নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • জংশন
  • বেহুলার ভেলা
  • রুদ্র মাহমুদ
  • রিক্ত রিপন
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • মাইনুদ্দীন স্বাধীন
  • বিপু পাল
  • মৌন
  • ইকবাল কবির
  • সানসাইন ১৯৭১
  • রসরাজ
  • বসন্ত পলাশ
  • মারুফ মোহাম্মদ বদরুল
  • রাজীব গান্ধী
  • রুবেল মজুমদার

আপনি এখানে

সপ্ত নরক হাবিয়া দোযখ


কুমিল্লা জেলার সদর উপজেলার কোতয়ালী থানাস্থ একটি এলাকার নাম ধর্মপুর। যারা কুমিল্লার স্থায়ী বাসিন্দা নন, তাদের কাছে নামটি শুনে মনে হবে আর পাঁচটা যায়গার মতো সাধারণ কোন যায়গা হবে।কেউ কেউ আবার যায়গার নাম ধর্মপুর শুনে ভাবতে পারেন, ‘নাম যেহেতু ধর্মপুর তাহলে যায়গাও নিশ্চয়ই ভালো হবে।’

কিন্তু কুমিল্লার যেকোন স্থায়ী বাসিন্দা বা বহু বছর ধরে কুমিল্লায় আছেন এমন কারো সামনে যদি ধর্মপুর নামটা উচ্চারণ করা যায়,তবে তিনি আৎকে উঠবেন। মুখ হয়ে যাবে ফ্যাকাসে। গায়ের সবকটা লোম যাবে দাড়িয়ে। এমনই লোমহর্ষক অধার্মিকতার স্থানের নাম কে যে ‘ধর্মপুর’ দিয়েছিলেন বড়ো জানতে ইচ্ছে করে। এই যায়গাকে কেউ কেউ ঠাট্টা করে ‘সপ্তনরক’ নামেও ডেকে থাকেন। কারণ, এমন কোন পাপাচার নেই যা এইখানে হয় না।

এখানে রয়েছে বিখ্যাত ‘কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ’ যা বাংলাদেশের পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের মধ্যে অন্যতম। জঙ্গলকে দূর থেকে দেখলে সকলেরই ভাল লাগে, কিন্তু কয়েকদিন জঙ্গলে বসবাস করলেই এর হিংস্র-ভয়ানক রূপটি চোখে পড়ে। তেমনিভাবে ধর্মপুরের আসল রূপটি এই স্থানে কয়েকদিন থাকলেই বেরিয়ে পড়বে। আর এখানের স্থানীয় বাসিন্দাদের কোন ভাবেই জঙ্গলের হিংস্র পশুদের চেয়ে কোন অংশে কম বলা যায় না।

এখানে যারা স্থানীয় তাদের অধিকাংশের বাস পূর্বপাড়া নামক স্থানে, যা স্থানীয়ভাবে ‘পূবপাড়া’ নামে পরিচিত। ধর্মপুর রেলগেট পেরোলেই এই পূর্বপাড়ার শুরু। এই পাড়ার প্রায় পুরোটাই বস্তি। আর এই পূর্বপাড়ার মানুষের অধিকাংশের পেশা চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অপহরণ, মাদক ও অস্ত্র ব্যাবসা।

কুমিল্লা জেলার চোর-ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্য ধর্মপুর। কুমিল্লা জেলায় যে পরিমান মাদক বিক্রি হয় তার ৯৫%ই আসে ধর্মপুরের এই বস্তি গুলো থেকে। তাছাড়া আগ্নেয়াস্ত্রের একটা বড় মার্কেট এই ধর্মপুর। প্রায় সব ধরণের অস্ত্রই এখানে পাওয়া যায়।

কথায় আছে, “মক্কার মানুষ পায় না হজ্জ।” এই প্রবাদটি যে কতটা সত্য তা কেবল মাত্র ধর্মপূরেই এলেই একজন মানুষ বুঝতে পারবে। কারণ এইখানে ‘ভিক্টোরিয়া কলেজে’ দূরদূরান্ত থেকে মানুষ পড়া শোনার জন্য আসে; কিন্তু এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় সবাই নিরক্ষর। অবশ্য নিরক্ষর তো হবেই।

কারো ঘরে যখন একটি শিশুর জন্ম হয় তখন শিশুটির বাবা ভাবেন, ‘আমার ছেলে বড় হয়ে একজন ভাল আদর্শ মানুষ হবে।’ তাই সন্তানকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা পিতার তখন থেকেই শুরু হয়।
কিন্তু ধর্মপুরের কোন স্থানীয় ব্যাক্তির ঘরে যখন কোন সন্তানের জন্ম হয়, তখন সেই ব্যাক্তি ভাবেন, ‘আমার ছেলে বড় হয়ে রঘু ডাকাত হবে।’ তাই তার হাতে কলম ধরানোর চেয়ে একটা পিস্তল ধরানোই শ্রেয় এখানকার স্থানীয় মানুষদের কাছে।

এবার মূল বিষয়ে আসা যাক, এখানে অবস্থিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ এর ‘কাজী নজরুল ইসলাম হল’ এর একটু সামনে এগিয়ে গেলেই যে স্থানটি পরে, সেখানে ভদ্রশ্রেণীর বাস।
প্রায় সবাই এখানে কোন না কোন স্থান থেকে এসে বাড়ি করেছেন। তাছাড়া ‘ভিক্টোরিয়া কলেজের’ অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা যারা দূর থেকে এসে পড়াশোনা করে, তারা এই বাড়িগুলোর কিছু অংশ ভাড়া নিয়ে মেস করে থাকেন।

তা হোক সে বাড়িওয়ালা বা ভাড়াটে, ধর্মপুরের স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ঝঞ্ঝাট পোহাতে হয় সবাইকেই। আমার জন্ম এই ভদ্র পাড়াতেই। ছোটবেলা থেকেই এসব দেখে আসছি। এখানে যখন কোন মানুষ যায়গা কিনে বাড়ি করার জন্য কাজ শুরু করে, তখন একদল সন্ত্রাসী এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। মালিককে বলে, “এখানে যে কাজ শুরু করেছেন, কার অনুমতি নিয়ে করেছেন? কিছু পয়সা ছাড়ুন। না হয় কাজ এক চুলও নড়বে না। এখানেই জ্যান্ত পুঁতে রেখে দেবো।” মালিক যদি রাজি হয় তো দাম হাকানো হয় এক লাখ থেকে দশ লাখের ভেতর। কখনো বা তার চেয়েও বেশি। টাকা দিয়ে মালিক মনে করেন, ‘যা বাবা, বাঁচা গেলো।’

কিন্তু একটুপর আসে আরেক গ্রুপ। বলে, “ওদের তো দিলেন। তা আমাদেরটাও দিন।” এভাবে একের পর এক আসতেই থাকে। মালিক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে আর এখানে থাকতে হয় না। রাতের আঁধারেই পরিবার নিয়ে পালিয়ে যেতে হয় অনেক দূরে। আর যদি ধরা পড়ে তবে প্রাণের আশা ছেড়ে দেয়াই ভালো।

সম্প্রতি নূর হোসেন নামক এক ব্যাক্তি যায়গা কিনে বাড়ির কাজ ধরেন। কাজ শুরু হতে না হতেই পিঁপড়া যেমন করে মধুর সন্ধান পেয়ে একে একে দল বেঁধে আসতে থাকে, তেমন করে সন্ত্রাস বাহিনীও একে একে আসতে থাকে। কয়েকটা গ্রুপকে চাঁদা দিয়ে বিদায় করা হয়। তবে শর্ত যতদিন কাজ চলবে প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা করে দিতে হবে। আর এর বাইরে প্রতিদিন দলের প্রত্যেক সদস্যকে সকালের নাস্তার জন্য ১০০ টাকা করে দিতে হবে। উল্লেখ্য এই সন্ত্রাসীদের প্রায় সকলের বয়সই ১৮ এর নিচে, কারো কারো বা ১৮ এর উপরে।

যাদের বাড়ি আছে তাদেরও নিস্তার নেই। পূর্বপাড়ার বখাটের দল যেকোন সময় যে কারো বাড়িতে ঢুকতে পারে। যে কারো ছাদের উঠে আড্ডা দিতে পারে। কেউ বাধা দিতে পারবে না। আর যদি কেউ বাধা দেয়, তার পরিণতি হয় করুণ। কাউকে যখন ঐ হিংস্র পশুগুলো রাস্তায় নিয়ে ছিড়ে টুকরো টুকরো করতে থাকে, তখন তার আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস কেঁপে উঠে। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসে না সাহায্যের জন্য। যারা রাস্তায় থাকে তারা বাড়িতে ঢুকে দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়। মানুষটা চিৎকার করে ঝাঁপিয়ে পড়ে কারো বাড়ির দরজার একটু আশ্রয়ের জন্য। তবে সবারই প্রাণের মায়া আছে; তাই দরজাটা বন্ধই রাখে। একটুপর চিৎকার থেমে যায়। মানুষগুলো আগের মতো যে যার কাজে চলে যায়। এমন ভাব যেন কিছুই হয় নি। কারণ এটাতো প্রায় নিয়মিত ঘটনা।

এখানে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া রাতের বেলা কেউ বেশি পরিমাণ টাকা বা দামি মোবাইল নিয়ে বের হয় না। আর যদি ঝুঁকি নিয়ে বেরও হয়, তবে তার খালি হাতে ফেরার সম্ভাবনা ৯৫%।

গত রমজানে ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র জিসান তার এক নিকটাত্মীয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে কিছু টাকা নিয়ে সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালে যাবে বলে বের হয়। পথে দোকানে তার বিকাশ একাউন্ট থেকে আরো কিছু টাকা নিয়ে নেয়। তার আত্মীয়ের জীবন-মরণ সমস্যা না হলে এই ঝুঁকিটা সে কোন দিন নিতো না। তবে কিছুদূর যাওয়ারপর এখানকার স্থানীয় সন্ত্রাসী বাবু তার দলবল নিয়ে পথেই তার জমানো টাকায় কেনা সখের মোবাইল আর টাকা গুলো রেখে দেয়। সন্ত্রাসীদের হাতে পায়ে ধরে, হাজার কাকুতি-মিনতি করেও কোন লাভ হয় নি। পরে খালি হাতেই হাসপাতালে যেতে হয় জিসানকে। তবে ততক্ষণে তার সেই নিকটাত্মীয় আর নেই। আজো সে তার আত্মীয়ের মৃত্যুর জন্য নিজেকেই দায়ী করে। অপরাধবোধ তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়।

আর তাছাড়া বখাটেদের উত্যক্তকরণ তো রয়েছেই। শুধু যে মেয়েরা উত্যক্ত হয় তা না, ছেলেদেরও উত্যক্ত করা হয়।

কিছুদিন আগে হাসান নামে একজন কলেজ ছাত্র দুপুরে মেস থেকে বেরিয়ে দোকানে যাচ্ছিল। পথে স্থানীয় এক বখাটে বলে, “ঐ যে সামনের বাড়ির জানালাটা দেখছিস, সেখানে টোকা দে।”
সে টোকা দেয়। এটা যে ছাত্রীদের মেস তা ছেলেটির জানা ছিল না।
একটু পর বখাটে রনি এসে বলে, “তোর তো সাহস কম না। তুই মেয়েদের মেসের জানালায় টোকা দিয়েছিস।”
“আমার জানা ছিল না এটা মেয়েদের মেস। তাছাড়া আপনারাই তো টোকা দেয়ার জন্য বললেন।”
“কী বললি হারামজাদা...” বলেই তারা কাঠ ও বাঁশ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছেলেটির ওপর। এক পর্যায়ে ইট দিয়ে তার মাথা থেতলে দিয়ে তার মোবাইল ও টাকা পয়সা সব নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্বপন, কালু, অপু, তপু, বাবু, রনি সহ ১০-১২ জন সন্ত্রাসী মেসে এসে ওই ছেলের রোমমেটদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে।

তাছাড়া এই বখাটেরা দিনে দুপুরে জনসম্মুখে মেয়েদের উত্যক্ত করে। মেয়েরা আসা যাওয়ার পথে বাজে মন্তব্য তো করেই; মেয়েদের গায়ের ওড়না কেড়ে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাতও দেয়। কিন্তু তাদের সব নির্যাতন মুখ বুজে মেনে নেয়া ছাড়া আর কিছুই থাকে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী জানায়, বখাটে রনি তাকে আসা যাওয়ার পথে খুবই উত্যক্ত করে। তাকে জোর করে রাস্তায় দাড় করিয়ে তার সাথে কথা বলে। আর তার মোবাইলে ফোন দিয়ে মানসিক অত্যাচার তো চলতেই থাকে।

উল্লেখ্য, গত তিন চার বছরে একাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এই স্থানে। তবে অধিকাংশ নির্যাতিতাই প্রাণের ভয়ে হোক বা লজ্জায়ই হোক বিষয়টি গোপন রেখেছে। অনেকেই দূরে কোথাও চলে গেছে।

এই ঘটনাগুলো প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে এখানে। কিন্তু প্রাণের ভয়ে প্রতিবাদ করা তো দূরে থাক কেউ মুখও খোলে না। যার ফলে ঘটনা গুলো ধর্মপুরের গণ্ডিতেই থাকে, এর বাইরে যায় না।

এভাবে কত ঘটনা যে হারিয়ে গেছে অন্ধকারে কেউ কি জানে? এই ঘটনাগুলোর কোনটাই মিডিয়ার সামনে আসে নি। কেউ আইনের আশ্রয়ও চায় নি। কারণ, তারা জেনেগেছে আইনের আশ্রয় চেয়েও লাভ নেই। ক্ষমতাসীন দলের লোক বলে কথা! পশুগুলো ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় স্থানীয় অসাধু নেতার অধিনে থাকার ফলেই আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে গ্রেফতারের কয়েক দিনের ভেতরই বেরিয়ে আসে। এমন কি কয়েক জন খুনের আসামীও সম্প্রতি মাত্র এক বছর জেলে থেকে বেড়িয়ে এসেছে।

তবে এই বছরের পর বছর ধরে চলে আসা অন্যায় অন্য মানুষরা মুখ বুজে সহ্য করতে পারলেও আমি পারিনি। প্রতিবাদ করেছিলাম। আর তার ফলও পেয়েছি।

তখন আমি নবম শ্রেণীর ছাত্র । একদিন স্কুল থেকে দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে দেখলাম গলির মুখে কিছু বখাটে চাদর গায়ে দাঁড়িয়ে আছে। মনে একটু খটকা লাগলো। এখনো তো শীত পুরোপুরি আসে নি; তাহলে এই গরমের দুপুরে চাদর গায়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার মানে কি? একটুপরই পুরো বিষয়টা খোলসা হয়ে গেলো। তারা গায়ের চাদর ফেলে দিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে এলোপাথারি গুলি চালানো শুরু করলো। আমি সাথে সাথে মাটিতে শুয়ে পড়লাম। একটা গুলি আমার বা হাত ঘেঁষে চলে গেলো। ভাগ্যিস সেদিন আমার কয়েকজন বন্ধু অল্প কিছু দূরেই দাঁড়িয়ে ছিল। না হয় সেদিনই হতো আমার জীবনের শেষ দিন।

এরপর যখন থানায় গিয়ে আইনের আশ্রয় চাইলাম দারোগা বাবু মুখের উপর বলে দিলেন, “এখানে কিছু হবে না। আপনারা আসতে পারেন।”

এরপর কয়েকমাস এদিক-ওদিক পালিয়ে পালিয়ে বেড়ালাম। তবে এভাবে আর কতদিন থাকা যায়। তাই একসময় বাড়িতে ফিরে আসতে হলো তবে সব সময়ই ভয়, কখন যে কি হয়। তাই বাড়ির গেটে দুজন দারোয়ান বসানো হলো। তবুও নিস্তার নেই। কারণ, সন্ত্রাসীরাতো সারাদিন ধর্মপুরের রাস্তা গুলোতেই দাঁড়িয়ে থাকে। তাই পুরো একটি বছর আমি প্রায় গৃহবন্দী হয়েই ছিলাম।

মাসে-দুমাসে যখনই আমার বাইরে যাওয়ার খুব প্রয়োজন হতো, তখন আগের দিনই দারোয়ানদের বলে রাখতাম। তারা সারাদিন এলাকার রাস্তা গুলোতে নজর রাখতো। যখনই দেখতো রোড ক্লিয়ার, রাস্তায় কেউ নেই; তখনই দূর থেকে আমাকে সংকেত দিত। আর আমি প্রাণটা হাতে নিয়ে তাড়াতাড়ি এলাকা অতিক্রম করতাম। তবে এভাবেই বা আর কদিন চলা যায়। কোন অপরাধ না করেও কিছু অপরাধীর ভয়ে কেনো আমি পালিয়ে পালিয়ে বেড়াব? তাই, প্রকাশেই আমি চলা শুরু করলাম। অবশ্য এরপর আরো দুবার আমার উপর হামলা হয়েছে।

অবশ্য হওয়াটাই স্বাভাবিক। যেখানে ভিক্টোরিয়া কলেজের জাঁদরেল ছাত্রলীগ নেতারাই কিছুদিন পরপর হামলার শিকার হয়, সেখানে আমি কোথাকার কোন কেউকেটা।

আজ আমি আমার এই লেখার মাধ্যমে বহু বছরের চাপা পড়া সহস্র ঘটনাগুলো থেকে কিছু সত্য তুলে ধরলাম। জানি, তারা ব্যাপারটা জেনে যাবে এবং আমায় ঠিকই চিনে ফেলবে।
এরপর হয়তো কোন এক সকালে আমার ধর থেকে আলাদা করা কাটা মুণ্ডুটা কোন এক সকালে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যাবে।

তবে এ মৃত্যুতে আমার দুঃখ নয়, বরং একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে গর্ব হবে। আমার পূর্বপুরুষরাতো এদেশের মানুষের অধিকারের জন্য পাক-বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে জীবন দিয়েছে। আমি না হয় এই স্বাধীন দেশের কিছু মানুষকে সন্ত্রাসীদের পরাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য প্রতিবাদ করে জীবন দিলাম।

হয়ত আমার ছিন্ন-ভিন্ন দেহটার কোন জানাজাও হবে না। কারণ সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ তো আর জানাজায় আসবে না। আমি হয়ত বা মরে যাবো, তবে আমার মৃত্যু থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কেউ না হয়ত বা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবে।
তবে মনে হয় না তুলবে, কারণ যেই জাতির জনগণ মেরুদন্ডহীন হয়ে পড়েছে তাদের কাছ থেকে কোন দিন প্রতিবাদ আশা করা যায় না।

বিভাগ: 

মন্তব্যসমূহ

নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

Facebook comments

বোর্ডিং কার্ড

জোহেব শাহরিয়ার
জোহেব শাহরিয়ার এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 2 weeks ago
Joined: শনিবার, ডিসেম্বর 17, 2016 - 8:14পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর