নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • শ্মশান বাসী
  • আহমেদ শামীম
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

বরাবর আবদুল গাফফার চৌধুরী...


সাপ্তাহিক পত্রিকা 'আজকের সূর্যোদয়"এ ১১-১৭ এপ্রিলের ৪র্থ সংখ্যায় লণ্ডন থেকে আপনার কলাম পড়লাম যার শিরোনাম ছিল, 'প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সমঝোতার অর্থ পরস্পরের মধ্যে তথ্যবিনিময়'।

ভারতের সাথে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা চুক্তি ও বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় আপনার লেখাটি আমার কাছে খুব একটা গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। আমার কাছে যুক্তিযুক্তও মনে হয়নি। আপনার মতামত গঠনগত মনে হয়নি আমার কাছে। বরং মনে হয়েছে লেখাটি হচ্ছে সাহিত্যিক ধারার এবং কিছুটা ভাববাদী ধারার ও অনুমান নির্ভর। আপনার লেখা পড়ে মনে হয়েছে এই চুক্তির ব্যাপারটিকে আপনি আন্তর্জাতিক রাজনীতির অংশ হিসেবে মনে করেননি বরং ভারতের প্রতি গভীর মমতা ও ভালবাসা হিসেবে বিবেচনা করেছেন। অথচ ব্যাপারটা আমাদের জন্য অনেকটা স্পর্শকাতর। শুধু আমাদের জন্য নয়, যেকোনো দেশের জন্য এমন চুক্তি বিপদজনক।

আপনার লেখার উপর আমি কিছু বলতে চাই। বেয়াদবি হলে মাফ করবেন।

লেখার শুরুতে আপনি বলেছেন যে ভারতের আধিপত্যবাদী মনোভাব থাকলেও আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে সে মনোভাব না দেখিয়ে ভারত আমাদের সমর্থন ও সাহায্য করেছিল। দেখুন জনাব, এখানে প্রথম ব্যাপার হচ্ছে ভারত কিন্তু শুধু আবেগ আর ভালবাসা থেকে আমাদের সমর্থন দিয়েছে এটা একটা অনুমান নির্ভর কথা। আমি জানি তারা আমাদের বন্ধু ছিল সেসময়, কিন্তু ভারতের কি কোনো স্বার্থ ছিল না সত্যি? আপনার কি মনে হয়না একটা দেশের দু'পাশেই যখন তার প্রতিবেশি শত্রুদেশ অবস্থিতি তখন সে দেশটিকে সবসময় একটা আতঙ্ক নিয়ে থাকতে হয় এবং দুই দুই পাশের সীমান্তে নজর রাখাটা সহজ কোন ব্যাপার? আর যদি বলেন শরনার্থীর ব্যাপার! তাহলে আপনি ভুল। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন প্রতিবেশি দেশ খুব কমই আছে যারা তার প্রতিবেশি দেশের যুদ্ধের শরনার্থীদের সাহায্য করেনি। উদাহারণ স্বরূপ আমরা বলতে পারি, সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধে কেনিয়া, জিবুতি, ইথিওপীয়ায় সোমালিয়ান শরণার্থী আশ্রয়ের কথা। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে জর্ডান, তুরস্কতে সিরিয়ান শরণার্থীর কথা। সোভিয়েত- আফগানিস্তান যুদ্ধে পাকিস্তানে, আফগান শরণার্থীর কথা। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ও সুদানের গৃহযুদ্ধে ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, নাইজার, শাদ প্রমুখ দেশে সুদানিজ ও মধ্য আফ্রিকান শরণার্থীর কথা।

আপনি বলেছেন আধিপত্যবাদী মনোভাব নিয়ে চলা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর কথামত যুদ্ধশেষেই ভারত তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে বাংলাদেশ থেকে। এটা কিন্তু শুধু ভারতের বাংলাদেশপ্রীতির মনোভাব থেকে দেখলে ভুল হবে। বঙ্গবন্ধুর আর তাজউদ্দীন আহমেদ এর অসাধারণ নেতৃত্বগুনকেও আপনার বিবেচনা আনা উচিৎ। তবে শুধু ভারত না, পৃথিবীতে অনেক দেশই এমন দৃষ্টান্ত দেখিয়ে গেছে। যেমন: কোরিয়ান যুদ্ধে, চীন, সোভিয়েত- আফগান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, শ্রীলংকান গৃহযুদ্ধে ভারত, ইউএস- ভিয়েতনাম যুদ্ধে চীন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, থাইল্যান্ড।

আপনি বলেছেন যে, "বাংলাদেশে বিএনপির নেতানেত্রীরা ও পাকিস্তানপন্থী এক শ্রেণীর কলামিস্ট ও বুদ্ধিজীবী অনবরত প্রচার করছেন, বাংলাদেশের কাছ থেকে ভারত সবসময় শুধু সুযোগ- সুবিধা নিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশকে কিছুই দেয়নি। ভারত বাংলাদেশে তাদের আধিপত্য চালাতে চায়।"

লেখার এ পর্যায়ে আসলে আপনার এই লেখাটা একদম মূল্যহীন, দায়সারা হয়ে যায় আর আপনার প্রতি শ্রদ্ধাও উড়ুউড়ু করতে থাকে। বিএনপি ও পাকিস্তানপন্থী লেখকের বিরোধিতার কথা যদি বলেন্য তাহলে আমি বলব আপনার উচিৎ দেশে এসে পরিস্থিতি নিজ চোখে দেখে, দেশের দৈনিক পত্রিকা, সোশ্যাল মিডিয়া ঘেটে তারপর এ বিষয় নিয়ে আপনার কথা বলা উচিৎ। আমি বলব দেশের বাইরে থেকে আপনি কিছুই জানেন না। এবং আমি জানি আমার এই কথা ভুল। তারমানে আপনি বোঝাতে চেয়েছেন যারা বলছে যে 'বাংলাদেশ ভারতের কাছে কিছুই পায়নি' তারা হচ্ছে পাকিস্তানপন্থী! কোন ফিল্টার দিয়ে, কোন মাপকাঠি দিয়ে আপনি এতবড় একটা লেবেল দিলেন এটা বুঝতে আমি ব্যর্থ। ভয়ংকর উগ্রপন্থী এবং ফ্যাসিস্ট একটি কথা বলেছেন আপনি। আপনাদের অন্ধ ভারত প্রীতি আমাদের সার্বভৌমত্বে সমস্যার সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ কি পেয়েছে? কাঁটাতারের বেড়ার ঝুলন্ত ফেলানীর লাশ!!! শুনে রাখুন সেই কাঁটাতারে ফেলানী ঝুলেনি, ঝুলে ছিল পুরো বাংলাদেশ। তাছাড়া যেহেতু আপনি জানেন যে বাংলাদেশ ভারত থেকে অনেক কিছু পেয়েছে সেহেতু তা আপনার উল্লেখ করার প্রয়োজন ছিল। অবস্ট্রাক্ট কোন মতামত নয়।

আপনি বলেছেন, "... বাংলাদেশে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই শক্ত ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করে (৭৫ পরবর্তী সময়ে) এবং ভারতের পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী পার্বত্য গোষ্ঠীকে যুদ্ধের ট্রেনিং ও অস্ত্র সরবরাহ দিতে থাকে।" বিশ্বাস করুন, আপনার এ লেখা পড়ার সময় আমি দুইটা জিনিস ভেবেছি। এক. হয় আপনি RAW এর নাম জানেন না অথবা দুই. আমাকে ভুলে যেতে হবে বাংলাদেশে RAW এর এজেন্টের সংখ্যা ও তাদের বিস্তৃত কার্যক্রম।

ট্রানজিটের মতন একপাক্ষিক একটা চুক্তি নিয়ে আপনি বলেছেন, "ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার নামেও উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আখেরে দেখা যাবে এই চুক্তি দ্বারাও বাংলাদেশের উপকার ছাড়া ক্ষতি হয়নি।" আমি ধরে নিয়েছি আপনি ট্রানজিটের উদ্দেশ্য জানেন না। নয়তো এত ভয়ংকর একটা কথা বলতেন না। একটা দেশের মধ্যে দিয়ে আরেকটা দেশের মালামাল যাচ্ছে নূণ্যতম একটা মূল্য দিয়ে আর আপনি বলছেন বাংলাদেশের উপকার হবে? কি উপকারের কথা বলছেন? কম পয়সা পাচ্ছি এটা? আচ্ছা ট্রানজিট চুক্তিতে বাংলাদেশের উপকার বলতে আপনি কি বলতে চেয়েছেন, এটা পাকিস্তান- চীনের মধ্যে CPEC এর মতন কিছু? যদি তা বলেন তবে ভুল করছেন আপনি।

প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আপনি বলেছেন, "বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে সামরিক চুক্তিগুলো প্রায় অচল। মেডো ও সিয়াটো চুক্তিগুলো প্রায় অচল। ওয়ারশ চুক্তি বিলুপ্ত। এত শক্তিশালী ন্যাটোও এখন প্রায় অকেজো। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো সম্পর্কে বিরক্ত।"

আপনি বলেছে সামরিক চুক্তিগুলো বর্তমানে অকেজো। হ্যা আমরা জানি অকেজো। এজন্য সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ইরান- রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র- ইসরাইল, তুরস্ক এক হয়ে যুদ্ধ করছে। সামরিক চুক্তি অকেজো, এজন্য উত্তর কোরিয়াকে হুমকি দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়াকে 'THAAD' দিয়েছে কিছুদিন আগে। আকেজো আর বর্তমান বিশ্ব বলতে আপনি কি বোঝাতে চেয়েছেন, এ ব্যাপারটা আমার বোধগম্য হয়নি।

আপনি বলেছেন, মেডো, সিয়াটো আর ওয়ারশো প্যাক্টের কথা। জনাব, এই চুক্তিগুলো একপাক্ষিক বা দ্বিপাক্ষিক ছিল না এটা আপনি ভালভাবেই জানেন। আর আপনি কিভাবে বাংলাদেশ ভারতের প্রতিরক্ষা চুক্তির সাথে এই চুক্তিগুলোর তুলনা করেছেন সে ব্যাপারটা চিন্তা করে আমি আশ্চর্যান্বিত, অবাক, বিস্মিত। অসাধারণ একখানা কর্ম দেখিয়েছেন আপনি। ব্রিলিয়ান্ট। জনাব, ওয়ারশো প্যাক্ট মূলত একটা ইডিওলজি ভিত্তিক সামরিক মৈত্রী চুক্তি। এটা সাধারণ কোন সামরিক চুক্তি ছিল না। আর বাংলাদেশ ভারতের সাথেও কোন মতাদর্শগত চুক্তি করছে না। এমন চুক্তি হতে পারে আওয়ামীলীগ এর সাথে কংগ্রেসের বা বিজেপির, 'বাংলাদেশে'র সাথে নয়। আর বিশ্বে স্নায়ু যুদ্ধের মতন আমার এমন কোন পরিস্থিতি আসেনি যে কাউকে এমন কোনো চুক্তি বা মিত্রতা তৈরি করতে হবে।

আপনি বলেছে ন্যাটোও এখন প্রায় অকেজো!
এখানে কথা হচ্ছে এই 'এখন' বলতে আপনি কোন সময়কাল টাকে বুঝিয়েছেন সেটা উল্লেখ করলে ভাল হত। আপনি যদি ১৯৪৯ এর আগের কথা বলেন তবে ঠিক আছে। তবুও বর্তমান বলতে ২০০১ থেকে বর্তমান পর্যন্ত ন্যাটোর মিশনগুলো একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ আমি দিলাম নিচে:

(মিশনের নাম, স্থান, ধরণ, সময়কালভেদে সাজানো হয়েছে)
১. Operation 'International Security Assistance Force (ISAF) - Afghanistan - Security - 20 December 2012 to 28 December 2014
২. Pakistan Earthquake Relief - Pakistan - Relief - 08 October 2005 to 02 February 2006
৩. Operation Ocean Shield - Red Sea, Gulf of Aden, Indian Ocean - Counter Piracy (Somalian Pirate) - 17 September 2009 to present
৪. Operation Unified Protector - Libya - No fly zone (Air campaign) - 27 March 2011 to 31 October 2011
৫. Operation Active Feace - Turkey - Defense, Anti Missile - December 2012 to present
৬. Resolute Support Mission - Afghanistan - Training advisory and assistance mission - 01 January 2015- present

দেখুন তো আপনার 'এখন' এখানে আছে কি না। কিংবা অকেজো বলতে আপনি কি বুঝিয়েছেন তা পরিষ্কার করা উচিৎ ছিল।

আপনি বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাটো নিয়ে এখন বিরক্ত। এখানে দুটো ব্যাপার। এক. আপনি যদি মনে করেন ন্যাটোর 'অকার্যকারিতা'য় বিরক্ত তাহলে আপনি ভুল। দুই. ট্রাম্প আসলে বিরক্ত অর্থে 'বিরক্ত' না। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিলেন তিনি বিভিন্ন যুদ্ধের ময়দানে বিনাকারণে যুদ্ধ করা মার্কিন সৈন্যদের প্রত্যাহার করবেন। আর আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে ন্যাটোতে একচেটিয়া মার্কিন কন্ট্রিবিউশান এর জন্য তিনি ন্যাটো হতে আলাদা হতে চাচ্ছেন আর আমার যতদূর মনে হয় ট্রাম্পের কাছে কালেক্টিভ সিকিউরিটির ধারণাটা পরিষ্কার না অথবা তিনি এই কালেক্টিভ সিকিউরিটি ব্যবস্থা বা ন্যাটো থেকে বের হওয়ার জন্য 'বিরক্ততা' দেখিয়েছিলেন। আর আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে সাম্প্রতি ন্যাটো নিয়ে ট্রাম্পের সুর নরম হয়েছে। ন্যাটো- ট্রাম্প সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নয়ন নিয়ে আপনি বেশি গবেষণা করেননি। আপনি যে অর্থে বিরক্ত বুঝিয়েছেন সে অর্থে ট্রাম্প কখনই বিরক্ত নন। এটা অসম্ভব।

আপনি বলেছেন, "প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সমঝোতার অর্থ আসলে পরস্পরের মধ্যে তথ্যবিনিময়। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার জন্য সব বিষয়েই এই তথ্য প্রয়োজন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এই তথ্যবিনিময় চলছে। তাকে আরো কাঠামোগত রূপ দেয়ার জন্য এই সমঝোতা চুক্তি হলে মহাভারত অশুদ্ধ হবে না।"

এখানে ব্যাপার হচ্ছে তথ্য আদান প্রদানে আমার কোন সমস্যা নেই। কিন্তু কথা হচ্ছে এক. সেটা কি ধরণের, কি রকমের তথ্য??? দুই. সরকার থেকে কি খুলে বলা হয়েছে কিনা যে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি শুধু তথ্যবিনিময়ের? নাকি তাদের অন্যকোন লক্ষ আছে?

এই অংশের শেষে বলেছেন, "ভারত থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার ব্যবস্থা হলে তাতে অন্যদেশ থেকে তা কেনায় বাধা কোথায়? বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে মিগ বিমান ও চীন থেকে সাবমেরিন কিনছে না?"

জনাব! আপনার যুক্তি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের যুক্তিকেও হার মানাবে। আচ্ছা জনাব, আপনি তো এখন লণ্ডনে আছেন। কিন্তু কি কারণে? আপনি তো মোগাদিশু, বাংগুই, খার্তুম, জুবা, ফ্রিটাউন, হারারে, আলেপ্পো, নিয়ামী, জামেনা ইত্যাদি শহরেও থাকতে পারতেন। সহজেই পাবেন ভিসা। কিন্তু থাকছেন না কেন? নিশ্চয়ই লণ্ডনে আপনি একটি উন্নত জীবন ব্যবস্থা পাচ্ছেন। তেমনি ঠিক বাংলাদেশও চাইলে ভারত থেকে অস্ত্র কিনতে পারে কিন্তু সে অস্ত্র তেমন আহামরি কিছু না। এ অস্ত্র কোনো ফাইটের জন্য না। এলাকার পুলিশের হাতে বিনা নির্দেশে ধরে থাকা অস্ত্রের মতন। ভারত অস্ত্রে উন্নত দেশ নয়। ভারত মূলত মায়ানমার আর নেপালের সেনাবাহিনীতে অস্ত্র সরবরাহ করেছে। এবং তার অবস্থা আমরা সবাই জানি এবং তারা কেউই খুশি নয়। আর ভারত যদি উন্নত অস্ত্র বানাতী তবে তারা নিজেরা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অস্ত্র আমদানিকারক দেশ হত না। আর আপনি হয়ত ভাবতে পারেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনী তেমন কিছু না কিন্তু বাস্তবে তা না। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এখন অনেক উন্নত। কাজে চাইলেই বাংলাদেশ ভারত থেকে অস্ত্র কিনতে পারে না। চায়না'র সাবমেরিন আর রাশান মিগের সাথে ভারতের অস্ত্রের তুলনা কোনোভাবেই হয়না। এটা অজ্ঞতার শামিল। বাংলাদেশ মূলত চীন থেকে অস্ত্র আমদানী করে।

আপনি আশা করেছেন এবারের মোদী- হাসিনা- মমতা'র বৈঠকেই তিস্তা চুক্তি সাক্ষরিত হবে নয়তো খসড়া তৈরি হবে। কিন্তু জনাব, এর কোনোটাই হয়নি। বরং মমতা ব্যানার্জি এমন খসড়া দিয়েছেন যেটা হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। আপনি শেষে বলেছেন হাসিনার শূণ্য হাতে ফেরার সম্ভাবনা নেই। কারণ ভারত ও বাংলাদেশ পরস্পরের শত্রু দেশ নয়। হ্যা অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী খালি হাতে ফেরেননি। অনেক কিছু নিয়ে ফিরেছেন। কি কি নিয়ে ফিরেছেন সেটা নিয়ে নাহয় পরবর্তী কলামে আপনি আরেকটি কিস্তি লিখবেন আশা করি।

আপনার লেখার শেষে উল্লেখ করা রবী ঠাকুরের মর্মস্পর্শী কবিতার চরণ দিয়েই আমার এই লেখা শেষ করতে চাই,
"দেবে আর নেবে মেলাবে মিলিবে
যাবে না ফিরে।"

আহা! কি মধুর!

Comments

ফারুক সালাউদ্দিন এর ছবি
 

অন্ধ ভারত প্রীতিই অনেক চেতনাধারীর উপলব্ধিতে ফিল্টার হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশ ভারত থেকে কি পেয়েছে, তার জবাবে তারা শুধু মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থীদের আশ্রয়, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, প্রচার কর্ম ইত্যাদিকেই সবসময় হাইলাইট করে। চেতনাধারীরা, “একদা উপকার করিয়াছেন বিধায় চিরদিন গোলামীর পাশে আবদ্ধ থাকিব”, চিরদিন এই দর্শন অনুসরণ করবেন।

দুঃখজনক ব্যাপার, চেতনাধারী অধিকাংশের নিকট ইতিহাসের এই পর্যায় সম্বন্ধে তথ্য নেই যে, নেহেরু তনয়া ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী শুধুমাত্র ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে এবং পাকিস্তানিদের বিপক্ষে তৎপর ছিলেন না, বরং তারও অনেক পূর্বে থেকেই। প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তান ভেঙ্গে “বাংলাদেশ” নামক একটি পৃথক অনুগত রাষ্ট্র সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ১৯৬৮ সন থেকেই ইন্দিরা গান্ধীর ছিল।

বি. রমন তার রচিত গ্রন্থ “দ্য কাও বয়েজ অব র” গ্রন্থে উল্লেখ করেন, “তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পূর্ব-পাকিস্তানিদের পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রচেষ্টায় সহায়তা করে বাংলাদেশ নামে একটি দেশ গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।“

সেই লক্ষ্যে, ১৯৬৮ সনের ২১ সেপ্টেম্বর, ইন্দিরা গান্ধী ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা আই.বি."র (IB) প্রধান প্রয়াত রমেশশর নাথা কাও কে 'র' এর প্রধান হিসাবে নিয়োগ প্রদান করেন। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ভারতের অভ্যন্তরীণ এবং বিশেষ করে বিদেশ নীতি রূপায়নে "দ্য রিসার্চ এন্ড এনালাইসিস উয়িং"( R&AW) বিশেষ অধিকার নিয়ে সজ্জিত হয়। 'র' গঠনের দু'এক মাসের মধ্যেই, এই সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রাথমিক ভাবে দুটি বিষয় অগ্রাধিকার পায়। একটি হলো, পাকিস্তান এবং চিন সম্মন্ধে তথ্য সংগ্রহ করা এবং দ্বিতীয়টি, পূর্ব পাকিস্তানে গুপ্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা।

এছাড়াও, মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজিব বাহিনীর সেক্টর কমান্ডার এবং পরবর্তীতে কলকাতার “সেন্টার ফর রিসার্চ ইন ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ রিলেশনস” এর পরিচালক, ‘বিমল প্রামানিক’ এর রচিত গ্রন্থ, “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভুমিকা” থেকে জানা যায়, ১৯৬১ সালেই রহস্য পুরুষ নামে পরিচিত সিরাজুল আলম খান ভারতের কয়েকটি জায়গায় ভ্রমন করে ভারতীয় গোয়েন্দাদের সাথে বোঝাপড়া করে আসেন।

তাছাড়া, জাসদ এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের বিভিন্ন উক্তি থেকে জানা যায়, ১৯৬২ সালেই স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটি নিউক্লিয়াস গঠন করা হয়। এই নিউক্লিয়াস গঠনের মূল অংশে ছিলেন কাজী আরিফ, আব্দুর রাজ্জাক এবং সিরাজুল আলম খান। শেরে বাংলার প্রস্তাবিত “লাহোর প্রস্তাব”কে বাতিল করে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা আই বি’র সদস্যদের সাথে পরামর্শ করে আওয়ামী লীগের নেতারা “ছয় দফার” খসড়া তৈরি করেন।

শুধু তাই নয়, আমাদের চেতনাধারী বুদ্ধিজীবীরা কখনই প্রশ্ন করেন না, যে ভারত তার উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে "অসমীয়", "মিজো", "নাগা" এবং উত্তর-পশ্চিমে কাশ্মিরিদের বা খালিস্তানীদের স্বাধিকার আন্দোলনকে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আখ্যায়িত করে বলপূর্বক দমন করে রাখে, সেই ভারতই কোন নীতির বা আদর্শের অনূসারী হয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার চর্চা করে পূর্ব পাকিস্তানীদের পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত করায় সহায়তা করতে থাকে বা ইন্ধন যোগায়?

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানীদের (বাংলাদেশ) স্বাধিকার আন্দোলনের সাথে আসাম, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এর জনগনের স্বাধিকার আন্দোলনের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি? পরস্পরবিরোধী আদর্শ কোন শান্তিপ্রিয় ও প্রগতিশীল দেশের আদর্শ হতে পারে কি?

‘ট্রানজিট’ নয় ‘করিডোর’

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নদীপথে ট্রানজিট ও বাণিজ্য প্রটোকলের অধীনে ১৯৭২ সাল থেকেই ভারত করিডোর সুবিধা ভোগ করছে। তাই বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নেপাল, ভুটান সহ অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণকে পাশ কাটিয়ে চুক্তি সম্পন্ন করে, শুধুমাত্র ভারতের স্বার্থ চরিতার্থ হচ্ছে। কথিত ‘ট্রানজিট প্রোটকল’ ছিল আওয়ামী সরকারকে বছরে ১০ কোটি টাকা প্রদানের বিনিময়ে বাংলাদেশকে ‘করিডোর’ হিসেবে ব্যবহার করার চুক্তি।

ট্রানজিট বা কানেকটিভিটির নামে বাংলাদেশ ভারতকে সম্পূর্ণ এবং নিঃশর্ত ছাড় দেয়। এই বিশেষ সুবিধাটি ভারত পাকিস্তান আমল থেকেই চাচ্ছিল। যদিও অতীতের কোনো সরকারই ভারতকে এই সুযোগ দেয়নি কিন্তু ২০১৫ তে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকার এটিকে বলে ট্রানজিট, ভারত সরকার বলে সংযোগ বা কানেকটিভিটি।

কিন্তু আলোচ্য বিশেষ সুবিধা ট্রানজিট বা কানেকটিভিটি নয়, বরং করিডোর। এক দেশ থেকে আরেক দেশ হয়ে তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়াকে বলে ট্রানজিট যেমন, কলকাতা থেকে ঢাকা ট্রানজিট নিয়ে ইয়াঙ্গন (রেঙ্গুন) যাওয়া। কিন্তু আলোচ্য ক্ষেত্রে এক দেশ থেকে তৃতীয় কোনো দেশে নয়, এমনকি দ্বিতীয় কোনো দেশেও নয়, একই দেশের এক স্থান থেকে সেই দেশেরই আরেক স্থানে যাওয়া হচ্ছে। মাঝখানে অপর একটি দেশের অর্থাৎ বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। এটির নাম করিডোর, ট্রানজিট নয়।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

জলের গান
জলের গান এর ছবি
Offline
Last seen: 3 weeks 48 min ago
Joined: শুক্রবার, নভেম্বর 1, 2013 - 4:15পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর