নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • লিটমাইসোলজিক
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • কাঠমোল্লা
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • জহিরুল ইসলাম

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

চোখের আঁড়াল মানেই মনের আঁড়াল নয়


ধর্মপুর, কুমিল্লা।
১৭/১০/১৬ইং
প্রিয় রাত্রি,
আজ সন্ধ্যেবেলা যখন ঘুম থেকে উঠলাম, তখন মাথাটা কেনো যেনো ধরে ছিলো।
পড়ার রুমে ঢুকে কিছুক্ষণ বসে রইলাম।
সন্ধ্যের নাস্তা শেষ করে কিছুক্ষণ একটা সাহিত্য সাময়িকী ঘাটার পর যখন দেখলাম সাতটা বাজে, তখন বই নিয়ে বসলাম পড়তে। কিন্তু মনোযোগ যে আজ কিছুতেই আসছে না।
তাই ছাদে এলাম। একবার ভাবলাম তোকে ফোন দেই। কিন্তু পরক্ষণেই মনে হলো, তুই বলেছিলি যে তোর ফোন কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে। তাই তোকে আর ফোন দিলাম না।

আমাদের বাসাটা এমন এক যায়গায় যে, এর পূর্বদিকে তাকালে চোখে পড়বে সুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত রাতের আলোকোজ্জ্বল যান্ত্রিক শহর।
আর পশ্চিমে চোখে পড়ে দিগন্ত পর্যন্ত বিস্তৃত রাতের অন্ধকার নিঝুম পল্লী। দেখলে মনে হয় যেনো কোনো পাতালপুরীর ঘুমন্ত রাজকুমারী গভীর ঘুমে নিমজ্জিত।
শহর আমার মনকে টানে না। মূলত পল্লীর প্রতিই হৃদয়ে এক অদৃশ্য টান অনুভব করি।
এই পল্লীর সবুজ আঁচলের শুরু আমার বাড়ির পর থেকেই; এর শেষ কোথায় তা আমার চির অজানা।

এই রাতে যখন পশ্চিমে মুখ করে দাঁড়ালাম তখন দেখলাম নিস্তব্ধ গ্রামের পর গ্রাম। কোথাও বা একটা-দুটো বাতি জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। তবে দূর থেকে এত বড় নিস্তব্ধ-নিঝুম গ্রামের কাছে এই কয়েকটি বাতিকে বড়ো অসহায় লাগছিলো।
পশ্চিম দিগন্তের শেষ প্রান্তেই এক গ্রাম। অবশ্য একে আর এখন গ্রাম বলা যায় না। ধীরে ধীরে ‘নগরায়ন’ নামক ছোঁয়াচে রোগ এখানকার মানুষকেও পেয়ে বসেছে। এখানে কিছু বাতি জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। এর কিছু সামনে এগোলেই তো তোদের বাড়ি।
তোর কথা খুব মনে পড়ছিলো। তাই কল্পনায় তোকে দেখতে চেষ্টা করছিলাম যে তুই কী করছিস।
দেখলাম তুই তোর পড়ার টেবিলে বসে নিবিষ্ট মনে পড়ে যাচ্ছিস।
আবার ফিরে এলাম নিজের কাছে; ভাবলাম যদি এমন হতো, আমি আমার মনের হাসি-আনন্দ-দুঃখ-সুখের কথা এই নিভৃত রাত্রিতে পশ্চিম পানে চেয়ে বাতাসের কানে চুপিচুপি বলে দিতাম; আর বাতাস তা আমার প্রিয় বন্ধুটার কাছে পৌছে দিতো, তবে কতো ভালোই না হতো।
তাই আমি আমার চোখ বন্ধ করে মনের চোখ খুলে বাতাসকে বললাম, “ওগো বাতাস, তুমি কী আমার মনের সব কথা আমার প্রিয় বন্ধুটির কাছে পৌছে দিতে পারবে?”
জবাবে বাতাস বললো, “পারবো না কেনো? অবশ্যই পারবো।”
“তবে আমার মনের কথাগুলো পাঠিয়ে দাও দেখি তার কাছে।”
“আহা, সে তো বুঝলাম। কিন্তু কি পাঠাবে সেটা তো বলো।”
“তাকে বলো আমার সাথে যেনো ‘অচেনার তীরে’ দেখা করে।”
“ঠিক আছে।”-বলে বাতাস রওনা দিলো পশ্চিম পানে।

তোকে বলা হয় নি, ‘অচেনা’ মূলত কী। অচেনা এক নদীর নাম। একদিন স্বপ্নে দেখলাম আমি এক নদীর তীরে বসে আছি। গোধূলি বিকেলের রক্তিম আভা পুরো প্রকৃতিতেই ছড়িয়ে পড়েছে। নদীর তীরে ঘাসের উপর বসে আমি পায়ের গোড়ালি পানিতে ডুবিয়ে রেখেছি। পেছনে অনেক দূরে পাহাড়। আমার চারপাশে বিশাল বড় বড় ঘাস। মাঝখানে নদীর চরের বুকে জেগে আছে কাঁশফুল।
আমার কিছু দূরে যে গাছটা রয়েছে, তার নাম আমার জানা নেই। দেখতে কিছুটা আমাদের দেশের কাঠাল গাছের মত, কিন্তু শাখা-প্রশাখা বড় এবং প্রসারিত।
ঘাটে নৌকো বাঁধা; কিন্তু মাঝি নেই।

এরপর থেকে প্রায়ই আমি এ নদীর তীরে হেঁটে বেড়াতাম স্বপ্নে।
কখনো মন খারাপ থাকলে চলে যাই অচেনার তীরে। এর নাম অচেনা হওয়ার কারণ এই নদীটিকে আগে কোনদিন চিনতাম না। কখনো দেখি নি। তাই এর নাম দিয়েছি ‘অচেনা নদী’।

বাতাস এসে বললো, “তোমার বন্ধু আসছে।”
আমি চোখ বন্ধ করে যখন আবার খুললাম, পৌছে গেলাম অচেনার তীরে। অচেনায় তখন জোছনা রাত। পুরো অচেনার তীর আলোতে পরিপূর্ণ। মাঝে মাঝে দিন বলে ভ্রম হয়।

এমন সময় পেছনে তাকিয়ে দেখি তুই আসছিস।
তুই আজ নীল শাড়ি পড়েছিস। খোলা চুল বাতাসের ঢেউয়ের সাথে তাল মেলাচ্ছে। হাতে কাঁচের চুড়ি, তার রং ও নীল। শাড়িতে আজ তোকে বেশ ভালো লাগছে।
কাছে এসে তুই বললি, “কীরে ডেকেছিস কেনো?”
“সব সময় বন্ধুকে ডাকার জন্য কী কারণের প্রয়োজন আছে? অকারণেও তো মাঝে মাঝে ডাকা যায়।”
“তা বুঝলাম। তবে এমন চমৎকার একটা যায়গার সন্ধান কোথায় পেলি?”
আমি কিছু না বলে শুধু মুচকি হাসলাম। এরপর তুই আমার পাশে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে পানিতে পায়ের গোড়লি ডুবিয়ে ছিলি।
আমি বললাম, “চল নৌকোটাতে করে চরে যাই।”
“চল” বলে তুই পেছন পেছন এলি। নৌকোয় উঠে চোখ ছানাবড়া করে বলে উঠলি, “মাঝি কোথায়?”
“মাঝি নেই। আমিই চালাবো।”
“তুই পারবি?”
“কেনো পারবো না।”
আমি চালাতে শুরু করলাম। শান্ত নদী, স্রোত নেই; চারদিকে বৈঠার শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ নেই।
হারিকেনের লাল আলোতে দেখলাম তুই পানিতে হাত দিয়ে একটু পরপর আমার দিকে জল ঝাপটা দিচ্ছিস। পরে আমার বকা খেয়ে বাচ্চাদের মতো কাঁদো কাঁদো মুখ করে কিছুক্ষণ বসেছিলি।

যখন চরে পৌছে নৌকো থেকে নামলাম, তখন চরটাকে যেনো নতুন করে আবিষ্কার করলাম।
চারদিকে উজ্জ্বল জোছনার মাঝে সাদা কাঁশবন এক মোহনীয় পরিবেশ তৈরি করেছিল।
তুই শিশুদের মতো বলে উঠলি, “এই জোহেব, লুকোচুরি খেলবি?”
আমি বললা, “কোনো খেলব না? এই ভরা জোছনায় লুকোচুরি খেলতে বেশ লাগবে।”
“তবে চল শুরু করি। তুই চোখে হাত দিয়ে পেছন ফিরে দাঁড়া। আমি লুকোবো।”
“ঠিক আছে।”
তুই লুকিয়ে শব্দ করলি। আমি তোকে খোঁজা শুরু করলাম। তবে অনেক খুঁজেও না পেয়ে হার স্বীকার করে নিলাম।
তুই ফিরে এসে আমাকে নিয়ে কিছুক্ষণ হাসাহাসি করলি; কিন্তু একটুপর তুই এদিক ওদিক তাকিয়ে বললি, “আমার বড্ড ভয় করছে রে।”
আমি তোকে অভয় দিয়ে বললাম, “ভয় নেই। আমি আছি তো।”
“হুহ, কোথা থেকে এলোরে আমার নিধিরাম সর্দার।”-তাচ্ছিল্য করে বললি তুই।
“তুই মনে হয় খুব সাহসী? এই তো ভয়ে ঠকঠকিয়ে কাঁপছিস। ভীতুর ডিম একটা।”
এরপর কিছুক্ষণ তুমুল ঝগড়ার পর আমরা নৌকোয় করে তীরে ফিরলাম।
এরপর দু’জনে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করলাম; চোখ খুলে দেখি আমি ছাদে দাঁড়িয়ে।
আজ আমি বুঝতে পারলাম, তোরা যে বলিস, “চোখের আঁড়াল হলেই মনের আঁড়াল হয়”- এ কথাটা কত বড় একটা মিথ্যে।
তুই তো এতক্ষণ আমার চোখের আঁড়ালেই ছিলি, কিন্তু মনের আঁড়াল তো আর হস নি।

ইতি,
তোর বন্ধু,
জোহেব

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

জোহেব শাহরিয়ার
জোহেব শাহরিয়ার এর ছবি
Offline
Last seen: 8 months 4 দিন ago
Joined: শনিবার, ডিসেম্বর 17, 2016 - 2:14অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর