নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • নকল ভুত
  • মিশু মিলন
  • দ্বিতীয়নাম
  • আব্দুর রহিম রানা
  • সৈকত সমুদ্র
  • অর্বাচীন স্বজন

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

ধর্মে বিশ্বাসী মানুষ মাত্রই জঙ্গি মদদ দাতা / জঙ্গি নয়


সাম্প্রতিকসময়ে ইমরান এইচ সরকার তার একটি ফেইসবুক পোস্টের কারনে সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ আক্রমণাত্মক ট্রলের মুখে পড়েছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে যারা ট্রল করছেন, তাদের বেশির ভাগ ই মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য লড়াকু নামী সোশ্যাল মিডিয়া এক্টিভিস্ট।

তারা ট্রল করতেই পারেন। কোনো কিছু পছন্দ না হলে সে কথা স্বাধীনভাবে বলতে পারবেন , সমালোচনা করতে পারবেন- এই অধিকারের জন্যইতো এতো আন্দোলন, এতো কিছু। সেটা কথা না। কথা হচ্ছে, যে বিষয় নিয়ে এবারে ইমরান এইচ সরকারের সমালোচনা করছেন সে নিয়ে আমার স্পষ্ট বিরোধিতা আছে।

দেখুন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য, মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্যই ইমরান এইচ সরকার এতদিন ধরে কাজ করে এসেছেন বলেই আমরা দেখেছি। নাস্তিক ব্লগার হত্যাকাণ্ডের পুরোপুরি বিরূপ পরিস্থিতিতে একমাত্র ইমরান এইচ সরকার ই রাজপথে আন্দোলন করেছেন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে। আজকের সমালোচনায় অংশ নেয়া অনেক কেই যখন জীবন বাঁচাতে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন , ইমরান এইচ সরকার তখন রাজপথে তাদের অধিকারের জন্য লড়েছেন। সমাবেশ ১০ জনের ই হোক আর হাজারের এই মানুষটাই নিজের জীবনের পরোয়া না করে তার কাজ চালিয়ে গেছেন। কিন্তু আফসোস মৌলবাদীদের হিটলিস্টে বরাবর ই প্রথম দিকে থাকা ইমরানের এই ভূমিকার জন্য আজ পর্যন্ত তেমন কাউকে দেখলাম না ২ টা ভালো কথা বলে ফেইসবুকে লিখতে।

ইমরান স্পষ্টতই ধর্মে বিশ্বাসী একজন মানুষ। এখন একজন ধর্মে অবিশ্বাসী কেউ যদি তার অবিশ্বাসের কথা লিখতে পারে, তাহলে ইমরান কেন তার বিশ্বাসের কথা লিখতে পারবেন না?

কয়েকজন বলছেন - এই সময়ে কি তার এই পোস্ট দেয়া ঠিক হয়েছে? আমি বলবো , অবশ্যই হয়েছে। বরং এই সময়েই এ ধরণের স্ট্যান্ড নেয়াটা বিশ্বাসীদের কাছ থেকে সবচাইতে বেশি জরুরি। জিহাদি আদর্শের প্রচারকেরা যে 'ইসলাম' এর কথা বলে তা সাধারণ মুসলমানরা প্রতিনিয়তই গণহারে অস্বীকার করেন। যে কোনো জঙ্গি আক্রমনের পর পর আমরা তাদের বলতে শুনি - 'জঙ্গিরা প্রকৃত মুসলমান নয়' তারা এই কথা কেন বলেন , প্রকৃত 'ইসলাম' আসলে কি ? কোন আদর্শের কারণে 'তারা ইসলাম কে শান্তির ধর্ম বলেন-সেই শান্তির আদর্শে বিশ্বাসীদের এগিয়ে আসার সময় এটা।

আজকে জঙ্গিরা যে 'ইসলাম' কে আসল 'ইসলাম ' বলছে, ধর্মে অবিশ্বাসীরাও যদি সেই 'ইসলামের' প্রচার ই করেন তাহলে আদতে লাভ টা কার হচ্ছে? এর সুযোগ নিয়ে উগ্র মৌলবাদীরা বিভেদ ছড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে, চাপাতিতে শান দিচ্ছে পরবর্তি টার্গেট ঠিক করছে।

যেকোনো সমাজ বা ধর্মের সংস্কার একদিনে হয় না। এটা একটা দীর্ঘমেয়াদি প্রসেস। আর আমার মতে এই প্রসেসে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন ইমরান এইচ সরকারের মত বিশ্বাসী রাই। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর ধর্ম বিশ্বাসকে এক মুহূর্তে তুড়ি দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে লাভের লাভ কিছুই হবে না বরং ঘৃণা বাড়বে, বিভেদ বাড়বে, সহিংসতা বাড়বে। যাদের বিশাল ফলোয়ার আছেন, পাবলিক ভ্যালু আছে তাদেরই এগিয়ে আসা উচিত ধর্মের 'শান্তি ও সম্প্রীতির' আদর্শের প্রচার করার জন্য। ধর্মে অবিশ্বাসী কেউ বা অন্য ধর্মের কেউ বললে যতটা না কাজে আসবে তার চাইতে বহুগুনে বেশি কাজে আসবে যদি মসজিদের ইমাম, আলেম , ওলামা দের নিয়ে জঙ্গিবাদের আদর্শের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে কাজ করা যায়। একটা মানবিক সমাজ গড়ার জন্য আদর্শিক এই যুদ্ধটা শুরু হওয়া খুব জরুরি। প্রতিটি ধার্মিক, আস্তিক, নাস্তিক, সংশয়বাদী সবার ই এই লক্ষ্যে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করাটা দরকার।

জঙ্গি সৃষ্টি হওয়া বন্ধ করার একমাত্র উপায় হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা তৈরী করা। অসাম্প্রদায়িকতার অর্থ ই হচ্ছে সকল মত -ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষের পারস্পরিক সহাবস্থান। এই কনসেপ্ট টার প্রচারে যদি ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা এগিয়ে আসেন, দেশের প্রতিটি মসজিদে ইমামেরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলেন , জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ান তাহলে ঘরে ঘরে সচেতনতা তৈরী হবে।

ভেবে দেখেন, এইটাও কি সংস্কার নয়?
প্রতিবাদ হওয়া টা জরুরি। তার চাইতেও বেশি জরুরি প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে তোলা। আর সেটা সম্ভব একমাত্র সংখ্যাগুরু ধর্ম বিশ্বাসীদের দ্বারাই। আশা করি, আপনারা বুঝবেন।

বিভাগ: 

Comments

গোলাম রব্বানী এর ছবি
 

ইসলামের উপর আপনার এখনো এতো ভরসা? হুজুরেরা শান্তির কথা বলবে? যেখান থেকে তাঁরা শেখে সেখানেই তো সমস্যা। বই মানুষকে ঘৃণা শেখায়, সেই বই-ই তো তাঁরা পড়ে। আজাদের কবিতায় ওদের ভয় কেন?

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অজন্তা দেব রায়
অজন্তা দেব রায় এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 5 দিন ago
Joined: মঙ্গলবার, জানুয়ারী 17, 2017 - 9:35অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর