নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নাগিব মাহফুজ খান
  • মোঃ যীশুকৃষ্ণ

নতুন যাত্রী

  • রৌদ্র
  • তানভীর জনি
  • জাফর মিয়া
  • প্রোফেসর পিনাক
  • কৃষ্ণেন্দু দেবনাথ
  • রাশেদুজ্জামান কবির
  • পিনাক হালদার
  • ফ্রিডম
  • অ্যানার্কিস্ট
  • আশোক বোস

আপনি এখানে

‘বিজাতীয়’ হিজাব নাকি আমাদের ‘নিজেদের’ শাড়ি!


পয়লা ফাল্গুনে হলুদে ছেয়ে গেছে চারধার। প্রায় সব মেয়ের পরনেই শাড়ি। হলুদ লাল কমলা বেগুনি গোলাপি সবুজ সাদা শাড়ি। রঙে রঙে ছেয়ে গেছে চারধার। কী সুন্দর। কী সুন্দর আমার দেশ। কী সুন্দর এই ঢাকার পথঘাট। আমি আবার প্রেমে পড়ে গেলাম ঢাকার, এই শহরের পথের, মানুষের, আমার সংস্কৃতির। আমার গায়ে হলদে শাড়ি, চুলে গাঁদা ফুল। আহা, নিজেকে কী নির্মল আর সুন্দর মনে হচ্ছে। ভীষণ আত্মবিশ্বাসী লাগছে। রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে দুই চোখ মেলে দিয়ে রাখলাম। চারিদিকে শাড়ি আর পাঞ্জাবী। এই তো আমার বাংলাদেশ। এই তো আমরা, বাঙালি। আমি মনে মনে সুখি হয়ে উঠি। আর নানারকম ভাবনা দানা বেঁধে উঠতে থাকে মনের ভিতরে। এই যে এত এত শাড়ি পাঞ্জাবি, আমরা যদি এই ঐতিহ্যটাকে ধরে রাখতে পারতাম! আজ যে পরিমান আর রকমের হিজাবে দেশটা ছেয়ে যেতে শুরু করেছে, তার বদলে যদি শাড়িতে আর পাঞ্জাবিতে আমরা ভরিয়ে ফেলতে পারতাম আমার দেশটাকে। যদি ভিনদেশি হিজাব নয়, আমাদের নিজেদের শাড়িকে অধিকাংশ দিনের পোশাক করে ফেলতে পারতো এদেশের মেয়েরা তাহলে হয়তো সংস্কৃতির একটা জায়গা শক্ত হাতে ধরে রাখা সম্ভব হত।

শ্রীলংকায় গিয়ে দেখলাম, পুরুষেরা নিয়মিত লুঙ্গি পরে। ঘরে বাইরে অফিসে আদালতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এমনকি ফাইভ স্টার হোটেলের কর্মকর্তা কর্মচারি, ওয়েটাররা পর্যন্ত লুঙ্গি পরে আছে। আর মেয়েরা শাড়ি। কত রকম করে যে তারা শাড়িটাকে পরে। শাড়ি আর লুঙ্গি পরাটাকে তারা আনন্দের সাথে ধরে রেখেছে। কী ভালো লাগে দেখতে। তাদের পোশাকই বলে দেয় তাদের জাতীয়তা, তাদের ঐতিহ্য। তো আমরা, এই দেশের মেয়েরা নিজেদের শাড়িটাকে ভুলে গিয়ে ভিনদেশি হিজাবকে বরণ করে নিলাম কেন? হিজাবে কী হয়? কাজের সুবিধা হয়? চলাফেরায় আরাম হয়? সৌন্দর্য্য বাড়ে? ব্যাক্তিত্ব বৃদ্ধি পায়? কোনটা হয়?

আজকাল শাড়ি পরা মেয়ে দেখি হাতে গোনা। শাড়ি হয়ে গেছে উৎসব বা পার্টির পোশাক। অথচ একাত্তরে এই শাড়ি পরেই যুদ্ধে গিয়েছিলেন আমাদের মায়েরা। বায়ান্ন উনসত্তরের অগ্নিঝরা দিনের বিপদসঙ্কুল মিছিলে তারা অংশ নিয়েছিলেন শাড়ি পরেই। ট্রাকে করে গান গেয়ে ঘুরেছেন সারা বাংলাদেশ স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পীরা, সেই শাড়ি পরেই। আজ শাড়ি পরার কথা শুনে ঠোঁট উল্টায় এই দেশের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা। ‘শাড়ি পরে হাঁটতে পারি না, শাড়ি পরতে পারি না, শাড়িতে গরম লাগে, শাড়ি পরতে সময় লাগে, শাড়িতে হ্যান হয়, ত্যান হয়’- এইগুলা শুনি। অবাক লাগে। শাড়ি পরে এতকিছু হয়, কিন্তু হিজাব পরে কিচ্ছু হয় না। সাত সকালে হিজাব মাথায় চড়িয়ে পথে ঘাটে বের হয়ে যান, মুখে লিপস্টিক আর চওড়া মেকাপ ঘষে, তাতে সময় লাগে না! হিজাব এত সহজসাধ্য? হিজাবের এত সুবিধা যে শাড়িকে ভুলে গিয়ে আজ ঘরে ঘরে হিজাবের রমরমায় চোখ জ্বলে যায়! কী অদ্ভুত এই জাতি! কী আজব এই আমরা! শাড়ির মত একটা অনিন্দ্য সুন্দর পোশাক, নিজেদের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে দূরে ঠেলে আমরা পরে আছি হিজাব নিয়ে!আজ নিজেদের যে শব্দটিতে সংজ্ঞায়িত করতে চাই, সেটি ইংরেজি শব্দ- লুজার। আসলে আমরা হয়তো লুজার। আমাদের নিজেদের প্রতি নিজেদের কোন সম্মানবোধ নেই, নিজেদের প্রতি কোন বিশ্বাসও নাই। তাই বাংলাভাষায় আমাদের দক্ষতা সমাদৃত হয় না, ইংরেজি জানাটাই মূখ্য হয়ে ওঠে। নিজেদের সংস্কৃতি, নিজেদের পোশাক, খাবার, নিজেদের শিল্পকলা, সাহিত্যের কোন সমাদর আমরা করতে শিখিনি, সেগুলোকে সসম্মানে বয়ে নিয়ে যেতে শিখিনি। আমাদের ওপরে কৌশলে চাপিয়ে দেয়া মৌলবাদ আর গোঁড়ামিকে আমরা সাদরে গ্রহণ করেছি। তারপর তাকে নিয়ে ধেই ধেই নৃত্য করছি। কী লজ্জা! কী আত্মপ্রবঞ্চনা! কতটা অপগণ্ড মূর্খ এই আমরা!

যে মেয়েরা আজ শাড়িকে ভুলেছে তাদের বলি, শাড়ি পরো। যত পারো শাড়ি পরো। শাড়িই পারবে তোমাকে অনিন্দ্য সুন্দর আর সাহসী করে তুলতে। কারন এটি তোমার পরিচয়, তোমার ঐতিহ্যের ধারক। আর এই শাড়িই হয়ে উঠতে পারে বিজাতীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শক্তিশালী হাতিয়ার। কাজের সুবিধার জন্য যা ভালো লাগে, যাতে আরাম হয় সে সময়টায় যা ইচ্ছে পরার স্বাধীনতা প্রতিটা মেয়ের আছে। (এখন আমাকে বলা হবে, হিজাব পরার স্বাধীনতাও মহিলাদের আছে। কিন্তু কাজের, চলাফেরার সুবিধার পোশাক হিজাব নয়। এটি নারীর স্বাধীনতা ও স্বতস্ফূর্ততার প্রতিবন্ধক একটি বস্ত্রখন্ড। তাই বিজাতীয় হলেও কাজ ও চলাফেরার আরামের স্বার্থে প্যান্ট ট্রাইজার গ্রহণের যুক্তি আছে, যা হিজাবের ক্ষেত্রে নাই) এর বাইরে তোমরা শাড়ি পরো বেশি বেশি। যার সুবিধা আছে, সে শাড়ি পরে কাজেও যেতে পারে। না পারলে সালোয়ার কামিজ, প্যান্ট, ট্রাউজার যা ইচ্ছে পরুক। কিন্তু এর বাইরে সময় সুযোগ পেলে শাড়িই হয়ে উঠুক আমাদের পরিচয়। আমাদের শাড়ি আমরা পরবো। যখন ইচ্ছা পরবো। শুধু উৎসবে পার্বনে নয়। সারাদেশে শহরে মফস্বলে গ্রামেগঞ্জে রাজধানীতে- সবখানে, রাস্তাঘাট ছেয়ে যাক শাড়ি পরা মেয়েতে। আমরা যেন আবার ফিরিয়ে আনি শাড়িকে, কোন বিজাতীয় হিজাবকে নয়। ভালো থাকুক তাঁতীর ভালোবাসায় হাতে বোনা শাড়ি- সুতি, জামদানি, রেশমী সিল্ক, কাতান, বেনারসী। আহা! শাড়ি, তুমি ভালো থাকো! ভালো থাকো আমার সোনার বাংলা, ভালো থাকো আমার ঐতিহ্য!

Comments

রুশদী এর ছবি
 

আহা! শাড়ি, তুমি ভালো থাকো! ভালো থাকো আমার সোনার বাংলা, ভালো থাকো আমার ঐতিহ্য!

আসলে লাল টকটকে রাংগা ঠোট, স্লিভ লেস ব্লাঊজ, নাভীর তলায় থাকা শাড়ি আর উচূ চুলের খোপা হচ্ছে এদেশের নারীদের পোশাক। চোখ জুড়ান এই সৌন্দর্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে বোরকা-হিজাবের চাপে!

 
শাফিয়া আননূর এর ছবি
 

ড়ি অনেক ভাবেই পরা যায়,। কে কি ভাবে পরে, তার উপর তার চরিত্র ফুটে উঠে, শাড়ির চরিত্র নয়। যার নজর খারাপ, সে বোরকার ভিতরেও নারীর মাংসই দেখে, মানুষ দেখতে পায় না। সমাজে যাহারা নারীকে বোরকা আর হিজাবে আবৃত রাখতে চান, সমস্যা তারাই, তারাই লুচ্চা, তাদেরই চোখ খারাপ, তাদেররি মনে পাপ।। নারীর পোষাক কখনোই সমস্যা নয়।

 
আরণ্যক রাখাল এর ছবি
 

শাড়ি জিনিসটা সুন্দর তাতে সন্দেহ নেই। মেয়েদের বিশেষ করে বাঙালি মেয়েদের শাড়িতেই সুন্দর লাগে সবচেয়ে বেশি।
তবে এই পোশাকটা আর পরছে না কেউ। কেউ পরছে হিজাব, কেউ পরছে জিনস। এই তো?
আসলে পরিবর্তন হয় দুপ্রকার। একটা ইতিবাচক, আরেকটা নেতিবাচক। আমাদের বেলা নেতিবাচক প্রভাবটা হচ্ছে হিজাব। স্বামী, বাবা ইভেন বয়ফ্রেন্ডের চাপেও মেয়েরা হিজাব পড়ছে। আর যারা হিজাব পরছে, তারা কাজটাজও করে কম। আমি যতটুকু জানি, তারা ঐ বাড়ি থেকে বের হয় আর ফিরে আসে।
আপনি একপাক্ষিক বিশ্লেষণ করেছেন। ওয়েস্টার্ণ পোশাক যে শাড়ির বিকল্প এটা বলেননি।
শাড়ি পরা কম হয় তার পুরোটার দায়ভার এই ওয়েস্টার্ন পোশাকের। কারণ এটা আরো বেশি সুবিধাজনক। লুঙি পড়ে নির্ঘাত আপনি দৌড়াতে পারবেন না। শাড়ি পরেও। পুরুষেরা হয়তো নাংটি খিচে দৌড়াতে পারবে কিন্তু শাড়ির বেলা সেটা সম্ভব নয়।
অথচ আজকাল স্পিড কার না প্রয়োজন?
শাড়ি লুঙ্গি হটিয়ে তাই এসেছে শার্ট প্যান্ট ইত্যাদি।
সৌভাগ্যের ব্যাপার এই পরিবর্তনটা ইতিবাচক।
আজ যে মানুষ শাড়ি লুঙ্গি পরে না তাই বলে খারাপ লাগে না আমার। ভাল লাগে এটা ভেবে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে একটা। নেতিবাচকটা পীড়া দেয়। একদল পদ্মফুলের মাঝে একটা কালসাপ যেন হিজাব।
তবুও এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে অস্বীকার করতে আপনি পারেন না। আর পাঞ্জাবি কিন্তু এদেশের পোশাক নয়। ওটাও বাইরের। মুসলিম শাসনের ফলে এসেছে। যেভাবে এসেছে হিজাব। তো পাঞ্জাবিকে নিজেস্ব সংস্কৃতি মনে করার কন মানে নেই।

তুমি প্রতিদিন ভাঙ্গার কথাই বলো
আমি ঈদানিং শান্ত নগরবাসী-
তুমি খুব করে সুতোটা ছিড়ে ফেলো
আমি ঘরকুনো, জানলা নিভিয়ে বসি।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

শারমিন শামস্
শারমিন শামস্ এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 6 ঘন্টা ago
Joined: বুধবার, ডিসেম্বর 14, 2016 - 1:55পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর