নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 9 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • চিত্রগুপ্ত
  • কাঠমোল্লা
  • নুর নবী দুলাল
  • মৃত কালপুরুষ
  • অ্যাডল্ফ বিচ্ছু
  • নরসুন্দর মানুষ
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে কেন ভয় পাবো!


রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেছেন, জরুরি অবস্থায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ও জনগণের কল্যাণে সেনাবাহিনীকে কাজ করতে হবে।

সেনাবাহিনীকে নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীরা খুব টেনশনে থাকেন; জনগণও তাদের ভয় পায়। অবশ্য তা অমূলক নয়। ইতিহাস সুখকর নয়।

মুক্তিযুদ্ধের আগে দেশের বেশিরভাগ সেনা কর্মকর্তারা পাকিস্তানপন্থী ছিল। তাদের কারণেই খুন হন স্বাধীন দেশের জাতির জনক, যার মূল লক্ষ্য ছিল একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা যেখানে ধনীদের বদলে গরীবরা বেশি সুবিধা পাবে। কিন্তু তা পাকিস্তান হতে দেয়নি। আইএসআই, সিআইএ ও গাদ্দাফির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় খুন হন বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের প্রায় সব সদস্য। তারই কণ্যা এখন প্রধানমন্ত্রী। সুতরাং আশংকা থাকেই।

প্রথম সেনা স্বৈরাচার জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে প্রথমেই পাকিস্তানপন্থী রাজাকারদের কারাগার থেকে মুক্ত করে। এরপর সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে জামায়াত ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে রাজাকার ও ধর্ম ব্যবসায়িদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করে পাকিস্তানের এজেন্ডা বাস্তবায়নে বিরাট ভূমিকা পালন করে। তিনি নিজেও সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হন। এরপর তার দল তিনবার ক্ষমতায় এলেও সেই হত্যার বিচার করতে পারেনি।

তারপরের শাসকও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাঃ হিন্দুবিদ্বেষী এইচএম এরশাদ, যিনি কিনা দেশকে ইসলামীকরণের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায় সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম যোগ করে। ইনিও রাজাকারদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া জারি রাখেন এবং জামায়াতকে জামাই আদরে রাখেন। অনিয়ম-দুর্নীতির মহোৎসব আর ছাত্র ও গণ আন্দোলন দমনে মাত্রাতিরিক্ত পুলিশি শক্তি ব্যবহার করে।

এরপরের সেনা শাসকঃ ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দীন, যারা খালেদা-হাসিনার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে নিজেরাই লুটপাটে ব্যস্ত ছিল। পাশাপাশি জামায়াত ও বিভিন্ন জঙ্গি দলকে নানাভাবে পুনর্বাসিত করে গেছে তারা। এদের হাত ধরেই জঙ্গি দল হুজি রাজনৈতিক দল গঠন করে এবং হিজবুত তাহরীরের পায়ের তলার মাটি শক্ত হয়। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে কিছু সেনা কর্মকর্তার সহযোগিতায় অভ্যুত্থানের ব্যর্থ চেষ্টা করে হিজবুত তাহরীর। তথাপি “আমার দেশ” প্রেস থেকে পোস্টার ছাপিয়ে দলটি এখনো প্রকাশ্যেই সেনাবাহিনীকে আহবান করছে ক্ষমতা দখল করে তাদের হাতে হস্তান্তর করতে। সম্প্রতি তারা বলেছে সেনাবাহিনীর উচিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর নির্যাতন বন্ধে তাদের নেতৃত্বে মায়ানমারে আক্রমন করা। সম্প্রতি কয়েকজন সেনাসদস্যকে পাওয়া গেছে যারা ইসলামিক স্টেটের হয়ে কাজ করছে।

২০১৩-১৫ সালে সরকার-বিরোধী আন্দোলনের সময় জিয়ার স্ত্রী খালেদা বহুবার সেনাবাহিনীকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে গিয়ে বিদেশে শান্তি আনা বাদ দিয়ে আগে ঘর সামলাতে বলেছিলেন, মানে অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করে সরকার উৎখাতের ডাক দিয়েছিলেন। কাজ হয়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে জিয়ার সময় শুরু করা সেনা অভিযান এখনো চলছে; সেনা ক্যাম্প ছাড়াও নতুন নতুন বিজিবি দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এই এলাকায় পরিকল্পিত উপায়ে আদিবাসীদের হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতন-বৈষম্য জারি রেখে বাংলাদেশী ও মায়ানমারের মুসলিমদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। কল্পনা চাকমা অপহরণ ও বিচারহীনতা এর একটি জ্বলজ্বলে উদাহরণ। কয়েকদিন আগে বান্দরবনের লামায় সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর একটি টহল দলের উপর হামলা করলে দুই ঘন্টা বন্দুকযুদ্ধ হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দাবী করে সন্ত্রাসীরা ছিল জনসংহতি সমিতির সদস্য। আমরা জনগণ কিভাবে সত্য ঘটনা জানবো? এভাবে সন্ত্রাস দমনের নামে আদিবাসীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশীর নামে হয়রানি-নির্যাতন চলছে, কিন্তু কোন মিডিয়া তা প্রকাশ করছে না। কারণ ভয়। মুসলিমরা সেখানে প্রকাশ্যে আদিবাসী জবাই দেয়ার ঘোষণা দেয়, সেনা গোয়েন্দাদের সামনে আদিবাসী ও ঢাকা থেকে পরিদর্শনে যাওয়া মানবাধিকার কর্মীদের উপর হামলা করে; ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তি বাতিলের দাবী জানায়। ঠিকই তো, সরকার যেহেতু বাস্তবায়ন করতে গড়িমসি করছে, এ অবস্থায় চুক্তি বাতিল করে দেয়াই ভালো। পাশাপাশি আদিবাসীদের জমি থেকে উচ্ছেদ করে উন্নয়নের নামে একের পর এক পর্যটন কেন্দ্র করা হচ্ছে। সবই সেনাবাহিনীর ইচ্ছা!

দুই বছর আগে জাতিসংঘ জানায়, বাংলাদেশের সেনা কর্মকর্তারা আফ্রিকা মিশনে শিশুদের যৌন নির্যাতন করেছে। উত্তরে সেনাবাহিনী জানায় তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। সেই তদন্ত কবে শেষ হবে কেউ জানেনা।

গত বছর কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় বেসামরিক্ কর্মচারীর মেয়ে তনুকে গণ-ধর্ষণের পর হত্যা করে কতিপয় সেনা কর্মকর্তা। সরকার সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেয় যেন সব কূল ঠিক রেখে কাজ হয়। তাই হয়েছে। তনুর বাবা-মায়ের অসীম সাহসিকতা আর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের চাপে পুলিশ স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে তনুকে সেনানিবাসের ভেতরেই গণ-ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়; তার শরীর ও কাপড়ে তিনজন পুরুষের শুক্রানু পাওয়া যায়। কিন্তু সন্দেহভাজনদের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখতে আদালতের অনুমতির প্রার্থনা করতে গিয়ে থমকে যায় তদন্ত।

প্রধান বিচারপতি শুরুতেই বুঝেছিলেন তনু হত্যার বিচার হবেনা। তাই বলেছিলেন, বিদ্যমান আইনে এই বিচার অসম্ভব। পরের দিনই প্রধানমন্ত্রী জোর গলায় বলেছিলেন, সম্ভব!

এইসব আকাম-কুকামের পাশাপাশি রাস্তাঘাট-ব্রিজ নির্মাণে অদক্ষতা-অনিয়ম এবং বিভিন্ন ব্যবসায় সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের অর্থলগ্নি করার প্রবনতা দিন দিন বাড়ছেই।

সবশেষে বলি, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহে সেনাবাহিনীর একটি গ্রুপকে নিঃশেষ করে দেওয়ার পেছনে নিশ্চয়ই এই কুখ্যাত সেনাবাহিনীরই হাত ছিল, অন্য কোন বাহিনীর নয়।

এমন তো হবার কথা ছিল না! এমন একটি দেশ, এমন একটি সেনাবাহিনী তো আমরা চাইনি!

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সংবাদ পর্যবেক্ষক
সংবাদ পর্যবেক্ষক এর ছবি
Offline
Last seen: 8 months 1 week ago
Joined: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী 9, 2017 - 2:28পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর