নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নাগিব মাহফুজ খান
  • মোঃ যীশুকৃষ্ণ
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • রৌদ্র
  • তানভীর জনি
  • জাফর মিয়া
  • প্রোফেসর পিনাক
  • কৃষ্ণেন্দু দেবনাথ
  • রাশেদুজ্জামান কবির
  • পিনাক হালদার
  • ফ্রিডম
  • অ্যানার্কিস্ট
  • আশোক বোস

আপনি এখানে

মুক্তচিন্তা কি ? মুক্তচিন্তা মানে কি সব কিছু থেকে মুক্ত ? মুক্তচিন্তা মানে কি ধর্ম বিদ্বেষ ?


আমার বন্ধুদের প্রশ্ন: মুক্তচিন্তা কি ?

এই প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর হচ্ছে আমার চিন্তার স্বাধীনতা। অর্থাৎ আমি কারো মতবাদের অন্তর্ভুক্ত নই। আর একটু ব্যাখ্যা করে বললে; মুক্তচিন্তা এক প্রকার দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি। যা মনে করে, জীবন-জগতের সামনে আসা সমস্ত প্রশ্নকে বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা ও যুক্তির আলোকে বিচার করা। যেমন: আমাদের দুই হাত, কিন্তু দেবী দূর্গার দশ হাত কেন ? বা ডানাওয়ালা ঘোড়ার মত জন্তুর পিঠে চড়ে নবী মোহাম্মদ মহাকাশ ভ্রমন করেছেন! এসমস্ত উদ্ভট গাজাখুরি ও আজগুবি গল্পের বৈজ্ঞানিক কোন প্রমাণ নাই। বা এগুলোকে যুক্তির আলোকে বিচার করা যায় না। কারণ এখানে যুক্তি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। এ কিচ্ছাকে সত্য বলিয়া যে সব লোক বিশ্বাস করবে তাদেরকে কি সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ বলা যায়? আমি পূর্ব নির্ধারিত কোন সত্যকে, সত্য বলে মানিনা। মুক্তমনারা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, বাস্তব সত্য এবং যুক্তিতে আস্থা রাখে। প্রথা, অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, গুজব এবং অন্য সব গোঁড়ামি থেকে মুক্ত।

আমার বন্ধুরা মনে করে মুক্তচিন্তা মানে সব কিছু থেকে মুক্ত! ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় চিন্তা না করেই খেয়াল-খুশি মতো যে কোনো কিছু বলা বা করা ?

মুক্তচিন্তা বলতে আসলে কিসের থেকে মুক্ত বুঝবো? সত্যি বলতে কি আমি নিজেও জানিনা মুক্তচিন্তার কোন সীমা নির্ধারণ রয়েছে কিনা। তবে আমি হুমায়ুন আজাদ স্যার, তসলিমা নাসরিন, আভিজিৎ রায় এবং আরো অনেক অসংখ্য লেখক ও ব্লগারদের লেখা পড়ে আমি মুক্তচিন্তা চর্চা শুরু করেছি। ওনাদের লেখা পড়ে আমি অনুধাবন করেছি; মুক্ত মানে সমস্ত অজ্ঞতা-ধর্মীয় গোঁড়ামি-কুসংস্কার-পশ্চাৎপদ ধ্যান-ধারণা থেকে মুক্ত৷ ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় চিন্তা না করেই খেয়াল-খুশি মতো যা কিছু ইচ্ছা তা বলা বা করা নয়। আমার বন্ধুদের মতো অনেকেরই ধারণা মুক্তচিন্তা বলতে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করা বা ব্যক্তি স্বাধীনতার নাম করে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করাকে বোঝেন অথবা কোনো নিয়ম না মানাকে বোঝেন!

না বন্ধু তোমরা মুক্তিচিন্তা নিয়ে খুব বাজে ও ভুল ধারণা পোষণ করেছ! মুক্তচিন্তার সংজ্ঞা হল সামগ্রিক সব বিষয়কে ভিন্ন ভাবে ও ব্যতিক্রমী উপায়ে উন্নত ভাবে চিন্তা করা। অন্ধবিশ্বাস, চিরায়ত প্রথা ইত্যাদি সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শেখা। প্রশ্নই মানুষকে নতুন জ্ঞান, নতুন চিন্তার জন্ম দেয়৷ জ্ঞান, বিজ্ঞান ও যুক্তির আলোকে মানুষেকে মুক্ত করা। মুক্তচিন্তা মানে সমাজের নিয়মকে অস্বীকার করা না, বরং সমাজ বিকাশের নিয়ম মেনে চিন্তা ও কাজ করতে পারার নামই মুক্তচিন্তা। মুক্তচিন্তকদের কাজই হচ্ছে সমস্ত অজ্ঞতা-ধর্মীয় গোঁড়ামি-কুসংস্কার-পশ্চাৎপদ ধ্যান-ধারণা থেকে মানুষকে মুক্ত করা। মুক্তচিন্তকদের লক্ষ একটি সত্যিকারের মানবিক সমাজ ও একটি উন্নত সভ্য জাতি গড়ার। একজন মুক্তচিন্তার মানুষ ঘুণে ধরা সমাজের নোংরা আবর্জনা দূর করতে জীবন উৎসর্গ করে৷

বন্ধুদের আরেকটি প্রশ্ন মুক্তচিন্তা মানে কী ধর্মবিদ্বেষ ?

মুক্তচিন্তা মানে ধর্মবিদ্বেষ, এটাও তোমাদের আরেকটা বড্ড বাজে ভুল ধারণা বলেই আমি মনে করি। ঘৃণা বা হিংসা বিদ্বেষ করা মুক্তচিন্তকদের কাজ না। বরং এসব মুক্তচিন্তার বিরোধী বলে আমি মনে করি। তবে ওই যে মুক্তচিন্তার সংজ্ঞা হচ্ছে কোন বিষয়ে ভিন্ন ও ব্যতিক্রমী ভাবে চিন্তা করা বা অন্ধবিশ্বাস, প্রথা ইত্যাদি সম্পর্কে প্রশ্ন করা। এখনেই হচ্ছে মূল সমস্যা। মুক্তচিন্তার মূলত লড়াইটা হচ্ছে অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, পূর্ব নির্ধারিত কোন সত্যকে সত্য বলে মানা, জাদু টোনা, প্রথা, গুজবসহ অন্য সব গোঁড়ামির বিরুদ্ধে আর ধর্ম টিকে রয়েছে এগুলোকে ভর করে। মানুষের অজ্ঞতা কারণে ধর্ম এখনো জীবিত। তাই না চাইলেও ধর্মের সাথে মুক্তচিন্তার সংঘর্ষ ঘটে। যেমন ধরুন আপনি কাউকে বোরকা পরতে যেমন বাধ্য করতে পারি না তেমনি আমি বোরকা খুলতেও বাধ্য করতে পারি না। কে কি পরবেন সেটা তাঁর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়। কিন্তু একজন মুক্তচিন্তার মানুষের সাথে জামেলা তখনি বাঁধে যখন ইসলামিষ্টরা নারীদের বোরকা পরতে বাধ্য করে!

যাহোক সর্বশেষ আমার ধর্ম বিশ্বাসী বন্ধুদের বলছি। তোমরা জোড় দিয়ে দাবি করো, ধর্ম মানব সভ্যতার কল্যানে সৃষ্টি হয়েছে! এটা একটা হাস্যকর কথা। ধর্মে অমানবিক কথাবার্তাই বেশি বলেছে, হিংসা বিদ্বেষ, মানুষ হত্যা, ধর্ষণ ও নারীকে চরম অমর্যাদা করেছে! তাইলে ধর্ম কী ভাবে মানব কল্যানে আসে ? তোমরা নিজেদের মানবতাবাদী বলে দাবি করো! ক্যামনে ? ভাইরে সাপে বেজি এক সাথে বাস করতে পাড়ে না। যেখানে ধর্ম অন্যকে ঘৃণা করতে বলেছে, অবিশ্বাসীকে হত্যা করতে বলেছে, এমন কী অন্যরা নিকৃষ্ট বলে তুমি মানে করো, সেখানে তুমি ধর্ম মানলে নিজেকে মানবতাবাদী দাবি কর ক্যামনে ? এত্ত অমানবিক বিষয় বস্তু থাকার পরও, ধর্মকে তোমরা তোমাদের জীবন দর্শন মনে কর ক্যামনে ?

আমি তোমাদের শুভকাঙ্ক্ষী হিসেবে একটা উপদেশ দেই। ধর্মকে তোমরা যদি তোমাদের জীবন দর্শন হিসেবে নাও, আমার আপত্তি নাই। তবে তার আগে ধর্মের সংস্করণ করে নাও। অমানবিক বিষয় বস্তুগুলা বাদ দাও। তাইলে হয়ত তোরমা তোমাদের মানুষ ভাবতে পারবে। তারপরও আমার মনে হয় না মানব জীবনে ধর্মের কোন প্রয়োজনীয়তা আছে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সজল মোহন
সজল মোহন এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 3 দিন ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 26, 2016 - 8:16পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর