নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • পৃথু স্যন্যাল
  • সুব্রত শুভ

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

জিহাদি আদর্শের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকেই


লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের আহবানে ওয়েস্টমিনিস্টারে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাজারো মানুষ সমবেত হয়েছিল ট্রাফালগার স্কয়ারে। লন্ডনে কয়েকদিনের জন্য ঘুরতে আসা টুরিস্ট থেকে শুরু করে লন্ডনের স্থায়ী বাসিন্দা বিভিন্ন বয়সের , ধর্মের , বিশ্বাসের মানুষ হাতে মোমবাতি ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে জড়ো হয়েছিল।

সবার উচ্চারণ একটাই - সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে , বিভক্তির দেয়াল গড়তে দেয়া যাবে না এবং সমবেত বলিষ্ঠ উচ্চারণ- লন্ডনবাসী এইসব সন্ত্রাসী হামলায় ভীত নয়। কিন্তু এক অদৃশ্য বিভক্তির দেয়াল যে মানুষে মানুষে গড়ে উঠেছে সেটা এই সকল আয়োজন, সকল না বলা কথা আর অভিব্যক্তির মাঝেই কোথায় যেনো স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠছিলো।

২০০৫ সালের ৭ জুলাইর সন্ত্রাসী হামলার পরে এটাই ব্রিটেনে সবচে বড় আঘাত। যদিও সাম্প্রতিক কয়েক বছরে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন জায়গার সন্ত্রাসী হামলার কারণে ব্রিটেনেও এধরণের হামলার আশংকা ছিল বহু আগে থেকেই। ব্রিটিশ গোয়েন্দারা সফলভাবেই ১৩ টার বেশি সন্ত্রাসী হামলার প্লট সনাক্ত করতে পারে যে কারণে সে গুলো ব্যর্থ হয়। সন্ত্রাসীদের টার্গেটের মধ্যে অন্যতম ছিল ইস্ট লন্ডনের জনপ্রিয় শপিং সেন্টার ওয়েস্ট ফিল্ড, যেখানে প্রতিদিন অন্তত হাজার পাঁচেক মানুষ যাওয়া আসা করে। সপ্তাহান্তে (শনি -রবিবারে ) যার সংখ্যা এর চারগুন পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায় মাঝে মধ্যে। আমার মনে আছে, ওয়েস্ট ফিল্ডে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সানা আহমেদ ও মহম্মদ রহমান নামে এক দম্পতির গতবছর জেল হয়। তাদের জবানবন্দিতে তারা বলেছিলো 'যে জায়গাতে হামলা করলে সবচাইতে বেশি মানুষ মারা যাবে সেইরকম জায়গাই তারা বেছে নিতে চেয়েছিলো। আর সে কারণেই তাদের টার্গেট ছিল ওয়েস্ট ফিল্ড।' কি অসুস্থ মানসিকতা!

এইসব ঘটনা এবং সর্বশেষ ওয়েস্টমিনিস্টারের সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে কয়েকটি ব্যাপার খুব ভাবাচ্ছে।

ব্রিটেনে জন্ম নেয়া , ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা তরুণ তরুণীরা কেন ভয়ংকর খুনে জিহাদি হয়ে উঠছে এ প্রশ্ন স্বভাবতই আমাদের মনে আসতে পারে। ব্রিটেনের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে , বাক স্বাধীনতার অপব্যবহার করে কিছু মানুষ এই দেশের বেনিফিট সিস্টেমে থেকে ও এই দেশের ধ্বংস চায়। যে দেশ তাদেরকে ভরণ পোষণ দিচ্ছে, উন্নত বিশ্বের সকল সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে, তাদের নিজেদের মত করে চলার -বলার -কাপড় পড়ার -ধর্ম চর্চা করার অধিকার দিচ্ছে , সেই দেশের মানুষের উপর আঘাত আনার চিন্তা এরা কিভাবে করতে পারে? আইনের শাসনের উদাহরণ হিসেবে যে দেশকে ধরা হয় তারা সেই দেশের আইনে সন্তুষ্ট না থেকে এইখানে কেন শরিয়া আইন চায় ? যদি শরিয়া আইন ই চাইবে তাহলে কেন তারা এই দেশে আছে? কেন তারা আরবের কোনো দেশে যেখানে সেই আইন আছে সেখানে গিয়ে থাকছে না? কেন এই দেশকে বদলাতে চাইছে?

এই প্রশ্ন গুলো করাটা সহজ হলেও এর উত্তর অনেক জটিল। আমার মতে , ব্রিটেনের সরকার যদি সকল তথাকথিত মৌলবাদী জিহাদি আদর্শ প্রচারকারীদের সাথে 'যেমন কুকুর তেমন মুগুর ' আচরণ করতো তাহলেই হয়তো অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতো। সমস্যা হচ্ছে ব্রিটেন সত্যিকার অর্থেই বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না কারো বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট সন্ত্রাসী লিংক প্রমান করতে পারছে বা উগ্র উষ্কানীমূলক কিছু পাচ্ছে তারা কারো বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। আর এই সাম্প্রতিক হামলা গুলোর মতো প্লট সনাক্ত করা আসলেও দুরূহ ব্যাপার কারণ অস্ত্র-বোমা নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে কাউকে সহজেই ধরে ফেলা যায় কিন্তু কোন মানুষ তার মাথায় জিহাদি চিন্তা নিয়ে ঘুরছে সেটাতো আর ট্র্যাক করা যায় না।

আমার ধারণা, অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হচ্ছে এই তথাকথিত ব্রিটিশ জিহাদি রা আসলে আত্মপরিচয়হীনতায় ভোগে। কারণ এদের প্রায় সবাই ই ইমিগ্রান্ট ব্রিটিশ। জন্ম থেকে নিজেদের না পারে নিজের বাবা মায়ের জন্মভূমির সাথে সম্পৃক্ত ভাবতে , না পারে পুরোপুরি ভাবে ব্রিটিশ ভাবতে। তখনি তারা তাদের নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়কে আঁকড়ে ধরে। সব পরিচয় ছাপিয়ে সেটাই হয়ে দাঁড়ায় তাদের মূল পরিচয় , ধর্মের নামে এদের ব্রেন ওয়াশ করা সহজ হয়ে যায়। আবার অনেকের অবস্থা 'সুখে থাকতে ভূতে কিলায়' টাইপ। এডভেঞ্চার খুঁজতে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। প্রেমে ব্যর্থ, জীবনে ব্যর্থ , অসফল মানুষগুলোকে জীবনের একটা অর্থ দেয়ার হাতছানি দিয়ে , মৃত্যুর পর বেহেস্তে যাবার লোভ দেখিয়ে ইসলামিক স্টেট্ সহজেই এদেরকে রাডিক্যালাইজ করতে পারে।

আশার কথা হচ্ছে এদের সংখ্যা বেশি নয়। অধিকাংশ মানুষই শান্তিকামী এবং এধরণের সন্ত্রাসী ঘটনার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, যখন এধরণের সন্ত্রাসী হামলায় হামলাকারীর নাম হিসেবে কোনো মুসলিম নাম আসে তখন সবচাইতে বেশি লজ্জায় পড়েন এদেশের এই মুসলিম অধিবাসীরাই । তাদের জন্য বিব্রতকর অবস্থার তৈরী হয় কারণ এই জিহাদিরা ও নিজেদের মুসলিম দাবি করে এবং 'ইসলামের' নামেই হামলা করছে বলে প্রচার করে। এ কারণে অনেকেই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের শিকার হন। সেই ৯/১১ হামলার পর থেকেই আমরা দেখেছি শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে অনেকেই ইউরোপ আমেরিকার ভিসা পেতে ব্যর্থ হয়েছেন , বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

২০১৫ সালের ১৮ ই নভেম্বর সাউথ ওয়েস্ট এয়ারলাইন্স এর এক ফ্লাইট থেকে কয়েকজন প্যাসেঞ্জের কে নামিয়ে দেয়া হয় শুধুমাত্র কারণ হচ্ছে তারা আরব মুসলিম। অন্য যাত্রীরা তাদের সঙ্গে এক ই ফ্লাইটে যেতে নিরাপদ বোধ করছিলো না।
ট্রাম্পের নির্বাচনী বিজয়ে মুসলিম বিদ্বেষের ভূমিকা কতটুকু তা তো পুরো বিশ্বই দেখেছে। এবং ভয়ের কথা হচ্ছে আমেরিকাতে এখন অহরহ সাম্প্রদায়িক বিদ্ধেষমূলক ঘটনার খবর আমরা শুনতে পাই যার বেশির ভাগ ই সাধারণ মুসলিম দের বিরুদ্ধে।এই জানুয়ারিতেই জে এফ কে এয়ারপোর্টে এক মহিলা কর্মচারী কে লাথি মেরে ফেলে দেয় এক জন লোক শুধুমাত্র 'মুসলিম' হবার কারণে।

এই ঘটনাগুলো আসলেই উদ্বেগের। বিশ্বব্যাপী 'ইসলামের' নামে নাশকতা চালানো জিহাদি জঙ্গিদের কারণে সামাজিক, রাজনৈতিক এবং বৈশ্বিক ভাবে বিব্রত ও হেয় হচ্ছেন লাখো - কোটি নিরপরাধ মুসলিমেরা যারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন যে 'জঙ্গিবাদ / নিরপরাধ মানুষ হত্যা তাদের ধর্ম সমর্থন করে না। ' এই অবস্থার অবসান দরকার।

লন্ডনের পার্লামেন্টের সামনের সন্ত্রাসী হামলাকারিও 'মুসলিম। কিন্তু আমরা সৌভাগ্যবান যে ব্রিটেন একটি খুবই যৌক্তিক এবং সহিষ্ণু রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্র বোঝে যে একজন খুনে অপরাধীর অপকর্মের দায় পুরো গোষ্ঠীর নয়। সে কারণে ব্রিটেনে যাতে সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরী না হয় , ব্রিটেনে বসবাসকারী লাখো মুসলিমের বিরুদ্ধে ঘৃণা না ছড়ায় সেজন্য হামলার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে, লেবার পার্টি লিডার জেরেমি করবিন, মন্ত্রী, এম পি , লন্ডনের মেয়র সকলেই আহবান জানিয়েছেন। ব্রিটেন বিশ্বাস করে এই রকম সন্ত্রাসী হামলা এখানে বিভক্তি তৈরী করতে পারবে না। ব্রিটিশ ফেইথ ফোরামের ভিন্ন ধর্মীয় নেতারা ও এগিয়ে এসেছেন , পার্লামেন্টে ইমার্জেন্সি মিটিং করেছেন, সম্প্রীতি রক্ষার্থে জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে।

এ ধরণের হামলার পরে সবচাইতে বেশি যে কথাটা শোনা যায় তা হচ্ছে, 'এর সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই।' খেয়াল করে দেখবেন , এই কথা বলা হচ্ছে আবার একই সাথে ধর্মীয় গুরুদের সাথে, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সাথে সভা করা হচ্ছে। ধর্মের যদি কোনো সম্পর্ক নাই থাকতো তাহলে 'ধর্ম' শব্দটাই এখানে ব্যবহৃত হতো না। এই ধরণের হামলার সাথে 'ধর্মের' সম্পর্ক আছে। আর সেটা হচ্ছে এই সন্ত্রাসীগুলো 'ধর্মের' নামে ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে এবং দাবি করছে তারাই প্রকৃতভাবে ওই ধর্মীয় আদর্শের অনুসারী। আর সে কারণেই, ইসলামের নামে এধরণের হামলা ঠেকানোর জন্য উদ্যোগ নেয়াটাই ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসীদের জন্য সবচাইতে জরুরি। রাষ্ট্র - আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ভূমিকা এই ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্রিটিশ সরকার যেভাবে ভরসা করছে সেই ভরসা রক্ষার্থে এগিয়ে আসা উচিত মুসলিম কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের। শুধুমাত্র 'জঙ্গিদের কোনো ধর্ম নেই' অথবা 'জঙ্গি টা প্রকৃত মুসলমান নয়' এই বক্তব্য দিয়েই দায়িত্ব শেষ করে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকা যাবে না। লাখো শান্তিকামী সাধারণ মুসলিম যে আদর্শে বিশ্বাস করেন বলে তারা দাবি করেন সেই আদর্শের প্রচার করতে হবে আরো বেশি করে। মিটিং , সেমিনার করে, বিপথগামী তরুণদের কাছে মানবতার আদর্শ পৌঁছে দিতে হবে। যে কারণে 'ইসলাম' কে শান্তির ধর্ম বলছেন সেই কারণের প্রচার করতে হবে আরো বেশি বেশি করে। জিহাদি আদর্শের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকেই। তা না হলে এভাবেই কোন অপরাধ না করেও অপরাধীর তকমা লাগতে থাকবে আপনাদের গায়ে। আর আমি নিশ্চিত, এমন উদ্যোগ নিলে তারা অবশ্যই পাশে পাবেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী শান্তিকামী প্রতিটি মানুষকে।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধটা আমাদের সবার। চলুন সবাই একসাথে লড়ি। আশা করি একদিন এই অন্ধকার চিরতরে দূর হবে।
আলোর অপেক্ষায় রইলাম।

Comments

কাঠমোল্লা এর ছবি
 

একটা অর্থহীন ফালতু পোষ্ট। এই ধরনের পোষ্ট পড়ে যে কোন যুক্তিবান ও বাস্তববাদী মানুষ কিছু হাস্য রসের খোরাকই পেতে পারে।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অজন্তা দেব রায়
অজন্তা দেব রায় এর ছবি
Offline
Last seen: 3 months 1 week ago
Joined: মঙ্গলবার, জানুয়ারী 17, 2017 - 9:35অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর