নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • রিপন চাক
  • বোরহান মিয়া
  • গোলাম মোর্শেদ হিমু
  • নবীন পাঠক
  • রকিব রাজন
  • রুবেল হোসাইন
  • অলি জালেম
  • চিন্ময় ইবনে খালিদ
  • সুস্মিত আবদুল্লাহ
  • দীপ্ত অধিকারী

আপনি এখানে

বান্দরবানের রুমা খালঃ বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিত ও কিছু পর্যালোচনা



কিছুদিন ধরেই রুমা খাল থেকে পাথর উত্তোলন বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ থেকে শুরু করে পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠন এবং পর্যটকদের মাঝে যারা ট্রেকিং করে থাকেন বান্দরবানে। রুমা খাল থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে এমন দৃশ্য সম্বলিত কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ফেইসবুকে ট্রাবেলিং এর সবচেয়ে বড় গ্রুপ ট্রাবেলিং অব বাংলাদেশেও ব্যাপক প্রচারণা করা হয়।

পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই উত্তোলন কার্যক্রমের বিরোধীতা করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ মার্চ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) চারজন সচিবসহ মোট ১১ জনকে উকিল নোটিশ প্রেরণ করেছে। কিন্তু এখনো এর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। শুধু রুমায় নয়, লামা, রোয়াংছড়ি, আলীকদমসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রমাগত পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এ নিয়ে দেখুন একাত্তর টিভির হোসেন সোহেলের প্রতিবেদন:

আপনাদের আপাতত রুমা খাল থেকে যে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে সে বিষয়ে আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাথর বন্ধের আদেশ, উকিল নোটিশ, বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদনসহ অনেক কিছুই ঘটেছে। ঘটেছে পাথর শ্রমিক গ্রেপ্তারের ঘটনাও। তাই এবার সবকিছু একটি সাজিয়ে দেখতে চাই সেখানকার বর্তমান অবস্থা এবং এর প্রেক্ষিতে কিছু ঘটনার অবতারণা। তাই মূল আলোচনায় চলে যাই। বর্তমান বিভিন্ন অবস্থাগুলো পয়েন্টে সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে এখানে।

১. পাথর উত্তোলনের ক্ষেত্রে রুমা খাল বা ঝিড়িগুলো থেকে যে পাথর সংগ্রহ করা হচ্ছে তার পুরোটাই ব্যবহার করা হচ্ছে রুমা-বগালেক সংলগ্ন ১১ কিলো পর্যন্ত যে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে তার কাজে। কিছুদিন আগে একটি অনলাইন পত্রিকা “আদিবাসী বার্তা”য় প্রতিবেদন আসে রুমা থেকে বগালেক পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। আর এই রাস্তার নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে। সেখানে বলা হয়েছে-

রুমা উপজেলা সদর থেকে বগা লেক হয়ে কেওক্রাডং প্রায় ৩২ কিলোমিটার সড়কের প্রথম ধাপে বগা লেক পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে। কেওক্রাডং পর্যন্ত নির্মাণকাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯০ কোটি টাকা। সড়কটিতে আগে বগা লেকের কাছাকাছি পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ইট বিছানোর কাজ করলেও বর্তমানে সম্পূর্ণ নতুনভাবে করতে হবে। এ জন্য বগা লেক পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়ক আগামী বছর (২০১৮) নাগাদ শেষ হতে পারে। সড়কটি নির্মাণে এলাকাবাসীও উচ্ছ্বসিত। পর্যটনশিল্পের উন্নয়নের সঙ্গে বগালেক, কেওক্রাডং, সাইকতপাড়াসহ আশপাশে বসবাসকারী মানুষের উৎপাদিত পণ্য জারজাতকরণে সুবিধা হবে।

নিচে এ সংক্রান্ত দুইটি স্থির চিত্র দেয়া হলো।

ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন যে একটি ট্রাক রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত হচ্ছে আর সেই একই ট্রাক রাস্তা নির্মাণের জন্য কিভাবে পাথর সংগ্রহ করছে।
গত ৩ মার্চ ২০১৭ এর প্রথম আলোর (চট্টগ্রাম বিভাগ) ৮ম পৃষ্ঠায় একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছে রুমার পাহাড়ি ঝিরি থেকে অবাধে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। তার প্রতিবেদনের একটি অংশঃ

লাল দাগ চিহ্নিত বরাবর অংশে দেখুন। সেখানে বলা হচ্ছে ঝিরি থেকে পাথর তোলার জন্য কোন ঠিকাদারকে বলা হয়নি। কিন্তু উপরের ছবি থেকেই স্পষ্ট যে কাদের নাম ট্রাকের গায়ে সাঁটিয়ে পাথর তোলা হচ্ছে। আর ওই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেছেন যে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এতদিনেও ওই প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের চোখে এই পাথর উত্তোলন চোখে পড়লো না! একটি পত্রিকার সাংবাদিক যখন গেলেন তখনই তিনি আসল ঘটনা (??) জানতে পারলেন এবং খতিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দিলেন। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলানিউজের একটি খবরে বলা হয়েছে রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ শরীফুল ইসলামের কথানুসারে “রুমা-বগালেক রাস্তা নির্মাণে রুমা খাল থেকে পাথর উত্তোলনের ব্যাপারে তিনি বলেন, পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথা থেকে এখানে পাথর ব্যবহার করা হবে সেটি বড় বিষয় না।

তাহলে বড় বিষয় কোনটি? জেলা প্রশাসন আদেশ দেয়ার পরও পাথর উত্তোলন চলেছে ব্যাপকহারে। এর মধ্যে রাস্তা নির্মাণের জন্য এই পাথরগুলো যে ব্যবহৃত হচ্ছে সেটি তো স্পষ্ট। এর অর্থ কি দাঁড়ায় না যে যেহেতু পাথর তুলে ফেলা হয়েছে তাই সে পাথরগুলো এখন রাস্তা নির্মাণে ব্যবহার করা হোক। তিনি উত্তোলন নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ দিলেন, কিন্তু যে কারণে পাথরগুলো তোলা হচ্ছে সেটিকে বলছেন বড় কোন বিষয় না। এদিকে ৩ মার্চের প্রথম আলোতে খবর এসেছে তখনো পাথর তোলা হচ্ছে রাস্তা নির্মাণের নামে। তাহলে কিভাবে এই বিষয়টি ছোট থাকতে পারে?? এতদিন প্রশাসন কি তাহলে দেখেও না দেখার ভান করেছে?

২. যেহেতু বড় একটি রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে সেহেতু তার জন্য কংকর ব্যবহার করতে হবেই। এতদিন পরেও কেউ জানতে পারলো না এই কংকরগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে! রাস্তা নির্মাণের পাশেই এই কংকরের স্তূপগুলো সাজিয়ে রাখা হয়েছে অথচ সবাই ভান করছে যে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী এই পাথরগুলো তুলছে আর প্রশাসন ও যারা এই কাজ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে আছে তারা কিছুই জানে না!! এটি কি আদৌ সম্ভব?? আর শুধুমাত্র পাথর নয়, এর সাথে বালুও উত্তোলন করা হচ্ছে সাঙ্গু নদী থেকে। কয়েকটা ড্রেজিং মেশিন ব্যবহার করে এই বালু তোলা হচ্ছে মুন লাই পাড়ার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে। সবাই যেহেতু পাথর উত্তোলন নিয়ে ব্যস্ত, তখন ড্রেজিং মেশিন ব্যবহার করে বালু তোলার কথা কোনদিকেই শোনা গেল না।

৩. এই ছবিতে স্পষ্ট যে উত্তোলিত পাথরের সবগুলোই রুমা-বগালেক এলাকার রাস্তা নির্মাণের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে রাস্তা নির্মাণ শ্রমিকরা পাথরগুলো দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ চালাচ্ছে।
কিছু স্থির চিত্র দেখুনঃ

এত বড় একটি কর্মযজ্ঞ চালানো হচ্ছে অথচ স্থানীয়রা টু শব্দ করতে পারছে না একটি মহলের ভয়ে। পর্যটক থেকে শুরু করে অনেকের যাতায়াত সীমিত করে দেয়া হয়েছে নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে। ফলে অবাধে পাথর উত্তোলন চালানো হচ্ছে ব্যাপকভাবে। এর মধ্যে একটি লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হলো, ৯ জন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে কারাদন্ড দেয়া হলো পাথর উত্তোলনের দায়ে।
স্থানীয়ভাবে খবর নিয়ে যা পাওয়া গেছে তা হলো যে পরিমাণ পাথর সংগ্রহ বা উত্তোলন করা হয়েছে তা বর্তমানে মৌসুম পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ কাজ চালানোর জন্য যথেষ্ট। আর তাই বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশের দরুণ প্রশাসন চাপে থাকায় শ্রমিক গ্রেপ্তার করে কারাদন্ড দেয়ার ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণই লোকদেখানো। ফেব্রুয়ারির ২২ তারিখে একটি স্থানীয় অনলাইন মাধ্যমে এই সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু যে পাথরগুলো ব্যবহার করা হবে তা সংগ্রহ করে ফেলার পরই এই লোকদেখানো ঘটনাটি ঘটানো হয়।
কিছু পাথরের স্তূপের নমুনাঃ

৪. আরেকটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে এই পাথর উত্তোলনের জন্য বারবার দায়ী করা হচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানদের। কিন্তু যারা এই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানদের নিয়োগ দিয়েছে তাদের বারবার রক্ষা করা হচ্ছে। দুই একটি মন্তব্য গণমাধ্যমে এলেও এ বিষয়ে বারবারই মৌনতা প্রদর্শন করছে সবাই। অথচ দিনের স্পষ্ট আলোয় এটি প্রতীয়মান যে কাদের ইন্ধনে এই বিপুল পরিমাণে পাথর উত্তোলন চলছে। পাথর শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হলো অথচ যারা এই শ্রমিকদের নিয়োগ দিয়েছিল পাথর উত্তোলনে কাজে তারা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

প্রভাবঃ
রুমা খাল সারাবছর একই স্রোতে পানি বহন করে না। বর্ষাকালে পানির পরিমাণ বেড়ে গেলেও শীতকাল ও শুষ্ক মৌসুমে পানির পরিমাণ অনেক কমে যায়। তখন এই পাথরগুলোই পানিকে ধরে রাখে। ঝিরির পাথরগুলোও পানিকে ধরে রাখে যা স্থানীয় মানুষ ও বন্যপ্রাণীদের খাবার পানির এক বড় উৎস। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উপরে অবস্থান করায় সেখানে সমতলের মতো পানির এতটা সহজপ্রাপ্যতা নেই। ফলে, স্থানীয় জনসাধারণ ও বন্যপ্রাণীরা শুষ্ক মৌসুমগুলোতে পানির সংকটে পড়বে।
যেসব পাড়া ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে সেগুলো হলোঃ মুনলাই পাড়া, বৈথানি পাড়া, ক্যাবোয়া পাড়া, বগামুখ মারমা পাড়া, বগামুখ ত্রিপুরা পাড়া, মেন্তিক পাড়াসহ আরো অনেকগুলো।
আর বর্ষার সময় পানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় পাথর না থাকায় খালের পাড়গুলো ভেঙ্গে যাবে আর পানির সাথে প্রচুর মাটি ভেসে যাবে। শেষ পর্যন্ত আক্রান্ত হবে শঙ্খ বা সাঙ্গু নদী। তখন নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা নষ্ট হবে। প্রচুর পরিমাণে চর জেগে উঠবে। আর এর ফলে নদীর ভাটির দিকে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাবে। ইতিমধ্যে রুমা খালের জীববৈচিত্র্য বা সাঙ্গু নদীর জীববৈচিত্র্যও নষ্ট হয়ে পড়ছে। আর ঘোষণা দিয়েই বলা হয়েছে, রাস্তার জন্য যদি পাহাড় সমান করতে হয় তবে করা হবে। এটি কতটুকু প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক??

ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখে বাংলানিউজের একটি প্রতিবেদনে অপরিকল্পিত জুম চাষ, শিকার প্রভৃতির কারণে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে পানির উৎসগুলো ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার কথা বলা হয়নি। বন্যপ্রাণীগুলোর পানির উৎস যদি কমে যায় তবে বাধ্য হয়ে তাদের স্থানান্তরিত হতে হয় বা লোকালয়ের কাছাকাছি কোন পানির উৎসে আসতে হয়। ফলে সহজেই তারা স্থানীয় মানুষের শিকারে পরিণত হয়। বান্দরবানের লামা উপজেলায় বিভিন্ন পাথর উত্তোলনের ফলে অনেক ঝিরি শুকিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীও পানির সংকটে পড়েছে। এই পাথর উত্তোলনের ফলে একদিকে যেমন পানির উৎস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে পরিবেশের স্বাভাবিকতায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ড্রেজার মেশিন নিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির ২৭ তারিখে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টে ড্রেজিং মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে বলা হয়েছে “Dredging from river beds destroys the habitat of bottom-dwelling creatures and organisms. The churned-up sediment clouds the water, suffocating fish and blocking the sunlight that sustains underwater vegetation”.
একই কলামে নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে কিছু স্থানের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে “All that dredging, researchers believe, is a key reason why the lake’s water level has dropped dramatically in recent years. So much sand has been scooped out, says Shankman – 30 times more than the amount that flows in from tributary rivers –that the lake’s outflow channel has been drastically deepened and widened, nearly doubling the amount of water that flows into the Yangtze. The lower water levels are translating into declines in water quality and supply to surrounding wetlands. It could be ruinous for the area’s inhabitants, both animal and human.”

যেখানে প্রশাসন স্পষ্টতই এই পাথর উত্তোলনের সাথে পরোক্ষভাবে জড়িত, সেখানে আসলে জেলা প্রশাসন কর্তৃক বন্ধের নির্দেশ বা নির্দেশনা জারির ২০ দিন পরও একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের কোনরূপ তলব না নেয়ার বিষয়টি সহজেই বুঝতে পারা যায়। এই বছর ৮ কিলো নামক এলাকা পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী বছর নাগাদ এটি বগালেক পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এর আগে গত ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল বগালেকে অবস্থিত বম সম্প্রদায়ের কিছু বাড়িঘর ও দোকান বিনা নোটিশে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযানের নামে ভেঙ্গে দেয়া হয়। যখন বগালেক পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ উন্নত করা হবে তখন সেখান থেকে বম জাতিসত্তার মানুষগুলোকে যে উচ্ছেদ করা হবে না তার কোন গ্যারান্টি নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রামে এই উন্নয়ন দেখলে আমরা শঙ্কিত হয়ে পড়ি। কারণ অতীত আমাদের বারবার এই শিক্ষা দিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন ও উন্নয়নের সাথে ভূমি দখল, প্রান্তিক মানুষদের আরো প্রান্তিক করে দেয়ার একটা সম্পর্ক আমাদের চোখে সামনে স্পষ্ট। তাই একদিকে যেমন রুমা খাল, সাঙ্গু নদীকে ধ্বংস করার কাজ চলছে, অন্যদিকে বগালেক-কেওক্রাডং পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করে পর্যটনের নামে, উন্নয়নের নামে জমি দখলের পরিকল্পনা হচ্ছে।
আমরা কোনভাবেই এই রাস্তা নির্মাণের বিরোধী না। স্থানীয় মানুষদের যোগাযোগের সুবিধার্তে এই রাস্তা নির্মাণ হওয়াটা জরুরী। তবে, এর জন্য স্থানীয় মানুষদের কোন ক্ষতি সাধন হলে এই রাস্তা নির্মাণ কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এর চেয়ে বরং যেভাবে সংগ্রাম করে বেঁচে আছে, সেভাবেই ভালো।

(সকল ছবি নেয়া হয়েছে পর্যটক Mangminung Nahid ভাই থেকে। ফেব্রুয়ারি মাঝামাঝি সময়ে তোলা)

নিউজ লিংকঃ
১. নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে রুমা বগালেক সড়ক, আদিবাসী বার্তা

২. রুমায় ভ্রাম্যমান আদালতে ৯ পাথর শ্রমিকের ১৫ দিনের কারাদন্ড, দৈনিক পূর্বতারা
৩. বান্দরবানে পাথর উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ, বাংলানিউজ
৪. Sand mining: The global environmental crisis you've probably never heard of, The Guardian
৫. পাথর উত্তোলনঃ ৪ সচিবসহ ১১ জনকে উকিল নোটিশ, বাংলানিউজ
৬. পাহাড়ে বন্যপ্রাণী শিকারের মহোৎসব
৭. রুমায় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ইউএনও অফিস ভাঙচুর, বিসিসি নিউজ ২৪

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অজল দেওয়ান
অজল দেওয়ান এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 2 দিন ago
Joined: শুক্রবার, জুন 6, 2014 - 11:16পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর