নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • সুব্রত শুভ

নতুন যাত্রী

  • মহক ঠাকুর
  • সুপ্ত শুভ
  • সাধু পুরুষ
  • মোনাজ হক
  • অচিন্তা দত্ত
  • নীল পদ্ম
  • ব্লগ সার্চম্যান
  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান

আপনি এখানে

টকশো "বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নাস্তিকতা" এর বিপরীতে আমার কিছু সমালোচনা বা টকশো রিভিউ


কিছুক্ষণ আগে একটি টকশো দেখলাম -'বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নাস্তিকতা' টকশোটির কিছু সমালোচনা করতে চাই::::

১।রাদিফা বন্যা বলেছেন অভিজিৎ রায়ের ৮টি বইয়ের ২টি বই ধর্ম নিয়ে বাকিগুলো বিজ্ঞান নিয়ে।তিনি এটা দিয়ে কি বুঝাতে চাচ্ছেন জানি না???তবে আসিফ সাহেব বলেছেন অনেক সময় অভিজিৎ রায়ের নাস্তিক পরিচয় টি লুকানোর চেষ্টা করা হত। আমি মনে করি অভিজিৎ রায় বিজ্ঞান লেখক কিন্তু তার জন্য তার নাস্তিক পরিচয়টি লুকাতে হবে কেন??উনি কোন বিষয়ে কয়টি বই লিখলেন তাতে কিছু আসে যায় না???---এটা দিয়ে কি প্রমাণিত হয় তিনি নাস্তিক ছিলেন না??শাক দিয়ে মাছ ডাকার চেষ্টা করে লাভ নেই, অভিজিৎ রায় একজন নাস্তিক ছিলেন এবং এ পরিচয়ে তিনি স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন।অভিজিৎ বিজ্ঞান লিখতে পারেন কিন্তু তিনি বিখ্যাত নাস্তিকতা নিয়ে লেখার জন্য, এজন্যই তার মৃত্যু --এটাকেই কিনা লুকানোর চেষ্টা হচ্ছে, কোন বিষয়ে তিনি কত লিখলেন সেটা বড় বিষয় নয় কিন্তু তিনি তার পাঠক দের কাছে একজন বিজ্ঞান লেখকের চেয়ে নাস্তিকগুরু হিসেবেই বেশি সমাদৃত--আর এটাই তার আসল পরিচয়। কারণ পাঠকেই ঠিক করে লেখক কে সে কোন বিষয়ে আদর্শ মানবে।

২।রাদিফা বন্যা নাস্তিক হয়েছেন ইতিহাস ও রাজনীতি বিশ্লেষণ করে।তিনি ঐ দিকটা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন অনেক। আসিফ সাহেব ধর্মের কাছ থেকে উত্তর পাননি এবং ধর্মের নৃশংসতা দেখে নাস্তিক হয়েছেন---তাই তিনি ধর্ম সমালোচনা নিয়ে অনেক পড়াশুনা করেছেন।

এখানে বলা ভাল রাদিফা বন্যা বারবার রাজনীতির কথা বলেছেন। তাহলে তিনি তার বিষয় নিয়ে লিখুক,বিশ্বের ধার্মিক সমাজকে সচেতন করুক যেন ধর্ম রাজনীতি দ্বারা খারাপ ভাবে ব্যবহৃত না হয়।রাদিফার কথায় এটা স্পষ্ট যে, তিনি নিজে ধর্ম নিয়ে সমালোচনা করবেন না।

কিন্তু রাদিফাকে স্পট বলতে চাই ধর্ম রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত হওয়া ছাড়াও অনেক খারপ দিক আছে, আপনি যে গুলোর সমালোচনা করতে চান না ---আর এই সমালোচনাটাই করেন আসিফ সাহেব।এটা ওনার সেক্টর। যদি পৃথিবীতে ধর্ম নামক ভন্ডামি টা না থাকত তো তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খারাপভাবে ব্যবহার করা যে্ত না,আর আপনার (রাদিফা) ও লেখার দরকার হত না।।তাই আসিফ সাহেব লেখেন-- সমস্যার মূলোৎপাটনের জন্য।আর রাদিফা আপনি লিখেন ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খারাপভাবে ব্যবহার না করার জন্য, এটা অনেটা ধর্মে্র মত একটা হীন ধারণাকে রক্ষাও বলা চলে।

আর রাদিফা সহ সকল পাঠকদের বলতে চাই , আসিফ সাহেব সহ সকল ব্লগার রাজনীতি,সংখ্যালঘু সমস্যা, সমকামিতা, ইতিহাস, বিজ্ঞান ইত্যাদি অনেক বিষয় নিয়ে লেখেন।

বরং আপনারা ধর্ম সমালোচনার অপরাধে অপরাধী হওয়ার ভয়ে নিজদের লেখার ক্ষেত্রে ছোট করেছেন। আসিফ সাহেব সেই হিপক্রেসি করেননি।

৩।নূর নবী দুলালের একটি কথায় শাম্মী হক প্রতিবাদ করছেন তাহলে কি ব্লগারদের আর বেশী করে মরা উচিত?? কিন্তু আপনার কাছে প্রশ্ন ব্লগার-রা কি জানত না ধর্মবিরোধী লেখা লিখলে তাদের উগ্রধর্মপন্থীদের হাতে তাদের মৃত্যু হতে পারে।ব্লগার-রা জেনে শুনেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন।

আজ অভিজিৎ রায়ের একটা লেখা পড়লাম -- "যারা ভাবে বিনা রক্তে বিজয় অর্জিত হয়ে যাবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। ধর্মান্ধতা, মৌলবাদের মত জিনিশ নিয়ে যখন থেকে লেখা শুরু করেছি, জেনেছি জীবন হাতে নিয়েই লেখালেখি করছি।""'

অভিজিৎ রায়ের এই উক্তিটির অর্থ কি আপনি বুঝেন শাম্মী হক???

এজন্য বাঙালি হাজার হাজার নাস্তিক তরুণের আদর্শ অভিজিৎ দা।যারা তাকে শ্রদ্ধা ও করে এবং তারই শেখানো পথে তার সমালোচনা ও করে।

এ জন্য তিনি নাস্তিকতার আদর্শ, প্রাণভয়ে অস্থির থাকা আর পাঁচটা সাধারণ বাঙালি না।

৪।নাস্তিক ব্লগারদের মৃত্যু বিফলে যায়নি-টকশোর কোন লেখক এই প্রশ্নটার সদুত্তর দিতে পারেননি। এই নাস্তিকদের নৃশংস মৃত্যু কোমলমতি তরুণদের সামানে ধর্মের স্বরূপ মানে খারাপ রূপ তুলে ধরেছে।এই নৃশংসতা দেখে তরুণরা আর অধিক হারে নাস্তিকতা গ্রহণ করেছে, তারা ধর্মের সমালোচনা করতে শিখেছে।এজন্য আজ বাংলা দেশের জনসংখ্যা প্রায় ৫%নাস্তিক। এই সংখ্যাটার পিছনে নাস্তিকদের আত্নত্যাগ একটা বড় বিষয়।এর জন্যই তো তারা লিখতেন, সমাজকে ধর্ম নামক বর্বরতা থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য।

আর কে বলেছে, নাস্তিকদের হত্যার পর লেখালেখি কমে গেছে। আপনারা ফেসবুক ও ব্লগ গুলো চেক করুণ দেখবেন নাস্তিকতার বিপুল অগ্রগতি। তরুণরা মৃত্যুকে উপেক্ষা করে প্রতিদিন কি পরিমাণ লিখছে। এই নির্ভীকতা ঐ সকল নাস্তিক ব্লগারদেরই আত্নত্যাগের ফল এবং তাদের-ই পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন এখনকার তরুণ লেখকেরা।

আর ভুলে যাবেন না স্যার অজয় রায়ের উক্তি্র বিশ্লেষণ---"আদর্শের জন্য সবাই প্রাণ দিতে পারে না। এটা গৌরবের, এবং এই গৌরব ও সবাই অর্জন করতে পারে না।"

শুধু উক্তি পড়লেই হবে না নিহিতার্থ ও বুঝার চেষ্টা করুণ। আর আমাদের তরুণরা সেই সৎ আদর্শেরই প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। হয়তবা আর রক্ত দিতে হবে সমাজ থেকে পুরোপুরিভাবে মৌলবাদ দূর করার জন্য।
এই গুলোই তো ব্লগারদের আত্নত্যাগের সাফল্য।

৫।আর সবশেষে আসি নাস্তিকদের দল নিয়ে।নাস্তিকদের দল একটাই তারা নাস্তিক।
আর একটি উক্তি ---"দুজন নাস্তিক কখনওই সকল বিষয়ে একমত হতে পারেন না।"'
তারা সকল বিষয়ে একমত না, এই জন্য যে তারা নাস্তিক না এমনটা কিন্তু নয়।

নিজেদের সমালোচনা করতে পারে বলেই তারা নাস্তিক, ধর্মান্ধের মত গুরুর সমালোচনা্য ভীত ধার্মিক না।এই সমালোচনার অধিকার আছে বিধায় নাস্তিকরা নিজেদের আত্নশুদ্ধির সুযোগ পায়।তারা যে পরম সত্য নয় সেটারও আশ্বাস পায়। এ জন্যই তারা আর মানবিক ও আর যুক্তিবাদী ও আর বিজ্ঞানমনস্ক হয়।

তবে মোটের উপর তাদের আলোচনাটা মজার ও ভাল।কিন্তু ইস্টিশনের দুলাল সাহেব অবশ্য কিছু বলার সুযোগই পেলেন না।বন্যা আপা, আসিফ কে বলার একটু সুযোগ দিলে ভাল করতেন, অনুপম সৈকত ৭১পরবর্তী সরকারের চরিত্রের অসাধারণ বর্ণনা করেছেন। শাম্মী হক ও ভাল বলেছেন।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নির্বাণ রায়
নির্বাণ রায় এর ছবি
Offline
Last seen: 6 months 2 weeks ago
Joined: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 27, 2016 - 4:58পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর