নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • শাম্মী হক
  • মারুফুর রহমান খান
  • মিশু মিলন
  • মাহের ইসলাম

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

চিতোর (ধারাবাহিক উপন্যাস) পঞ্চম পর্ব


দোটানায় রতন সিং:

ব্যালকনি থেকে বাগানের দিকে চেয়ে আছেন রতন সিং। বিশাল গোলাপ বাগান তাঁর। দেশবিদেশের হরেক রকম গোলাপ গাছে ভরপুর। নানা আকারের, না বর্ণের গোলাপের ছড়াছড়ি। গোলাপের সুবাসে মৌ মৌ করছে চারদিক। আর রাজউদ্যানের এখানে সেখানে চরে বেড়াচ্ছে পোষা হরিণ আর ময়ূরের পাল।ময়ূরের দলের মধ্যে একটি ময়ূর মহারাজের বিশেষ পছন্দের। পুরুষ ময়ূর এমনিতেই ময়ূরীর চেয়ে বড় হয়ে থাকে কিছুটা। কিন্তু এই ময়ূরটি অনেকটাই বৃহদাকায় পালের অন্যান্য ময়ূরের মধ্যে।পালের ঠিক মাঝখানে পেখম মেলে রাজকীয় ভঙ্গিতে চরে বেরাচ্ছে সে।মাঝে মাঝে তুলছে কেকা ধ্বনি। কারো প্রতিই বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই তার যেন। ইতস্তত খেলা করে বেড়াচ্ছে খরগোশের শাবকগুলো। এরকম সুন্দরের মিলনমেলার মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলা যায় কল্পনার কল্পরাজ্যে। কিন্তু সেদিকে তাকিয়ে থাকলেও এই সুন্দরের মেলায় মন নেই রতন সিং এর। মন তার আজ বড় বেশী বিক্ষিপ্ত। বিশাল এক সমস্যা এসে কড়া নেড়েছে তাঁর দ্বারপ্রান্তে। এরকম সমস্যা তিনি দূরের কথা, তাঁর পূর্বপুরুষেরাও কখনো মোকাবেলা করেননি। সমস্যার কারণ দিল্লীর সুলতান আলাউদ্দীন খিলজী।বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে দূর্গের বাইরে এসে শিবির করেছেন সুলতান।প্রমাদ গণলেন মহারাজ। সুলতানদের সম্পর্কে ভালোই ধারণা আছে তার।কি করে সীমানা পেরিয়ে শঠতার আশশ্রয় নিয়ে তারাই এর যুদ্ধে কিভাবে পৃত্থীরাজকে পরাজিত করে দিল্লীর মসনদ দখল করেছে এরা সেই ইতিহাস জানা আছে তাঁর। গুজরাটে রক্তবন্যা বয়ে দিয়ে তাদের রাণীকে অপহরণের কাহিনীও অজানা নয় তাঁর। আর এও তিনি জানেন এদের মূল উদ্দেশ্যেই হলো সারা হিন্দুস্থানে ছলে,বলে, কৌশলে হুকুমতের ঝাণ্ডা উড়িয়ে দেয়া। এর জন্য যা যা করার দরকার তার সবই করবে তারা। তাই দ্রুত প্রতিরোধের জন্য সেনাদের তৈরী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁকে অবাক করে দিয়ে, রাজা রতন সিং এর কাছে দূত পাঠালেন সুলতান।বললে, তার দূর্গ দখল কিংবা রাজ্যহরনের কোন মতলব নেই; তিনি কেবল রানী পদ্মিনী্কে বোনের মত দেখেন, তাকে এক পলক দেখেই চলে যাবেন।

মহারাজ পড়ে গেলেন মহা ফাঁপরে; এরকম অদ্ভুত প্রস্তাব এর আগে কেউ কি কখনো শুনেছে? না দিয়েছে? রাজপুতদের কাছে অন্তপুরের নারীদীর সম্মান তাঁদের নিজেদের জীবনের চেয়েও বড়। আত্মীয় সম্পর্কীয় নন এমন স্বধর্মীয় পুরুষদের সামনে কখনো আসেননা তারা।প্রজাদের সাথে কথা বলেন পর্দার আড়াল থেকে।সেই জায়গায় খিলজীর মতো এক নারীলিপ্সু সুলতানের সামনে তিনি রাজরাণী পদ্মিণীকে কি করে যাওয়ার অনুমতি দেন? এ যে রীতিমতো অসম্ভব। কিন্তু না দিলে যে সুলতানের বাহিনী হিংস্র শ্বাপদের মতোই ঝাঁপিয়ে পড়বে তাঁর রাজ্যের উপরে।যেমনটি ঘটেছে গুজরাটে।একদিকে মান ইজ্জতের প্রশ্ন, অন্যদিকে সুলতানের বিশাল বাহিনীর হুমকি। চিতোরগড় দূর্ভেদ্য হলেও দূর্গ অবরোধ করে বসে থাকলে এক সময় না এক সময় সরাসরি লড়াই এ যেতেই হবে, বিশাল সুলতানি বাহিনীর সাথে পারা সম্ভব নয়। দীর্ঘশস্বাস বেরিয়ে এলো রতন সিং এর বুক ফেঁটে। কি করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারলেননা তিনি।
……মহারাজ

…… কে?

চমকে ঊঠে পেছনে তাকালেন রতন সিং। পেছনে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে মহারাণী পদ্মিণী। মুখে প্রসন্নতার হাসি। বড় বেশী মায়াময় এই হাসিটুকু। শত ক্লান্তির মাঝেও নতুন করে উদ্যম ফিরে পান রতন সিং এই হাসিমাখা মুখটুকুর দিকে একবার তাকালে। পদ্মিণীর পরনে মহারাণীর জমকালো পোশাক নেই। রয়েছে সাধারণ রাজপুত রমণীর নিত্যপরিধেয় বাহুল্যহীন অঙ্গাভরণ।আর তাতে তাকে যেন আরো অতুলনীয়া করে তুলেছে।এ কি মানবী নাকি স্বর্গের কোন স্থানচ্যুত দেবী?স্বর্গের অপ্সরারাও কি পারবে এই ভুবনমোহিনী রূপ ঐশ্বর্যের তুলনীয় হতে? এ কি সম্ভব?

……… আপনি কি কোন কারণে বিচলিত রাজন?

নিষ্ঠুর সত্যটা কিভাবে বলবেন তা ভেবে কূল পেলেন না রতন সিং। কিন্তু বলতে যে হবেই। এ যে অনেক দূর্ভেদ্য চক্রবূহ্য। অভিমন্যুর মতো এই চক্রবূহ্যে ঢোকার পথই যে শুধু জানা আছে তাঁর। বের হবার রাস্তা যে অজানা। মনকে শক্ত করে নিলেন মহারাজ। দৃষ্টি নামিয়ে নিলেন মেঝেতে। এক নিঃশ্বাসে বলে গেলেন তাঁর দূর্ভাগ্যের ইতিবৃত্ত। বলা শেষে মহারাণির মুখের দিকে তাকালেন তিনি। ঘন ঘন নিঃশ্বাস পড়ছে তাঁর। কপালে দেখা দিয়েছে শ্বেতবিন্দু। কিন্তু চমকে উঠলেন পদ্মিণীর মুখে প্রসসন্নতার হাসি দেখে। দুঃশ্চিন্তার রেশমাত্র নেই সেই মুখে। মহারাজকে অবাক করে দিয়ে সমাধান দিলেন পদ্মিনী নিজেই। অবাক হয়ে গেলেন মহারাজ। বুঝতে পারলেন আবারো শুধু রূপ নয় ,বুদ্ধিমত্তাতেও পদ্মিণীর তুলনা ত্রিভুবনে শুধু তিনি নিজেই। এমন মহীয়সী রমণীর স্বামী হতে পেরে নিজের প্রতিই নিজের ঈর্ষা হতে লাগলো মহারাজের।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রাজেশ পাল
রাজেশ পাল এর ছবি
Offline
Last seen: 10 months 3 weeks ago
Joined: বুধবার, অক্টোবর 22, 2014 - 8:54পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর