নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • জান্নাতুল নাইম শাওন
  • শাহরিয়ার জাহিদ...
  • পৃথু স্যন্যাল
  • নীল কষ্ট
  • আরিফ ইউডি
  • নুরুন নেসা
  • এম ইউ রাকিব

নতুন যাত্রী

  • আবুল কালাম
  • ইমরান আহমেদ সৈকত
  • উন্মাদ কবি
  • রাহাত মাকসুদ
  • শাহরিয়ার জাহিদ...
  • অপূর্ব দাশ
  • এল্লেন সাইফুল
  • বাপ্পি হালদার
  • রমাকান্ত রায়
  • আবুল খায়ের

আপনি এখানে

পাঠ্যপুস্তক বিতর্ক ও আমাদের পেছল পথে যাত্রা


পাঠ্যপুস্তক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সমারোহের মাঝে নিজেদের সময়কার পাঠ্যপুস্তকগুলোর কথা মনে পড়ে গেলো। বছরের ১ তারিখে পাঠ্যপুস্তক হাতে ওঠেনি কখনোই। কখনো কখনো ফেব্রুয়ারী ও পেরিয়ে যেতো। সরকারি শিক্ষাক্রমের বাইরে আমাদের স্কুল কর্তৃপক্ষের নির্বাচিত বইগুলো নিয়েই শুরু হতো বাতসরিক পাঠক্রম। খুব আগ্রহ নিয়েই অপেক্ষা করতাম নতুন বছরের নতুন বইয়ের সুবাস আস্বাদনের্। আর হাতে পেতেই শুরু করতাম গল্পের মতো করে বাংলা আর ইংরেজি বইগুলো একটানা পড়া। বই পড়ার তীব্র নেশা ছিলো তখন। বেশ পড়ুয়াই ছিলাম স্কুলজীবনে। পরে যার ছিটেফোঁটাও ছিলাম না বলা চলে।

নতুন বইয়ের গল্প , কবিতা আর ছড়াগুলো মাতিয়ে তুলতো আমার শৈশব আর কৈশোরকে। যদিও মাস কয় পরে পরীক্ষা নামক যন্ত্রণার যাতাকলে পড়ে আবার সেই বইগুলোই মাঝে মাঝে ছিড়ে কুটি কুটি করে ফেলতে ইচ্ছে হতো। কিন্তু প্রথম কয়েকমাসের মুগ্ধতা ফিরে ফিরে আসতো প্রতিবছরই।

অনেকগুলো কবিতা আর ছড়া মুখস্থ ছিলো সেসময়ে। বলাবাহুল্য পরীক্ষার প্রয়োজনেই। অসাধারণ ছন্দ আর গঠনরীতি থাকায় খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।অসাধারণ ছিলো কবিতাগুলো আক্ষরিক অর্থেই। কবিগুরুর "আমাদের ছোট নদী চলে বাকে বাকে , বৈশাখ মাসে তার হাটুজল থাকে" বা বন্দে আলী মিয়ার " আমাদের ছোট গায়ে ছোট ছোট ঘর , থাকি সেথা সবি মিলে নহে কেহ পর" পংক্তিগুলো পরম মমতায় শিশুমনের গহীনে ফুটিয়ে তুলতো পল্লীবাংলার ছবি। কবি কাদের নেওয়াজের "আজি হতো চির উন্নত হলো শিক্ষাগুরুর শির , সত্যি তুমি মহান উদার বাদশাহ আলমগীর " শিখিয়েছিলো শিক্ষাগুরুর মর্যাদা। কবি সুফিয়া কামালের "আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা ,তোমরা এখন সেই বয়সেই লেখাপড়া কর মেলা" লাইনগুলো শিখিয়েছিলো স্বপ্ন দেখতে। কাজী নজরুলের "আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে্ , তোমার ছেলে উঠলে মাগো রাত পোহাবে সবে" দীক্ষিত করেছিলো জেগে ওঠার মহামন্ত্রে।সত্যন্দ্রনাথ দত্তের "কুকুরের কাজ কুকুর করেছে কামড় দিয়েছে পায় , তাই বলে কি কুকুরকে কামড়ানো মানুষের শোভা পায়" গেয়েছিলো মানুষের জয়গান।

এরকম আরো অসংখ্য কবিতা অহর্নিশি নিজের অজান্তেই শিশুমনে তৈরী করে চলেছিলো ভবিষ্যতের স্বপ্নসোপান। জহির রায়হানের "সময়ের প্রয়োজনে " বা বেগম রোকেয়ার "জাগো গো ভগিনী " বেশ আলোড়িত করেছিলো আমাদেরকে। যেমন করেছিলো শরতচন্দ্রের "মহেশ" গল্পের সাম্প্রদায়িকতার কদর্যতা। আজ একে একে সবই অতীতের স্মৃতি হিসেবে ঠাঁই নিতে চলেছে জাদুঘরে।

কালের কন্ঠের রিপোর্ট অনুযায়ী, “২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে ২০০৩ সালে পাঠ্যপুস্তকে ব্যাপক পরিবর্তন আনে। প্রতিটি শ্রেণির বাংলা সাহিত্যের বইয়ে ধর্মীয় বিষয় ও ভাবধারা যুক্ত করা হয়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পাঠ্যপুস্তক সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন করে। এর আলোকে নতুন পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ করা হয় ২০১২ সালে, যা শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায় ২০১৩ সালে। তখন বলা হয়েছিল, বাংলা বিষয়কে সাহিত্যসমৃদ্ধ এবং সর্বজনীন করার জন্য ধর্মীয় বিষয়গুলো সরিয়ে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষাসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

২০১৩ সালে গড়ে ওঠা সংগঠন হেফাজতে ইসলাম পাঠ্যপুস্তক সংস্কারের তীব্র বিরোধিতা করে। ওই বছরের শুরুতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়া ওঠা শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবির পরিচালিত ফেসবুক পেজ বাঁশের কেল্লায় পাঠ্যপুস্তকের বাংলা বই থেকে কী কী ইসলামী ভাবধারার লেখা বাদ পড়েছে এবং কোন কোন ‘হিন্দু লেখক’ ও ‘হিন্দুত্ববাদী’ লেখা যুক্ত হয়েছে সেই তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর পর থেকে পাঠ্যপুস্তক সংশোধনের দাবিতে হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।“

"পাঠ্য বইয়ে এসব কী" শিরোনামে কালের কণ্ঠের খবর (দেখতে ক্লিক করুন)

গতবছর হেফাজতে ইসলাম পুনরায় পাঠ্যপুস্তক থেকে আবারো হিন্দু আর নাস্তিক লেখকদের লেখা বাদ দেয়ার জন্য দেশব্যাপী আবারো বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। বেশ কয়েকটি সমাবেশে চরম বিদ্বেষমূলক বক্তব্যও রাখে তারা। সেসময় আমি ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলাম,

“ভালোই হলো সবদিক দিয়ে।অতি উত্তম সময়োচিত সিদ্ধান্ত এটি।
রবীন্দ্রনাথের ছোট নদী একেবেকে না চললে কি এমন আর ক্ষতি হবে? ডাকঘরের অমল না হয় নাই বা কথা বললো দইওয়ালার সনে। হৈমন্তী বা বিলাসীদের আসলেই কোন মূল্য নেই মডার্ণ টাইমসে। শরতের গফুর আর মহেশ এখন ভালোই আছে। কি দরকার তার কাহিনী পড়ে চোখের জলে বুক ভাসানোর্। মানিকের কুবের তো লুইচ্চা। অবৈধ প্রেম তার কপিলার সাথে। ছোটদের এসব পড়ে চরিত্র নস্ট করার মানে হয়না। "ক্ষুধিত পাষাণ " তো পাষাণই। জ্যন্ত মানুষকে নিয়ে কথা না বলে শুধু শুধু পাষাণের পেছনে সময় নস্ট। জীবনানন্দ আবার ফিরে না আসলে তেমন কি ইতরবিশেষ হবে? অদ্বৈত মল্লের তিতাস নদীর অস্তিত্ব তো এমনিতেই নেই। কি দরকার তার কাহিনী পড়ে?নবকুমারদের পথ দেখানোর জন্য কপালকুন্ডলারা নাই বা থাকলো। ডি .এল .রয় ছাড়া কি বসুন্ধরা ধনধান্য ভরা হতে পারেনা?

এর চেয়ে গোলাম মোস্তফা .. ফররুখ আহমেদদের নবরেনেসার অবদান অনেক বেশী আবশ্যকীয়। মধুসূদনের দাতভাঙা "মেঘনাদবধ"এর চেয়ে কায়কোবাদের "মহাশ্মশাণ" অনেক সুখপাঠ্য মহাকাব্য। ঠাকুরমার ঝুলির চেয়ে যেমন অনেক বেশী আকর্ষণীয় আরব্যরজনীর এক হাজার এক রাত্রির রোমান্স। সত্যেন্দ্রনাথের "ছিপখান তিন দাড়" এর চেয়ে গালিব আর ওমর খৈয়ামের শের অনেক বেশী বাস্তবভিত্তিক। খলিফা হারুনুর রশীদের মহত্বের কাছে কিইবা মূল্য বিসর্জন বা রক্তকরবীর??
আমি শফি হুজুরকে ধন্যবাদ জানাই তাঁর এই যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য। কি দরকার কতগুলি আবর্জনা দিয়ে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের মস্তিষ্ক ভারাক্রান্ত করার? সময়ের সাথে মানানসই শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ সাহেবের জায়গায় উনার মতো বুজুর্গ আদমীদেরইতো নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন।

আশা করি এরপর তিনি অতি সত্বর জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করার জন্য দেশব্যাপী সফল আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন।"আমার সোনার বাংলা"র চেয়ে "পাক সার জমিন সাদ বাদ" আসলেই অনেক মহিমান্বিত।"

২০১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক স্তরের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের ‘আমার বাংলা বই’য়ে পরিমার্জন করা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘সবাই মিলে করি কাজ’, তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)’, চতুর্থ শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘খলিফা হযরত ওমর (রা.), পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘বিদায় হজ’ ও ‘শহিদ তিতুমীর’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ে কবি গোলাম মোস্তফা রচিত ‘প্রার্থনা’ কবিতার পরিবর্তে কবি কাদের নওয়াজ রচিত ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাদ দেওয়া হয়েছে হুমায়ুন আজাদ রচিত ‘বই’ কবিতা।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল মান্নান জানান, ‘সবাই মিলে করি কাজ’ [হজরত মুহাম্মদ (সা.) জীবনচরিত), ‘খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)’, ‘খলিফা হযরত ওমর (রা.)’ শীর্ষক বিষয়গুলো বাংলা বইয়ে না থাকলেও ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বইয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ‘বিদায় হজ’ ও ‘শহিদ তিতুমীর’ শীর্ষক নিবন্ধ দুটি বাংলা বই থেকে বাদ পড়লেও বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইয়ে ছিল। এগুলো পাঠ্যক্রম থেকে বাদ পড়েনি।

ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা পাঠ্যপুস্তক চারুপাঠ থেকে এস ওয়াজেদ আলীর ‘রাঁচি ভ্রমণ’ বাদ পড়েছে। যুক্ত হয়েছে সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’। সানাউল হকের কবিতা ‘সভা’ বাদ পড়েছে, যুক্ত হয়েছে জসীমউদ্দীনের ‘আসমানী’। আনন্দপাঠ থেকে বাদ পড়েছে সত্যেন সেনের গল্প ‘লাল গরুটা’, যুক্ত হয়েছে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র ‘সততার পুরস্কার’। এনসিসিসি সভার সিদ্ধান্তে ভ্রমণ কাহিনী ও গল্পের পরিবর্তন হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কবিতার পরিবর্তন হয়েছে ট্রাই-আউট রিপোর্ট ও বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে।

সপ্তম শ্রেণির বাংলা বই সপ্তবর্ণার গদ্যে হাবীবুল্লাহ বাহারের ‘মরু ভাস্কর’ যুক্ত হয়েছে এবং দ্রুতপঠন আনন্দপাঠ বই থেকে শরত্চন্দ্রের ‘লালু’ বাদ পড়েছে এনসিসিসি সভার সিদ্ধান্তে।

অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা থেকে কাজী নজরুল ইসলামের একটি গদ্য বাদ নিয়ে নতুন একটি যুক্ত হয়েছে ট্রাই-আউট রিপোর্ট ও বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশে। ট্রাই-আউট রিপোর্টের ভিত্তিতে তিনটি পদ্য বাদ পড়েছে। তার জায়গায় একটি পদ্য যুক্ত করা হয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে, কিন্তু দুটি পদ্য কায়কোবাদের ‘প্রার্থনা’ ও কালিদাশ রায়ের ‘বাবুরের মহত্ত্ব’ যুক্ত করা হয়েছে ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত এনসিসিসি সভার সিদ্ধান্তে। বাংলা দ্রুতপঠন আনন্দপাঠ থেকে উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর ‘রামায়ণ-কাহিনী’ (আদিকাণ্ড) বাদ পড়েছে।

নবম শ্রেণির বাংলা বই মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য থেকে একটি গদ্য ও পাঁচটি কবিতা বাদ পড়েছে এবং পাঁচটি কবিতা যুক্ত হয়েছে এনসিসিসি সভার সিদ্ধান্তে। বাদ পড়া ভ্রমণ কাহিনীটি হচ্ছে সজীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পালামৌ’ এবং কবিতা হচ্ছে জ্ঞানদাসের ‘সুখের লাগিয়া’, ভারতচন্দ্রের ‘আমার সন্তান’, লালন শাহর ‘সময় গেলে সাধন হবে না’, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘স্বাধীনতা’ ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সাঁকোটা দুলছে’। যুক্ত হয়েছে শাহ মোহাম্মদ সগীরের ‘বন্দনা’, আলাওলের ‘হাম্দ’, আব্দুল হাকিমের ‘বঙ্গবাণী’, গোলাম মোস্তফার ‘জীবন বিনিময়’ ও কাজী নজরুল ইসলামের ‘উমর-ফারুক’।

নবম শ্রেণির বইয়ে মোতাহার হোসেন চৌধুরীর প্রবন্ধ ‘লাইব্রেরি’ ও সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘মে দিবসের কবিতা’ যুক্ত হয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশে। এই দুটি লেখা আগে সপ্তম শ্রেণির বইয়ে ছিল। এ ছাড়া রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ‘খতিয়ান’ কবিতার পরিবর্তে ‘মিছিল’ যুক্ত হয়েছে।

গত বছরের ৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় নেতাদের এক যৌথ বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। ওই বিবৃতিতে পাঠ্যপুস্তকের বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে যে ১৭টি গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধের তালিকা প্রকাশ করা হয় তার সবই ২০১৭ সালের বইয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে যে ১২টি গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ-নিবন্ধকে নাস্তিক্যবাদী ও হিন্দুত্ববাদী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয় তার সব কটিই বাদ দেওয়া হয়েছে।“

এই ব্যাপারে ব্যাপক উতসাহ দেখা দিয়েছে হেফাজতী মহলে। পরম সন্তোষ প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও প্রতিবাদের পর শেষতক সরকারের নীতিনির্ধারকরা যে বিষয়টির গুরুত্ব ও নাজুকতা উপলব্ধি করতে পেরেছেন এ জন্য আমরা তাঁদের সাধুবাদ জানাই। ’

এদিকে আবার এই সংক্রান্ত নিউজ প্রকাশকারীদের চিহ্নিত করারও আহবান জানিয়েছেন তিনি যা প্রকারন্তরে হুমকীরই নামান্তর। একটি আধুনিক সভ্য রাষ্ট্রে যা পুরোপুরি অকল্পনীয়। কিন্তু সব সম্ভবের বাংলাদেশে তাও দেখতে হয়েছে দূর্ভাগা দেশবাসীর।

পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তন নিয়ে সংবাদ প্রকাশকারীদের চিহ্নিত করার আহ্বান চরমোনাই পীরের (দেখতে ক্লিক করুন)

এদিকে আবার স্যাকুলার আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠন হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়া ওলামালীগ আবার দাবী তুলেছে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ন্যায়বিচারের প্রতীক বলে পরিচিত গ্রীক দেবী থেমিসের ভাষ্কর্য সরিয়ে নেয়ার দাবীও তুলেছে। যদিও আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্রের কোথাও অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন হিসেবে নাম নেই দলটির।

সুপ্রিম কোর্ট ভাষ্কর্য সরানোর হুমকি ( খবরটি দেখতে ক্লিক করুন)

এভাবে একের পর এক সফলতা পেতে পেতে দিন দিন এক ভয়ঙ্কর ফ্রাঙ্কেস্টাইনে পরিণত হচ্ছে এরা। হয়তো এরপর একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপরাজেয় বাংলা বা রাজু ভাষ্কর্য ও সরিয়ে ফেলার দাবী তুলতে পারে এরা ধর্মীয় অনুভূতির জুজু তুলে। কারণ এগুলো দেখেই একজন নবীন শিক্ষার্থী জানতে চাইবে একাত্তরের রক্তভেজা ইতিহাস।

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েও ধর্ম রক্ষার জুজু তুলে খুন ,ধর্ষণ আর লুটতরাজের রাজত্ব কায়েম করেছিলো রাজাকার আলবদররা। ১৬ই ডিসেম্বর তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে পড়েছিলো তাসের ঘরের মতোই। আর বিগত ৪৫ বছর ধরেই সেই জ্বালা বয়ে বেড়াচ্ছে তারা। আর তাই বিগত চারদশক ধরেই ধীরে ধীরে সুকৌশলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তারা প্রবেশ করিয়েছে ধর্মান্ধতা আর উগ্র সাম্প্রদায়িকতা।

আর সেই অপকৌশলের অংশ হিসেবেই টার্গেট করেছে এমাটির আবহমানকালের সংস্কৃতি , সঙ্গীত , শিল্পকলা , সাহিত্য সবকিছুকেই। আর ভাষ্কর্যতো তাদের অনেক পুরনো টার্গেট। একারণেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পূজার প্রতীমা থেকে শুরু করে বিমানবন্দরের লালন ফকিরের ভাষ্কর্য পর্যন্ত সবকিছুই তাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাড়ায় প্রতিনিয়ত।

অবাক হবোনা , যদি কিছুদিন পরে শহীদ মিনার বা জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত ধর্মীয় অনুভূতির অজুহাত দেখিয়ে ধ্বংস করে ফেলার দাবী তোলেন তারা কোনদিন। আর জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করার দাবীতো তাদের অনেক পুরনোই। কারণ এই "আমার সোনার বাংলা " একদিন মুছে দিয়েছিলো তাদের সাধের "পাক সার জমিন সাদ বাদ" সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এভাবেই ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে প্রাণপণে চেস্টা করা হচ্ছে পাকিস্তানবাদ পুনঃপ্রবর্তনের্। শুরু হয়ে গেছে উল্টো পথে যাত্রার এক মসিলিপ্ত পথচলা।

৩০ লক্ষ শহীদের এক নদী রক্তের বিনিময়ে কেনা গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরেপেক্ষতা আর সমাজতন্ত্রের মুলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে পাকিস্তানের নাগপাশ থেকে বেরিয়ে আসা আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ কি তবে আরেকটি অপপাকিস্তান , হুমায়ুন আজাদের ভাষায় বাঙলাস্তান হওয়ার পথেই কি এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত?

প্রশ্নটি আপনাদের কাছেই রইলো…………………………………………।।

মন্তব্যসমূহ

পৃথু স্যন্যাল এর ছবি
 

দেশ পাকিস্তান হবার আর কি বাকী আছে? হয়ে তো গেছেই অলরেডি।

*************************************
আমি কারো দেখানো পথে চলি না।
আমার ইচ্ছে মত পথের তৈরী করি।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

 

নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

Facebook comments

বোর্ডিং কার্ড

রাজেশ পাল
রাজেশ পাল এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 21 ঘন্টা ago
Joined: বুধবার, অক্টোবর 22, 2014 - 2:54পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর