নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • শহরের পথচারী
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • অলীক আনন্দ
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • তা ন ভী র .
  • কেএম শাওন
  • নুসরাত প্রিয়া
  • তথাগত
  • জুনায়েদ সিদ্দিক...
  • হান্টার দীপ
  • সাধু বাবা
  • বেকার_মানুষ
  • স্নেহেশ চক্রবর্তী
  • মহাবিশ্বের বাসিন্দা

আপনি এখানে

নবী মুহাম্মদ ও শয়তানের বানী, পর্ব-১


নবী মুহাম্মদ তার আল্লাহর নামে যে বানী প্রচার করতেন , তাকে তিনি নাম দেন কোরান। দুর্ভাগ্যক্রমে , ইসলামের প্রাথমিক যুগের আলেম ও ইতিহাসবিদরা বলে গেছেন , মুহা্ম্মদ শয়তানের বানীও পেতেন, যা কোরান সংকলিতও আছে। সুতরাং প্রশ্ন উঠতেই পারে , কোরানের কোন বানী আল্লাহর আর কোন বানী শয়তানের। তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো - আল্লাহর প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ট নবীকে আল্লাহ শয়তানের হাত থেকে বাঁচাতে পারে নাই। তাহলে তার প্রচারিত ইসলাম কিভাবে সত্য ধর্ম হয় ?

কথিত আছে মুহাম্মদ হেরা গুহার মধ্যে বসে ধ্যান করতেন। তেমনি একটা সময়ে তার কাছে হাজির হয় কথিত ফেরেস্তা জিব্রাইল। প্রথমেই দেখা যাক , সেই ফেরেস্তার সাথে মুহাম্মদের প্রথম সাক্ষাৎকারের বিবরন ----------

ওহীর সূচনা অধ্যায় :: সহিহ বুখারী :: খন্ড ১ :: অধ্যায় ১ :: হাদিস ৩(ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ , হাদিস নং- ৩)
ইয়াহ্ইয়া ইব্‌ন বুকায়র (র) ......... আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর প্রতি সর্বপ্রথম যে ওহী আসে, তা ছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নরূপে। যে স্বপ্নই তিনি দেখতেন তা একেবারে ভোরের আলোর ন্যায় প্রকাশ পেত। তারপর তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় হয়ে পড়ে এবং তিনি ‘হেরা’ গুহায় নির্জনে থাকতেন। আপন পরিবারের কাছে ফিরে আসা এবং কিছু খাদ্যসামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যাওয়া---- এইভাবে সেখানে তিনি একাধারে বেশ কয়েক রাত ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। তারপর খাদীজা (রা)-র কাছে ফিরে এসে আবার অনুরূপ সময়ের জন্য কিছু খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যেতেন। এমনিভাবে ‘হেরা’ গুহায় অবস্থানকালে একদিন তাঁর কাছে ওহী এলো। তাঁর কাছে ফিরিশতা এসে বললেন, ‘পড়ুন’। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ “আমি বললাম, ‘আমি পড়িনা’। তিনি বলেনঃ তারপর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে এমন ভাবে চাপ দিলেন যে, আমার অত্যন্ত কষ্ট হলো। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, ‘পড়ুন’। আমি বললামঃ আমিতো পড়ি না। তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে এমন ভাবে চাপ দিলেন যে, আমার অত্যন্ত কষ্ট হলো। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেনঃ ‘পড়ুন’। আমি জবাব দিলাম, ‘আমিতো পড়িন’। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন, তারপর তৃতীয়বার তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। এরপর ছেড়ে দিয়ে বললেন, “পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক থেকে। পড়ুন আর আপনার রব্ মহামহিমান্বিত।” (৯৬: ১-৩)

তারপর এ আয়াত নিয়ে ররাসূলুল্লাহ্ (সা) ফিরে এলেন। তাঁর অন্তর তখন কাঁপছিল। তিনি খাদীজা বিন্‌ত খুওয়ালিদের কাছে এসে বললেন, ‘আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও, আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও।’ তাঁরা তাঁকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন। অবশেষে তাঁর ভয় দূর হলো। তখন তিনি খাদীজা (রা) এর কাছে সকল ঘটনা জানিয়ে তাঁকে বললেন, আমি নিজের উপর আশংকা বোধ করছি। খাদীজা (রা) বললেন, আল্লাহ্‌র কসম, কখখনো না। আল্লাহ্ আপনাকে কখখনো অপমানিত করবেন না। আপনিতো আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার করেন, অসহায় দুর্বলের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সাহায্য করেন, মেহমানের মেহমানদারী করেন এবং দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন। এরপর তাঁকে নিয়ে খাদীজা (রা) তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইব্‌ন নাওফিল ইব্‌ন ‘আবদুল আসাদ ইব্‌ন ‘আবদুল ‘উযযার কাছে গেলেন, যিনি জাহিলী যুগে ‘ঈসায় ’ ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইবরানী ভাষা লিখতে জানতেন এবং আল্লাহ্‌র তওফীক অনুযায়ী ইবরানী ভাষায় ইনজীল থেকে অনুবাদ করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বয়োবৃদ্ধ এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদীজা (রা) তাঁকে বললেন, ‘হে চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন।’ ওয়ারাকা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ভাতিজা! তুমি কী দেখ?’ রাসূলুল্লাহ্ (সা) যা দেখেছিলেন, সবই খুলে বললেন। তখন ওয়ারাকা তাঁকে বললেন, ‘ইনি সে দূত যাঁকে আল্লাহ্ মূসা (আ) এর কাছে পাঠিয়েছিলেন। আফসোস! আমি যদি সেদিন যুবক থাকতাম। আফসোস! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম, যেদিন তোমার কাওম তোমাকে বের করে দেবে।’ রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ তাঁরা কি আমাকে বের করে দিবে? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, অতীতে যিনিই তোমার মত কিছু নিয়ে এসেছেন তাঁর সঙ্গেই শত্রুতা করা হয়েছে। সেদিন যদি আমি থাকি, তবে তোমাকে প্রবলভাবে সাহায্য করব।’ এর কিছুদিন পর ওয়ারাকা (রা) ইন্তিকাল করেন। আর ওহী স্থগিত থাকে।

উক্ত হাদিস থেকে জানা যাচ্ছে , যে মুহাম্মদের সাথে গুহার মধ্যে দেখা করেছিল , সে নিজের পরিচয় দেয় নাই , সে ফেরেস্তা নাকি শয়তান সেটা সে প্রকাশ করে নাই। বরং দেখা যাচ্ছে , সেই সাক্ষাতের সময় ও তার পর মুহাম্মদ দারুনভাবে ভীত হয়ে পড়েন , তার সমগ্র শরীর কাঁপতে থাকে , এমন কি এক পর্যায়ে জ্বর এসে যায়। স্বর্গীয় দুত মুহাম্মদের কাছে আসল , কিন্তু সে তার পরিচয় দিল না , তারপর মুহাম্মদের মনের মধ্যে নেতিবাচক ধারনার উদ্রেক হলো আর তিনি ভীত হয়ে পড়লেন। স্বর্গীয় কোন দুত কারও কাছে আসলে তো তার মনে স্বর্গীয় অনুভূতি আসার কথা , তার ফলে তার মনে দারুন আনন্দ হওয়ার কথা। কারন স্বর্গীয় দুত দেখতে নিশ্চিতভাবেই কুৎসিত বা কদাকার বা ভয়ংকর চেহারার হবে না যে তাকে দেখে ভয় পেতে হবে। মুহাম্মদের কাছে সে যদি অপরিচিত হয়েও থাকে , তাহলেও , স্বর্গীয় দুতের নিজের প্রভাবের কারনেই মুহাম্মদের মন এমনিতেই ভয়হীন হয়ে বরং স্বর্গীয় আনন্দে ভরে ওঠার কথা। যদি স্বর্গীয় দুতের সেটুকু বৈশিষ্ট্য না থাকে , তাহলে সে স্বর্গীয় দুত হবে কিভাবে ?

সুতরাং দেখা যাচ্ছে , মুহাম্মদের কাছে তাকে মোটেও স্বর্গীয় দুত মনে হয় নি , বরং মনে হয়েছে শয়তান বা ভুত প্রেত জাতীয় কোন অসুভ আত্মা। আর সেই কারনেই তার ভয় জেগেছে , শরীর কেঁপেছে ও অবশেষে তার জ্বর হয়েছে। তার জ্বরের মাত্রা এতটাই বেশী ছিল যে , তিনি খাদিজার ঘরে গিয়ে তার ওপর কম্বল জড়াতে বলেছেন। খাদিজাও তাকে সান্তনা দিয়ে বলেছেন , যে অসুভ কোন কিছু তাকে কেন দেখা দেবে , তিনি তো কোন খারাপ কাজ করেন না।

খাদিজা অত:পর তার চাচাত ভাই ওয়ারাকা ইবনে নওফেলের কাছে মুহাম্মদকে নিয়ে যান। নওফেল তখন বলেন যে এই সেই দুত যে নাকি মুসা নবীর সাথে দেখা করত। নওফেল খৃষ্টান ধর্ম গ্রহন করেছিলেন আর তিনি বাইবেল অনুবাদ করতেন। সুতরাং সেটা যদি সত্য হয় , মুসা নবীর সাথে কোন ফিরিস্তা দেখা করত কি না , সেটা তার ভালই জানা থাকার কথা। দুর্ভাগ্যবশত: তৌরাত কিতাবে মুসা নবী সম্পর্কে বিস্তারিত কাহিনী আছে , আর তাতে কোথাও বলা নেই কোন ফিরিস্তা এসে মুসা নবীর সাথে সাক্ষাত করত বা ঈশ্বরের বানী দিয়ে যেত। বরং স্বয়ং ঈশ্বরই সময় সময় সরাসরি মুসা নবিকে সাক্ষাত দিত , আর প্রয়োজনীয় বানী বলত। ঠিক তেমনিভাবেই ঈশ্বর একবার তুর পাহাড়ে আগুনের গোলার মধ্য থেকে মুসা নবীর সাথে কথা বলে ও তাকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়। সুতরাং হাদিসে যে বলছে , জিব্রাইল ফিরিস্তা মুসা নবীর সাথে দেখা করত , সেটা সত্য নয়।

সুতরাং এতসব ঘটনার প্রেক্ষিতে, যেসব ঘটনা খোদ ইসলামী আলেম বা পন্ডিতরাই বলে গেছেন ও সংরক্ষন করে গেছেন, নিশ্চিত হওয়া গেল না কোন স্বর্গীয় ফেরেস্তা নাকি শয়তান বা জ্বীন ভুত মুহাম্মদকে দেখা দিয়েছিল।

চলবে ===============

হাদিস সূত্র : https://sunnah.com/

Comments

আকাশ এর ছবি
 

ফালতু সব কথা, না আছে সত্য না আছে বিশ্লেষণ

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঠমোল্লা
কাঠমোল্লা এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 16 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 4:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর