নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • পৃথু স্যন্যাল
  • নুর নবী দুলাল
  • সজয় সরকার
  • আমি মানুষ বলছি

নতুন যাত্রী

  • নিনজা
  • মোঃ মোফাজ্জল হোসেন
  • আমজনতা আমজনতা
  • কুমকুম কুল
  • কথা নীল
  • নীল পত্র
  • দুর্জয় দাশ গুপ্ত
  • ফিরোজ মাহমুদ
  • মানিরুজ্জামান
  • সুবর্না ব্যানার্জী

আপনি এখানে

যেখান থেকে আমার অবিশ্বাসের পথ চলা শুরু......


সেই ১৩ বছর আগের কথা, ২০০১ সাল। তখন আমি ১৫ বছরের এক কিশোর। নাকের নিচে সদ্য রোম গজাতে শুরু করেছে। দেশের রাজনৈতিক হালচাল একটু একটু বুঝতাম। সেই বছর নির্বাচন হল, নির্বাচনের আগে ঈশ্বরের কাছে মনে প্রাণে প্রার্থনা করেছিলাম আওয়ামীলীগ যাতে আবার ক্ষমতায় আসে। তখন মনে মনে আওয়ামীলীগকে সমর্থন করতাম। বঙবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার দল তাই সমর্থন করতাম। আমি তখন কক্সবাজারে একটা কারখানায় কাজ (বিশেষ কারণে কাজের নামটা বলছি না) শিখছি। আমরা যারা এখানে কাজ শিখতাম, সবাই ছিলাম প্রায় সমবয়সী। ভোটের দিন কারো ওস্তাদ কারাখানায় ছিলনা। তারা আগের দিন ভোট দেয়ার জন্য যার যার বাড়ি চলে গেছে। ভোট হয়ে গেল, সন্ধ্যার পর কয়েকজন মিলে আমরা রেডিওতে কোন দল কত সিট পেল তার ঘোষনা শুনছি। প্রায় জায়গায় বিএনপি জামাতের চার দলীয় ঐক্যজোট এগিয়ে আছে। রাত এগারটার পর বুঝতে পারি এটা ইলেকশন নয়, সিলেকশন। তত্ববধায়ক সরকার লতিফুর রহমান আর রাষ্টপতি সাহাবুদ্দিন ক্ষমতায় আনার জন্য যেন বিএনপি জামাতকে সিলেক্ট করছে। চারিদিকে আওয়ামীলীগের ভরাডুবি! যেখানে ঢাকার প্রায় আসন আওয়ামীলীগের দখলে ছিল, সেখানে আওয়ামীলীগ তেমন আসন পায়নি। এবার আসি আমার অবিশ্বাসের কারণটা কোত্থেকে কোন প্রেক্ষাপট থেকে তৈরি হয়েছে--

ভোটের কয়েকদিন পর বিএনপি জামাত ক্ষমতায় আসার জন্য শপথ গ্রহণ করল। এদিকে দুচার দিন পর হিন্দুদের দুর্গাপুজা শুরু হবে। মনের মধ্যে আনন্দের মাদল বাজছে। পুজোতে ঘুরবো ফিরবো নাচবো কত আনন্দ হবে। এরমধ্যে খবর আসতে শুরু করে বিএনপি জামাতের নির্বাচনে জেতার বিজয়ের উল্লাস! বিএনপি জামাতের ক্যাডাররা প্রথমে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের মাটির মুর্তি ভেংগে উল্লাস শুরু করে। পরে তারা ভোলার উল্লাপাড়া, আগৈঝাড়া গ্রামের পুর্নিমা, মহিমা, রতা রানীদের উপর গনধর্ষন চালায়। সেখানের কয়েকজন বালিকা নাকি ধর্ষনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পুকুরে ঝাপ দিয়েছে। তাদের আবার পাড়ে তুলে ধর্ষন করেছে পাষন্ডরা! হিন্দুদের দোষ ছিল একটাই তারা কেন আওয়ামীলীগকে ভোট দিয়েছে?

চারিদিকে শোনা যাচ্ছে এবার পুজো হবেনা। তবুও পুজোর দিন বের হলাম পুজো দেখতে। কক্সবাজার শহরে প্রতিটি পুজো মন্ডবে দেখি কালো কালো ব্যানার, তারা পুজো করবেনা, ঢাকঢোল বাজাবেনা। মাইক বাজাবেনা, নাচগান করবেনা। হিন্দুদের মুর্তিভাঙা আর তাদের ঊপর গনধর্ষনের চিত্রগুলো বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। সেই পত্রিকাগুলো দেখলাম প্রতিটি পুজো মন্ডবের দেয়ালে দেয়ালে প্রতিবাদ হিসেবে সেঁটে দিয়েছে কক্সবাজার পুজো কমিটি। আমি সন্ধ্যায় বের হয়ে প্রত্যেক পুজোতে গিয়ে পত্রিকাগুলো দেখেছি, পড়েছি। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কোন কোন হিন্দু উদ্বাস্তুর মতো দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কেউ কেউ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। পত্রিকার ছবিতে পুর্নিমা লজ্জায় তার মুখটা দুহাতে ঢেকে রেখেছে। মহিমা ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছে। বালিকা রতার ভয়ার্ত চেহেরা! ওখানে পড়েছি- বিএনপি জামাতের ছাত্রদল-শিবিরের একপাল পশুরা যখন উঠানে পুর্নিমাকে ধর্ষনের জন্য নেমেছে, তখন পুর্নিমার মা বারান্দা থেকে বলছে, -"বাবারা তোমরা একজন একজন কইরা আসো। আমার মাইয়া এহনো ছোড, তার এহনো রক্ত (ঋতুমতি হয় নাই) দেহা যাই নাই।" ১১ বছরের রতা রানীকে যখন চারদল জোটের ক্যাডাররা পালা করে গনধর্ষন করছে, তখন সে চিৎকার করে বলছে, "তোমরা আমারে ছাইড়া দাও, আমি আর এদেশে থাকুম না!" নিজের জম্মভুমির উপর কতটুকু ঘৃণা থাকলে একটা বালিকা এই কথা বলে? পত্রিকায় তাদের আতংকিত মুখ আর বিভীষিকাময় জীবন দেখে আমার দপদপ করে শরীর কাঁপতে থাকে। চোখ থেকে অঝোরে পানি পড়তে থাকে। তখন মনে প্রশ্ন জাগে ঈশ্বর কোথায়? কোথায় দুর্গা মায়ের শক্তি? হিন্দুদের এমন নির্যাতন দেখে মা দুর্গা চুপ থাকে কি করে? ওরা যখন দুর্গার প্রতিমা ভাঙছিল, তখন মহামায়ার শক্তি কইছিল? তিনি তো ভেঙেচুরে নির্জীবের পড়ে থেকে ছিলেন। তার মেয়েদের উপর যখন ধর্ষন চালাচ্ছে, তখন মা এসে তার শোধ নেয়নি কেন? তাহলে তো মা দুর্গা একটা অপদার্থ! সেদিন রাতে প্রথম ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে মনে নানা প্রশ্ন জেগে ছিল।

আল্লার অস্তিত্বের প্রতি প্রশ্ন জাগে তখন, যখন দেখি ইরাক আফগানের মুসলিমের উপর আমেরিকার সৈন্যরা অমানবিক নির্যাতন করছে, অন্যায় ভাবে বোমা হামলা করছে, যুদ্ধ বিধস্ত ইরাকের নারী শিশুরা অনাহারে মরছে! কেউ কেউ সারিবদ্ধভাবে থালা নিয়ে খাবারের জন্য অপেক্ষা করছে। টুইন টাউয়ারের হামলাকে কেন্দ্র করে বুশ তখন পুরো মুসলিম দেশগুলোকে শাসাচ্ছে! পাকিস্তানেও তাদের খবরদারি বজায় রেখেছে। তখন আমেরিকার ভয়ে পুরো মুসলিম বিশ্ব কাঁপছে। পাকিস্তানের জেনারেল মোশারফ তখন ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বুশকে তেলাচ্ছে। বিশ্ব মুসলিমদের এমন করুন অসহায়ত্ব হাল দেখে সেদিন ও আমি অঝোরে কেঁদেছিলাম। তখন আমার কিশোর মনে প্রশ্ন জাগে আল্লাহ কোথায়? তিনি নাকি সর্বশক্তিমান! তো তিনি তার প্রিয় বান্দাদের দানব আমেরিকার হাত থেকে রক্ষা করছেন না কেন? তাহলে কি আল্লাহ ও নেই? সবি রুপকথার গল্প?

- এই দুটি ঘটনায় আমাকে যথেষ্ট ভাবিয়েছে, আল্লার ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে মনে প্রথম প্রশ্ন উদয় হয়েছে। সেই থেকে আমি আল্লাহ ঈশ্বেরর অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছিলাম। আমি নিজেই নিজের কাছে অনেক প্রশ্ন করেছি, অনেক যুক্তি তর্ক-বিতর্ক করেছি। কিন্তু কোনোভাবেই আমি ঈশ্বেরর অস্তিত্বের প্রমাণ পাইনি। সেই থেকে আমার অবিশ্বাসের পথ চলা শুরু..... পরে আমার ধারনা বিভিন্ন অবিশ্বাসী দার্শনিকের সাথে মিলিয়ে দেখেছি। দেখালাম আমার মতের সাথে তাঁদের মত অনেকটা মিলে গেছে। এই ঈশ্বর আল্লাহ গডের প্রতি আমার এই অবিশ্বাস একদিনে তৈরি হয়নি। তার জন্য অনেক কিছু জানতে হয়েছে, কতো বিনিদ্র রাত জেগে পড়েছি বই পড়েছি তার ইয়ত্তা নেই!

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অপ্রিয় কথা
অপ্রিয় কথা এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 6 ঘন্টা ago
Joined: শনিবার, ডিসেম্বর 24, 2016 - 2:15পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর