের জাতীয় আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক সুপ্রীমকোর্টচত্বর থেকে ‘লেডি অব জাস্টিস’-এর ভাস্কর্য-অপসারণের হেফাজতীশয়তানদের প্রস্তাবকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে তা জাতীয় স্বার্থে আরও সুরক্ষা করবেন। প্রয়োজনে যারা এগুলো অপসারণ করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী-অপতৎপরতার অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করাসহ কৈফিয়ত-তলব করুন। আর রাষ্ট্রের স্বার্থে এদের বিরুদ্ধে রিট-দায়ের করুন।

মাননীয় প্রধান বিচারপতি,
আজ জাতির শিক্ষাব্যবস্থা সার্টিফিকেটসর্বস্ব। তবুও যারা পড়ালেখা করে এই অমূল্য সার্টিফিকেট অর্জন করছে—আজ তাদের অবস্থা শোচনীয় হতে চলেছে। অতিসম্প্রতি সরকারিভাবে আত্মস্বীকৃত কওমীমাদ্রাসার ‘দুই-নাম্বারি’ সনদকে ‘মাস্টার-ডিগ্রী’র সমমান দেওয়া হয়েছে—যা দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও সংবিধানবিরোধী। আর এটি জাতির জন্য চরম অপমানজনক। কওমীমাদ্রাসার ‘দুই-নাম্বারি’ সার্টিফিকেট কখনওই দেশের প্রচলিত সাধারণ শিক্ষার সমকক্ষ বা এর সমতুল্য হতে পারে না। এদের এস.এস.সি., এইচ.এস.সি., বি.এ., বি.এ. অনার্স-সমমানের সার্টিফিকেটের কোনো স্বীকৃতি নাই! কিন্তু হঠাৎ একঠেলায়-একলাফে-একঘোষণায় একেবারে সাধারণ শিক্ষার ‘মাস্টার-ডিগ্রী’র সমমান! এটি সম্পূর্ণ অবৈধ, আইনবহির্ভূত ও অগণতান্ত্রিক। তাই, এই নিম্নমানের ও অবৈধ ঘোষণাটি অনতিবিলম্বে-জরুরিভিত্তিতে বাতিল করা প্রয়োজন। আর এব্যাপারে রাষ্ট্র কখনও আপস করতে পারে না।
এই অবৈধ ঘোষণা বাতিল করে এর বিরুদ্ধে আইনানুগব্যবস্থাগ্রহণসহ সরকারের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাও নোটিশ জারীর ক্ষমতাও আপনার রয়েছে। দেশ, জাতি ও মানবতার স্বার্থে আজ আপনাকে এই কাজটিও করতে হবে।

মাননীয় প্রধান বিচারপতি,
হেফাজতে শয়তান একটি জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠন। এটি আমাদের রাষ্ট্র ও সংবিধানবিরোধী। আর এটি বাতিল করার জন্য সমন-জারী করার অধিকারও আপনার রয়েছে। আর তাই, আপনি এই ঘাতক-সংগঠন চিরতরে নিষিদ্ধ করার জন্য অতিসত্বর আইনিপ্রক্রিয়া শুরু করে দিন। এজন্য সরকারের উপর রুল-জারী করুন।

পরিশেষে, আপনার কাছে সবিনয় নিবেদন: আপনি দেশ, জাতির স্বার্থে আরও সাহসী হয়ে উঠুন। আর রাষ্ট্রের আগাছা, জঙ্গল, পরগাছা ও শ্বাপদের শিকড়-উৎপাটনে সাংবিধানিক-ক্ষমতা প্রয়োগ করুন। আর আপনি আপনার সর্বোচ্চ শক্তি, সাহস ও ক্ষমতা প্রয়োগ করুন।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
১৮/০৪/২০১৭

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাইয়িদ রফিকুল হক
সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
Offline
Last seen: 12 ঘন্টা 48 min ago
Joined: রবিবার, জানুয়ারী 3, 2016 - 7:20পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর