নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 9 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • আমি অথবা অন্য কেউ
  • ইকারাস
  • দুরের পাখি
  • দীপঙ্কর বেরা
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • ফারুক
  • রাফিন জয়
  • রাহাত মুস্তাফিজ
  • পৃথু স্যন্যাল

নতুন যাত্রী

  • রবিঊল
  • কৌতুহলি
  • সামীর এস
  • আতিক ইভ
  • সোহাগ
  • রাতুল শাহ
  • অর্ধ
  • বেলায়েত হোসাইন
  • অজন্তা দেব রায়
  • তানভীর রহমান

আপনি এখানে

‘বাম ঐক্যের’ অভাব নয়, অভাবটা আপোসহীন দৃষ্টিভঙ্গির


উপমহাদেশে আজ পর্যন্ত বিপ্লব হয় নাই কেনো?

অনেকের মতো আমাকেও এই প্রশ্নটি তাড়িত করে। আমি অসংখ্যবার এই প্রশ্নটা করেছি বিভিন্ন মানুষকে। উল্লেখযোগ্য অংশের একটা মুখস্ত রাখা উত্তর আছে, “বামপন্থীরা বিভক্ত, তাই বিপ্লব হয় না।” এই উত্তরদাতাদের ভেতর বামপন্থী আছেন, অবামপন্থীও আছেন। আছেন এমনকি বামবিরোধীও। এখানে একটি পূর্বানুমান কাজ করে, জনগণ বিপ্লবের জন্য মুখিয়ে আছে, বামপন্থীরা এক হয়ে ডাক দিলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে। এই অনুমানটি থেকেই সাধারণত সিদ্ধান্ত টানা হয়।

অনুমানটি, একটু চিন্তা করলেই বুঝবেন, সঠিক নয়। বিপ্লব কনসার্ট না। ইচ্ছা করলেই বিপ্লব ‘আয়োজন’ করা যায় না। ফরাশি বিপ্লব হয়েছে ১৭৮৯এ, রুশ বিপ্লব ১৯১৭এ, চীন বিপ্লব হয়েছে ১৯১১তে ও ১৯৪৯এ। অথচ ফ্রান্স, রাশিয়া, চীনের সামন্ত-আভিজাত্যবাদী রাজা জার প্রমুখেরা তো দীর্ঘদিন ধরেই এইসব দেশের জনগণকে শোষণ-নিপীড়ণ করে এসেছে। ফ্রান্সের ক্ষেত্রে শুধু সামন্ত-আভিজাত্যবাদী শাসকরা জনগণের মুক্তির শত্রু হলেও পরবর্তীতে পৃথিবীর বিকাশধারায় রাশিয়া ও চীনের ক্ষেত্রে শোষক-নিপীড়কের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ইয়োরোপীয় উপনিবেশবাদী-পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদীদের নামও। এবং সেই শোষণ-নিপীড়ণের বিরুদ্ধে লড়াইও চলেছে দীর্ঘদিন, জনগণ জিতেছে সাময়িকভাবে, কিন্তু সেই জয় ধরে রাখা যায় নি। সংগ্রাম, জয়, পরাজয়, আবার সংগ্রাম, জয়, পরাজয়। ফ্রম ডিফিট টু ডিফিট টু আল্টিমেট ভিক্টোরি। এভাবে একটা সময় জনগণের সংগ্রাম পরিণতি পেয়েছে। আবার প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ না হলে ১৯১৭তে রাশিয়ায় ও ১৯৪৯এ চীনে আদৌ কোনো বিপ্লব হত কিনা সেটা নিয়েও সন্দেহপোষণের অবকাশ আছে। ইওরোপে যেমন ফ্যাসিবাদের উত্থান ইতিহাসের এক অদ্ভূত প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোকে দুর্বল করেছে এবং উপনিবেশগুলোকে অন্তত প্রত্যক্ষ উপনিবেশবাদ থেকে মুক্ত হতে নিজের অজান্তেই – এবং অনিচ্ছাতেই - সাহায্য করেছে। অর্থাৎ আমরা কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপে থাকি না। দুনিয়া আন্তঃসম্পর্কিত হওয়ায় এক দেশে কি হচ্ছে না হচ্ছে তা কোনো-না-কোনোভাবে অন্য দেশকে প্রভাবিত করে। সেই প্রভাব ইতিবাচকই হোক আর নেতিবাচকই হোক। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নামে আস্ত একটি বিদ্যায়তনিক বিভাগ আছেই এই আন্তঃসম্পর্ক অধ্যয়ন করার জন্য। ফলে আমরা বলতে পারি, একটি দেশে বিপ্লব হওয়া না হওয়ার পেছনে স্থানীয় ও বৈশ্বিক বহু জটিল কারণ কাজ করে, ইচ্ছে করলেই হঠাৎ করে বিপ্লব করা যায় না।

তবু কথা থাকে। ভারতবর্ষ আর চীন মোটামুটি একই অবস্থায় ছিলো, উভয় দেশেই কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাও কাছাকাছি সময়, তাহলে দুই দেশের যাত্রাপথ ভিন্ন হলো কেনো? এই প্রশ্নের উত্তরও দেয়া হয় পূর্বানুমান থেকে। ষাটের দশকে মস্কো পিকিং মতাদর্শিক মতাবিতর্কের জের ধরে সেই যে কমিউনিস্টরা বিভক্ত হয়ে গেলো, এই কারণেই নাকি ইন্ডিয়া-পাকিস্তান-বাংলাদেশে বিপ্লব হল না। কিন্তু ইতিহাস কি ষাটের দশকে শুরু হয়েছে? ভারতবর্ষে তো চীনের মতোই বিশের দশকেই বামপন্থী রাজনীতি কমিউনিস্ট পার্টি গঠনের মাধ্যমে শুরু হয়, তাহলে, ভারতবর্ষে কেনো ১৯৪৯এর চীন বিপ্লবের মতো কিছু না ঘটে ১৯৪৭এর পার্টিশন ঘটলো? এই প্রশ্ন করলেই কবি নীরব হয়ে যান।

অবিভক্ত ভারতবর্ষের মতো ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট পার্টিও অখণ্ড ছিলো ১৯৪৭এ ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগ পর্যন্ত। আমাদের তাই ১৯২০ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত সাতাশ বছর কমিউনিস্ট রাজনীতি কোন পথে এগোলো সেটা একটু দ্যাখা দরকার। কয়েকটি উদাহরণ দেয়া যাক ইতিহাসের পাতা থেকে।

বিস্তারিত বিশ্লেষণে যাবো না, স্রেফ ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাবো, আভাস পাওয়ার জন্য যতোটা যথেষ্ট।

প্রথমে স্থানীয় নীতিতেঃ

ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট পার্টি ভারতবর্ষে গঠিত হয় নাই। গঠিত হয়েছে তৎকালীন উজবেকিস্তান সোভিয়েত সোশালিস্ট রিপাবলিকে। তাশখন্দে, তারিখটি ছিলো, ১৯২০ সালের ১৭ অক্টোবর। (মুনীর মোরশেদ, ‘সর্বভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিঃ ভ্রান্ত তত্ত্বের অসারতা, নিরস্ত্র আয়েশী লাইন ও নেতিবাদী ইতিহাস (১৯২০-১৯৬৬)’, সিরাজ সিকদার ও পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি, ১৯৬৭-১৯৯২, ঢাকাঃঘাস ফুল নদী, ১৯৯৫ পৃষ্ঠা ১)

পার্টি শুরু থেকেই কংগ্রেসের প্রতি মোহগ্রস্ত ছিলো, সাধারণ কর্মীদের কংগ্রেসের সাথে বিরোধ থাকলেও, নেতাদের ছিলো সখ্য। সেটা যে কতোদূর ছিলো, তার পাথুরে প্রমাণ পাওয়া যায় পি সি যোশীর বক্তব্যে, ১৯৪৪এ সিপিআই-এর এই সাধারণ সম্পাদক কংগ্রেসের নেতাদেরকে কমিউনিস্ট নেতাদের ‘রাজনৈতিক পিতা’ বলেছিলেন, তিনি এও বলেছিলেন সিপিআইএর কমরেডরা হচ্ছে ‘কমিউনিস্ট কংগ্রেসি’। ‘রাজনৈতিক পিতা’ খোঁজার আকাঙ্ক্ষা উপমহাদেশে পরিচিত প্রবণতা, দুর্ভাগ্যবশত, এই পিতৃতান্ত্রিক প্রবণতাটি পাচ্ছি এমন এক ব্যক্তির জবানে যিনি একটি কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। (সুনীতি কুমার ঘোষ, ‘ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলন- বিভাজন ও মতাদর্শিক বিষয়গুলো’, নকশালবাড়িঃ একটি মূল্যায়ন, কলকাতাঃপিবিএস, ২০১০, পৃষ্ঠা ৯২)

অবিশ্বাস্য শোনাবে আজকে, কিন্তু অবিভক্ত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মুসলিম লীগের পাকিস্তান দাবিকেও একপ্রকারে সমর্থন করেছিলো, কারণ অই বছরগুলোতে তাঁরা মুসলমানদেরকে সম্প্রদায় হিসেবে না দেখে দেখছিলো জাতি হিসেবে। তাঁদের এই ভ্রান্ত নীতি কার্যকর ছিলো ১৯৪২ থেকে, ১৯৪৬এর শুরুতে তাঁরা ভুল সংশোধন করে, এবং ১৯৪৭এর মে’তে সিপিআইএর বঙ্গীয় প্রাদেশিক কমিটি বাংলা ভাগের বিরুদ্ধে প্রস্তাব গ্রহণ করে। ততোদিন সর্বনাশ যা ঘটার তা ঘটে গেছে। (সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ‘জাতীয়তাবাদের ধারণা ও প্রবণতা’, জাতীয়তাবাদ সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি, ঢাকাঃসংহতি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ৩৯)

এরপর বৈশ্বিক নীতিতেঃ

“নেতাদের বললাম, “এতদিন ব্রিটিশের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা বলেছেন, কিন্তু আজ যখন ব্রিটিশকে বাগে পাওয়া গেছে, তখন আপনারাই আবার সুর বদলে বলছেন, ব্রিটিশকে সাহায্য করো। এ আপনাদের কেমন ধারা নীতি? নেতারা এই বলে বোঝালেন, “ব্রিটিশ আমাদের শত্রু, একথা মানি, কিন্তু দেশটাতো আমাদের। তাই আগে দেশ রক্ষা করো, তারপর ব্রিটিশ তাড়ানোর কথা ভাবা যাবে।” নেতাদের এ ধরণের কথায় আমাদের মনে খটকা লাগলো। কেননা, এর আগে নেতাদের মুখে শুনেছি ‘প্রলেতারিয়ান পাথ’ নীতির কথা। যার মূল কথা, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম করা, বড় বড় কলকারখানায় ধর্মঘট করা, থানা ও সেনা শিবির ধবংস করা, এবং শহর গ্রামে প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী গঠন করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অচল করে দেয়া। ... দলে দলে শ্রমিকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে বহু পার্টি কর্মীকে। শেষ পর্যন্ত পার্টিকে বেআইনী পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ আজ নেতাদের মুখে এই ভিন্ন সুর কেনো? ... কারণ অবশ্যই ছিলো। তারিখটা ছিলো বোধ হয় ১৯৪১ সালের ২২ জুন। হঠাৎ করে ফ্যাসিস্ট হিটলার আক্রমণ করে বসলো সমাজতন্ত্রের সূতিকাগার সোভিয়েত রাশিয়া। আর সে প্রেক্ষাপটেই কমিউনিস্ট পার্টি তার নীতি পাল্টাতে বাধ্য হয়েছিলো। ... কমিউনিস্ট নেতৃবৃন্দ জেল থেকে প্রকাশ করলেন একটি ‘ইশতেহার’। তাতে বলা হল, “বিপ্লবের কেন্দ্রভূমি রাশিয়া আক্রান্ত, সুতরাং এ যুদ্ধ ‘জনযুদ্ধ’, যে করেই হোক সর্বশক্তি দিয়ে হিটলারকে রুখতে হবে। তার জন্যই আজ ব্রিটিশের সাথে সহযোগিতা প্রয়োজন।” (জসীমউদ্দিন মণ্ডল, ‘জীবনের রেলগাড়ি’, ঢাকাঃজাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী, ২০১২, পৃষ্ঠা ৩১)

ফ্যাসিস্ট হিটলার রাশিয়া আক্রমণ করলে ভারতবর্ষের কমিউনিস্টরা কেনো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বদলে তার সাথে সহযোগিতার লাইন নেবেন সেটা বোঝা মুশকিল। রাশিয়া না হয় বিপ্লব ও গৃহযুদ্ধের ভেতর দিয়ে গেছে, তাই ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে তার ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সাথে কৌশলগত সহায়তা ছাড়া উপায় ছিলো না, কিন্তু ভারতবর্ষের পরিস্থিতি তো ভিন্ন।

এই সমস্যাগুলো চোখ এড়ায় নি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের।

“কংগ্রেসের প্রগতিশীল অংশের নেতা বলে পরিচিত তখন জওয়াহরলাল নেহরু। ভারতীয় রাজনীতির হ্যামলেট এলাহাবাদের এই রাজপুত্র সমাজতন্ত্রের আবেগে মাতোয়ারা, আবার যথাসময়ে গান্ধীর সামন্ত চরণপ্রান্তে নতমুণ্ডু। তাঁর সমাজবাদের বুলিতে কমিউনিস্টরা অভিভূত। ওদিকে ফ্যাসিবাদ—বিরোধিতার নাম করে ইংরেজবিরোধিতা স্থগিত রাখার জন্য কমিউনিস্টদের সিদ্ধান্ত কি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য? সোভিয়েত ইউনিয়ন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের প্রধান শত্রুকে রেয়াত দেওয়া কি আন্তর্জাতিকতাবাদের বিলাসিতা ভোগ করা নয়? এই বিলাসিতা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোষায় না। তাঁর উপন্যাসের একটি চরিত্র কমিউনিস্টদের ঐ মনোভাবকে ধিক্কার দেয় ‘রুশপনা’ বলে। ... দেখতে দেখতে শ্রেণীসংগ্রামকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠল কেবলই ভালো সমাজগড়ার নিরাপদ বাসনা। সেখানে কে না ছিলেন? গান্ধির অহিংস ও হিংস্র অনুসারী, তাঁর হিংসুটে বিরোধী লোকজন, মুসলিম লীগের অপেক্ষাকৃত উদার অংশের সঙ্গে জুটেছিলেন ঐ সংগঠনের জেহাদি ও তৌহিদি সমর্থকগণ। এটা তখনকার কমিউনিস্ট নেতৃত্বের মনোভাবেরই প্রতিফলন। জওয়াহরলালের প্রকৃতিতে সমাজবাদের উপাদান পাওয়া, পাকিস্তান দাবিতে নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা আবিষ্কার করা – সব কি ঘোরতর স্ববিরোধিতা নয়?” (আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাগী চোখের স্বপ্ন’, সংস্কৃতির ভাঙা সেতু, ঢাকাঃ মাওলা ব্রাদার্স, ১৯৯৮, পৃষ্ঠা ৬৭)

বামপন্থীদের এই সব স্ববিরোধিতার একটা কারণ চিহ্নিত করেছেন ইলিয়াস, অই একই প্রবন্ধে, যদিও তিক্ত সত্য বলে তা আমাদের অনেকেরই শুনতে ভালো লাগবে না। “ওটাও ভালো, এটাও ভালো, ‘সস্তা ভালো, দামিও ভালো, তুমিও ভালো, আমিও ভালো’- সবাইকে ভালো ভাবার জন্য হন্যে হয়ে ওঠে যারা তাদের জন্য ‘সবার চাইতে ভালো পাউরুটি আর ঝোলাগুড়’- এই সহাবস্থানের ইচ্ছার উৎস হল দায়িত্বকে ঝামেলা ভেবে তাই এড়াবার প্রবণতা। এইসব মিষ্টি মিষ্টি ভালোবাসার কারণ হল সমাজতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেও বিপ্লবের ধাক্কা থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে থাকার লোভ।” (ঐ) আন্দোলন করতে খুব মজা, আপনার আমার সবারই করতে ভালো লাগে তা কখনোসখনো, কিন্তু যেই আন্দোলন গতিপ্রাপ্ত হয়ে এক সময় বিপ্লবে রূপ নিতে পারে তাতে বড়ো ভয় লাগে। কারণ তাতে মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকে আসা বামপন্থীদের নিরাপদ সামাজিক অবস্থানটা নড়ে যেতে পারে। শেকল ছাড়া হারানোর কিছু নেই স্রেফ প্রলেতারিয়াতের। আমরা যারা প্রলেতারিয়াত না, বুর্জোয়া না হলেও বিরাজমান সামন্ত-উপনিবেশিক ব্যবস্থায় অন্তত শ্রমিক কৃষকের তুলনায় আমরা টুকটাক যা সুযোগসুবিধা পাচ্ছি, বিপ্লবের প্রথম ধাক্কায় তাঁর অনেককিছুই হারানোর ভয় আছে।

রাশিয়া থেকে চীন পর্যন্ত যে-সব দেশে বিপ্লব হয়েছে, সেখানে কৃষকশ্রমিকের শত বছরের সংগ্রামের গতিপ্রাপ্তির পাশাপাশি সত্যিকার অর্থে আন্তরিক মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকে আসা বিপ্লবীদের অবদানও আছে, যারা জানতেন, বিপ্লব হলে তাদের জীবনও বদলে যাবে। এটা জেনেও তাঁরা পিছপা হন নি, শাসকদের সাথে আপোস করেন নি, এবং অই দেশগুলোতে পার্টি নেতৃত্বেও মোটা দাগে এই লোকেরাই ছিলেন। উপমহাদেশের ইতিহাস বলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের এখানে কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা এই ঝুঁকি নেয়ার প্রশ্নে তো তো করেছেন। যারা নিয়েছেন তাঁদেরকে শাসকরা শেষ করে দিয়েছে। যেমন কমরেডস চারু মজুমদার, বা সিরাজ সিকদার। তাঁদের পথ ও পদ্ধতি নিয়ে যতো সমালোচনাই থাকুক, জনমুক্তির ব্যাপারে তাঁদের এই আপোসহীন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতেই হবে, এবং এ’ধরণের মানুষজনকেই বিরাজমান বামপন্থী পার্টিগুলোর নেতৃত্বে আসতে হবে বা নতুন পার্টিনেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। কথিত বাম ঐক্যের চেয়ে এটা অনেক বেশি জরুরী।

বিভাগ: 

মন্তব্যসমূহ

নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ইরফানুর রহমান রাফিন
ইরফানুর রহমান রাফিন এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 2 দিন ago
Joined: মঙ্গলবার, এপ্রিল 12, 2016 - 9:38পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর