নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাজ্জাদুল হক
  • শঙ্খচিলের ডানা
  • তাকি অলিক
  • ইকরামুল শামীম

নতুন যাত্রী

  • মোমিত হাসান
  • সাম্যবাদ
  • জোসেফ স্ট্যালিন
  • স্ট্যালিন সৌরভ
  • রঘু নাথ
  • জহিরুল ইসলাম
  • কেপি ইমন
  • ধ্রুব নয়ন
  • সংগ্রাম
  • তানুজ পাল

আপনি এখানে

ছাত্র রাজনীতির দূর্বলতাঃ কওমীর সাংগঠনিক শক্তি ও তালেবানের পদধ্বনি..



যেখানে তথ্য অধিকার নয়, অধর্মের কাজ
বর্তমান দুনিয়ায় তথ্য প্রাপ্তি মানুষের একটি অধিকার হলেও কওমী মাদ্রাসার তথ্য প্রাপ্তি তার ব্যতিক্রম! তথ্যের অধিকার-সুযোগ তো দূরের কথা, এক্ষেত্রে কৌতুহল থাকাও অন্যায় ও অধর্মের কাজ বলে বিবেচিত হয়! কোন বিষয়ে লিখতে-বিশ্লেষণ করতে গেলে তথ্যের প্রয়োজন হয়, কিন্তু কওমী মাদ্রাসার তথ্য পাওয়া অনেক দূরুহ কাজ! সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগের গবেষণা থেকে যে তথ্য পাওয়া যায় তার একটার সাথে আরেকটার গড়মিল লক্ষ্যনীয়। বিশেষ করে কওমী মাদ্রাসার সংখ্যা, সেখানে কর্মরত শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীর প্রকৃত পরিমান সম্পর্কিত তথ্য রহস্যাবৃত ও ধুম্রজালের মত! এক্ষেত্রে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি গ্রহনযোগ্য অবস্থানে থাকতে চেষ্টা করেছি।

বাংলাদেশে ইসলাম ভিত্তিক দলগুলোর শক্তির উৎস নিয়ে আমার একাধিক লেখায় পূর্বে আলোচনা করেছি। দেশে মৌলবাদী দলগুলোর গড়ে ওঠা ও শক্তির উৎসই হচ্ছে মাদ্রাসা। প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মিবাহিনী, কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক অফিসও এই মাদ্রাসাই! বিভিন্ন উৎস থেকে জানা যায়, ছোট-বড়, নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত মিলে দেশে মাদ্রাসার সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখের কাছাকাছি! ৬০ হাজার মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী এর সাথে যোগ করলে এই সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে! যাদের সবাই ইসলামী সমাজ ও ইসলামী বিপ্লবের রাজনীতির সাথে যুক্ত। এবং এটাই তাদের শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য।

ছাত্র আন্দোলন ও কওমী মাদ্রাসা
বাংলাদেশের ভাষা, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ছাত্র রাজনীতির গৌরবোজ্জল ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রতিদ্বন্দ্বি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন একই ক্যাম্পাসে যুগ যুগ ধরে পাশাপাশি যে যার নীতি-আদর্শ ও কর্মসূচীর পক্ষে কাজ করে গেছে। সেখানে একেঅন্যের সাথে দ্বন্দ্ব-সংঘাত হয়েছে, ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করেছে-হয়েছে, কিন্তু বিরতি দিয়ে আবার পাশাপাশি অবস্থান করেছে, কাজ করেছে। যদিও ৯০ পরবর্তিতে ছাত্র আন্দোলনের সেই পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ছাত্র রাজনীতির সুযোগও এক শ্রেণীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংকুচিত হয়েছে। বিশেষ করে দেশের বেসরকারী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। তারপরও ক্রীয়াশীল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সাংগঠনিকভাবে তৎপর।

কিন্তু কওমী মাদ্রাসাগুলো সবসময়ই এই চিত্রের ব্যতিক্রম থেকে গেছে! সেখানে দেশের ক্রিয়াশীল সংগঠনগুলোর প্রচলিত ধারার ছাত্র আন্দোলন করার সুযোগ না ছিলো না, এখনও নেই! কিন্তু কওমীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের কর্মীবাহিনী ও সংযোগ দেশের সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আছে, এবং তাদের শক্তি ক্রমশ বৃদ্ধি করছে। সরকার ও প্রশাসনের ভিতরেও তাদের প্রভাব দিনদিন বাড়ছে! নিজেদের প্রতিষ্ঠানে মাদ্রাসাভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর একক কর্তৃত্ব ও তৎপরতার কথা সবারই জানা। কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, তাদের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে তারা সংগঠন করতেই পারে পারে, সেটা দোষের কি? তাহলে সরকারী প্রতিষ্ঠানে কেবল সরকারী সংগঠন থাকবে সেটা হলেও তো দোষের কিছু নেই! এই যুক্তি মেনে নিতে হবে। যে কোন ব্যক্তি/গ্রুপ একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অর্থ এই নয় যে, সে তার মত করে সেটা চালিত করতে পারে। সব বিষয়েই রাষ্ট্রের একটা নীতিমালা আছে, তার ভিত্তিতে সেটা পরিচালিত হবার কথা। কওমী মাদ্রাসা যদি সম্পুন্ন রাজনীতি মুক্ত হতো, তাহলে এ আলোচনা আসত না, বরং তা হচ্ছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু!

ছাত্র রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাবের কারণে অনেকেই মনে করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংগঠন ও রাজনীতি চর্চা নিষিদ্ধ করা উচিত। এবং এর পক্ষে নাগরিকদের মধ্যে জোড়ালো সমর্থন লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু এই বিশিষ্ট নাগরিকরা, কখনোই স্পর্শকাতর বিষয় বিবেচনায় কওমী অঙ্গনের ধর্মভিত্তিক সংগঠন-রাজনীতি নিয়ে কখনো কিছু বলেন নি! সরকারও নিরব। আর সেই সুযোগে কওমীগুলো হচ্ছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির জমজমাট আসর! সে কারণেই তারা এই ধারা-প্রতিষ্ঠানের উপর কোন ধরণের নিয়ন্ত্রন ও জবাবাদিহিতা মেনে নেবে না! সেটা হলে বাধাগ্রস্থ হবে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন, তার সিপাহীদের প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষন-প্রশিক্ষন!

স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের রাজনীতি কি স্বীকৃত?
বাংলাদেশে স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের, কর্মচারীদের রাজনীতি নিষিদ্ধ (স্বায়ত্বশাসিত বাদে)। কিন্তু মাদ্রাসার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম? তারা কেবল ধর্ম করছে না, ধর্ম শিক্ষার নামে রাজনীতি করছে। ব্যবস্যা করছে। নির্বাচন করছে। সভা-সমাবেশ-মিছিল করছে। বক্তৃতা দিচ্ছে! ওয়াজ করে অর্থ উপার্জন করছে, কিন্তু সরকারকে কোন ট্যাক্স দিচ্ছে না! বাংলাদেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা (দেশ-বিদেশে) কোন কন্সালটেন্সি করলে, অন্য কোথাও ক্লাস করালে, কোন লাভজনক সুবিধা অর্জন করলে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কমিশন ও সরকারকে ট্রাক্স দিতে হয়। কিন্তু ধর্মীয় আয়ের ক্ষেত্রে সেটা নেই কেন? সেই আয়ে তারা গাড়ী-বাড়ীর মালিক। নির্বাচন করেন। হেলিকপ্টারে ঘোরেন! বিদেশ যান! একদেশে দুই নিয়ম! ধর্মের নামে কোন কিছু করলে কি তা আইনের উর্দ্ধে উঠে যায়? বরং তাদের কর্মেই তো উন্নত নৈতিকতার প্রকাশ ঘটার কথা! অত্যন্ত নম্র-ভদ্র-বিনয়ি-নীরিহ-মার্জিত হবার কথা, কিন্তু পূর্বে বলেছি, তারা এক মহাগুপ্তধনের উপর বসে আছে, যার উত্তাপ তাদের এতটা বেশামাল করছে। রাজনৈতিক স্বার্থ-সমীকরণের সুবিধাভোগী হয়ে তারা ধর্মের নামে আইন-সংবিধান লংঘন করছে। আর সরকার ক্ষমতার স্বার্থে হেফাজতীর শরীরে পুষ্টি জোগাচ্ছে!

ছাত্র সংগঠনের সদস্য সংখ্যা একটি বিশ্লেষন
২০১২ সালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স স্টাডিজ ৬৫টি জেলায় ছয় হাজার ৫০০ যুবকের ওপর যে জরিপ করে। সেখানে ৮০ শতাংশের অধিক যুবক ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কে বিরূপ ধারণা পোষণ করে। এঁদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ যুবক রাজনীতিতে তরুণদের সংশ্লিষ্ট করার বিপক্ষে। এই জরিপকে যদি ভিত্তি ধরি, তাহলে বলা যায়, দেশের মোট ছাত্র সংখ্যার মাত্র ২০ শতাংশ ছেলেমেয়ে ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং এর সমর্থক। ২০১৫ সালের হিসেবে দেশে সর্বমোট (প্রাইমারী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়) ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৩ কোটি ৬৮ লাখ ২১ হাজার ৮৭ জন। ছাত্র রাজনীতিতে সাধারণত সম্পৃক্ত হয় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেই হিসেবে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৯ লাখ, ৯১ হাজার, ৩৫৪ জন। তাহলে ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত ও সমর্থন করে এই প্রায় ৮০ লাখের ২০ শতাংশ হলে, মাত্র ১৬ লাখ ছাত্রছাত্রী! এই ১৬ লাখের সবাই সক্রীয়ভাবে ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত নয়। ১৬ লাখের ৬ লাখকে সমর্থক হিসেবে বাদ দিলে থাকে ১০ লাখ। এই ১০ লাখের সবাই বিশেষ কোন একটি সংগঠনের সাথে যুক্ত না! এরমধ্যে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র শিবির, ছাত্র ইউনিয়ন, ফ্রন্ট, ফেডারেশন, মৈত্রী অন্যান্য সকল সংগঠন অন্তর্ভূক্ত। এখন প্রশ্ন এই ১০ লাখের কত শতাংশ মাদ্রাসা শিক্ষা, ধর্মান্ধতা, জঙ্গীবাদ, মৌলবাদের বিপক্ষের রাজনীতির সাথে যুক্ত ও সমর্থন করে? এর অর্ধেক ৫ লাখও যদি ধর্মান্ধতার সমর্থক হয়, বাকী থাকে ৫ লাখ! এই ৫ লাখ কি দেশের ধর্মান্ধতা-জঙ্গীবাদ-মৌলবাদ, মোকাবেলা করতে, দূর করতে অভিন্ন ভাবনা ও কৌশলের কথা ভাবেন? বাস্তব পরিস্থিতি বলছে না! এই গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক প্রশ্নে এখানে, এই বলয়ে কোন ঐক্য ও বোঝাপড়া নেই! এবং আশু হবার সম্ভবনাও নেই।

কওমী- তার বিপরীতি চিত্র!
প্রায় ৬০ হাজার কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ! এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে দেশের ঐতিহ্যবাহী ও প্রতিষ্ঠিত কোন ডান-বাম সংগঠনের তৎপরতার সুযোগ নেই। সেখানে কেবল কওমী ধারার যে ইসলাম ভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো আছে, তার বাইরে আর কোন সংগঠনের কাক করার সুযোগ-অধিকার নেই! বিধায় এখানে অধ্যায়নরত ও প্রশিক্ষিতি শতভাগ ছাত্রছাত্রীই এই মৌলবাদী রাজনীতির কর্মী ও সমর্থক। প্রাইমারী থেকে উচ্চতর পর্যায়ে তাদের অভিন্ন ধারাবাহিকতার মাধ্যমে, ঈমানী শিক্ষা দিয়ে তাদের তৈরী করা হয় এবং হচ্ছে! কওমী মাদ্রাসা হচ্ছে ইসলামের নামে একটি মধ্যযুগের অন্ধকার সমাজ প্রতিষ্ঠার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া!

এই শিক্ষার্থীদের শতকরা ৮৫ ভাগই আবাসিক সুবিধায় মাদ্রাসাতেই অবস্থান করে। ক্যান্টনমেন্টের মতই এক ধরণের কঠোর ও শৃংখলার জীবনে তারা অভ্যস্ত। যাদের মনোভাব শতভাগ আনুগত্য, বিশ্বাস ও উৎসর্গকৃত! যুক্তি, বুদ্ধি, বিবেকহীন, অন্ধত্ব তাদের করেছে ভয়ঙ্কর ও বেপরোয়া! এমন ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর অর্ধেক, মানে ৩০ লাখও যদি তাদের উদ্দেশ্য-আকাঙ্খার প্রশ্নে শতভাগ অবিচল থাকে, তাহলে সাধারণ শিক্ষার সেক্যুকার ৫ লাখ কি- এই ৩০ লাখ ধর্মান্ধকে মোকাবেলা করতে সক্ষম? সেক্যুলারদের কাছে এমন হিসেব না থাকলেও তাদের কাছে ঠিকই আছে! আর সেই হিসেবই তাদের এতটা বেপরোয়া করেছে! তাদের যে বর্তমান পরিস্থিতি/সংযোগ তাতে অল্প সময়ের প্রস্ততিতে আছে তারা ঢাকা শহরে ২০-৩০ লাখ টুপীপরা লাখ মানুষ যোগার করতে পারে! যে কোন জেলা শহরে অল্প সময়ের মধ্যেই লক্ষাধিক লোকের জমায়েত করতে সক্ষম।

যারা রাজনীতি করে না তাদের ভূমিকা?
কেউ প্রশ্ন করতে পারেন যারা ছাত্র রাজনীতি সমর্থন করেনা, তাদের ভূমিকা কি? তারমানে কি সবাই জঙ্গীবাদের সমর্থক? এ প্রশ্নে হ্যাঁ-না শব্দে উত্তর মেলা কঠিন! যখন একটি বৈরী পরিস্থিতি তৈরী হয়, তখন নির্লিপ্ত-নির্বিকারদের জনগোষ্ঠী কি করে? অভিঙ্গতা বলে, কোন ভাসমান জনগোষ্ঠী দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রামের পরিকল্পনা করা যায় না! এদেরকে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে, ৯০ গণআন্দোলনের মূল সংগ্রামেও পাওয়া যায় নি! কিন্তু এরা সবকিছুর সুবিধাভোগী হয়। বাংলাদেশের ভোটের হিসেবও বলে ৫০ শতাংশের অধিক ভোটার বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত, অন্যান্য ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলের সমর্থক!

এখানে সবচেয়ে স্বস্তির দিক বাংলাদেশের সামাজিক ভাবাদর্শ মৌলবাদের বিপক্ষে। কিন্তু দেশের চীরচেনা সেই রুপ কি আর আমরা দেখছি। আমাদের সমাজ কি সেই আবহমান অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের জায়গায় আছে? এজন্য রাজনৈতিক ধারা-ব্যবস্থা প্রধানত দায়ী। কিন্তু সাধারণ নাগরিকরাও কি তাদের দায় এড়াতে পারে? একটি সমাজ যতটা না পিছিয়ে যায়, বিপদজনক হয়, ধর্মান্ধ-মৌলবাদের দ্বারা, তারচেয়ে সেই সমাজ অনেক বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়, পশ্চদপদ হয়, তথাকথিত শিক্ষিত ভদ্রলোকদের নির্বিকার ও নির্লিপ্ততায়!

২০১৩তে গণজাগরণ মঞ্চের জমায়েত ছিল, ভাসমান এবং বিভিন্ন সংগঠন-প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার উপর নির্ভরশীল। সরকারী ছাত্র সংগঠন যখন গণজাগরণ মঞ্চকে প্রশ্নবিদ্ধ করল, নিজেদের প্রত্যাহার করে নিল, তখন আর এর কর্মকান্ডকে বেশী দূর অগ্রসর করা যায় নি। এখন এটি একটি ক্ষুদ্র গ্রুপে পরিণত হয়েছে!

ছাত্রলীগ বা সব গণতান্ত্রিক সংগঠন মিলে কি পারবে অল্প সময়ের ঘোষণায় ঢাকায় ৫ লাখ ছাত্রছাত্রীর জমায়েত করতে, যারা যাদের প্রধান শপথ হবে, হয় মুক্তি, হয় মৃত্যু! কিন্তু কওমীর সেই প্রশিক্ষন ও প্রস্ততি সার্বক্ষনিক আছে! যে স্পর্দ্ধায় তারা উল্টো শর্ত দিয়ে সরকারের কাছ থেকে দাবী আদায় করতে পারে। সরকারকে আইন পাশে বাধ্য করে। পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন হয় চোখের ইশারায়।

ধর্মান্ধরা হাটছে গ্রাম-শহর দখলের নকসায়..
অধ্যাপক আবুল বারাকাতের ভাবনার সাথে কিছুটা যোগ করে বলছি। ২০১৬তে এই মৌলবাদীরা, তাদের পরিকল্পনা মাফিক ৪০০টি গ্রামে ইজতেমা করেছে, এবং ২০১৭ সালের মধ্যে তাদের টার্গেট আছে ২০ হাজার গ্রামে ইজতেমা করার পরিকল্পনা। এবং এধারায় তারা অগ্রসর হতে থাকলে, বলা যায়, স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীর আগেই, মানে ২০২১ সবগুলো গ্রামে- তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ফেলবে! এটাই তাদের গ্রামকে ঘিরে শহরে দখলের আখেরী পরিকল্পনা! তারা তাদের গোপন নকসায়- এজেন্ডা বাস্তবায়নের কাজ করছে। সুযোগ পেলেই মোল্লারা হুঙ্কার দিচ্ছে, শাসাচ্ছে, মুসলমানদের দেশ কিভাবে চলবে, কিভাবে চালাতে হবে! তাদের ঐদ্ধত্যে ও স্পর্দ্ধা একটি শাসনতান্ত্রিক কাঠামোকে অতিক্রম করছে! শুনে অবাক হচ্ছেন, মনে হচ্ছে বাড়াবাড়ি করছি, পরিস্থিতি তারচেয়েও ভয়াবহ! সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের কন্ঠেই শুনুন, ‘কদিন পর এ নাটক করতে পারবেন না। আপনি গান গাইতে পারবেন না। আপনি কবিতা আবৃতি করতে পারবেন না। অপশক্তিকে প্রতিহত করার জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে বাংলাদেশে নামের ফুলের বাগান, তারা তছনছ করে ফেলবে। অভিজিতের পিতা অজয় রায়ের উদ্বেগ, এভাবে চলতে থাকলে, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, একদিন আপনাকেও বোরকা পরতে হবে, আপনাকেও হেজাব পরতে হবে। হেফাজতিরা আপনাকেও ছাড়বে না। বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলে রেহাই দেবে না!

কওমীর ধর্মান্ধতা বনাম সুবিধাবাদী রাজনীতি
কওমীর শিক্ষার্থীরা যে ধর্মান্ধ মৌলবাদী রাজনীতির সাথে যুক্ত, সেটার সাথে ইহোকাল-পরকালের অনন্ত সুখ-শান্তির প্রশ্নটি যুক্ত! তারা বিশ্বাস করে ইহোকাল কিছু না, পরকালই সব! সেখানে কোন যুক্তবোধ নেই, আছে অন্ধবিশ্বাস। আর সেই মূর্খ্যতা ও অন্ধত্বের শিক্ষা তরুণদের বেপরোয়া ও জঙ্গী করবে এটাই স্বাভাবিক!

কিন্তু বর্তমান প্রধান ধারার যে ছাত্র রাজনীতি তা স্বার্থ-সুবিধা, ক্ষমতাকেন্দ্রীক ও প্রাতিষ্ঠানিকতার পক্ষের রাজনীতি, সেখানে নীতি-আদর্শ-নৈতিকতা ভিত্তি অতি দূর্বল। যে কারণে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলায় তারা কতটা ঝুঁকি ও দেশাত্ববোধের পরিচয় দিবে সেটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এ প্রসেঙ্গে অনেকে অতীতের উদাহরণ দেবেন কিন্তু তাদের স্বীকার করতে হবে পরিস্থিতি অনেক পাল্টেছে। তার প্রমান বর্তমান ছাত্রদল কি সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কোন জোড়ালো প্রতিবাদ তৈরী করতে পেরেছে, আন্দোলন-সংগ্রাম করতে পেরেছে? কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকতা বিপরীতে দাড়িয়ে ৯০’র গণআন্দোলনের একটি প্রধান শক্তিই ছিল ছাত্রদল! ১/১১’র ঘটনায় দেশে সেনা সমর্থক সরকার ক্ষমতায় এলে, প্রধান দলের শীর্ষনেতারা অন্তরীণ হলে, অন্যনেতারা নানা চাপে, স্বার্থে, সুবিধায় ষড়যন্ত্র করে। নেতা-কর্মীদের দোদু্ল্যমানতা হয়, বিভক্তির রেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সঙ্গতই প্রশ্ন আসে ধর্মান্ধ শক্তিকে মোকাবেলা করতে যে আদর্শবোধ ও নৈতিকশক্তির দরকার, বর্তমান সুবিধাবাদের রাজনীতি কি সেটা করতে সক্ষম? এই আত্মউপলব্ধিই নির্ধারণ করবে অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভবিষ্যত চরিত্র!

বাংলাদেশে তালেবানের পদদ্ধনি শুনি..
কওমী মাদ্রাসার বিস্তৃতি, জমায়েত ক্ষমতা, তাদের সাংগঠনিক শৃংখলা, চেইন অব কমান্ড, আর্থিক সঙ্গতি প্রভৃতি বিষয় বিবেচনায় নিলে বলা যায়, তারা যে কোন সময় বড় কোন ঘটনা-দূর্ঘটনা ঘটাতে পারে। গ্রাম দখল করার প্রসঙ্গ আসার প্রধান কারণ তাদের গড়ে তোলা মাদ্রাসার ৮৫ শতাংশই গ্রামে অবস্থিত! ৮৫ হাজার গ্রামের মধ্যে প্রায় ৪৫ হাজার গ্রামেই অন্তত একটি করে কওমী মাদ্রাসা আছে। ২০১৩ সালে ঢাকার মতিঝিলে তারা যে জমায়েত করেছিল সেটা কোন ভাড়া করা জমায়েত ছিল না। অথবা, ভাসমান জমায়েত ছিল না। সে জমায়েত ছিল তাদের নিজস্ব। সেটা ছিল তাদের জমায়েত ক্ষমতা ও সামর্থের আংশিক! সে সময় অবরোধ, পরিবহন সংকট, পুলিশী তৎপরতায় তাদের ঢাকায় আসা বিভিন্ন ভাবে বাধাগ্রস্থ হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ৩ দিনের জন্য যে জমায়েত হয়েছিল তা অভাবনীয়! সে কয়েকদিন ঢাকা শহরের আতঙ্কের পরিবেশ তৈরী হয়েছিল! মোল্লাদের ভয়ে রিক্সায় হুড তুলে মেয়েরা মাথায় কাপড় দিয়ে চলাফেরা করেছে।

৯০এর দশকে একজন সাধারণ মাদ্রাসা শিক্ষক মোল্লা ওমরের নেতৃত্বে মাদ্রাসার ছাত্ররা (তালেবান) প্রথমে আফগানিস্থানের বিভিন্ন শহর ও পরে ক্ষমতা দখল করেছিল। সেই সময় বিভিন্ন ইস্যুতে, বাংলাদেশে মাদ্রাসা ছাত্রদের সেই গা শিউরে ওঠা স্লোগানের কথা মনে পরে, ‘আমরা হব তালেবান, বাংলা হবে আফগান!’ এখন আর সেটা স্লোগান নয়, সরকারও তাদের আদেশ-নির্দেশ অনুসরণ করে অতি সমীহে! আফগানিস্থানে তালেবানের পতন হলেও, এখানে তার অনুসারীরা, সেই সনাতন নকশায়- এগিয়েছে অনেক দূর..! কওমী মাদ্রাসার সাংগঠনিক শক্তি, ছাত্র রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতির একটি পর্যালোচনার মাধ্যমে বুঝতে চেষ্টা করেছি, পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ ও বিপদজনক!

ড. মঞ্জুরে খোদা, প্রাবন্ধিক-গবেষক, ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডা

বিভাগ: 

Comments

গোলাম সারওয়ার এর ছবি
 

দারুন সময়োপযোগী লেখা। আমাদের জানাশোনা অনেক উচ্চ শিক্ষিত উজবুক আছেন যারা মনে করেন কওমি মাদ্রাসা একটি "শিক্ষা ব্যবস্থা", এই সকল উজবুকেরা এই ইসলামী পুনরজাগরন আন্দোলন কে বলেন "শিক্ষা ব্যবস্থা"। এঁদের নিজেদের ছেলে মেয়েরা পড়াশুনা করে ইংরাজি মিডিয়াম স্কুলে আর এরা দিন রাত ওকালতি করেন কওমি মাদ্রাসার। কওমি মাদ্রাসা একটি তালিবানী চেতনার আন্দোলন। তালিবানী চেতনা সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে কোথায় নিয়ে গেছে তা এই সকল উজবুকেরা দেখেও না দেখার ভান করেন।

আশা করছি, আপনার লেখা কিছু উজবুকের চোখ খুলতে সাহায্য করবে।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মঞ্জুরে খোদা টরিক
মঞ্জুরে খোদা টরিক এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 6 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী 4, 2016 - 11:59পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর