নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • রিপন চাক
  • বোরহান মিয়া
  • গোলাম মোর্শেদ হিমু
  • নবীন পাঠক
  • রকিব রাজন
  • রুবেল হোসাইন
  • অলি জালেম
  • চিন্ময় ইবনে খালিদ
  • সুস্মিত আবদুল্লাহ
  • দীপ্ত অধিকারী

আপনি এখানে

পাবর্ত্য চট্টগ্রামঃ সরকারি কর্মকর্তাদের পানিশমেন্ট জোন


গাইবান্ধায় সাঁওতালদের বাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ সুপার মো আশরাফুল ইসলামকে খাগড়াছড়িতে পুলিশের একটি ব্যাটেলিয়নের প্রধান হিসেবে বদলি করা হয়েছে। কিছুদিন আগে হাইর্কোটের এক আদেশে গাইবান্ধা জেলার পুলিশ সুপার, ওসি ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে গাইবান্ধা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপণ জারি করে আশরাফুল ইসলামকে খাগড়াছড়ি বদলির কথা ঘোষণা করে।

এটি নতুন কিছু নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম যেন দুর্নীতিবাজ-অসৎ ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীদের বদলির ঠিকানা। যেন পাহাড়ে মানুষ থাকে না। থাকে মানুষরূপী কিছু জংলি জানোয়ার আর তাই শাস্তিস্বরূপ সরকারি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পাঠানো হয় সেখানে।
অথচ,পার্বত্য চট্টগ্রামের যে পরিস্থিতি তাতে সৎ ও উন্নত মানসিকতার সরকারি কর্মকর্তা প্রয়োজন। পাহাড়ি-সেটেলার সমস্যা পাহাড়ে তীব্র, ভূমি সমস্যার সমাধান এখনো ঝুলে আছে, পাহাড়ি নারীরা প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানি-ধর্ষণ-হত্যার শিকার হচ্ছে, কারণে-অকারণে পাহাড়ি সংগঠনগুলোর উপর সেটেলার ছাত্র পরিষদের হামলা চলে, মিথ্যা অজুহাতে পাহাড়িদের বাড়ি-ঘরে আগুন, মারধর চলে। যেখানে এ সমস্যাগুলো তীব্র সেখানে রাষ্ট্রীয় এসব সন্ত্রাসীরা কতটুকু তার সঠিক দায়িত্ব পালন করবে? ফলে দেখা যায়, এসব সরকারি কর্মকর্তারা পাহাড়ে গিয়ে পরিস্থিতিকে আরো অশান্ত করে তুলেছে। এইসব সন্ত্রাসীদের প্রত্যক্ষ মদদে আরেক সন্ত্রাসী ও মৌলবাদী সংগঠন সেটেলার ছাত্র পরিষদ পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশকে অসুস্থ থেকে অসুস্থতর করে ফেলছে। পাহাড়ে অসংখ্য দুর্নীতিবাজ পুলিশ, ইউএনও, ম্যাজিস্ট্রেট বর্তমানে কাজ করছে। যেখানেই এত সন্ত্রাসী,দুর্নীতিবাজদের আখড়া, সে এলাকায় পাহাড়িরা ন্যায়বিচার পাবে কিভাবে?

চুয়াডাঙ্গার সেই আলোচিত “বাঁশ পিডি”র কথা সবার জানা আছে যিনি ভবন তৈরিতে বাঁশ ব্যবহার করেছিলেন। দুর্নীতির সীমা কতটুকু ছাড়িয়ে গেছে তার একটি নমুনা রডের বদলে এই বাঁশ ব্যবহার। আর শাস্তিস্বরূপ সেই বাঁশ পিডি সাদেক ইবনে শামছকে খাগড়াছড়ি বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের আপত্তি প্রকাশ করায় তা সম্ভব হয়নি।

এরকম ভুড়ি ভুড়ি উদাহরণ দেয়া যাবে। চাঁদাবাজি, হয়রানি, দুর্নীতিবাজদের পাঠানো হয় পার্বত্য চট্টগ্রামে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে ঘোষণা দেন “কোন ডাক্তার হাসপাতালে ধূমপান করলে তাকে বান্দরবানে পাঠিয়ে দেয়া হবে!” মন্ত্রী সাহেব ধূমপানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতেই পারেন, কিন্তু এর শাস্তিস্বরূপ বান্দরবানে পাঠিয়ে দেয়ার ঘোষণা কতটুকু সুস্থ মানসিকতার পরিচয় দেয় সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার উন্নয়নের জন্য মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করছে। অথচ পার্বত্য অঞ্চলে প্রাইমারি থেকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। পর্যাপ্ত বিদ্যালয়, কলেজ নির্মাণ না করে উচ্চশিক্ষা দিতে চাইছে এখন সরকার! আর অন্যদিকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছে। আর এখানেও রয়েছে বদলি!

জেএসসি পরীক্ষায় সরাসরি গাইড বই থেকে প্রশ্ন করার দায়ে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল ওহাবকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়। এই মহান শিক্ষক পাহাড়ে গিয়ে ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের কি সঠিক শিক্ষা দিবেন??

পাসপোর্ট অফিস দেশের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি খাত। আর এই অফিসে বসে ঝিনাইদহের ডিএডি আবদুল মোত্তালেব সরকার বেপরোয়াভাবে ঘুষ আদায় করছিলেন। সে সাথে একই অফিসের এক নারী কর্মকর্তাকে কুপ্রস্তাবও দিয়েছিলেন। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে শাস্তিস্বরূপ রাঙ্গামাটি পাসপোর্ট অফিসে তাকে বদলি করা হয়।

এখন এই ডিএডি রাঙ্গামাটিতে বসে সাধারণ পাহাড়িদের হয়রানি, পাহাড়ি নারীকে কুপ্রস্তাব-যৌন হয়রানিও যদি করে থাকে তবে তা ধামাচাপা দেয়ার ব্যবস্থা নিশ্চয়ই করা হয়েছে! আর তাকে বাঁচানোর জন্য পাহাড়ি-বাঙালি ইস্যু তো রয়েছেই।
এভাবে দুর্নীতিবাজ-চাঁদাবাজ পুলিশ, বিভিন্ন কর্মকর্তাকে জোর করে পাঠিয়ে দেয়া হয় পার্বত্য অঞ্চলে।

সরকারি কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়ে জাবির প্রাক্তন শিক্ষক প্রশান্ত ত্রিপুরা স্যার একবার ফেইসবুকে লিখেছিলেনঃ

একটা সময় পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলার অধিকাংশ এলাকা ছিল খুবই দুর্গম, যেমন খোদ খাগড়াছড়ি জেলা সদরের সঙ্গে ১৯৮০ এর দশকের আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ছিল না। এমন দুর্গমতার সঙ্গে ম্যালেরিয়া ও ‘শান্তি বাহিনী’র ভীতি যুক্ত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পোস্টিং পাওয়া সরকারি চাকুরিজীবীদের অনেকের কাছে জেল-খাটার মতো ব্যাপার ছিল। আর এই “জেলা খাটা” বিষয়টি সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে পরিচিত ছিল “হিল খাটা” নামে।

পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে সশস্ত্র পরিস্থিতির অবসান হয়েছে। কিন্তু এই বদলির ইতিহাস পরিবর্তন হয়নি। পরিবর্তন হয়নি সে নোংরা মানসিকতার যেখানে মনে করা হয় পাহাড় মানেই জংলিদের আস্তানা, সেখানে বদলি হওয়া মানেই শাস্তি। এভাবে চুক্তির দুই দশক পরও পার্বত্য অঞ্চলকে ভীতিকর একটি অঞ্চল হিসেবে সারা দেশের কাছে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

আজকে যে এসপিকে বদলি করা হলো সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়ার জন্য, আগামীকাল তিনি যদি সাধারণ পাহাড়িদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগাতে যান, এর দায় কে নেবে? সেটেলারদের উস্কানি দিয়ে যে পাহাড়িদের হয়রানি করবেন না তার গ্যারান্টি কি??

অধিসত্ত্বর এই এসপির বদলির আদেশ প্রত্যাহার করা হোক, পার্বত্য অঞ্চলের পানিশমেন্ট বদলির যে প্রথা গড়ে উঠেছে তা বাতিল করা হোক। আমরা পাহাড়ে সুন্দর একটি ব্যবস্থাই দেখতে চাই যেখানে পাহাড়ের মূল সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করা হবে। আমরা কখনোই কামনা করি না যে দেশের দুর্নীতির আস্তাকূড় হিসেবে পাহাড় পরিচিতি লাভ করুক।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অজল দেওয়ান
অজল দেওয়ান এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 2 দিন ago
Joined: শুক্রবার, জুন 6, 2014 - 11:16পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর