নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 12 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • অপ্রিয় কথা
  • মওদুদ তন্ময়
  • শিকারী
  • মারিও সুইটেন মুরমু
  • মিশু মিলন
  • দেবজ্যোতিকাজল
  • সৈয়দ আহসান
  • ফারজানা সুমনা
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • নরসুন্দর মানুষ

নতুন যাত্রী

  • প্রলয় দস্তিদার
  • ফারিয়া রিশতা
  • চ্যাং
  • রাসেল আহমেদ
  • আবদুর রহমান শ্রাবণ
  • হিপোক্রেটস কিলার
  • পরিতোষ
  • শ্যামা
  • শিকারী
  • মারিও সুইটেন মুরমু

আপনি এখানে

কওমী সনদের শর্ত ও স্বীকৃতিঃ পর্যালোচনা - ৪


শিক্ষা কি?
শিক্ষা হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতিগত ও কাঠামোগত ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার জ্ঞান, দক্ষতা, বিচারশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতির মাধ্যমে উন্নত জীবন গড়ে তোলে। কে কি পেশায় নিজেদের গড়ে তুলতে চান, শিক্ষা হচ্ছে সেই বিষয়ের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের একটি পরিকল্পিত পদ্ধতি। সাধারণত একটি নির্দিষ্ট স্তর, মান ও শিক্ষন-প্রশিক্ষনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের সেই লক্ষ্যের উপযুক্ত সক্ষমতা অর্জন করতে সমর্থ হয়।

ধর্মভিত্তিক শিক্ষা কি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা?
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মুলত উদ্দেশ্যমুলক, ইহোলৌকিক এবং প্রধানত যুক্তি, বিজ্ঞান, অংক, কলা নির্ভর। সেখানে অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগ নেই, কারণ-সমীকরণ, সুখ, ভোগ-উপভোগের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ন! অনেকে আবার নৈতিক মূল্যবোধ ও আত্মিক উন্নতির বিষয়টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ন মনে করেন।
বিশ্বের সব সভ্য, উন্নত, আধুনিক, গণতান্ত্রিক দেশে শিক্ষার একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও কাঠামো আছে। শিক্ষা প্রধানত একটি দেশের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-প্রকৃতি-পরিবেশ প্রভৃতি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে বা গড়ে তোলা হয়। এবং বিশ্ব জ্ঞান-বিজ্ঞান, উন্নয়ন-উৎপাদনের যে সব স্বীকৃত বিষয়সমুহ আছে তা পাঠ্যের অন্তর্গত হয়, গ্রহন করা হয়। আমাদের দেশে শিক্ষার প্রধান ধারা হিসেবে যেটি চালু আছে, সেটি এই ভাবনার অন্তর্গত। অনেক বিশেষজ্ঞের মত যদি কোন নির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় কোন প্রতিষ্ঠানে- প্রধান বিষয় হিসেবে, অংক, বিজ্ঞান, সমাজ, কলা প্রভৃতি বিষয় পড়ানো না হয়, তাহলে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হিসেবে গ্রহন করা যায় না।

কওমী শিক্ষার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা
১. কওমী মাদরাসা সমূহকে এক প্লাটফরমে ঐক্যবদ্ধ করা। ২. তালীম ও তারবিয়াতের মান উন্নয়ন। ৩. সমাজের দ্বীনী চাহিদা পূরণ। ৪. ইসলামের হিফাযত, প্রচার, প্রসার, দাওয়াত ও তাবলীগ এবং ইসলামের উপর আবর্তিত যে কোন হামলার সুদৃঢ় ও প্রামাণ্য জবাব দান। ৫. সমাজে উলামায়ে কিরামের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান প্রতিষ্ঠা। ৬. সমাজে ইসলাম প্রতিষ্ঠার সমূহ কর্মসূচী গ্রহণ। ৭. মাদরাসা ফারেগীনদের জন্য তাখাছ্ছুছ্ কোর্স ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাকরণ। ৮. ইসলামের মূল ঘাটি মসজিদ সমূহের মান উন্নয়ন এবং পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ নির্মাণ ও মসজিদকেন্দ্রিক মক্তব প্রতিষ্ঠা ও এর মান উন্নয়ন। ৯. জনগণের ধর্মীয় চাহিদা পূরণ করার জন্য বহুমুখী ব্যবস্থা গ্রহণ। ১০. দ্বীনের হিফাযতের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় কর্মসূচী গ্রহণ। ১১. আধুনিক সমস্যাবলীর ইসলামী সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ।

কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের প্রত্যেকটি বিষয় পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় তাদের শিক্ষার সাথে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন-প্রগতির কোন সম্পর্ক নেই। অবশ্য সেটা তারা কখনো দাবীও করে না! কিন্তু দেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীর ৪০ ভাগের ৩০ ভাগ এই ধারায় শিক্ষাগ্রহন করছে। যে শিক্ষা ও জ্ঞান দেশের অর্থনৈতিক-সামাজিক উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত না, বরং বিপরীতি, এবং উন্নয়নে কোন ভূমিকাও রাখছে না। এবং আমাদের প্রচলিত অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় কোন কাজে লাগছে না। তারা যে কাজটি করতে চায়, এখানে তার পরিষ্কার উল্লেখ আছে। তাদের এই নীতির শব্দ চয়ন গুলো একটু গভীর মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করবেন যেমন, “ইসলামের উপর যে কোন হামলার সুদৃঢ় ও প্রামাণ্য জবাব” “সমাজে ইসলাম প্রতিষ্ঠা” “ধর্মীয় চাহিদা পুরণে বহুমূখী ব্যবস্থা গ্রহন” কথাগুলোকে সহজ-সরল-নীরিহ ভাবার কোন কারণ নেই। কোন কিছু প্রতিষ্ঠা করতে গেলে শক্তি-সামর্থের প্রয়োজন হয়! সে উদ্দেশ্যে তারা এখন অনেক দূর এগিয়েছে। তাদের বলা-বক্তব্য ও কর্মকান্ডে তার অনেক প্রমানও আছে! রাষ্ট্র-সমাজে তার নমুনাও আমরা দেখছি।

ধর্মভিত্তিক শিক্ষার এই ধারা শ্রমবাজারের বিষয়টিকে বিবেচনায় নেয় না, এবং এর সাথে সম্পর্কিত না। যে কারণে ইহোজাগতিক ও পারলৌকিক শিক্ষার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কখনো এক নয়, হওয়া সম্ভব না। বিধায় বিষয়টি নানা বিবেচনায় সাংঘর্ষিক ও বিপরীতিমূখী। সঙ্গতই প্রচলিত ও স্বীকৃত শিক্ষার ধারণার সাথে কওমীর শিক্ষার লক্ষ-উদ্দেশ্যের কোন সম্পর্ক ও সংযোগ নেই। বিধায় একে শিক্ষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে গেলে এর নীতি-পদ্ধতি-কাঠামোর ব্যাপক পরিবর্তন করা জরুরী। সেটা না করে কেবল সনদের স্বীকৃতি দেয়া হলে, বাংলাদেশের প্রচলিত শিক্ষার জন্য হবে বিপদজনক ও বিশৃংখলা! (পরবর্তি কোন পর্বে তাদের পাঠ্যক্রমের তথ্যসহ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আনব)

ধর্ম কি উন্নত জীবনের বিরোধী?
যে কোন মানুষের একটি নিরাপদ ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন থাকে। কওমী মাদ্রাসার ভাইবোনরাও নিশ্চয়ই সেটা চায়। একই সাথে এটাও বিশ্বাস করি তারা দেশকে ভালবাসে এবং দেশেরও উন্নত চায়। আমার এই ভাবনা যদি অমুলক না হয়, তাহলে প্রশ্ন- তাদের শিক্ষা কি এই আকাঙ্খা অর্জনে-পুরণে ভূমিকা রাখছে? না’কি তার সাথে ধর্মের কোন বিরোধ আছে? যদি না থাকে, তাহলে দেশের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীকে কেবল ধর্মের নামে ও দারিদ্রতার সুযোগে কেন তাদের পরকাল নির্ভর করা হচ্ছে? তাদের মেধা-প্রতিভা-যোগ্যতা-সামর্থকে বিশ্বাসের নামে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে, কাদের স্বার্থে?

পূর্বে মাদ্রাসার ১৬ আনাই ছিল ধর্মভিত্তিক লেখাপড়া। আরবি, ফার্সি ছিল প্রধান ভাষা। সেখানে অন্য কোন বিষয় পড়ানো হতো না। ইংরেজী এবং ইংরেজদের সবকিছুকে কঠোরভাবে বর্জন করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে তারা এখন ধর্মীয় পাঠ্যবইয়ের বাইরে, সীমিত পরিমানে, নিজেদের প্রকাশিত বাংলা, ইংরেজী, অংক, বিজ্ঞান প্রভৃতি পড়ান। সেটা পড়ানো হচ্ছে আসলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির বাস্তবতা ও সময়ের চাহিদায়। সেটা স্বীকার করার মানেই তো পরিবর্তন বিশ্বাস করা ও গ্রহন করা। তাহলে কওমীর ইতিহাসে প্রথম- সরকারের সামান্য সংস্কার, উন্নয়ন ও সীমিত অংশীদার ভাবনায় কেন আপনারা মহা অনাগ্রহী?

ধর্মের নামে গ্রামের অসহায়, দরিদ্র, এতিম শিশু-কিশোর-তরুণদের সভ্য, মানবিক, আধুনিক, সংস্কারমুক্ত, উন্নত জীবনের স্বপ্নকে অন্ধপ্রকষ্ঠে বন্ধি রাখা হয়েছে। মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে চিহ্নিত ধর্মান্ধ গোষ্ঠী রাজনৈতিক দূরভিসন্ধিতে এই বৈষম্যমুলক অনৈতিক, পশ্চাদপদ শিক্ষার ধারা টিকিয়ে রেছেছে। দরিদ্র ও মেধাবী এ জনগোষ্ঠীকে ব্যবহার করে জাতীকে মধ্যযুগীয় সমাজে ফিরিয়ে নেয়ার রাজনীতিক নকসায় তৎপর ও সক্রীয়!

দেশের প্রধান শক্তি মানবসম্পদের অপরিকল্পিত ব্যবহার
দেশে বর্তমান ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৩ কোটির উপরে। তারমধ্যে প্রায় ৭০-৮০ লক্ষ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তারমানে এক তৃতীয়াংশ ছাত্রছাত্রী প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে অবস্থান করছে। যাদের কোন স্বীকৃতি ও গ্রহনযোগ্যতা নেই। জনসম্পদের এই বিশাল অংশকে অনুৎপাদশীল রাখা হয়েছে কার স্বার্থে? যাদেরকে শ্রমবাজারের অংশীদার করা যাচ্ছে না। তারমানে এই নয় যে লেখাপড়া করলেই নিশ্চিত কাজের সুযোগ আছে। তবে এ কথা বলা যায়, সুযোগ বাড়ছে এবং তারমধ্যে নিজেদের অবস্থান করে নেয়া। কওমীর লেখাপড়ার স্বীকৃতির মানে এই যে শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতার অংশ নেয়া এবং নিজেদের যোগ্যতার প্রমান রেখে, উন্নত জীবন অর্জন করা।

আমাদের দেশের প্রধান সম্পদ জনশক্তি। কিন্তু সমগ্র জনশক্তিকে আভ্যন্তরিক ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা যাচ্ছে না। তার একটি প্রধান কারণ দেশের বিদ্যমান বিভিন্ন ধারার শিক্ষাব্যবস্থা। অধিকন্তু দ্বিতীয় বৃহত্তম ধারা কওমী মাদ্রাসার উপর সরকারের কোন নিয়ন্ত্রন নেই! সম্ভবনাময় শ্রমশক্তির বিভক্তি ও সমন্নয়হীনতা হয়ে উঠছে জাতীয় পরিকল্পনার বড় অন্তরায়! যদিও এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা অস্পষ্ট। নানা সীমাবদ্ধতা ও অসঙ্গতির মধ্যে বর্তমান যে শিক্ষাব্যবস্থা আছে তাকেও পরিকল্পিত ভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না, বা কাজে লাগানো হচ্ছে না!

কওমী’র সংস্কার ছাড়া স্বীকৃতি হবে সংবিধান ও শিক্ষানীতি বিরোধী
বাংলাদেশে অসম্প্রদায়িক শিক্ষার আন্দোলনের সাথে সার্বজনীন, উৎপাদন মূখী ও সময়োপযোগী শিক্ষার দাবী সবসময় ছিল ও আছে। দাবী ছিল ধর্মভিত্তিক শিক্ষার ধারা বিলুপ্ত করে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা। সহসা সেটা করা না গেলে মাদ্রাসা শিক্ষাকে পর্যায়ক্রমে সাধারণ শিক্ষার সাথে একীভূত করা। সেটাও কঠিন হলে আপাতত মাদ্রাসা শিক্ষার ব্যাপক সংস্কার করা জরুরী। পশ্চিমবঙ্গে সেই কাজটি অনেক আগেই কৃতিত্বের সাথে করেছে।

ইতিহাসের কি নিমর্ম পরিহাস, পরিস্থিতি হয়েছে তার বিপরীতি। মাদ্রাসাওয়ালারাই আজ পরামর্শ দিচ্ছে সাধারাণ শিক্ষার কোথায় কি পরিবর্তন করতে হবে। তাদের সেই পরামর্শ ও দাবীর প্রেক্ষিতেই এ বছর পাঠ্যবইয়ে অনেক পরিবর্তন করা হয়েছে। নাস্তিক ও হিন্দু লেখকদের লেখা বাতিল করে মুসলামান লেখকদের লেখা সংযুক্ত করা হয়েছে। মাদ্রাসার সবচেয়ে ধর্মান্ধ ও রক্ষনশীল ধারাও কোন সংস্কার-পরিবর্তন ছাড়াই স্বীকৃতির পথে!

বাংলাদেশের স্বীকৃত স্কুল-কলেজের শিক্ষক নিয়োগের লম্বা ও জটিল প্রক্রিয়া, কিন্তু মাদ্রাসার ক্ষেত্রে তার কিছুই থাকবে না সেটা কিভাবে গ্রহনযোগ্য হবে। তাদের পাঠ্যক্রম, পাঠ্যপুস্তক, অর্থায়ন, শিক্ষক, প্রশাসক, উদ্দেশ্য, ভবিষ্যত সরকার কিছুই জানবে না! কিন্তু মানতে হবে এটি একটি স্বাধীন দেশ! কি পড়াচ্ছে, কে পড়াচ্ছে জানতে চাইলে হবে ধর্মদ্রোহীতা! সেখানে উগ্রবাদ, জঙ্গীবাদের পাঠ-প্রশিক্ষন হবে না, হচ্ছে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে? পত্রিকায় অনেক তথ্যই প্রকাশিত, যা বাস্তবের অতি সামান্য। নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মত নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জঙ্গীবাদ পাঠ-প্রশিক্ষন-প্রচারের অভিযোগ উঠেছে।

কওমী’র ধারায় ব্যাপক পরিবর্তন না এনে সরকার এদের স্বীকৃতি দিতে পারে না। সেটা করা হবে সংবিধানের পরিষ্কার লংঘন। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও কওমী মাদ্রাসাকে একটি কাঠামোগত প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তার কিছুই অনুসরণ না করে এর স্বীকৃতি দেয়া হবে গৃহীত শিক্ষানীতির অবজ্ঞা! গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নে সংবিধান নির্দেশিত পথে না হেটে ভিন্ন কোন নীতি-কৌশল গ্রহন হবে ধর্মান্ধ অপশক্তির কাছে আত্মসমর্পন! সেটা হলে মানতেই হবে, সরকারের কতটা ভিতরে- তাদের হাত সম্প্রসারিত হয়েছে! যে মন্ত্রে কাটা পরে যায় মুমুর্ষু শিক্ষার ডানা! বুঝতে অসুবিধা হয় না তাদের সেকড়ের বিস্তৃতি ও গভীরতা!

শিক্ষার গুন-মান-ঐতিহ্য ধ্বংস হয়ে যাবে?
পশ্চিমা বিশ্বে আজ বিতর্ক চলছে প্রথাগত, প্রতিষ্ঠান নির্ভর শিক্ষার আর দরকার আছে না নেই! বিশাল বিশাল ক্লাসরুম, ক্যাম্পাস, দালানকোঠাকে না বলার সময় হয়েছে! কেবল হাতেকলমে শেখা ও গবেষণার জন্য-সময় তাদের এগুলোর দরকার হবে। হাজার হাজার ছেলেমেয়েদের নিয়ে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিদিন টেনে এনে পড়ানোর দরকার নেই। এতে শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের যে সময় বাঁচবে, সে শ্রমঘন্টা অন্যান্য উৎপাদনমুলক কাজে ব্যবহার করা যাবে। এতে শিক্ষার ব্যায় কমে যাবে। পথঘাটের উপর চাপ কমবে। প্রশাসন নির্ভরতা কমবে। তথ্যপ্রযুক্তির সুবাদে তারা ঘরে বসেই অধিক দক্ষতার সেই কাজ করতে পারে। জমি-অবকাঠামো-ট্রান্সপোর্টেশনের স্থান-ব্যায়ে দিয়ে অন্যান্য মানবিক উন্নয়ন সম্ভব!

আর হেফাজত নেতারা দাবী করছেন, কওমী মাদ্রাসার এ ধারাতে সরকারী প্রশাসনের সামান্য তদারকি হলে- এর গুন, মান, মর্যাদা, ঐতিহ্য ধ্বংস হয়ে যাবে! কিন্তু সেটা তারা কিসের ভিত্তিতে বলছেন? কওমীর বিভক্ত ধারার কোন একটি ধারা কি এই প্রক্রিয়া ও পরিণতির অংশ হয়েছে? তেমন ঘটার সুযোগ নেই, কারণ তারা কখনোই সরকারী প্রশাসনের এতটুকু নজরদারীতে ছিল না! তাহলে কোন তথ্য-গবেষণা কিসের ভিত্তিতে সেটা বলছেন? ৮০’র দশকে আলিয়া মাদ্রাসাগুলো পর্যায়ক্রমে সরকারের নিয়ন্ত্রনাধীনে আসার পর কি এর গুন-মান-মর্যাদা কমে গেছে? ধ্বংস হয়ে গেছে? না’কি মাদ্রাসা বের হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী কলেজ-ইনস্টিটিউট-বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী! দেশে-বিদেশে চাকুরী-ব্যবস্যা করে উন্নত জীবন-যাপন করছে।

কেবল কওমী মাদ্রাসার ছেলেমেয়েরাই কি ধর্মকর্ম করে, ইসলামী মূল্যবোধের চর্চা করে? তা যে সব মুসলমান অধ্যষিত দেশে কওমী মাদ্রাসা নেই, তারা কি ইসলামী মূল্যবোধের চর্চা করে না? কওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার আগে কি ইসলাম ছিল না? তখন কি ছহি ইসলাম শিক্ষা ও চর্চা হয় নি? এই ধারার যে সময়, যে কারণ জন্ম হয়েছিল, এখনকার সমাজের চাহিদা, প্রয়োজন ও বাস্তবতা কি এক? তারাই কি উপমহাদেশে একমাত্র ইসলামের হেফাজতকারী? যার প্রকাশ দেখছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান অন্যান্য স্থানে। বাংলাদেশকে ঘিরেও আঁকছেন সেই মধ্যযুগের নকসা!
-------------------------------------------------------
প্রথম পর্বের লিংক> https://www.istishon.com/?q=node/24250
দ্বিতীয় পর্বের লিংক> https://www.istishon.com/?q=node/24259
তৃতীয় পর্বের লিংক> https://www.istishon.com/?q=node/24349
-------------------------------------------------
ড. মঞ্জুরে খোদা, লেখক-গবেষক, ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডা
------------------------------------------------------------
পরবর্তি সংখ্যায় থাকবে কওমীর শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্র ও পাঠ্যক্রমের আলোচনা।
---------------------------------------------------------

বিভাগ: 

Comments

মেহেদি হৃদয় এর ছবি
 

সুন্দর লেখা।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মঞ্জুরে খোদা টরিক
মঞ্জুরে খোদা টরিক এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 20 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী 4, 2016 - 11:59পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর