নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৈকত সমুদ্র
  • জিসান রাহমান
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • আকিব মেহেদী
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

অতীত হারাতে না দেওয়াটাই শোক


( গল্পটি তাসমিয়া ও তানিশা আপুর স্মরণার্তে উৎসর্গ কোরছি। দ্র: গল্পটির কাহিনী, চরিত্র ও কাল সম্পূর্ণ বাস্তব এবং সত্য )

ঈশ্বরকে অনুরোধ করছি, আমার নামে স্বর্গে থাকা জায়গা গুলো যেন তানিশা এবং তাসমিয়ার নামে কোরে দেন।
ঈশ্বরের আদালতে লিখিত স্বাক্ষরের প্রয়োজন কেবলই তুচ্ছ, যেহেতু তিনি জানেন আমরা ভালোবাসার জন্য প্রাণ দিতে জানি। উদাহরণস্বরূপ তাসমিয়া।

তাসমিয়ার ভালোবাসার বলীদানে মাঝে-মাঝে হিংসা হ'য়, আমি কেন পারি নি' কাউকে ভালোবাসতে। পৃথিবীতে হয় তো তাসমিয়া'রা সবচেয়ে বেশি সাহসী। এক টি' কবিতায় একবার লিখেছিলাম, "যাঁরা আত্মহত্যা কোরে, তাঁরাই পৃথিবীর শ্রেষ্ট সাহসী। তাঁরা কখনো মৃত্যুর কাছে মাথানত কোরে না, বরংচ মৃত্যুই তাঁদের মৃত বোলতে ছুঁটে আসে।" আসলেই তাই। সবাই আত্মহত্যা কোরতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন অনেক সাহসের। যে সাহসটা আমাদের মাঝে নেই। তাছাড়া যিনি অসীম সাহস নি'য়ে যুদ্ধে যাচ্ছেন-যায় ইনারা, যারা আত্মহত্যা কোরে তাঁরা অপেক্ষা ভীতু এবং বোকা বলে উল্লেখ কোরেছিলাম কবিতা'টিতে। কারণ তাঁরা ভাগ্যের উপর প্রাণটা বলীদান দেয়, জানেনা কখন সে মারা যাবে।

আর আত্মহত্যা কোরা কতটা ভয়ানক এবং সাহসের ব্যাপার তা আমার বাস্তবিক এক টি' উদাহরণে বুঝিয়ে দিই; সপ্তম শ্রেণিতে যখন ছিলাম ২০১২ খ্রীস্টাব্দ ছিল, তখন আমার একবার টাইফয়েড হ'য়েছিল। রোগের নাম নিশ্চিত হওয়ার পূর্বে সপ্তাহের মধ্যে আমার বাম হাত থেকে দু'বার এক সিরিঞ্জ কোরে ব্লাড নেয়। আমি সিরিঞ্জকে এত ভয় পাই যে, এর পর থেকে অর্থাৎ ২০১২'থেকে জীবনে আর কোনদিন ব্লাড টেস্ট কোরায় নি। এমনকি আমি এখনো জানি না আমার ব্লাড গ্রুপ কী!
এবার কল্পনা করুন, মানুষ কত এবং কী পরিমাণ সাহস নি'য়ে আত্মহত্যা কোরে। আমি যদি আত্মহনণ কোরতে যাই, তাহলে বোধহয় আত্মহনণের পূর্বেই আমি অজ্ঞান হ'য়ে যেতাম। মানে আমার হায়াত আরো বেড়ে যেত।

সত্যি তাসমিয়া চির অমর! তাঁর মত সাহসী, তাঁর মত কোরে ভালোবাসতে বোধ হয় পৃথিবীর জীবিত মানুষ'গুলোর আর কেউ পারবে না। কারণ এ সভ্যতায় খুব কম সংখ্যক লোকই ভালোবাসার জন্য মরে। এ ধরুন; শহুর এলাকায় থাকা মানুষ গুলো যাযাবরের মত যেমন বাসা বদলায় এ'মাস বা এ'বছর এই এলাকা পরের মাসে বা বছরে বাচ্চার স্কুলের কাছেই বাসা নেওয়া, ঠিক ভালাবাসার মায়া ফুরিয়ে গেলে তাঁরা ভালোবাসাটাও বদলায়। অর্থাৎ এ'কালের ভালোবাসা জলের মত, পাত্র অনুযায়ী তার আয়তন এবং পরিবেশ অনুযায়ী তার বিশুদ্ধতা। তাসমিয়ার মত মানুষ যদি পৃথিবীতে থেকেই থাকে তবে, এর সংখ্যাটা অতি নগণ্য।

যে দ্যাখেনি পদ্ম ফুঁটতে, শুরু হ'য় নি যাঁর জীবন, যে দ্যাখেনি সন্ধ্যার সূর্যোদয় ঈশ্বর কী চমৎকার ভাবেই না তাঁকে নিয়ে গেলেন। তানিশার মৃত্যুর রহস্য জেনে আমার খুব হিংসা হয়, এত সুন্দর কোরে কেউ মারা যেতে পারে তাও আবার সবার প্রীতি ও ভালোবাসা নিয়ে, আমার জানা ছিল না প্রভু!

পৃথিবীতে বোধহয় সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত এটাই, একজন জননীর মুখে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় সন্তানের মৃত্যুর কবিতাবৃত্তি। শুধুমাত্র জননীই জানেন প্রসব কত আনন্দের এবং কত বেদনার। আনন্দ বোলার কারণ, একটা শিশু একজন নারীর পরম পাওয়া। আর যদি সে শিশুটির মৃত্যু তার জননীর চোখের সামনে হয়, তবে এটাই পৃথিবী ধ্বংসের চেয়েও বেশি কষ্টের মুহূর্ত। বেদনার কথা না হয় যখন নিজে মা বা স্বামী হবেন, তখন জানবেন।

গত বুধবার, ২৯/০৩/২০১৭ তারিখে আমি নাঈমা ম্যামের দ্বিতীয় ক্লাস কোরি। অবশ্য ফেব্রুয়ারি'তে প্রথম ক্লাস কোরেছিলাম। হাইয়ার ম্যাথমেটিক্স ক্লাস নিতেন উনি। উনার ক্লাস ভালোই লেগেছিল। এর ক'দিন পর জানতে পারলাম। তানিশা মানে ম্যামের আদরের বস্তুটি আর নেই, অতীত। খোলা বেলকনির তানিশা, শুধু ডায়েরির পাতায় কালোকালি। বাঁশিটার বাদক নিখোঁজ, আর কোন ঠোঁট লাগেনা বাঁশিটার ঠোঁটে। বাঁশি বাজানো ছিল ও'র প্রিয়র এক টি' শখ। এখন আর সে আবৃত্তি কোরে না, হাসে না, রাগে না। খুব শান্তশিষ্ট হ'য়ে গেছে পূর্বের তুলনায়। অনেকদিন হল চৌকিটা তার স্পর্শ পায় না, প্রকৃতি পায় না তার চপল পা'য়ের অভিশাপ। সেদিন তার জননীর মুখ হতে মৃত্যুর সংবাদ, তার অতীত শুনে ধরে রাখতে পারি নি' চোখের জল। অথচ আমার নানাজান যখন মারারা যান বিগত বছরে অল্পের জন্যও আমার চোখ দি'য়ে অশ্রু ঝরে নি। মা'য়েরা বোধহয় পৃথিবীর শ্রেষ্ট গল্পকার, এত সুন্দর কোরে তার প্রিয় সন্তানের গল্প বোলতে পারেন! যদি শ্রেষ্ট গল্প উত্থপনের কোন কম্পিটিশন থাকতো, তাহলে মা'য়েরাই সবসময় ফার্স্ট হত।

আমার খু্ব ইচ্ছে, এই মেয়েটির কবরের উপর এক টি' সদ্যফোঁটা গোলাপ রাখার। যেহেতু এরা উভয় নিষ্পাপ। আমার খুব ইচ্ছে তানিশার মত সন্তানদের তাঁর মা'য়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার।

জানি না স্বর্গে যেতে পারবো কিনা। যদি না-ও যায় তবে, স্বর্গে আমার নামে পড়ে থাকা খালি অংশটুকুন ঈশ্বর এদের নামে দেন বন্দোবস্ত কোরেন।

আসলে ভবিষৎ'কে আমরা যতটা সহজেই মেনে নিই, বর্তমান এবং অতীতকে আমরা অতটা সহজেই মেনে নি'তে পারি না'। এটাই হোমো স্যাপিয়ান্সদের বড় বৈশিষ্ট্য এবং অত্যন্ত ভালো এক টি' গুন। 'মানুষ বাঁচে তাঁর কর্মে, বয়সে নয়।' এ বিখ্যাত উক্তিটার তাৎপর্য অক্ষুণ্ন রাখার জন্য মানুষ, ভবিষৎ বর্তমান পেরিয়ে অতীত হ'য়ে যাওয়া ডায়েরির গল্প'গুলোকেই বারবার পুনরাবৃত্তি কোরে বর্তমান বলেই ধরে। এ জন্যেই হয়তো সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে ঈশ্বর মানুষকেই উল্লেখ কোরেছেন।

বিভাগ: 

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

বানানের দিকে একটু নজর দেওয়া দরকার। কমন বানান ভুলগুলো বড্ড চোখে লাগে। যেমন: করছি> কোরছি!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

এম ইউ রাকিব
এম ইউ রাকিব এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 6 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ফেব্রুয়ারী 13, 2017 - 10:28পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর