নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • পৃথু স্যন্যাল
  • হাইয়ুম সরকার
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • তা ন ভী র .
  • কেএম শাওন
  • নুসরাত প্রিয়া
  • তথাগত
  • জুনায়েদ সিদ্দিক...
  • হান্টার দীপ
  • সাধু বাবা
  • বেকার_মানুষ
  • স্নেহেশ চক্রবর্তী
  • মহাবিশ্বের বাসিন্দা

আপনি এখানে

একহাজার একশো রাতের গল্পঃ নির্বাচন সরকার গণতন্ত্র


আপনি বই পড়তে, গান শুনতে, সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন। আমিও ভীষণ ভালোবাসি। শিল্পসংস্কৃতির প্রতি মানুষের তৃষ্ণা আদিম ও সার্বজনীন। কারণ মানুষের ভেতরে কমিউনিকেট করার আকাঙ্ক্ষা আছে। অন্যের ভেতরে নিজেকে আবিষ্কার করার আকাঙ্ক্ষাও আছে। শিল্পসংস্কৃতির নানা মাধ্যম মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষা মেটায়। প্রাচীন পুঁথিসাহিত্য থেকে আধুনিক বিশ্বসাহিত্য, অতীতের যাত্রাপালা থেকে বর্তমান থিয়েটার, মানুষের সাথে মানুষের কমিউনিকেট করার আকাঙ্খারই সাক্ষ্য।

কিন্তু শিল্পসাহিত্যের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জীবনে আছে। সেটা হচ্ছে রাজনীতি। হ্যাঁ, ঠিক পড়ছেন, রাজনীতি শিল্পসাহিত্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কবি, গায়ক, চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতাঅভিনেত্রীদেরকে আমরা ভালোবাসি। কিন্তু কবিতাগানচলচ্চিত্র আমাদের জীবন নির্ধারণ করে না। আমাদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করে রাজনীতি, হ্যাঁ, রাজনীতি।

কালকে শেখ মুজিবের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ছিলো। এই দিনগুলিতে ঢাকায় তীব্র যানযট দ্যাখা দেয়। কাল যারা ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন, টের পেয়েছেন। স্বীকার করেন, বা না করেন, টের পেয়েছেন। যিনি রাজনীতি নিয়ে ভাবিত নন, টের পেয়েছেন। আপনি রাজনীতি নিয়ে ভাবিত নাও হতে পারেন, কিন্তু, তাই বলে রাজনীতি আপনাকে ছাড়ছে না। আপনার চলাচল পর্যন্ত নির্ধারণ করছে এই রাজনীতি।

শিশু জিহাদ রাজনীতির র ও বুঝতো না। সে বাঁচে নি। সোহাগি জাহান তনু ব্যস্ত ছিলো শিল্পচর্চা নিয়ে। সে বাঁচে নি। বাবুল আক্তারের স্ত্রী কোনো রাজনীতিতে ছিলেন না। তিনিও বাঁচেন নি। আপনারা অনেকে যা নিয়ে মাথাও ঘামান না, তা আপনাদের জীবন মৃত্যুর সাথে সম্পর্কিত, কখনো এভাবে ভেবে দেখেছেন?

রাজনীতি কি সেটারও কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নাই। রাজনীতির কোনো ধরাবাঁধা সীমাও নির্ধারণ করা কঠিন। তবু একুশ শতকে, এখনো মোটা দাগে রাষ্ট্রক্ষমতায় কারা থাকবে এবং নির্ধারণ করবে কৃষিনীতি-শ্রমনীতি-শিক্ষানীতি থেকে অর্থনীতি-সমরনীতি-স্বরাষ্ট্রপররাষ্ট্রনীতি পর্যন্ত যাবতীয় বিষয় তার লড়াইকেই রাজনীতি শব্দটি দ্বারা নির্দেশ করা হয়ে থাকে। রাজনীতির এই সংজ্ঞা হয়তো ভবিষ্যতে পাল্টে যাবে। কিন্তু যতোদিন পর্যন্ত রাষ্ট্র নামক প্রতিষ্ঠানটি থাকছে, আমরা পছন্দ করি না বা করি, রাজনীতির এই সংজ্ঞাটি কার্যকর থাকবে। সময়ের সাথে তাতে যুক্ত হবে নানান উপাদান। কিন্তু কেন্দ্রে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার লড়াই-ই থাকবে।

রাষ্ট্রের আবির্ভাবের আগেও রাজ্য ছিলো, সাম্রাজ্য ছিলো। তখনও কিছু শাসক নির্ধারণ করতো শাসিতদের জীবন। কিন্তু সেই সময় শাসনের প্রায় পুরোটাই নির্ভর করতো দখলদারি এবং বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকারের ওপর। দখলদারি এখনো আছে। কিন্তু বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকার আধুনিক ভাবনার সাথে অচল। কারণ প্রাচীন এথেন্সে নগররাষ্ট্রের সীমিত পরিসরে যে-গণতান্ত্রিক চর্চা শুরু হয়েছিলো তা সময়ের পরিক্রমায় ও আধুনিক পুঁজিবাদ বিকাশের ফলে ও তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের নানামুখী চর্চার ভেতর দিয়ে আজ বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতম শাসনধারণা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসকদেরকে নির্বাচিত হতে হয়, অনির্বাচিত বা স্বনির্বাচিত হলে চলে না।

অবশ্যই গণতন্ত্র শুধুই নির্বাচনের মধ্যেই সীমিত নয়। বা নির্বাচিত হলেই শাসক গণতান্ত্রিক হয় না, বিশ্বপুঁজিবাদী ব্যবস্থার অধীনেও শ্রমিক-আদিবাসী-সংখ্যালঘু-নারীরা কতোটা অধিকার পাচ্ছে তা একেকটি রাষ্ট্রে মাত্রা নির্ধারণ করে গণতন্ত্রের। জার্মানির হিটলার, তুরস্কের এরদোগান, ইন্ডিয়ার মোদি নির্বাচিত। কিন্তু আমরা এদেরকে গণতান্ত্রিক শাসক ভাবি না। ভাবি ফ্যাশিস্ত শাসক। অর্থাৎ নির্বাচনের মাধ্যমে ফ্যাশিস্তরা ক্ষমতায় আসতে পারে। আসার সম্ভাবনা থাকে।

কিন্তু কথা আছে। অতীতে জার্মানি একটা ফ্যাশিস্ত শাসনব্যবস্থা পার করেছে। সেই দুঃখে তাঁরা কি নির্বাচনব্যবস্থা তুলে দিয়েছে? চোরের ওপর রাগ করে মাটিতে ভাত খেয়েছে? ফিরে গেছে সেই রাজা আর সম্রাটদের যুগে? জবাব হচ্ছে না। তুরস্ক আর ইন্ডিয়ার জনগণ নিপীড়ণ সইছেন, কিন্তু ফ্যাশিজমের বিরুদ্ধে তাঁরা গণতন্ত্রের জন্যই লড়াই করবেন, অটোমান খেলাফত বা মুঘল সাম্রাজ্য ফিরিয়ে আনার জন্য নয়।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি কি?

২০১৪র ৫ জানুয়ারিতে বাংলাদেশে যেটা হয়েছে, সেটা এমনকি কোনো খারাপ নির্বাচনও না, খারাপ নির্বাচনেরও একটা লিমিট থাকে। অইটা কোনো নির্বাচনই ছিলো না, তামাশা ছিলো। দৈনিক জনকণ্ঠ ছাড়া এই দেশের আর কোনো পত্রিকা অই নির্বাচনের ব্যাপারে ইতিবাচক প্রতিবেদন করেছে বলে জানা নেই।

পরিপূর্ণ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়তো এদেশে হয় নি। কখনোই হয় নি। কিন্তু ১৯৯০এর গণআন্দোলনে এরশাদ সরকারের পতনের পর থেকে ২০০৭এর ওয়ান ইলিভেন পর্যন্ত যেই নির্বাচনগুলো হয়েছে সেগুলো সকলের কাছেই মোটামুটি গ্রহণযোগ্য ছিলো। যখন যে হেরেছে, নিজেদের মজ্জাগত অভ্যাসের কারণে কখনো স্থূল আর কখনো সূক্ষ কারচুপির আজাইরা অভিযোগ এনেছে বিজয়ী পার্টির বিরুদ্ধে, কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ এটা মেনে নিয়েছিলো যে ন্যূনতম একটা মান প্রতিষ্ঠা হয়েছে নির্বাচনের ক্ষেত্রে। ওয়ান ইলিভেনের পরের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও কথাটা প্রযোজ্য। আমি ধারণাগতভাবে সমস্যাজনক তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার পক্ষে সাফাই গাচ্ছি না, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি নির্বাচনব্যবস্থার - সংবিধানেরও, কেনো, সেটা এই লেখায় প্রাসঙ্গিক নয় - আমূল সংস্কার ছাড়া এইদেশে দীর্ঘমেয়াদে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। কিন্তু কোনো নির্বাচনই না হওয়ার চেয়ে, বা নির্বাচনের নামে তামাশা হওয়ার চেয়ে, অই সমস্যাজনক ব্যবস্থার অধীনে হওয়া নির্বাচনগুলোও যে ভালো ছিলো এইটা বর্তমানে ক্ষমতাসীনদের গুনমুগ্ধ বা নির্লজ্জ সুবিধাবাদী ছাড়া যে-কারো স্বীকার করার কথা।

২০১৪র নির্বাচনের পক্ষে দুইটাই যুক্তি আছে সরকারের। চেতনা আর উন্নয়ন। আওয়ামি লিগ সরকার যদি ক্ষমতায় না আসে, তাহলে বিএনপি-জামাত আসবে, চেতনা বিপন্ন হবে আর উন্নয়ন হবেই না।

তিন বছরে চেতনার কি বিপুল 'বিকাশ' ঘটেছে তা সবাই নিজ চোখে দেখতে পাচ্ছেন আর উন্নয়নও তো দৃশ্যমানই। চেতনা চরমোনাই পর্যন্ত গেছে, উন্নয়ন গেছে রামপালরূপপুরবাঁশখালিবঙ্গোপসাগরে। নাসিরনগর আর গোবিন্দগঞ্জে অই দুটো একসাথে গেছে।

আজকে অনির্বাচিত আওয়ামি লিগ সরকারের ১১০০তম রাত। ১১০০ রাত একটা সরকার অনির্বাচিতভাবে ক্ষমতায় আছে। জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া একটা সরকার দেশ চালাচ্ছে। অথচ আমাদের পূর্বনারীপুরুষ আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে লড়েছে। লড়েছে এরশাদের বিরুদ্ধে। আমরা সেই দিনগুলো পরিণত করেছি স্রেফ আনুষ্ঠানিকতায়। যেমন খুশী তেমন সাজার এক নিরর্থক প্রতিযোগিতায়।

আপনি আমি আমরা, আমাদের অক্রিয়তায় নির্লিপ্ততায়, এই একুশ শতকে একটি অনির্বাচিত সরকারকে ১১০০ রাত ক্ষমতায় থাকতে দিয়েছি...

একহাজারএক রাতের চেয়ে আরো নিরানব্বই রাত বেশি।

বিভাগ: 

Comments

আলমগীর কবির এর ছবি
 

তবে ভাই গণতন্ত্র (প্রায়) কোন নির্বাচন প্রক্রিয়া নয়। গনতন্ত্র একটি রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থা।

আলমগীর কবির
একজন এ্যামেচার ব্লগার

 
রাখীর হাত এর ছবি
 

গণতন্ত্র এখন ঘনতন্ত্র হয়ে গেছে।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ইরফানুর রহমান রাফিন
ইরফানুর রহমান রাফিন এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 4 ঘন্টা ago
Joined: মঙ্গলবার, এপ্রিল 12, 2016 - 3:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর