নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কুমার শাহিন মন্ডল
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • অন্নপূর্ণা দেবী
  • অপরাজিত
  • বিকাশ দেবনাথ
  • কলা বিজ্ঞানী
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • সাবুল সাই
  • বিশ্বজিৎ বিশ্বাস
  • মাহফুজুর রহমান সুমন
  • নাইমুর রহমান
  • রাফি_আদনান_আকাশ

আপনি এখানে

দেশের দুর্গম প্রান্ত লিক্রিতে বোর্ডিং স্কুল স্থাপনঃ কজন তরুণের স্বপ্ন ও বাস্তবায়নের তাগিদ


গত ডিসেম্বরে বান্দরবানের থানচি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৯২ কিলোমিটার এলাকা আমরা ক’জন পাড়ি দিয়েছিলাম সেখানে স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কিছু শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্দেশ্যে। এর আগে জুন মাসে আমরা গিয়েছিলাম খাদ্য সংকটে স্থানীয় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে। এই দুই অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা সেখানকার স্থানীয় ম্রো-খুমি-মারমা-ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মানুষগুলোর সাথে নিজেদের একাত্ম বোধ করেছি। মানুষগুলো এখনো ম্যালেরিয়া-ডায়রিয়ার সাথে নিয়মিত যুদ্ধ করে বেঁচে আছে। তারা যেমন প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে নিজেদের টিকিয়ে রেখেছে, ঠিক তেমনি প্রকৃতিকেও আপন করে নিয়েছে।

সাঙ্গু রিজার্ভ ফরেস্টের মাঝে অবস্থিত লিক্রি, সূর্যমনি, মালেংগ্যা, থাংকোয়াইন, বুলু, পানঝিড়ি এলাকাগুলোর মানুষ এখনো প্রকৃতির মতোই সুন্দর, সহজ-সরল আর প্রবল বাধা বিপত্তিতে বুকে সাহস নিয়ে টিকে থাকার মানসিকতা ধারণ করে। কঠিন জীবনযুদ্ধে তারা কখনো হার মানে না। এই জীবনযুদ্ধকে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, আমরা অনুভব করেছি তাদের পাশে দাঁড়ানোর। আর তাই আমরা স্থানীয় মানুষের সাথে কথা বলেছি। স্থানীয় মানুষরা সানন্দে সায় দিয়েছে। একই সাথে লিক্রির কার্বারির সাথে আলোচনা করেছি। যতদূর সম্ভব আমাদের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতিও তিনি দিয়েছেন।

আমরা পরিকল্পনা করেছি লিক্রিতে একটি বোর্ডিং স্কুল স্থাপন করার যেখানে স্থানীয় শিশু-কিশোররা হাতে বই-খাতা নিয়ে পড়তে যাবে। দূরদূরান্ত থেকে বাচ্চারা এই স্কুলের হোস্টেলে থাকবে। তাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে একটি স্কুল যেটি দেশের এই দুর্গম অঞ্চলে স্থাপিত প্রথম কোন বোর্ডিং স্কুল।

পানঝিড়ি-লিক্রি-ম্রংয়ং-ম্রওয়া গ্রামের ছেলেমেয়েরা স্কুলের মুখ কখনো দেখতে পায় না। কঠিন জীবনযুদ্ধে তাদের খুব কমবয়সেই নেমে পড়তে হয়। সে বয়সটা আমরা বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাই, সে বয়সটা তারা পার করে সাঙ্গু নদীতে মাছ ধরে, বিভিন্ন জাতের জংলী ফলমূল সংগ্রহ করে, মাঠে ফসল ফলিয়ে। ফলে খুব কম বয়সেই তাদের কঠিন জীবনকে বুঝে উঠতে হয়। স্থানীয় কোন স্কুলে যদি কোন বাচ্চা পড়তেও যেতে চায় তবে খুবই অসম্ভব একটি ব্যাপার কারণ বড়মদক এলাকায় রয়েছে সর্বশেষ সরকারি প্রাইমারি স্কুল। আর বড়মদক থেকে লিক্রি বা মংয়ং প্রায় সারাদিনের পথ।

এসব দুর্গম এলাকার যোগাযোগ বা চলাচলের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। পায়ে হাঁটার কোন পথ নেই আর বর্ষার সময়ে পুরো তিনটা মাস এসব এলাকা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কারণ সাঙ্গু নদী তখন তীব্ররূপ ধারণ করে। ফলে, এসব এলাকার অভিভাবকরা ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠানোর প্রতি আগ্রহ বোধ করেননা। বরং জীবনযুদ্ধে তাদের নামিয়ে দেয়া হয়।

এসব শিশুর ভবিষ্যত যেন শুধুমাত্র এই জীবনযুদ্ধেই সীমাবদ্ধ না থাকে তাই আমরা এই বোর্ডিং স্কুল স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। অলরেডি স্কুল বসানোর জমি আমরা চিহ্নিত করে রেখেছি। দেশের এক দুর্গম প্রান্তে আলোর বীজ বুনতে আমরা বদ্ধপরিকর। আমরা কিছু উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করেছি।
উদ্দেশ্যঃ
১. এলাকার অনগ্রসর ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা।
২. এলাকার সকল শিশুদের শিক্ষা অধিকার নিশ্চিত করা।
৩. এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং নারীদের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহন করানোর মাধ্যমে শিক্ষা সচেতনতা তৈরী করা।
৪. স্থানীয় সম্পদ শিক্ষা প্রসারের কাজে ব্যবহার করা।
৫. তরুন সমাজ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজসেবক ও সমাজের বিত্তবান মানুষদের শিক্ষামূলক কাজে অংশগ্রহন করানো।
৬. শিক্ষিত সমাজ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখা।
৭. এলাকার পরিবেশ,জনজাতি ও সংষ্কৃতি বিষয়ে গবেষণা করা।
৮. দুস্প্রাপ্য ও পুরানো পান্ডুলিপি, এলাকার মধ্যে হারিয়ে যাওয়া লোকগীতি ও সংস্কৃতিসহ পুঁথি সংগ্রহ করে তা প্রকাশনা করা।

আমরা চাই এই এলাকার প্রজন্মগুলো শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠুক। এ প্রজন্ম বর্তমান শতাব্দী পেরিয়েও অনন্তকাল পর্যন্ত পৃথিবীর চ্যালেঞ্জের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকুক। সে সাথে আগামী ১০ বছর পর এই এলাকার কোন মানুষ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায় তা আমরা প্রত্যাশা করি। আমরা বিশ্বাস করি মানুষের সংগ্রামের মাঝেই হোক মুক্তি। এ মুক্তির দিশা দেখানোর জন্য এই স্কুল গড়ার প্রয়াস আমাদের ক’জন তরুণের।
এ বিশাল কর্মযজ্ঞ একা আমাদের দ্বারা সম্ভব হবে না। তাই আপনাদের সকল মুক্তিকামী মানুষের সহযোগিতা আমরা প্রত্যাশা করি। আপনাদের সকল সহযোগিতাই আমাদের কাম্য। লিক্রির এই স্কুলটি যেন হয়ে উঠে গণমানুষের পাঠাশালা এজন্য আপনাদের আবারো আমরা পাশে কামনা করি। এর আগে আপনারা এগিয়ে এসেছিলেন খাদ্যসংকটে, শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচীতে। এগুলো ছিল অনেকটা সাময়িক কিছু সাহায্য। কিন্তু এবার আমরা স্থায়ী কিছু করার প্রত্যাশা করছি। এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হলে এলাকার বিশাল সংকটগুলো শিক্ষিত প্রজন্ম নিজেরাই সমাধান করে নিতে পারবে। তখন আর কেউ না খেয়ে থাকবে না, কেউ আর শীতে কাঁপবে না, কেউ আর বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না।
তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শুরুতেই আমরা অনলাইনে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা ও আপডেটের জন্য একটি পেজ খুলেছি। আপনারা সেখানে যোগাযোগ করে সহযোগিতা করতে পারেন। পেজের লিংকঃ
https://www.facebook.com/LikriThanchiSchool17/

চাওয়া কিংবা আবেদনে আমাদের কোন লজ্জ্বা নেই তাই তোদের, তোমাদের, আপনাদের কাছে একটা আবেদন নিয়ে এসেছি। কিছু প্রত্যন্ত মানুষের আবেদন, দেশের সবচাইতে দূর্গম এলাকা থেকে আবেদন, কিছু অফুরন্ত প্রাণশক্তিতে ভরা মানুষের আবেদন। শিক্ষালয় স্থাপনে আপনিও মহৎ ভূমিকা রাখুন, সহযোগীতার হাত বাড়ান। আসুন পাহাড়ে আলো জ্বালাতে সহযোগীতা করি ।

বিভাগ: 

Comments

ষঢ়ঋতু এর ছবি
 

সুন্দর

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অজল দেওয়ান
অজল দেওয়ান এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 2 weeks ago
Joined: শুক্রবার, জুন 6, 2014 - 11:16পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর