নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • শাম্মী হক
  • সলিম সাহা

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

৫৭ ধারা বাতিল করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দেয়া হোক।


গণতন্ত্রের নামে প্রহসনমূলক শাসনব্যবস্থায় ৫৭ ধারার মত ঘৃণ্য বর্বর ব্যবস্থা চালু করে প্রগতিশীলদের মুখে এঁটে দেয়া হয়েছে রাজনৈতিক মাস্ক,যা ভেদ করে হয়ত সরকারী পোষ্যের মত বুলি কপচানো যায়,কিন্তু মানবিক ও মানসিক মুক্তি হয় না ।যে ভাষার জন্যে বাঙালী প্রাণ দিয়েছে যুগে যুগে আজ ৫৭ ধারার মত ঘৃণ্য ধারা জাতির টুটি টিপে ধরেছে ,কেড়ে নিয়েছে বাকস্বাধীনতা।যার শিকার হয়েছে নুর নবী দুলাল ভাই,আসাদ নূর,শ্রাবন প্রকাশণা,দিলীপ রায়,শামসুজ্জোহা মানিকসহ আরো অনেকেই ।এ যেন একবিংশ শতকে মধ্যযুগীয় বর্বরতা। শাসকের এই ধরনের ডোন্ট কেয়ার মনোভাবের কারনে মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে ,রাষ্ট্র হয়ে পড়ে গণতান্ত্রিক ভাগাড়।যে ভাগাড়ে পড়ে থাকে হুমায়ুন আজাদ,অভিজিত রায়,অনন্ত দিজয় দাশ,ওয়াসিকুর রহমান বাবুর মত দেশের প্রগতিবাদী মুক্তমনা মানুষের অগণতান্ত্রিক লাশ।আর বাইরের মুক্ত বাতাসে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা নিয়ে উল্লাস করে তুহিন মালিকের মত কিছু গণতন্ত্রী জারজ।শাসকের এই মডিফাইড ফ্যাসিবাদী মনোভাবের বিরুদ্ধে আমার তিনটি কবিতা।

১......গণতান্ত্রিক কারাগার থেকে বলছি

আমরা পুনরায় সেই গণতন্ত্রে ফিরে যাচ্ছি ;
যেখানে বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ হয়ে থাকে কারাগারে,
পুঁজিবাদী খাকি পোশাক পরে গণতন্ত্রের নিশান উড়িয়ে চলে।
আমরা সেই গণতন্ত্রের ফিরে যাচ্ছি যেখানে সংগ্রামী মুখ- কূটনীতিকের প্যান্টের জিপার দিয়ে সেলাই করে দেয়া হয়,
যেখানে জঙ্গিবাদ ঘাঁটি গড়ে রাষ্ট্রীয় দালানে,
কারাগৃহ হয় বুভুক্ষু লেখকের ড্রইংরুম ,
যেখানে লেখকেরা দশ টাকা কিলো দরে বিক্রি হয় রাস্তার মোড়ে-
আর বণিকসংঘ অফিসের দেয়ালে টাঙানো হয় মৃত কবিদের উপড়ে নেয়া ছাল।

যে গণতন্ত্রে বুদ্ধিজীবী মুখলুকিয়ে কাথার তলে বসে অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন,
সংসদ যেখানে নিয়ত প্রহসনের জন্ম দেয়;
প্রতিবাদীর চামড়ায় জুতো পায়ে দিয়ে মার্চপার্চ করে শাসকের পালিত জাদরেল কুকুর।

আমরা কি আবারো সেই বাকরুদ্ধ গণতন্ত্রের পথে চলেছি ?
যে পশ্চাৎপটে পূর্বসূরিরা উপহার দিয়েছিল বায়ান্নর রক্তাক্ত দুপুর,
যেখানে কবিতারা বাক্সবন্দি হয়ে আছে-
আর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে কবিদের অন্তর্বাস খুলে;রাষ্ট্র ময়নাতদন্ত করছে;
শিশুর কান্নার শব্দ নিষিদ্ধ ,কবির কবিতা পড়া নিষিদ্ধ ;
মাথার ঘিলুর চাপে অবরুদ্ধ শব্দেরা খুলি ভেঙে বেরোতে চায় যেন;
তবু জারজেরা প্রসূতির যোনী দেশে বেয়নেট দিয়ে খোঁচা দিয়ে বলে-"শব্দ করবি না চু....রানী."
চিরায়ত কণ্ঠরুদ্ধ-
চিৎকার করলে জনসমক্ষে ফাঁসির আদেশ -এই নামান্তর গণতন্ত্রে;
অনাচারের উৎসবে মিডিয়ার চোখ কালো কাপড়ে মোড়া,
একাত্তরের স্বাধীনতা আজ দেশপলাতক -
আমরা কি এই গণতন্ত্র চেয়েছিলাম ?

২...।।আমরা কখনও কবি হতে পারব না

আমরা কখনো কবি হতে পারব না-কেননা আমরা যুদ্ধ দেখিনি;
দেখিনি মায়ের কোলে সদ্যমৃত শিশুর লাশ;
আমি দেখিনি, জনসমক্ষে নারীরা কিভাবে ধর্ষিত হয়?
আমি কখনও কবি হতে পারব না,
আমি জানিনা ক্ষুধার্তের কষ্ট কি?-কেননা আমি দুর্ভিক্ষ দেখিনি,
দেখিনি কিভাবে মানুষ আর কুকুর খাবারের জন্য ডাস্টবিন এর সত্ত্বাধিকার দাবী করে?
আমি জানিনা কিভাবে ভাষার জন্য মানুষ প্রাণ দিতে পারে?
দেখিনি,বুকে পিঠে গণতন্ত্রের দাবী
আর রক্তে ভেজা পকেটে কড়কড়ে দুই টাকার নোট।

আমি গণতন্ত্র দেখিনি,বিদ্রোহ দেখিনি,
গণতন্ত্রের দাবীতে সংহত হতে দেখিনি,
শুনেছি কেবল -"যে ঝুঁকতে পারবে না,সে ভেঙ্গে পড়বে।
আমি দেখেছি সুভাষিনীরা বাকরুদ্ধ হয়েছে,
আমি দেখেছি পর্দার আড়ালে শাসকের মনে বেহায়া ভিক্টোরিয়ান মরালিটি-
যেখানে রাতদুপুরে শিল্পের নামে রাজনীতি কর্ষিত হয় ,
আমি শাসকের হাতে লাগাম আর আর রাষ্ট্রের গলায় পোশ দেখেছি,
আমি হরতালে শাসকের জারজ বুলেট শার্ট ছিঁড়ে অভিবাদন করেছি,
আর শকুনের দল বিকারগ্রস্ত বলে আমার লাশ ছোঁয় নি,
আমি সাভার ট্রাজেডির নিরবতা ভেঙে মজুরের আর্তচিৎকার শুনেছি।

আমি সীমান্তে কাটাতারে বিদ্ধ ফেলানির কড়কড়ে শুকোনো লাশ দেখেছি,
আর পতাকা বৈঠকে বারংবার গণতন্ত্রী জারজ পুত্রদের মানুষের রক্তে পানাহার সারতে দেখেছি,
আমি আমি দেশপলাতক যবনের ভিটার ভগ্নস্তূপে দাঁড়িয়ে কংকালসার কুকুরের আর্তনাদ শুনেছি,
আমি শিরার শিরায় অসভ্যতার বীজ অংকুরিত হতে দেখেছি,
আমি বায়ান্ন ,একাত্তর,তেতাল্লিস,ঊনসত্তর দেখিনি,
কেবল স্বৈরাচারের বুকে তারুণ্যের পদাঘাত করে বারংবার নীল আঁধার গিলে আত্মহুতি দিতে চেয়েছি।

৩... বাকরুদ্ধ গণতন্ত্র

ছেলেটা নিজেকে প্রগতিবাদী বলে দাবী করেছিল,
আর রাষ্ট্রনীতি তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলে চিহ্নিত করে-
শকুনেরা হাতকড়া পড়িয়ে নিয়ে গেল নিষিদ্ধ কক্ষে,
যেখান থেকে গণতন্ত্রীর চিৎকার সংগ্রামীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে না,
অশ্লীলতা আর দ্রোহ মিলে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল-
শাসকের মেকি লাগামের বিরুদ্ধে..
আজ কোনো মেকি ছন্দের ধার ধারি না-
সাহিত্য আজ অলংকার ত্যাগ করবে,
যেই সভ্যতায় শাসকের চাবুক মজুরের পিঠ মাড়ায় তার- কাথায় আগুন।

ছেলেটার দম ছিল,চিৎকার করার সাহস ছিল,
তাই হাই না তুলে সকালের তাজা হাওয়ায় বুক ভরে নিশ্বাস নিয়ে-
গলা ফাটিয়ে চিৎকার করেছে-
মাথার ঘিলুতে প্রচলিত গণতন্ত্রের চাষ করে নি,
মানেনি প্রজাতন্ত্রের নামের চলা রাজতন্ত্র ,
যেখানে রাজার ছেলে রাজা,চামারের সন্তান চামার হবে...28.09.16

Comments

নাসিম হোসেন এর ছবি
 

এই কবিতাগুলা ভালো ছিলো। আরো লেখ। কেউ পড়ুক আর না পড়ুক।লিখে যা। সময় হলে মানুষ খুজে নেবে।

 
কৌশিক মজুমদার শুভ এর ছবি
 

ধন্যবাদ

কৌশিক

 
উলুল আমর অন্তর এর ছবি
 

ভালো লেগেছে।চালিয়ে যান ভাই।

উলুল আমর অন্তর

 
কৌশিক মজুমদার শুভ এর ছবি
 

ধন্যবাদ

কৌশিক

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কৌশিক মজুমদার শুভ
কৌশিক মজুমদার শুভ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 6 দিন ago
Joined: রবিবার, এপ্রিল 2, 2017 - 7:31অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর